বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত আয়না পর্ব৫:-

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X রাতের খাবার খেয়ে যে যার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।সমস্যা শুরু হতে লাগলো পরেরদিন রাত থেকে।পরেরদিন রাতে আমি যখন ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ একটি চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গেল।আওয়াজ শুনে সুমির আওয়াজ মনে হচ্ছে।তাই দ্রুত সুমির রুমের দিকে দৌড় দিলাম।গিয়ে দেখি মামা,মামি,আর বাকি বন্ধুরাও চলে আসছে।দেখি সুমি রোদেলা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে আর রোদেলা সুমিরে শান্ত করার চেষ্টা করছে।আমি গিয়ে বললাম কিরে সুমি কি হয়ছে তোর কান্না করছিস কেন।আর এভাবে এত জোরে চিৎকার করছিলি কেন। সুমি:-আমার ঘরে নিশ্চয় কিছু আছে।আমার খুব ভয় করছে। রায়হান:-কই তোর ঘরে কি থাকবে কিছুই তো নেই।আমরা ছাড়া তো আর কেউ নাই। মামা- মামি বললেন:-তোমার আসলে কি হয়ছে সব খুল বলো তো আমাদের। আমি:-হ্যা তুই সব খুলে বল সুমি। সুমি:-রাতে আমি ঘুমানোর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়।শব্দটি ছিল কেউ যেন পায়ে পায়েল পড়ে হাটছে।আমি সেই শব্দ শুনে ভয় পেয়ে যাই।তাই তাড়াতাড়ি রুমের লাইট দিয়ে দেখি কিছুই নাই।হঠাৎ আমার রুমের আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি একটা সাদা শাড়ি পড়া মেয়ে চুল তার অনেক বড়।চুল দিয়ে আবার মুখ এর সামনের দিকটা ঢেকে রাখা।মেয়েটি আমার দিকে বিভৎস ভাবে তাকিয়ে আছে।এটা দেখে আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে যাই।তখন আমি চিৎকার দিতে থাকি।কথা শেষ করে সুমি আবার কান্না করতে থাকে।তখন মামি এগিয়ে এসে ওরেহ জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে থাকে। সজিব:-সুমির কথা তো আমার সত্যি মনে হচ্ছে।আমারো কিন্তু ভয় লাগছে এবার।আমাদের জমিদা............সজিব কে থামিয়ে দিলাম।সে সত্যি বলে দিচ্ছিল মামা মামির সামনে। আমি:-আরেহ এটা তেমন কিছু না।সুমি তুই কোনো বাজে স্বপ্ন দেখছিস মনে হয়। সুমি:-নাহ আমি সত্যি বলছি আমি নিজের দেখছি। মামা:-আমারো মনে হয় তুমি স্বপ্নই দেখছো।এখন ঘুমিয়ে পড়।অনেক রাত হয়েছে। সুমি আরো কিছু বলতে চাচ্ছিল।আমি থামিয়ে দিয়ে বললাম এখন ঘুমা রোদেলা আজ তুই সুমির সাথে থেকে যা।আর নাহয় এখন থেকে তুই আর সুমি একসাথেই থাক এটাই ভাল হবে। তারপর আমরা সবাই চলে আসলাম।রুমে যাওয়ার আগে সজিব কে বললাম এখনই তো সব বলে দিচ্ছিলি। সজিব:-ভয়ে মুখ থেকে বেড় হয়ে যাচ্ছিল।দু:খিত। আমি:-আচ্ছা ঠিক আছে যা ঘুমা।তাই বলে রুমে চলে আসলাম। সকাল সকাল আবার ঘুম ভেঙ্গে গেল রায়হান এর ডাকে। রায়হান:-তাড়াতাড়ি সজিব এর রুমে চল। আমি:-কি হয়েছে সজিব এর? রায়হান:-সজিব এর অনেক জ্বর আসছে।তাড়াতাড়ি চল ওর ঘরে।তারপর আমি আর রায়হান সজিব এর ঘরের দিক গেলাম।গিয়ে দেখি ওহ শুয়ে আছে।মামি ওর মাথায় জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে। আমি:-সজিব কি হয়েছে তোর।কাল রাতেই তো অনেক ভাল ছিলি।হঠাৎ একরাতের মধ্যে জ্বর আসলো কি করে? সজিব কিছু বলতে পারছিল না জ্বর এর জন্য। রোদেলা:-কি হলো ওর এসব কি হচ্ছে।রাতে সুমি আর এখন আবার সজিব এর। আমি:-ডাক্তার ডাকতে হবে তো।এভাবে বসে থাকলে হবে। মামি:-আবির তুমি চিন্তা কর না।তোমার মামা ডাক্তার আনতে গেছে।এই এলো বলে। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার আসল।সজিব কে দেখলো জ্বর মেপে বললো ১০২ডিগ্রি জ্বর ওর গায়ে।কথাটি শুনে আমরা সবাই খুব অবাক হলাম।