বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিয়ের পাত্রী দেখাদেখি নিয়ে আমরা অনেক নাটক সিনেমা দেখেছি কিংবা গল্প উপন্যাস পড়েছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই এক কাকতলীয় ঘটনার সাক্ষী।
.
আমাদের বশির ভাই মাত্রই চাকুরীতে জয়েন করেছেন। ৩৬তম বিসিএসে এসিল্যান্ড হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। চাকুরীর বয়স বড়জোর চারমাস হয়েছে। এর মধ্যেই ওনার বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তিনবোন আর দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। বোনদের অবশ্য বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভাইটা সবার ছোট। এদিকে তার মা ডায়বেটিস রোগী। তাই অগত্য না শব্দটি উচ্চারণের অবকাশ নেই।
.
বিয়ের প্রস্তাবে ভালো ভালো জায়গা থেকে সম্বোধন আসতে লাগল। কিন্তু তিনি সবগুলো প্রস্তাবেই একটা না একটা খুঁত ধরছেন। অগত্য পরিবারের সবাই, তার বিয়ের পাত্রী তাকেই নির্বাচনের ভার দিলেন।
.
আজ সকালে তিনি ফোন দিয়ে বললেন,"সালমান, বাড়ীতে আছস"? আমি বললাম," জ্বী ভাই।" তিনি বললেন," রেডি হয়ে একটু আমাদের বাড়ীর দিকে আয়।" আমার আর বুঝতে বাকী রইল না, তিনি কেন আমাকে ডেকেছেন।
খুব পরিপাটি হয়ে ওনাদের বাড়ীতে গেলাম। গিয়ে দেখলাম," আমাদের মামুন ভাই রয়েছেন। খুব রসিক প্রকৃতির লোক তিনি। আমরা একটা সিএনজি করে রওনা দিলাম। প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার যাওয়ার পর বুঝলাম আমরা জায়গামত এসে গেছি। পথে অনেক খুঁচালাম, কিন্তু ভাইয়ের কাছ থেকে কোন কথাই বের করতে পারলাম না।
.
কিছুক্ষণ পরে পাত্রপক্ষের ঘরে প্রবেশ করলাম। ঘরের দেয়ালের একটা ছবি চোখে পড়তেই, আমরা 'থ' খেয়ে গেলাম। লোকটা আমাদের পরিচিত। ওনি আর কেউ নন। তিনি আমাদের সাজ্জাত ভাই। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে যিনি শহীদ হয়ে ছিলেন।
.
কিছুক্ষণ পরে সাজ্জাত ভাইয়ের বাবা আসলেন। আমাদের অবাক করে দিয়ে বললেন," বশির, ভাল আছ বাবা?। তিনি বললেন," জ্বী চাচা। চাচী কেমন আছে?.
চাচা বললেন" তোমার চাচী ভালোই আছেন।
.
এরপর তিনি বললেন" বাবা, তুমি যা করতে চাইছ, চিন্তা ভাবনা করে করছো তো?. বশির ভাই বললেন," জ্বী আংকেল, আমি সবকিছু ভেবে ডিসিশন নিয়েছি।
জিনিসটা আমার আর মামুন ভাইয়ের কাছে সম্পূর্ণ অপরিস্কার। আমাদের আর পাত্রী দেখার সৌভাগ্য হলো না। তিনি তাদের বাড়ীতে আংকেলদের দাওয়াত দিয়ে উঠে গেলেন। এরমধ্যে আমরা হালকা নাস্তা ছাড়া আর কিছুই পেলাম না।
.
রাস্তায় নেমে পড়লাম। আমার আর মামুন ভাইয়ের মনে একই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। শেষে মামুন ভাই জিজ্ঞেস করলেন," তুই কি মেয়েটাকে আগে থেকেই চিনোস?। তিনি বললেন," না" মামুন ভাই বললেন,"তাহলে না দেখেই বিয়ের কথা ফাইনাল করলি কেন?।
.
এরপরে বশির ভাইয়ের কথাগুলো শুনে আমরাও অবাক না হয়ে পারলাম না। তিনি বললেন," সাজ্জাত আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল। তার একজন বোবা বোন আছে, সেটাও জানতাম। কিছুদিন পূর্বে খোঁজখবর নিতেই, শুনলাম সে আলেম ২য় বর্ষে উঠেছে। কিন্তু মেয়েটা বোবা বলে তারা একটু শংকিত। তাই নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম। এতে দুটো সওয়ান পাওয়া যাবে। এক হলো শহীদ পরিবারে বিয়ের সওয়াব অন্যটি কন্যাদায়গ্রস্ত কে মুক্ত করার সওয়াব। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি বললাম," ভাই ওনাকে না দেখে বিয়ে করছেন যে?" তিনি বললেন,"আমি একবার শুধু তার দুটি চোখ দেখিছি। যার চোখ এত সুন্দর সে নিশ্চয় কম যায় না। তা ছাড়া আমার তকদীর মনে হয় এখানেই লেখা।
.
আমিও ভাবলাম, কন্যাদায়গ্রস্তের জন্য তো জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। তাছাড়া আমার ফুঁফুর যে স্পেশাল মুখ, এতে বোবা মেয়ে ছাড়া অন্য মেয়ে আনলে, সকাল বিকাল পালা করে ঝগড়া চলবে। সুতরাং আমার দৃষ্টিতে বশির ভাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রসিক মামুন ভাইও আজ কেমন সিরিয়াস মোডে রয়েছেন।
.
পুনশ্চঃ দয়া করে বশির ভাইকে বিয়ের দাওয়াত চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। তিনি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now