বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিমান পত্র

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Samim Hossain(সাইকো) (০ পয়েন্ট)

X তারিখ: ২৫শে জানুয়ারি 2⚪???? . প্রিয় ভাগ্যবতি, শ্বশুর বাড়িতে দিনকাল কেমন কাটছে? আর ভাগ্যবান স্বামীর আদর? নিহাতই 'কেমন আছ?' একথাটি জিজ্ঞেস করব না। হয়তো, তোমার উত্তর পাবার আগেই এ প্রকৃতির নিয়ম মেনে আমি আর থাকব না। আর আমি জানি যে, তুমি সুখেই আছো; এ অভিশপ্ত মানুষটিকে ছেড়ে। জানি তুমি আর ভাবছনা আমার কথা। আর রাত্রী দিনে ভাবার সময় কোথায় তোমার। নতুন সংসার, নতুন জীবন, নতুন পৃথিবী। এটাই তোমার জীবন আর তকদীর। আর আমার তকদীর কষ্টের সাথে না পাওয়ার কিছু যন্ত্রনা। মনে আছে কি তোমার? যখন আমার হাতে হাত রেখে, আমারই কাধে মাথা রেখে বলতে, 'আমি শুধুই তোমারই।আর তোমারই জন্য।' আর বারেবারে আমায় একটি কথায় জিজ্ঞাসা করতে,' সোহেল, তুমি সারাটিজীবন আমার পাশে থাকবেতো! কখনও ছেড়ে যাবে নাতো আমায়?" হা হা হা... জানকি হে ছলনাময়ী, আমার এখনো হাসি পাই তা মনে পড়লে। আমি এক অপেক্ষামান নিশাচারি আর তুমি এক ছলনাময়ি সুখবতী। ওহে ছলনাময়ি, তোকে আমি ছাড়িনি। চলে গেছিস্ তুই আমায় ছেড়ে। তোকে অনেক ভালবেসে ছিলাম বলেই তোর হাতে হাত রেখে সারাটি জীবন কাটানোর ইচ্ছা জেগেছিলো ; এই মনের গভীরে। আর আমিতো ছিলাম এক অভাগা। মনটি ছিলো এক বদ্ধ কুড়ে ঘর। অগোছালো জীবন। যেথায় ছিলো না কোন আশার আলো। আর আলো জ্বালানোর ছিল না কোন দ্বীপ। তুই হে সেই দ্বীপ। যে বন্ধ অাধারময়ি ঘরটিকে দ্বীপের আলোতে আলোকিত করেছিলো। কিন্তু, কে জানতো যে, একদিন এক দমকা হাওয়াতে সব তছনছ করে দিবে । যে দ্বীপের আলোতে বুনেছি স্বপ্ন ; সেই দ্বীপের আগুনেই পুড়ে যাবে মোর কুড়ে ঘর খানি। আমি তো তা চাইনি হে অবন্তি। আমি তোমার কাছে আসিনি ;তুমিই এসেছো মোর কাছে। তুমিই বলেছ প্রথম ও শেষ, 'তোমায় আমি ভালবাসি!' ও'হে অবন্তি, আমি একা ছিলাম। ভালো ছিলাম। প্রতিটি মানুষই কিছু না কিছু আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে। মাকে জন্মের পরপরই হারিয়েছি।বাবাকেও তেমন একটা কাছে পাইনি। বাল্য কালেই শেষ বার বাবাকে দেখেছি। বাবার কিছু অদম্য শিক্ষা আর আদর্শকে মনের গভীরে আটকে ধরেই তো বেঁচে ছিলাম আমি। বাবা শিখিয়েছিলেন আত্তাতে নিহিত অদম্য তিব্র শক্তি। যাকে একবার, যে বের করি নিয়ে আসতে পারে, তারই স্থান মহামনিষীদের তালিকাতে। বাবা আমাকে সর্বদা বলতেন, 'বাবু তুমি ভাবুক হও। অদ্ভুদকে ভাবতে শেখো। অদ্ভুদ চিন্তা নিয়ে খেলায় মেতে থাকো সারাটিবেলা। কেননা যারা মহামানব তারা সবাই ছিলেন অদ্ভুদ অদ্ভুদ ভাবুক। অদ্ভুদ বিষয় শক্তির মূল রহস্যকে চেনার ফলপ্রসুতে তারা হয়েছেন অমর। কিন্তু বাবা মনে রেখ, তোমার চিন্তা জগৎকে গ্রাস করবে দুনিয়াবিদি লোভ লালসা, অত্যাধিক আকাঙ্খা। তার ফাঁদে পড়লে তোমার দুনিয়াবিদি ধংস। তা হতে দূরে থেকো। তবে সত্যিকারের ভালবাসা একবারই আসে । তাবে আকড়ে ধরো।' এখনতো আমার আর কিছুই নেই বাঁচবার। নেই বাবা