বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিমানী অতন্দ্রীলা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X অতন্দ্রীলা আজ তার জীবনের সব চেয়ে বড় সিদ্ধান্ত টা নিয়েছে।কয়েকদিন তার খুব ই কষ্টে কেটেছে।এখন কষ্ট অবসানের পালা!চিরদিনের জন্যে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাবে।অনেক চিন্তা ভাবনা করেও কোন কুল কিনারা পায় নি ও।শেষ মেষ আত্নহননের মত অনাচার বেছে নিয়েছে। বয়স তো দিন দিন বেড়েই চলেছে। সোমত্ত মেয়ে, বাবা তাই বিয়ে দেওয়ার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে! অথচ ওর মতামতের কথা শুনতেই চায় নি কেউ।পাত্র ভালো।সব দিক দিয়ে মিলে গেছে একদম।ঘটক হারামজাদা বলেছে আপনার মেয়ের তো ভাই রাজকপাল।বড় ভাইয়া বলেছিল লেখা পড়া শেষ করে বিয়ে দিবে।কিন্তু সেও এখন রাজী!কিন্তু অনন্দ্রীলা মন দিয়ে বসে আছে নীর নামের এক ধড়িবাজ কে! সেই যে এক নিষ্ঠুর ছেলে আছে।পুরাই প্লে বয়।কি কুক্ষণে যে ওই বেয়াদবের সাথে আলাপ হয়েছিল।এখনো হাসি আসে প্রথম দিনের সেই ঘটনায়।কলেজের ফর্ম পুরণ করে জমা দেওয়ার সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল অতন্দ্রীলা ।এমন সময় হনহন করে একটা লম্বা মত ছেলে এসে ওকে বললো আপু আমার একটা জরুরী কাজ আছে,আপনি কি প্লিজ আমার ফর্ম টা জমা দিয়ে দিবেন?ওর ঘামে ভেজা কপাল আর চেহারার সরলতা দেখে অগত্যা রাজী হতেই হলো।সেই যে মায়া জন্মে গেল, তা দিন দিন বাড়তেই থাকলো। প্রথম দিন ক্লাসে এসেই সেই ছেলে স্যার এর ডায়াজের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। প্রায় সবাই হাজির ছিল সেখানে।তারপরে বলতে শুরু করল স্পষ্ট স্বরে "আমি টম হ্যাংক্স ওরফে নিশাচর শেয়াল সবাই জানাচ্ছি শুভেচ্ছা। আমার কথা ২ মিনিট ধরে শুনলে তোমাদের জীবনের ২ মিনিট অপচয় হতে পারে, সেই জন্যে আমি ৩ মিনিটের মধ্যে শেষ করবো। আমি কানাডার এক পাহাড়ে জন্মগ্রহন করি।ওখানকার আদিবাসীরা সবাই তখন শিফট হচ্ছিলো বিভিন্ন জায়গায়।কারণ সেখান পাহাড় ধসে প্রায় ১০০ মানুষ মারা গিয়েছিল।আমার প্রপিতামহ জানতে পেরেছিলেন যে ভারতীয় উপমহাদেশে একটা জংগল বেষ্টিত জায়গা আছে যেখানে চির যৌবন লাভের গাছ আছে। ওটাকে বলা হত মৃলাংক।তো তিনি তার পরিবারসহ দীর্ঘ ২ বছর ভ্রমণ করে চিটাগাং আসতে সক্ষম হন! কিন্তু মৃলাংক খুঁজে পাবার আগেই ইহজগতের মায়া ত্যাগ করেন।তারপর আমার পিতা একজন বৈঠা চালক যিনি এখানে বসতি স্থাপন করেন............. সবাই এতো তন্ময় হয়ে ওর কথা শুনছিল!!টুঁশব্দ পর্যন্ত নেই!! এমন সময় স্যার এসে দেখেলেন যে একটা ছেলে তার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাত পা নাড়িয়ে কি যেন বলছে আর অন্য সবাই হা করে গিলছে।স্যার ক্লাসে ঢুকলে ছেলে টা তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে গেল!!! স্যার তখন তার দিকে তাকিয়ে বললেন এই তুমি আজিজ সাহেবের ছেলে না? তোমার বাবা তো কাল আসেন না কলেজে! অসুস্থ নাকি? লম্বা মতো ছেলে টা বললো স্যার বাবা তো কাল সকালে একটা ক্লাস নিয়ে বাসায় চলে গেছেন।আপনি আসার আগেই!!! স্যার শুনলেন তোমার নাম কি? ছেলেটা বললো মাসরুর রহমান। সবাই তখন হা করে একবার স্যারের দিকে তাকাই আর একবার ওই ছেলের দিকে তাকায়। ক্লাস শেষ হলে ওই ছেলে টা সোজা আমার কাছে এসে বলে হাই আমি নীর।