বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবাঞ্ছিত আবাস

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ।। অবাঞ্ছিত আবাস।। কাহিনীঃ লান্স শালওয়ে অনুবাদকঃ মনীন্দ্র দত্ত আমি মনে করি না যে বাড়িটাকে আমি কোনওদিন পছন্দ করেছিলাম। আর আজ যখন বাড়িটার কথা ভাবি তখনও মনে হয় না আমার স্ত্রী আন কোনওদিন বাড়িটাকে পছন্দ করত। আসলে বাড়িটা কিন্তু মোটামুটি ভালই ছিল, তবু প্রথম দিনেই আমরা দুজনে কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করেছিলাম। অবশ্য যা সব কান্ড-কারখানা ঘটে গেল তাতে সহজেই বলা যায় যে আমরাই ভুল করেছিলাম। আমার ধারণা, প্রথম দিন অপরাহ্নেই জায়গাটাতে আমরা কিছু অস্বস্তিবোধ করেছিলাম। মনে পড়ে, দিনটা ছিল আগস্ট মাসের একটি উজ্জ্বল দিন। আগের সপ্তাহে আমরা অন্তত কুড়িটা বাড়ি দেখেছি। তখন আমরা একটা সুসজ্জিত ফ্ল্যাটে থাকতাম; আর নিজস্ব একটা আলাদা বাড়ির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছিলাম। অনেক টাকা খরচ করার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। বাড়িটা দেখেই মনে হল, আমাদের এজেন্ট ভদ্রলোক নিশ্চয়ই বাড়িটার দাম বলতে ভুল করেছে। অন্তত বাইরেটা দেখলে মনে হয় যে, যা দাম বলা হয়েছে বাড়িটার দাম তার চেয়ে বেশীই হওয়া উচিত। আমি বললাম, " বাড়িটা তো বেশ ভালই; তবে ছাদটা কেমন যেন দেখতে।" আমার স্ত্রী আন সন্দিগ্ধ গলায় বলল, " আমি ঠিক বুঝি না। দেখতে তো ভালই লাগছে। তবে বাড়িটা এত ' সাধারণ ' না হলেই ভাল হত"। বাড়িটা সত্যিই সাধারণ। ২৬ নম্বর ব্রায়ারফিল্ড অ্যাভিনিউয়ের এই বাড়িটা শহরতলীর অন্য সব বাড়ির মতোই; সামনে টিউডর আমলের নকল পাশকপালি লাগানো আর ঢালাই লোহার একটা বিশ্রী ফটক। একটা গ্যারেজও নেই। অবশ্য ওটুকু ছাড়া বাড়িটার বিরুদ্ধে আর কিছুই বলার নেই। আন বলল, " পাশের বাড়িটা কিন্তু অনেক বেশী সুন্দর। ঠিক আমার মনের মতো। " বিচলিত বোধ করলাম। ২৬ নম্বর বাড়ির অন্য অংশটাই ২৪ নম্বর। দুটো বাড়ি মোটামুটি একই রকম। আন বলল, " না, না, ওটা নয়। অন্য পাশের বাড়িটার কথা বলছি।" অন্য পাশের বাড়িটা এখানকার সাদামাঠা পরিবেশের তুলনায় সত্যি অনেক আকর্ষণীয়। ভিক্টোরীয় ছাঁদের গঠন, লম্বা জানলা, গম্বুজ। বাগানের গাছগুলো অযত্নে বেড়ে উঠেছে। দেখলেই বোঝা যায় বাড়িটা অনেকদিন খালি পড়ে আছে। আমি বললাম, " হ্যাঁ, খুব সুন্দর। তবে বড্ড বড়। মেরামত করতে অনেক টাকা ঢালতে হবে।" আন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। " তুমি হয়ত ঠিকই বলেছ। " গাড়ি থেকে নামতে নামতে বলল, " বেশ তো, ২৬ নম্বর বাড়িটাই দেখা যাক। বেলা অনেক হয়েছে।" যে লোকটা ফটক খুলে দিল সে আমারই সমবয়সী ; বিবর্ণ মুখ, চোখে চশমা, গায়ে সবুজ কার্ডিগান। সে বলল, " আমার নাম