বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরদিন সকালে রাশেদকে জেলখানায় চালান করে দেয়া হলো। নিজের বাসা নিজে ভেঙে নিজে কেস করে সেই কেসে নিজেই জেলে যাওয়া পৃথিবীর একমাত্র মানুষ বোধহয় রাশেদ। রাশেদের বউ খবর পেয়ে বাপের বাড়ি থেকে চলে আসলো। জেললখানায় এসে দেখা করে কাঁদতে কাঁদতে বললো, 'ওগো, আমাদের ঘর কে ভেঙেছে?'
রাশেদ শান্ত গলায় বললো, 'আমিই ভাঙছি।'
- মানে কি? তোমার নামে কেস করলো কে তাহলে?
- আমি নিজেই করেছি।
রাশেদের বউ কাঁদতেও ভুলে গেল। কি বলবে বুঝছে না। ভাষা হারিয়ে যাওয়া ব্যাপারটা খুব সম্ভবত এটাকেই বলে।
.
সপ্তাহখানেক বাদে কেস কোর্টে উঠলো। রাশেদের বউ তার পক্ষে উকিল ঠিক করেছে। অন্যদিকে রাশেদের আগের পক্ষে মানে সে কেস করেছে সেই পক্ষে উকিল দিয়েছে সরকার।
রাশেদের উকিল বললো, 'আমার ক্লায়েন্ট সম্পূর্ণ নির্দোষ। সে কোনো ভাঙচুর করেনি। তার ঘরে একটা পানির গ্লাস ছাড়া আর কিছু ভাঙা নেই। সব সুন্দরভাবে সাজানো।'
.
এটা শুনে রাশেদ নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না। চিৎকার দিয়ে বললো, 'মিথ্যা কথা। আমি নিজ হাতে টিভি ফ্রিজ ওভেন সোফা বেসিন সব ভেঙেছি। উকিল মিথ্যা বলছে।'
.
জজ সাহেব প্রশ্ন করলেন, কার বাসা ভেঙেছো?
রাশেদ বললো, 'আমার নিজের বাসা।'
- কেস কে করেছে?
- আমি নিজেই।
- আসামী কে?
- আমিই।
- পুলিশকে টাকা দিয়েছে কে?
- আমি দিছি।
- পুলিশ টাকা খেয়ে আসামী ছেড়েছে এই মর্মে সংবাদ সম্মেলন করেছে কে?
- সেটাও আমিই।
.
দেখা গেল জজ সাহেব দুই গ্লাস পানি খেলেন। আরদালিকে ডেকে বললেন, 'আমার মাথা ঘুরছে।'
তিনি মামলার শোনানির ডেট দিলেন একসপ্তাহ পর। একসপ্তাহ পর কোর্টে হাজিরা দিতে হবে মর্মে রাশেদকে সাময়িক জামিনও দিলেন। তারপর নিজের রুমে গিয়ে দ্রুত প্রেশার আর মাথাব্যথার ঔষধ খেয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লেন।
.
রাশেদ বের হয়েই আরেক উকিল ঠিক করলো বেশি টাকা দিয়ে। যে কোর্টে প্রমাণ করবে রাশেদই ভেঙেছে সব। সরকারি উকিল দিয়ে কাজ হবেনা।
রাশেদের বউ এসে আবার কাঁদতে কাঁদতে বললো, 'তুমি যে পাগল হয়ে গেছ, এটা তুমি জানো?'
রাশেদ রাগান্বিত গলায় বললো, 'আমি কিছু জানিনা, কিন্তু আমি এর শেষ দেখেই ছাড়বো।'
.
কয়েকদিন পর অবশ্য রাশেদের মনে হলো কাজটা ঠিক হয়নাই। সুতরাং সে একসপ্তাহ পর কোর্টে হাজিরা না দিয়ে পালায়ে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা চলে গেল। রাশেদের নামে ওয়ারেন্ট বের হলো। পুলিশ খুজছে তাকে। গ্রামের বাসায় রাতে খাওয়াদাওয়ার পর কেউ একজন টিভি ছাড়ার সাথে সাথে রাশেদের মনে পড়লো, তার নিজেরও এরকম একটা টিভি ছিলো।
সে তখনই পুলিশকে ফোন দিয়ে বললো, 'আপনাদের আসামী কুমিল্লার চরপাড়া গ্রামে রিয়াজ মুন্সির বাড়িতে লুকিয়ে আছে।'
কিছুক্ষণ পর পুলিশ বাসা ঘিরে ফেললে রাশেদ পেছনের দরজা দিয়ে দৌড় দিলো। পিছু নিলো পুলিশ। রাশেদ দোড়ে নিরাপদ দুরত্বে গিয়ে আবার ফোন দিয়ে বললো, 'ডানদিকে কি করেন। আসামী বায়ে ধানক্ষেতের ভেতর লুকানো।'
পুলিশ ধানক্ষেতে আসা মাত্রই রাশেদ দৌড়ে উত্তরপাড়ার বিলে নেমে গিয়ে ফোন দিয়ে বললো, ধানক্ষেতে না খুজে উত্তরপাড়া বিলে আসেন। বিলে পুলিশ আসলে আবার দৌড় দিলো রাশেদ। প্রচন্ড ক্লান্ত সে, পা আর চলেনা। তারপরও পালাতে সক্ষম হলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না৷ আরো ঘন্টাদুই পরে পাশের গ্রাম থেকে রাশেদের ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাশেদকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল।
কনস্টেবল ওসিকে বললো, 'স্যার, আসামী বারবার পালিয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু কেউ একজন ভালো লোক আমাদের ফোন করে জানাচ্ছিলো কোথায় লুকাচ্ছে সে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন স্যার, সেই ফোন নাম্বারওয়ালা মোবাইল আসামীর কাছেই পাওয়া গেছে।'
ওসি সাহেব থমথমে গলায় বললেন, 'ফোন অন্য কেউ করেনাই, ঐ হারামজাদা আসামী নিজেই করেছে।'
কনস্টেবল অবাক হয়ে বললো, 'আপনি কিভাবে জানলেন?'
ওসি আশরাফ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন, 'ঐ হারামীকে আমি চিনতে পেরেছি। ওর জন্যই আমাকে খুলনা থেকে সাসপেন্ড করে পরে কুমিল্লা পাঠিয়ে দিয়েছে। ঐ লোক অনেক ভয়ংকর। যত দ্রুত সম্ভব ওকে খুলনা পাঠানোর ব্যবস্থা করো।'
.
কিছুক্ষণ পর হঠ্যাৎ থানায় হইচই শুরু হলো। ওসি সাহেব খবর পেলেন আসামী কন্সটেবলের মাথায় বাড়ি দিয়ে পালিয়ে গেছে।
ওসি সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, 'ঐ লোক একটা পাগল। সে পালাইছে ভালো হইছে আর খোজাখুজি করার কোনো দরকার নাই। উপর থেকে ফোন আসলে বলবা, খোজা হয়েছে কিন্তু পাওয়া যায়নি।'
.
বাকিটা পরের পর্বে দেওয়া হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now