তারপর ডাক্তার কিছু ওষুধ দিলেন।আর কিছু খাইয়ে দিয়ে বললেন দুপুরের মধ্যেই ওহ সুস্থ হয়ে যাবে আশা করি।আর ওহ এখন পুরো রেস্ট এ থাকবে বাইরে যেন না যায় এর মধ্যে।আর কোনো সমস্যা হলে রহমান সাহেব খবর দিবেন আমায়।তারপর ডাক্তার চলে গেলেন।মামা ডাক্তার কে এগিয়ে দিতে গেলেন।তারপর সজিব কে ঘুমাতে দিয়ে আমরা বাইরে চলে আসলাম।বাইরে এসে আমি ভাবছি এমন হচ্ছে কেন।মামার কথা না শুনে জমিদার বাড়ির ভিতরে ঢুকে কি একটা বড় ভুলই করলাম কি আমরা।আজ আমার জন্য আমার বন্ধুদের এই অবস্থা হচ্ছে না তো।প্রথমে সুমি তারপর আজ আবার সজিব এসব কি হচ্ছে।ওদের কিছু হলে আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না।দুপুরের দিকে সজিব এর জ্বর কমে গেলে ওরেহ জিজ্ঞেস করলাম।এক রাতের মধ্যে তোর এত জ্বর আসলো কিভাবে। সজিব:-জানি না ভালই ছিলাম।হঠাৎ করে ভোর রাতের দিকে অনেক জ্বর চলে আসলো। আমি:- আচ্ছা ঠিক আছে তুই বিশ্রাম নে। ওইদিন রাতে আবার সমস্যা শুরু হতে লাগলো।এবার আমিও ঘুমানোর পর ছাদ থেকে কারো চলার শব্দ পেতে লাগলাম।কে যেন পায়েল পড়ে হাটছে।পায়েল এর শব্দ আসছে।তারপর আবার চিৎকার আসছে।দেখি আবার সুমির ঘর থেকে।সুমি চিৎকার করছে।এবার তো ওর রুমে রোদেলা থাকছে।আবার কি হলো।ওর রুমের কাছে গিয়ে দরজা ধাক্কালাম।সুমি দরজা খুলে দিয়ে দেখি রোদেলা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।ওদিকে বাকিরাও চলে আসছে।জ্বর নিয়ে সজিব ও আসছে।মাম মামিও চলে আসছে।এদিকে রোদেলার এই অবস্থা দেখে আমরা দ্রুত ওরেহ ধরে বিছানায় শোয়ালাম।মামি পানি দিয়ে ওর জ্ঞান ফিরালো। জ্ঞান ফিরে রোদেলা কান্না করতে করতে বললো আমি ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ স্বপ্নে দেখলাম যে এক সাদা শাড়ি পড়া মেয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।তার মুখ এ পুরো মাংশ ঝলসানো।পুরো শরীর পোড়া পোড়া।তার চোখ থেকে রক্ত পড়ছিল।এটা দেখে আমি ভয় পেয়ে ঘুম থেকে জাগা পেয়ে দেখি সেই মেয়েটি আমার একেবার মুখের সামনে আর আমার দিকে তার বিভৎস চেহারায় তাকিয়ে আছে।এটা দেখে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারি নি সাথেসাথে অজ্ঞান হয়ে যাই।তারপর আর কিছু মনে নেই আমার। সুমি:-রোদেলার চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।দেখি ওহ খাটের নিচে পড়ে আছে।এটা দেখে আমিও ভয় পেয়ে যাই তখন চিৎকার দিয়ে দেই। সজিব ও রায়হান এবার একসাথে বললো যে তারা শুনেছে বাসার ছাদে কারো পায়েল এর আওয়াজ আসছিল। মামা:-এগুলা কি হচ্ছে তোমদের সাথে।আমার মনে হচ্ছে তোমরা কিছু গোপন করছো আমার থেকে। আবির বলো কি হয়েছে? আমি:-মামা কিছু হয় নি এগুলা মনে হয় আমাদের মনের ভুল। মামা:-আমার তো তাহ মনে হচ্ছে না।আমি তোমদের মামা।তোমাদের গুরুজন আমাকে সব বলতে পার।দেখো পরে এমন সময় আবার সব বলো না যখন অনেক দেরি হয়ে যায়।এই বলে মামা একটু অভিমান করেই চলে গেল তার ঘরে।মামিও পিছুপিছু চলে গেলেন মামাকে শান্ত করতে। রায়হান:-অনেক হয়েছে আবির। এবার সব বলে দে মামাকে।জমিদার বাড়িতে ঢুকার পর থেকেই এসব হচ্ছে তুই বুঝছিস না।আমাদের এখানে থাকা যাবে না।বাসায় যেতে হবে।বাসা থেকেও ফোন দিচ্ছে।বলছে অনেকদিন ঘুরছো এবার চলে আস।আমি তখন কি বলবো।এখানকার এসব ঘটনাও বলতে পারি নি।কোনোভাবে কাটিয়ে দিয়েছি।কিন্তু এভাবে আর কতোদিন। আমি:-তুই ঠিকই বলছিস আজ আমার জেদ এর জন্যই আমাদের সবার এই অবস্থা।এমনকি আমিও ছাদে সেই পায়েল এর শব্দ শুনতে পাইছি। সজিব:-চল আমরা চলে যাই এখান থেকে।আমি:-এভাবে কিভাবে যাই তুই পুরো সুস্থ না।আর রোদেলা,সুমিও ভালো নাই।