তোমার কাছে মে বি আমার রিসিটের অর্ধেক টা আছে??অতন্দ্রীলা তখন ওটা বের করে দিল।তারপরে বললো তুমি তো অনেক ভালো করে গুল মারতে পারো। নীর বললো ওটাই আমার নেশা!!! তারপর বললো তোমার নাম তো অতন্দ্রীলা! তাই না? অতন্দ্রী বললো তুমি ক্যামনে বুঝলা? ছেলে টা রহস্যের একটা হাসি দিয়ে বললো স্বাভাবিক একটা কমন সেন্স।তোমার খাতায় বড় করে লেখা আছে।হাহাহাহাহহাহা!!!! ইশ! এখন মরতে বসেও সেই হাসির শব্দ কানে বাজছে।সেই শালা এখন নিশ্চয় কোন মাইয়ার লগে চ্যাটিং নিয়ে বিজি।একটা কাজ করলে ক্যামন হয়? হুম। ফ্যানের সাথে রশি বেঁধে তার নিচে চেয়ার রেখে ভিডিও করে পাঠিয়ে দিল মেসেঞ্জারে।প্রথমে সিন হলো পরে রিপ্লে "বান্ধবী আমার, আমাকে একা ফেলে ঝুলিস না প্লিজ!!! তুই আমাকে এভাবে বন্ধুহীন করে কিভাবে চলে যেতে চাস?অপেক্ষা কর।চা বানা আমি আসছি বাসায়।" অগত্যা মরার প্ল্যান আপাতত বাদ দিয়ে চা বানাইতে ব্যস্ত।এর ফাকে ওয়াশরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে আসে ও।হাল্কা বডি স্প্রে ও ছিটিয়ে দেয়। নীর এসে কলিংবেল না দিয়ে ওর ফোনে মেসেজ দেয়, দরজা খুলে রাখিস নাই ক্যান? অতন্দ্রী মেসেজ পাঠায় "কোথাকার নবাবজাদা তুই শালা? দাঁড়িয়ে থাক।" তাড়াহুড়ো করে তারপরে দরজা খুলে দেয়। নীর ঘরে ঢুকেই আগে কোন কথা না বলে চলে যায় অতন্দ্রীর মায়ের ঘরে।গিয়ে কি সব ফুসুর ফুসুর করে আল্লাহ পাক ই ভালো জানে। তারপরে বেরিয়ে এসে অতন্দ্রীলা কে বলল শাড়ী পরতে পারিস না তুই? আমি চা খাচ্ছি।এই ফাকে কাঁচা কলার পাতা রঙ এর ওই শাড়ী টা পরে আয়। অতন্দ্রীলা বলে এই আমি কি তোর ঘরের বৌ নাকি রে?যা বলবি তাই করতে হবে? নীর বলে তোর মত বুড়ি রে আমি করবো বিয়ে? হাহাহা! যা বললাম তাই কর নইলে কিন্তু গেলাম..... তাড়াতাড়ী করে শাড়ী পরে এসে দেখে নীর ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে! চুপিচুপি গিয়ে পেছন থেকে ওর কথা শোনার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। তারপরে নীর বলে চল বাঁধ থেকে ঘুরে আসি দুজনে।এই বলে প্রথমবারের মত ওর হাত ধরল।তারপরে রিকশা তে উঠে সেল্ফি তুলল।তারপরে ওকে বললো যে হাত আমি একবার ধরেছি ওটা ছাড়ার ইচ্ছা নাই আমার।চল কাজী অফিসে যাই। অনন্দ্রীলা কাঁদতে কাঁদতে বলে তবে যে এতোদিন পাত্তা দিস নি?আমার সামনে কত মেয়ের সাথে টাংকি মেরে বেড়াইছিস! নীর শুধু বলে বন্ধু হয় অনেকে,মনে দাগ একজনই তো আঁকে!!তারপরে বলে আন্টি কে গিয়ে সালাম করে বললাম আমি অতন্দ্রী কে বিয়ে করতে যাচ্ছি।আপনি আংকেল কে বোঝাবেন।আর তুই তো জানিস ই আন্টি আমাকে কত টা পছন্দ করে।আসার সময় পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে এসেছি আর বলেছি আপনার অভিমানী মেয়ে টাকে আর যাই করি কাঁদতে দিব না। চোঁখের পানি মোছ হারামজাদী অতন্দ্রীলা বলে গাধা পানি মুছিয়ে দে।আর চিমটি দিয়ে দেখ তো।আমি স্বপ্ন টপ্ন দেখছি না তো!!! নীর অতন্দ্রীর কাঁধে হাত রেখে বলে স্বপ্ন তো এতোদিন দেখেছিস।তাজমহল দেখতে গেছি দুজনে।কিন্তু আমাদের বাস্তবের তাজমহল কিন্তু আছে সেই কানাডার পাহাড়ে.... ততক্ষণে অতন্দ্রীলা হো হো হো করে হাসতে শুরু করে দিয়েছে.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিমানী অতন্দ্রীলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now