আর না মা আর না আছে মন। যাতে নিহিত শিক্ষা। তবে কি নিয়ে এখন বাঁচবো? তুমি বলতে পারো কি? স্বামির ঘরে যাবার আগে অনন্ততো এইটুকু বলে যেতে পারতে! আমিতো ভার্সিটিতে তোমার খেলার পুতুল ছিলাম। তোমার জন্যে আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলাম। কতনা দিন রাত এক করেছি শুধুই তোমারই জন্যে। কতনা স্বপ্ন বুনেছিলাম। হাই রে সর্বনাশী, যাকে এতটা ভালবেসে ছিলাম কোন একদিন। তাকেই ঘৃনা করতে হচ্ছে আজ। ঘৃনা লাগছে আজ এই ভেবে, কতনা মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়েছিলে তুমি আমায়। কেউই ছিলনা আমার তাই আমি ছিলাম, অবহেলিত প্রেম লালসিত। ভালবাসা হতে দূরবর্তি এই আমি- তোমার নিকট আশ্রয়ের খোজে এক তৃষ্ণার্থ চাতক। তুমিই তাকে কাছে ডেকে কেনই বা হারিয়ে দিলে? তুমি যে সুখের খোজে বড় লোকের দুলাল বিয়ে করেছ। সুখি হবে না তুমি কখনো। মনে করো না তুমি, অভিশাপ দিলাম আমি তোমায়। যাকে ভালবাসা যায় তাকে অভিশাপ দেওয়া যায় না। ইহাই সত্য। তুমি তাকে ভালবাসনি বেসেছ্ টাকাকে। বিবাহ্ মাত্র সামাজিক বন্ধন মাত্র। আসল বিবাহ হয় মনের। যেদিন টাকা থাকবে না। তোমার ভালবাসা হবে ফিকে। আত্তা যখন একবার সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন তা অমরত্ব লাভ করে। দেহতো মাত্র ত্যাগ হয় মরনে। কিন্তু সত্যিকারের প্রেম হয় আত্মাতে। আত্মা যেহেতু অমর ; তাই আত্মার প্রতি আত্মার প্রেমও অমর। যেমন তোমার প্রতি আমার। দেহের কোন প্রেম নাই। আছে আত্মাতে। তবুও প্রতিটি বারে বারে আমি এই চাইবো; যে সুখের লোভে তুমি ছেড়েছ আমায় সেই সুখই যেন তুমি পাও। মরতে মরতে আজ এইটুকুই চাইবো মোর দয়ালের তরে । হ্যা ; বলছি শোন হে কামিনী: বললাম না যে প্রতিটি মানুষেরই বেঁচে থাকবার জন্যে কোন একটা আশা বা খুটির প্রয়োজন পড়ে। এই দুনিয়া নিঃস্ব'দের জন্যে নয়। আর আমি নিঃস্ব। তাই হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমায় তুলে নিবেন বলেই ভেবেছেন। আমার জীবনের অন্তিম পর্ব চলছে। হয়তবা তা জানার পরে কি জানি হয়তো তুমি, ছুটে আসবে আমার নিকট। কিন্তু না, তুমি এসোনা। আর জেনে রাখ ব্লাডক্যান্সার আজ আমার সঙ্গি । হাসিলাগে তোমার ওই কথাটি ভেবে যে, আমরা একসাথেই বাঁচবো আর একসাথেই মরবো।" তুমি আজ সাথে নেই আমার। সত্যিই হে অবন্তি, তুমি অভিনয়ে অস্কার পাবার যোগ্যতা রাখ। তুমিকি জানো যে, এখনও তুমি মোর সপ্নে আসো। সব আশা নিরাশা হবার পরেও, এখনও আশা বাধি তোমায় নিয়ে। তুমি যেনো আমারই ছিলে আর আমারই আছ smile emoticon । মানুষ সপ্ন দেখে যায় আমরন। সেই বস্তুকে নিয়ে, যাকে কখনও সে পায়নি। আমিও সবার মত স্বপ্ন দেখে যায়। এই বিভোর স্বপ্ন দেখতে দেখতেই কোন এক মূহুর্তে সমাপ্ত ঘটবে আমার এই ব্যার্থ জীবনের। তোমাকে শেষ একটি প্রশ্ন করবো হে' অবন্তি? তুমি আসলে কি চাইতে আমার নিকটে? ইতি, (সাইকো)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিমান পত্র
→ একটা অভিমানী পত্র

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now