ট্যাপলো। আর আপনি নিশ্চয়ই........" " ডেভিড টার্নার", আমি বললাম, " আর ইনি আমার স্ত্রী ", পাশে আন'কে দেখিয়ে বললাম। ট্যাপলো বলল, " ঠিক আছে, ভেতরে আসুন।" হল-এ ঢুকলাম। ট্যাপলো আমাদের সঙ্গে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, " বাড়িটা ভাল। মনে হয় আপনাদের পছন্দ হবে। এটা বৈঠকখানা। " একজোড়া মেষের মতো আমরা ট্যাপলোর পেছন পেছন গোটা বাড়িটা ঘুরে দেখলাম। খুব সম্প্রতি সাজানো গোছানো হয়েছে। ওয়্যারিংটা 'ও নতুন করা হয়েছে। আসবাবপত্র ও কার্পেটটাও প্রায় নতুন। আনের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, বাড়িটা তার মোটেও পছন্দ হয়নি। কিন্তু আমার কাছে সবকিছু ভালই মনে হচ্ছিল। আর দাম'ও সস্তা। দামটা যদি ঠিক-ঠিক হয়ে থাকে আর বাড়িটার যদি গোপন ত্রুটি না থেকে থাকে তাহলে এখানেই কথা পাকা করে ফেলা যাক। দরকার হলে পরে বাড়িটা বিক্রি করে আধুনিক প্যাটার্নের বাড়ি কিনতে পারব আমরা। রান্নাঘরে পৌঁছে ট্যাপলো আমাদের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, " দামটাও ন্যায্য বলেই আমার ধারণা। আপনাকে খোলাখুলিই বলছি, বাড়ি বিক্রির ব্যাপারটা আমি তাড়াতাড়ি চুকিয়ে ফেলতে চাই।" আমার চোখেমুখে নিশ্চয়ই একটা সন্দেহ ঝিলিক দিয়েছিল, কারণ সে তখনিই বলে উঠল, " বাড়িটার যে কোনও দোষ আছে তা নয়। আমায় ভুল বুঝবেন না। আমরা....আমি মাত্র ছ'মাস এ বাড়িতে বাস করেছি, আর বাড়িটা তৈরি করাও হয়েছে একটা ঘন্টার মতোই শক্তপোক্ত করে। প্রতিবেশীরাও শান্তশিষ্ট। রাস্তাও ভাল। একেবারে আদর্শ বাড়ি আর পরিবেশ। " বুঝলাম, লোকটার কথায় আনের আগ্রহ বেড়েছে। বাড়িটা তাকে খুশী না করুক, ট্যাপলো করেছে। তার স্বভাবই ঐরকম ; কোনও বস্তুর চাইতে মানুষের প্রতি তার টান বেশী। ট্যাপলো তার সহানুভূতিটা ধরতে পারল। একটু কেশে বলল, " কয়েক সপ্তাহ আগে আমার স্ত্রী মারা গেছেন। স্মৃতি বড়ই বেদনাদায়ক... কাজেই বুঝতে পারছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।" আন বলল, " বটেই তো, বটেই তো, খুবই দু:খের কথা। " ট্যাপলো কিছুটা সুস্থির হল। বলল, " ঠিক আছে, তাহলে ঐ কথাই রইল। ভাল কথা, নির্ধারিত দামের মধ্যেই কার্পেট আর রাতে ব্যবহারের জন্য হিটারগুলো পাচ্ছেন।" আনের মন তখন ট্যাপলোর স্ত্রী 'র মৃত্যুর ব্যাপারে জানার জন্য নিশপিশ করছে, আমি পরিষ্কার বলে দিতে পারি। সঙ্কোচের সঙ্গেই সে প্রশ্ন করল, " অনেক...