বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তা করে আমরা সবাই ঘুরতে গেলাম।ঠিক করেছি গ্রামটা ঘুরে দেখবো।চা বাগান ঘুরবো।আমি আমার ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে আসছিলাম।বের হওয়ার আগে মামা বললেন আমার ব্যাক্তিগত গাড়ি আছে।সেটায় ঘুরে বেড়াও তোমরা।ড্রাইভার আছে সে সব ভালো করে চেনে সবকিছু তোমাদের ঘুরে দেখাবে।তাই আপত্তি থাকা সত্তেও মামা জুড়াজুড়িতে মামার গাড়ি করেই ঘুরতে বের হলাম সবাই।অনেক ছবি তুললাম আমি আমাদের সবার আর গ্রমেরও অনেক ছবি তুললাম।তারপর ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সূর্য মাথার উপর এসে গেছে খেয়াল করি নি।তখন.........
ড্রাউভার বলল:-বাবুরা আপনেরা এখন আসেন বাসায় যাই।রহমান সাহেব বলে দিছেন দুপুরের মধ্যে আপনাদের নিয়ে চলে আসতে।এখন বেশি দেরি হয়ে গেলে রহমান সাহেব আমায় বকবেন।
রায়হান:-তাইলে ঠিক আছে চল আজকের মত যাই সবাই।কাল ঘুরে দেখা যাবে নি।
আমি বললাম:-ওকে চল সবাই।
তারপর আবার বাড়ি ফিরে আসলাম।এর মধ্যে গত রাতে যা ভাবছি সেই রাজবাড়ি সেটার কথা আমি ভুলি নাই।যেহুতু সবাই সকালে ঘুরতে যাচ্ছি তাই এই সময় সবাইকে এই কথা বলে সবার আনন্দ মাটি করতে চাই নি।তাই সঠিক একটা সময় খুজছি সবাইকে বলার।তোহ বাড়ি ফিরে গোসল করে খাওয়াদাওয়া করে নিলাম সবাই।সত্যি রহমান মামা ও জামেলা মামি খুব খাতির যত্ন করছেন আমাদের।আর কত ধরনের যে খাবারের আয়জন।খুব ভাল লাগলো তাদের ব্যাবহারে।তাহ ঘরে এসে বিশ্রাম নিলাম সবাই।বিকেলে উঠে মামার বাসার সামনে সুন্দর একটি বাগান আছে।সেখানে একটা বড় কাঠাল গাছ আছে।তার নিচে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম।আমি ভাবলাম এটাই সেরা সময় সবাইকে বলার।
আমু বললাম:-এই তোদেরকে একটা কথা বলার আছে আমার।
সবাই এক সাথে বললো কি কথা?
আমি বললাম:-মামা গত রাতে বললো তোমরা সব জায়গায় যেতে পারো কিন্তু বাসার পিছনে যে আম বাগান আছে তার পাশে ছোট পুরাতন জমিদার বাসা আছে সেখানে যেতে মানা করলো মামা।পরে আমরা জিজ্ঞেস করলেও বলতে চাই নি।তাই সেখানে কি রহস্য আছে কেন সবাই সেখানে যেতে ভয় পায় আমি সেটা জানতে চাই তোদের কি মত তোরা কি যেতে চাস আমার সাথে?
সজিব:-বলিস কি তুই।মামা মানা করছে তাই না যাওয়াটাই ভাল হবে।আর আবির তুই জানিস তো আমি একটু ভিতু।এসব ভূত,পেত,আত্মা এগলা আমি খুব ভয় পাই।
সুমি:-সজিব ঠিকই বলছে আবির।আমারো এসব ভাল লাগে না।না যাওয়াটাই ভাল হবে।
রোদেলা:-আরে তোরা এতো ভয় পাচ্ছিস কে ভূত বলে কিছু হয় না।তাই আমরা গিয়ে দেখতেই পারি।কি আছে সেখানে।আমার তো পুরাতন জিনিষের প্রতি আগ্রহ আছে অনেক।
রায়হান:-আমি একমত আবির আর রোদেলার সাথে চল যাই না কি আছে সেখানে দেখে আসি।
আমি বললাম:-আরেহ সজিব আর সুমি আমরা আছি তো চল এখনই গিয়েই দেখে আসি।আর আমরা শুধু বাইরে থেকে দেখে চলে আসবো।তারপর সজিব আর সুমিকে প্রায় জোর করেই নিয়ে গেলাম।মামা বাসায় নাই এই সুযোগ সবাই রওনা করলাম।বাসার পিছনে একটু যেতেই আমবাগান।সেই আম বাগান পাড় করেই একটা বাগান এর মধ্যে দেখতে পেলাম সেই জমিদার বাড়ি।দূর থেকে দেখতে একদম ভৌতিক লাগছে বাড়িটাকে।কত যে পুরাতন হবে কে জানে।জংলি গাছ জন্মাইছে।অনেক জায়গায় দেওয়াল খসে পড়ছে।আমি সজিবকে বললাম তুই তো ছোটবেলায় আসছিলি দেখিস নি এই জমিদার বাড়ি।
সজিব:-যখন আসি আমি আমার বয়স প্রায় ৫ বছর হবে।এখানে আসছি নাকি মনে নাই কিছু।আর এখন আমার অনেক ভয় করছে চল যাই এবার।
রোদেলা:-ওরেহ ভিতু।দারা আসলাম ই কেবল আরেকটু দেখি।
আমি দেখলাম সুমিও ভয় পাচ্ছে।তারপর সজিব আর সুমি দূরে দাঁড়িয়ে থাকলো।আর আমি,রোদেলা,আর রায়হান ভাল করে সব দেখলাম জমিদার বাড়িটির।বাড়িটা ছিল দুইতোলা।সামনের দরজায় একটা তালা দেখলাম।কিন্তু মনে হল এই তালা দেওয়া বেশিদিন হয় নি।খোলা যাবে কোনো চাবি বানাই নিলে।যাই হোক সবাই সন্ধ্যার একটু আগেই বাসায় ফিরলাম।বাসায় ফিরে মামাকে এই বিষোয়ে কিছু বলি নাই আমরা।আমি সবসময় রহস্য পছন্দ করি।ভূতে বই পড়া ছবি দেখা আমার ভাল লাগে।সপ্তাহে একটা ভৌতিক ছবি হলেও আমি দেখার চেষ্টা করি।তাই আমি ঠিক করলাম জমিদার বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখতে হবে কিহ আছে ভিতরে।রাতে খাওয়াদাওয়া করে সবাইকে আমার ঘরে ডাকলাম।সবাই আসার পর
আমি বললাম:-আমি একটা জরুরি কথা বলতে চাই তোদের?
