বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কাব্য বিশ্ববিদ্যালয় এর ৩য় বর্ষে পরে।তার ইয়ারমেট তামান্না কে ভালোবাসত খুব।
ক্লাসের প্রথম দিন না তাদের পরিচয়টা ছিল সেই ছোট্ট বেলা থেকে।
সেই দুই জনের হাসি তামাসার দিন গুলি যে কি করে এত দিন পেড়িয়ে গিয়ে আজকে এত বড় হয়ে গেল কেউ বুজল না।
কাব্য যে তামান্না কে এত ভালোবাসে কিন্তু তামান্না জানে না,সে তাকে শুধু বন্ধু ভাবে।
"
"
"_______ প্রতিদিন একসাথে গল্প করা,কলেজ এক সাথে যাওয়া।এক সাথে ক্লাস করা।এমনি করতে করতে তাদের দিন গুলি খুব ভালই যাচ্ছিল।
তামান্না তাই বলে কাউকে লাভ করে না।
কাব্যকে খুব ভালো ফ্রেন্ড ভেবে সব শেয়ার করত।
তামান্নার জন্মদিন চলে আসছে কি গিফট দিবে ভেবে পাচ্ছিল না কাব্য।
খুব আনকমন কিছু দিবে কিন্তু এমন কিছু দিবে যা তামান্না ও দিতে পারে।
খুব চিন্তা করে কাব্য এর মাথায় একটা বুদ্ধি আসল।
যেই ভাবা সেই কাজ ফোন দিয়ে তামান্না কে বলল কালকে রেডি থাকতে এক যায়গায় যাবে।
"
"
"_______ পরের দিন কাব্য তামান্না কে এক যায়গায় নিয়ে যায়,যেখানে সেচ্ছায় রক্ত দেওয়া যায়।
কাব্য নিজে এক ব্যাগ রক্ত দেয় আর তামান্না কেও দিতে বলে।
শুধু বলে তার জন্ম হইছে পৃথিবীতে ভালো কাজ করার জন্য।
তাই তার জন্মদিনে এত মস্তি,আড্ডাবাজি না করে রক্ত দেবার মত ভালোকাজ করতে।
তামান্নার কাব্যের এমন মানুষিকতা দেখে চোখে পানি চলে আসল।
আর সেও এক ব্যাগ রক্ত দিল,আর প্রমিস করল সামনের কাব্যের জন্মদিনে আবার দুইজন রক্ত দিবে।
"
"
"________ এর পর আবার তাদের আগের দিনের মত দিন যাচ্ছে কিন্তু একদিন কাব্যদের ক্লাসে নতুন একটা ছেলে আসল।ছেলেটার নাম ছিল জিসান।
প্রথম দেখায় শুধু ছেলেদের কোন মেয়ে কে ভালো লাগলেও সেইদিন ঘটছিল উলটা ঘটনা।সেই দিন তামান্নার খুব ভালোলাগে জিসান কে।
ওই দিন আর জিসান এর সাথে কথা হয়না তামান্নার।এদিকে কাব্য তামান্না কে সারা বিকাল এসএমএস দিয়ে কোন উত্তর না পেয়ে রাতে ফোন দেয় তখন তামান্না এক মগ কফি হাতে বেলকোনি তে বসে কফি খাচ্ছে আর জিসান এর কথা ভাবছিল।
কি করে একটা ছেলে দেখতে এত মায়া মায়া চেহারা হয়।
কেন এত ভালো লাগল তাকে?
কিসের জন্য?জানে না তামান্না।
হঠ্যাত কাব্যের ফোন আসার শব্দে জ্ঞান ফিরে পেল তামান্না।
"
"
"__________ ফোন রিসিব করতেই ওপাশ থেকে কাব্য বলে উঠল.......
কাব্যঃকিরে তোর কি হইছে।ক্লাসে বসে কথা কম বললি।
ক্লাস শেষ করেই চলে আসলি।কারন কি?
