বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাড়িটা ছয় তলা ।
আটবছর আগে রিমা
নামের ভার্সিটি পড়ুয়া
এক মেয়ে এই বাড়ির
পাচঁতলার ফ্ল্যাটে
ভাড়া থাকতো ।
বয়ফ্রেন্ডের সাথে
ঝগড়া করে এক রাতে
ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা
করে রিমা ।
তারপর কেটে গেছে
আটটি বছর ।
সবাই হয়তো ভূলে গেছে
সেই মেয়েটার কথা ।
**ঘটনা :-
এই মাসেই পাঁচতলার
সেই ফ্ল্যাটটা ভাড়া
নিয়েছে তাসিন, রেজা,
ফাহিম, সজীব আর রানা
। ওরা সবাই একসাথেই
পড়ে ।
বাড়িটার পরিবেশ
একদম শান্ত । বাড়িটার
পিছনে ছোট একটা
বাগান আছে । ফ্ল্যাটটা
দুই রুমের । এক রুমে
তাসিন, রেজা ও ফাহিম
অন্য রুমে সজীব আর
রানা থাকে ।
তবে এই বাসায় আসার
পর থেকে ওরা অদ্ভুত
কিছু সমস্যার সম্মুখীন
হয়েছে । এই যেমন গত
দুই তিন দিন ধরে অসহ্য
গরম পড়ছে ।
মানুষ সব অতিষ্ঠ গরমে
। কিন্তু এই গরমেও
রাতে ওদের ফ্ল্যাটে
হাড়কাঁপুনি ঠান্ডা
থাকে । তবে ফ্ল্যাট
থেকে বের হলে শীতল
অনুভূতিটা দূর হয়ে যায়
।
সেদিন রাতের কথা ।
রানা পড়ছে । বাকি
সবাই ঘুমিয়ে পড়ছে ।
হঠাৎ রানা শুনতে পেল
বারান্দায় কোন একটা
মেয়ে ফিসফিসিয়ে কথা
বলছে । খুব অবাক হল
রানা । এত রাতে
বারান্দায় মেয়ে আসবে
কিভাবে ? ও টিপটিপ
পায়ে বারান্দায় এসে
দেখলো কেউ নেই ।
শুধুমাত্র হালকা
বাতাসে বারান্দার
চেয়ারটা কাপঁছে ।
পরদিন রাত ।
সবাই ঘুমাচ্ছে ।
রাত তখন ৩ টা বাজে
হয়তো । হঠাৎ ঘুম
ভেঙ্গে গেল তাসিনের ।
চাঁদের আলো জানালা
দিয়ে ওদের রুমে ঢুকছে
। চোখ খুলতেই সেই
আলোতে ও দেখলো একটা
মেয়ে ওদের রুমের
ফ্যানে ঝুলছে । শোঁয়া
থেকে উঠে বসে পড়লো ও
। তড়িঘড়ি করে রুমের
লাইটটা অন করলো ।
আবার উপরের দিকে
তাকিঁয়ে দেখলো
ফ্যানটা স্থির হয়ে
আছে । সেখানে কোন
মেয়ে ঝুলছে না । ভয়ে
ঘেমে গেছে তাসিন ।
দুঃস্বপ্ন ভেবে লাইট
অফ করে ও আবার শুঁয়ে
পড়লো ।
দুই দিন পরের কথা ।
সেদিন রাতে অনেক
বৃষ্টি হচ্ছিলো ।
ফাহিমের লেখালেখি
করার অভ্যাস । তাই ও
ল্যাম্প জ্বালিয়ে
জানালার পাশে বসে
লিখছিলো । হঠাৎ কে
যেন দরজায় নক করলো ।
ও উঠে দরজা খুলে
দেখলো দরজার সামনে
কেউ নাই । একটু অবাক
হল ফাহিম । ও যখন
দরজা অফ করতে গেল
তখন দেখলো সাদা
কাপড় পড়া একটা মেয়ে
ধীরে ধীরে সিড়িঁ
বেয়ে উপরে উঠে
যাচ্ছে । ফাহিমও
মেয়েটার পিছু পিছু
গেল । মেয়েটা সিড়িঁ
বেয়ে ছাদে উঠলো ।
ফাহিমও উঠলো । ছাদের
এক কোণে গিয়ে
দাড়াঁলো মেয়েটা ।
ফাহিম মেয়েটার দিকে
এগোতে লাগলো । হঠাৎ
মেয়েটা অদৃশ্য হয়ে
গেল । ফাহিম অনেক ভয়
পেল । ও দৌঁড়ে সিড়ির
কাছে চলে আসলো । এসে
দেখলো সাদা কাপড়
পড়া সেই মেয়েটা
সিড়িঁতে বসে আছে ।
ভয়ে চিৎকার দিয়ে
অজ্ঞান হয়ে গেল ও ।
চিৎকার শুনে বাকি
সবাই ছুটে আসলো ।
ধরাধরি করে রুমে
নিয়ে যাওয়া হল ওকে ।
রাতেই কাপুঁনি দিয়ে