সবাই একসাথে বললো:-কিহ কথা বল?
আমি বললাম:-আমি ঠিক করেছি।জমিদার বাড়ির ভিতরে ঢুকবো।এবং আমি দেখতে চাই ভিতরে কি আছে।আমার অনেক আগ্রহ জেগেছে ভিতরে কি আছে দেখার।এবার বল তোরা কে কে যাবি আমার সাথে আমি চাই তোরা সবাই চল।
আমার কথা শুনে সবাই অবাক হল।সবচেয়ে বেশি অবাক হলো সজিব আর সুমি।আমাদের মধ্যে যে এরা দুইজনই সবচেয়ে বেশি ভিতু।
সুমি:-তোর কি মাথা ঠিক আছে আবির।ওই কত বছরের পুরনো জমিদার বাড়ির ভিতরে ঢুকতে চাস।নাহ জানি কিহ বিপদ লুকিয়ে আছে ওর ভিতর।
সজিব:-সুমি ঠিকই বলেছে তো আবির।এভাবে ভিতরে ঢুকা একেবারে ঠিক নয়।আর গ্রামের মানুষ কখনো চাইবে না বাইরের কেউ জমিদার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করুক।
রোদেলা:-আবির একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে না।তুই জমিদার এর বাড়ির ভিতরে ঢুকতে চাস।এমনি বাইরে থেকে দেখে আসছি এটাই কি বেশি নয় আবার ভিতরে ঢুকবি।
রায়হান:-কিহ তোরা ভয় পাচ্ছিস সবাই।সবাই জানিস আবির আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসি ওহ থাকলে আমাদের কিছু হবে না।
কিন্তু আবির জমিদার বাড়ির দরজায় তলা দেওয়া চাবি কই পাবি?
আমি বললাম:- মামা কে তো বলা যাবে না মামার কেয়ারটেকার কে বলতে হবে উনি কিছু একটা ব্যাবস্থা করে দিতে পারবে।তারপর অনেক বুঝিয়ে সবাইকে রাজি করালাম
পরেরদিন সকালের নাস্তা করে আমি মামার কেয়ারটেকার কে ডেকে সব বলে একটা চাবির ব্যাবস্থা করে দিতে বললাম।তিনি রাজি হচ্ছিলেন না কিন্তু অনেক জোড়াজুড়ি তে রাজি হলেন কিন্তু এটাও বললেন যে এই কথা যেন রহমান মামা জানতে না পারে নইলে তার চাকরি থাকবে না।
আমি বললাম:-করিম আংকেল চিন্তা কইরেন না কেউ জানতে পারবে না।আর জমিদার বাড়ির চাবিটা একটু নতুন নতুন লাগছে।কবে লাগানো হয়েছে এই তালা?
তিনি বললেন আগের পুরাতন চাবিটা জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে তাই ৬ মাস আগে রহমান সাহেব নিজে নতুন চাবি লাগিয়ে দিয়েছেন ওই জমিদার বাড়ির দরজায় যেটা তোমরা দেখে আসছো।
তারপর তিনি আরো বললেন অনেক গোপনে জেতে কেউ যেন টের না পায়।তারপর তিনি চলে গেলেন।সেইদিন আর তেমন দূরে কোথাও ঘুরতে যাই নি কেউ।বাসার আশেপাশেই ছিলাম সবাই।সন্ধ্যার সময় করিম আংকেল আমায় চাবিটা দিয়ে গেলেন।রাতে আবার আলোচনা করলাম আমরা।আমি বললাম কাল সন্ধ্যার একটু আগে আমরা জমিদার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করবো যাতে কেউ টের না পায়।আর সব দেখে দ্রুতই বেরে হয়ে যাব।আমার কথা শুনে রায়হান,রোদেলা সাড়া দিলেও সজিব আর সুমির মধ্যে আগ্রহ দেখলাম না তাও আমাদের জোড়াজুড়িতে রাজি হলো যেতে তারা।
তারপর কি হলো?
আবির ও তার বন্ধুদের জমিদার বাড়ির অভিযান জানতে পরবর্তী পর্ব৪ এর জন্য অপেক্ষা করুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now