আর সারা দিনে কোন এসএমএস এর উত্তর দিলি না কি হইছে তোর?
এক নিশ্বাসে বলে দিল কাব্য।
তামান্নাঃকাব্য হয়ত আমি তোকে সব কিছু বলি।তবু এই কথাটা বলতে খুব লজ্জা করছে।
কথাটা শুনে কাব্যের মনে এই চিন্তা দোলা দিচ্ছিল হয়ত তামান্নাও তাকে ভালোবাসবে,এই কথাই বলবে।
কাব্যঃআচ্ছা বলতো কি বলতে চাচ্ছিস।
তামান্নাঃকাব্য আমি হয়ত কারো প্রেমে পরছি।
কাব্যঃকে সে তাইত বল।
তামান্নাঃআজকে ক্লাসে যে ছেলেটা নতুন আসছে সেই ছেলেটা,জিসান নাম।
সাথে সাথে কাব্যের মনের মধ্যে ঝড় বয়ে যায়।
একটু চিন করে উঠে বুকের ভিতর।
মুখ থেকে কোন কথা বের হয়না।
ওপাশ থেকে তামান্না হেলো হেলো করে যাচ্ছে আর কাব্য এই পাশে নিস্তব্ধ হয়ে আছে।
কিছু সময় পর কাব্য বলে এইত খুব ভালোকথা।
এখন তো জিসান কে বল।
তামান্না বলে কালকে কলেজ গিয়ে তুই সব কথা ওকে বলবি।
"
"
"__________ পরের দিন তামান্না কলেজ গিয়ে জিসান কে পায়।
কাব্য কে দেখিয়ে দেয় জিসান কে।
বলে জিসান এর কাছে গিয়ে সব শুনে জানাবি আর আমার কথা বলবি।
কাব্য হাজার কষ্ট বুকের মাঝে চেপে রেখে জিসান কে সব বলে।
তামান্না দেখতে খুব সুন্দরী থাকায় জিসান এর না করার প্রশ্ন আসে না।
আর এই যুগে কোন মেয়ে যদি ছেলেকে আগে গিয়ে প্রপস করে আর সে যদি হয় সব দিক থেকে সয়ংসম্পর্না তখন তো কথাই নাই।
জিসান ও রাজি হয় তামান্নার কথায়।
আস্তে আস্তে তাদের ভালোবাসা খুব গভীর হতে থাকে।
প্রতিদিন দেখা করা,ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা এর জন্য কাব্যের এসএমএস এর উত্তর দেওয়া হয়না তামান্নার।
হয়না তাদের ফুসকা খাওয়া,হয়না তাদের এক সাথে কলেজে যাওয়া।
কিংবা ক্লাসে পাশাপাশি বসা।
"
"
"কিন্তু কাব্যে তামান্না কে সেই আগের মতই ভালোবেসে যাচ্ছে।
দেখতে দেখতে দিন গুলি অনেক দূর এগিয়ে গেল।
একদিন তামান্না কাব্যকে বলল সে জিসান এর সাথে ঘুরতে যাবে।
একটু দূরে তাই কাব্য যাতে বেশি ফোন না দেয় আর কাব্য টেনশন না করে।
কিন্তু কাব্য শুনে তামান্না কে যেতে বারণ করল।কিন্তু তামান্না ভাবছে হয়ত তাদের ভালোবাসাটা সহ্য করতে পারছে না তাই এমন বলছে।
হাজার বারন সত্যেও তামান্না চলে যায় জিসান এর সাথে ঘুরতে।
এর পর তামান্না কে নিয়ে জিসান তার এক বন্ধুর বাড়িতে যায়।বলে আজকে বন্ধুর জন্মদিন তাই।
"
"
"_______ জন্মদিনের পার্টি তে অনেক মজা করে তামান্না।