সবাই সুস্থ হলে চলে যাব নি।তারপর যে যার রুমে চলে গেলাম আবার।রুমে এসে মোবাইল চালু করে দেখি ২ টা বাজে।তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম কিছুক্ষণ পর দেখি একটা সাদা শাড়ি পরা মেয়ে আমার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থেকে বলছে "ভূল করছিস,অনেক বড় ভূল করছিস, তোর খুব সাহস না,ওই ঘরে ঢুকে অনেক বড় ভূল করছিস তোরা,আয়না তে নিজেদের মুখ দেখে ঠিক করিস নি, তোরা যদি বাচতে চাস তাইলে এখনি এখান থেকে চলে যা নইলে তোরা কেউ বাচবি না হাহাহাহহাহাহাহা"।তখন প্রচন্ড ভয়ে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।তাকিয়ে দেখি রুমে কেউ নাই।তার মানে আমি এটা স্বপ্ন দেখছিলাম।আর এদিকে ভয়ে আমি পুরো ঘেমে গেছি।তারপর পানি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।পরের দিন সকালে রায়হান আমার ঘরে এসে বললো সেও নাকি এই স্বপ্ন দেখছে।এখন দেখি অনেক বড় সমস্যায় পড়লাম তো আমরা।দেখতে দেখতে যখন রাত হলো।আমরা পাঁচ বন্ধু এবার সিদ্ধান্ত নিলাম যে সবাই একসাথে থাকবো দেখবো ছাদে কিসের শব্দ হয়।আর সবাই মিলে গিয়ে তখন দেখবো কি আছে ছাদে।সবাই আমরা আমার ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।আমার ঘর এর পাশ দিয়েই ছাদে উঠার শিড়ি।তোহ আমরা সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম।রাত যখন ১২ টা তখন আবার সেই পায়েল এর শব্দ আসছিল।সবাই আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম।তারপর আমরা পাঁচ বন্ধুই চুপি চুপি ছাদের দিকে যাইতে লাগলাম।এবার সজিব আর সুমিও না করে নি ওদেরও কৌতুহল জাগছে যে ছাদে কে আছে তাহ দেখার।যাই হোজ ছাদে উঠে আমরা যা দেখলাম।তাহ কখনো কেউ দেখতে চাইবে না।দেখলাম ছাদের এক কোণে একজন সাদা শাড়ি পরা মেয়ে বাইরের দিকে তাকিতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি:-এই কে তুমি?এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন। সে আমাদের দিকে তাকালো দেখলাম তার দুই হাতে আমাদের পাঁচ বন্ধুর পাঁচটা কাটা মাথা।আর সে তার বিভৎস মুখ নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। এটা দেখে যেন গায়ের লোম কাটা দিয়ে উঠলো সবার।আমরা যে চিৎকার দিবো কেউ গলা থেকে কোনো আওয়াজ বেড় হচ্ছে না।সবাই যেন বোবা হয়ে গেছি আমরা।কিছুক্ষণ পর কেউ আর নিজেদের ধরে রাখতে পারলাম না সবাই অজ্ঞান হয়ে গেলাম।পরেরদিন যখন জ্ঞান ফিরলো নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমার ঘরে আর বাকিরাও আমার পাশে বসে আছে। মামা:- কি হয়েছিল তোমাদের সকালে তোমদের রুমে গিয়ে দেখি কেউ নাই।পরে ছাদে গিয়ে দেখি তোমরা পাঁচজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছো ছাদে।চাকরদের সাহায্যে তোমাদের যার যার ঘরে আনলাম।সবার জ্ঞান তাড়াতাড়ি আসলেও তোমার জ্ঞান ফিরতে দেরি হলো।আমি এবার কোনো কথা শুনবো না।আমি আমাদের এখানকার এখানকার মসজিদের ইমাম কে নিয়ে আসছি। তোমাদের এবার সব বলতে হবে আমাকে ও হুজুর কে।তারপর বসার ঘরে গেলাম আমরা।হুজুর সেখানে বসে ছিল। আমি এবার আর কিছু গোপন না করে হুজুর আর মামাকে সব খুলে বললাম আর তার সাথে কাল রাতের ঘটনাও খুলে বললাম সব। তারপর কি হলো? আবির ও তার বন্ধুরা কি সেই সাদা শাড়ি পরা মেয়েটির থেকে কি রক্ষা পেয়েছিল?হুজুর কি তাদের সেই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল?আর পারলেও সেটা কিভাবে?জানতে পর্ব৬ বা এই সিরেজের শেষ পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব৫:-

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now