জ্বর আসলো ওর । সুস্থ
হতে দুই তিন দিন সময়
লাগলো ওর । সুস্থ হয়ে ও
সবাইকে সেদিন রাতে
ঘটে যাওয়া ঘটনাটা
বলল ।
রানা আর তাসিনও বলল
ওদের অদ্ভুত অভিজ্ঞতার
কথা ।
সজীব বলল,"নিশ্চয়ই এই
ফ্ল্যাটের কোন রহস্য
আছে ।"
রেজা বলল,"দারোয়ান
রহিম চাচা বাড়িতে
গেছে ; কাল আসবে । উনি
এই বাসায় অনেকদিন
চাকরি ধরে করছেন ।
উনাকে জিজ্ঞাসা করতে
হবে ।"
পরদিন রাত ।
চাঁদ উঠেছে । তার
আলোয় আলোকিত
চারপাশটা ।
ব্যালকনিতে বসে
তাসিন, রেজা, ফাহিম,
সজীব আর রানা গান
গাইছে । হঠাৎ বিদ্যুৎ
চলে গেল । আশেপাশের
সব জায়গায় বিদ্যুৎ
আছে শুধু ওদের
ফ্ল্যাটেই নেই । রুমে
এসে মোমবাতি
জ্বালালো ওরা । হঠাৎ
চিৎকার দিয়ে উঠলো
রেজা । ওর দিকে
তাকালো বাকিরা । ওর
হাতে রক্ত । বিস্ফোরিত
নেত্রে উপরে দিকে
তাকিঁয়ে সবাই দেখলো
একটা মেয়ে ফ্যানে
ঝুলছে । চোখ দুটো খোলা
। জিহ্বাটা বের করানো
। গলা বেয়ে রক্ত পড়ছে
আর সেই রক্ত টপটপ করে
পড়ছে রেজার হাতে ।
ভয়ে কোনমতে সবাই
দৌড়ে বাসার নিচে
চলে আসলো । রহিম
চাচা নিচে বসে ছিল ।
"কি হয়েছে তোমাদের ?
এমন দেখাচ্ছে কেন
তোমাদেরকে ?" ওদেরকে
দেখে রহিম চাচা বলল
।
ভয়ার্ত কন্ঠে সবকিছু
খুলে বলল ওরা ।
রহিম চাচা এক বোতল
পানি এনে ওদেরকে
বলল,"পানি খেয়ে শান্ত
হয়ে এখানে বসো ।"
ওরা বসলে রহিম চাচা
বলল,"এখন ফ্ল্যাটে
গিয়ে ঐ মেয়েটার লাশ
আর পাবে না । রেজার
হাতেও পাবে না রক্ত ।"
রেজা হাতের দিকে
তাকিঁয়ে দেখলো কিছুই
নেই ওর হাতে ।
"রহস্যটা কি চাচা ?
অবাক কন্ঠে জিজ্ঞাসা
করলো ও ।
"আজ থেকে আট বছর আগে
এক মেয়ে ঐ ফ্ল্যাটে
ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা
করেছিলো । ঐ
মেয়েটারই অতৃপ্ত আত্মা
এখনও ফ্ল্যাটময় ঘুরে
বেড়ায় । এখন রাত ১টা
বাজে । বেশি ভয় পেলে
তোমরা বাকি রাতটা
এখানেই থেকে যাও ।
আমি বাহিরে থেকে
আসছি ।" বের হয়ে গেল
রহিম চাচা ।
পরদিন সকাল ।
ওরা সবাই
বাড়িওয়ালার বাসায়
গেল । ওরা আর এই
ফ্ল্যাটে থাকবে না
এটা বলতে । গিয়ে
দেখলো বাড়িওয়ালা মন
খারাপ করে বসে আছে ।
"কোন সমস্যা , আংকেল?"
তাসিন জিজ্ঞাসা করলো
।
বাড়িওয়ালা
বলল,"আমাদের বাসার
সবচেয়ে পুরাতন
দারোয়ান রহিম কাল
রাতে বাড়ি থকে
ফিরার পথে
অ্যাক্সিডেন্ট করে
মারা গেছে । ওকে আমি
আত্মীয়র মতই মনে
করতাম ।"
কথাটা শুনে ওদের
সবার বুক কেঁপে উঠলো ।
ওরা তো কাল রাতেই
রহিম চাচার সাথে
কথা বলেছিলো । ওরা
কোনমতে ফ্ল্যাট ছাড়ার
কথা বলেই দৌড়ে চলে
আসলো ।
পরের মাসেই ফ্ল্যাটটা
ছেড়ে দিল ওরা ।
তালা মেরে দেওয়া হল
ফ্ল্যাটটাতে ।
হয়তো এখনও রাতে
রিমার অতৃপ্ত আত্মা
ঘুরে বেড়ায় ফ্ল্যাটময় ।
মাঝে মাঝে হয়তো
চুপটি করে দাড়িঁয়ে
থাকে ছাদের এক
কোণায় । আর রহিম
চাচা হয়তো রাতে এসে
একবার ঘুরে যান তার
প্রিয় বাসার গেইট
থকে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now