ড্রিংকস করায় জোড় করে জিসান তাকে।এর পর তামান্নার খুব ঘুম পায়।কিন্তু তামান্নার এর পর কিছুই মনে নাই।রাতের দিকে তার ঘুম ভাঙে কিন্তু সে খুব চমকে উঠে কারন তার শরীরের কাপড় ছিল না।আর তার সামনে জিসান আর তার বন্ধুরা হায়েনার মত তাকিয়ে আছে।
তখন তামান্নার আবারও মনে পরে সব ড্রিংক্স এর পর তার ঘুম চলে আসে আর মাথা টা অবস হয়ে যায়।
যখন জিসান কে বলে জিসান আমার সাথে কি হচ্ছে এই সব।
তখন জিসান বলে দেখ তোর মত অনেক মেয়ের জীবন আমি নষ্ট করছি।
আমি একটা প্লে বয়।
আর তুই যখন আমারে ইচ্ছা করে ধরা দিলি তখন আর কি করা।
মজা তো নিয়ে দেখতে হয়।
এর পর আবার ও সব বন্ধুরা মিলে সারারাত ধরে নির্মম অত্যাচার করে তামান্নার উপর।
তামান্না তখন কাব্য কাব্য চিৎকার করছে আর দুচোখের অশ্রু ফেলছে।
কি আর করার আছে,কাব্য এত বারণ করার পরও সে আসছিল।
"
"
"________ সকাল বেলা যখন তামান্না কে তার বাসার সামনে ফেলে দিয়ে যায় নরপশু গুলি।তখন এলাকার সব মানুষ গুলি মেয়েটার অবস্তা দেখে সাহায্য তো করলই না আরো তাকে খারাপ মেয়ের খাতায় নাম দিয়ে দিল।
যখন কাব্য অনেক ফোন দিয়ে রাতে না পেয়ে সকালে তামান্না দের বাসায় এসে দেখল এই অবস্তা তখন হাসপাতালে নিয়ে গেল।
প্রায় ১সপ্তাহ থাকার পর তামান্না সুস্থ হল।
এর পর সেই পশু গুলির নামে মামলা শাস্তি দিল।
কিন্তু সমাজ বড় একটা আজিব যায়গা যেখানে ভালো কাজ কেউ করলে যত তাড়াতাড়ি তার সুনাম ছড়ায় তার চাইতে দুর্নাম ছড়ায় অনেক আগে।
তামান্না এর রাস্তায় বের হওয়া অনেক কষ্টের হয়ে গেছিল।
সবাই তাকে খারাপ খারাপ কথা বলত।
অনেক কষ্ট লাগত তার।
সেই কষ্টের জন্য তামান্না সুইসাইড করতে যায়।কিন্তু তামান্নার মা দেখে ফেলায় বেঁচে যায়।
"
"
"________ যখন কাব্য এই কথা শুনে তখন তামান্নার কাছে আসে।
তামান্নাকে নিজের মনের কথা খুলে বলে।
কিন্তু এই জীবনে তামান্নার আর কি আছে যা কাব্যকে দিবে।
কাব্যকে বলে কাব্য তুমি সব জানো তবু কেন আমায় ভালোবাসতে চাও?
তখন কাব্য বলে তোমার সাথে যা যা হইছে তা যদি আমার সাথে তোমার বিয়ের পর হত?তবে কি আমি তোমায় ছেড়ে যেতাম?
কাব্যের এমন ভালোবাসার কাছে হেরে যায় তামান্নার সব কথা।
কাঁদতে থাকে মেয়েটা,কাব্য বুকে ঝরিয়ে ধরে আলতো করে চোখের জল মুছে দেয়।কিন্তু কাব্যের চোখের জল নিজের গালে গড়িয়ে পরছে।
হয়ত আনন্দের অশ্রু,কিছু কিছু সময় মানুষ খুসিতে ও কেঁদে ফেলে।
কাব্য ও হয়ত তাই কাঁদছে,তামান্নাকে পাওয়ার আনন্দে।
সুখি হবে তারা এই কামনা করি সবাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now