অনেকদিনের অসুখ ছিল বুঝি আপনার স্ত্রী 'র?" ট্যাপলো বলল, " না, না, মোটেও তা নয়। খুবই আকস্মিক, অপ্রত্যাশিত মৃত্যু। তাছাড়া তিনি এ বাড়িতে মারা যান নি, আপনাদের চিন্তার কিছু নেই। " তারপরেই উচ্চকন্ঠে হেসে বলল, " এটা ভূতুড়ে বাড়ি নয়।" এবার আনের বিচলিত হবার পালা। কোনওরকমে একটু হেসে জানলার কাছে গেল। বলল, " আরে দেখো, বাগানটা দেখো। বাগানের কথা তো আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম।" ট্যাপলো বলল, " বোকামিটা আমারই। বাগানটাই আপনাদের দেখাতে ভুলে গিয়েছি। আসুন....." পিছনের দরজা খুলে ট্যাপলোর পেছন পেছন আমরাও বাইরের বাগানে এলাম। বাগানটা লম্বা ও সরু; আর বাড়িটার মতোই সাধারণ। লনটার দিকে অনেকদিন নজর দেওয়া হয়নি। একেবারে শেষপ্রান্তের তরকারি বাগানটার অবস্থাও তথৈবচ। আনের খুব বাগানের শখ। সে বাগানে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। একটা ওষধি গাছের সারিকে সে খুব ভাল করে দেখতে লাগল। ট্যাপলো বলল, " এখানে একটা বাগান করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের কিন্তু সে আর হয়ে ওঠেনি।" " হলে ভালই হত", আমি এসব ব্যাপারে আমার অনাগ্রহকে চাপতে চেষ্টা করলাম। আমাদের কথা বেশীদূর এগোল না। আনের দিকে নজর পড়তে দেখলাম, সে বাগানের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পাশের গম্বুজওয়ালা সেই ভিক্টোরীয় বাড়িটার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তাকিয়ে আছে। তার দীর্ঘ চুলের রাশি সূর্যালোকে ঝলমল করছে। আমি ট্যাপলোকে বললাম, " ঐ বাড়িটা আমার স্ত্রী 'র খুব চোখে লেগেছে। ঐ পুরনো বাড়িটা খালি, তাই না?" ট্যাপলো প্রথমে জবাব দিল না। সে তাকিয়ে আছে আনের দিকে। তার মুখে একটা অদ্ভুত ভঙ্গি। আবার জিজ্ঞেস করলাম, " পাশের ঐ বাড়িটা কি খালি?" ট্যাপলো এবার আমার দিকে মুখ ফেরাল। বলল, " ঐ বাড়িটা? হ্যাঁ, ওটা খালি। " একটু কেশে নিয়ে ফের বলল, " আমাদের সবার এবার ভেতরে আসা উচিত। বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে...."। যদিও অগস্টের রৌদ্রস্নাত দিনে আমার মোটেও ঠাণ্ডা লাগছিল না। ট্যাপলো আমার মনের ভাব বুঝে মৃদু হেসে বলল, " আমি দুঃখিত। আপনি কি যেন বলছিলেন? ও হ্যাঁ....ওই বাড়িটার কথা। ওটা শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। নতুন একটা বাড়ি বানানো হবে ঐ জায়গায়।" আমি ঘুরে দাঁড়ালাম। আন তখনো পাশের সেই গম্বুজওয়ালা বাড়িটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে সেদিকে তাকিয়ে মনে হল, বাড়িটার দোতলার একটা জানলার দিকে সে তাকিয়ে আছে। জানলাটা খুব বড়; রঙিন কাঁচের ছোট টুকরো দিয়ে অদ্ভুত একটা বর্ডার টানা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোনও বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ল না।" ডাকলাম, " আন! এবার আমাদের ফিরতে হবে।" একটু নীরবতা। তারপর আন প্রথমে ধীরপায়ে, তারপর দ্রুত পায়ে আমাদের দিকে এগিয়ে এল। তাকে বিচলিত দেখাচ্ছে। সে এলে বললাম, " এবার আমাদের ফিরতে হবে আন। এমনিতেই মিঃ ট্যাপলোর অনেক সময় নষ্ট করেছি।" " মোটেই না", ট্যাপলো বলল। সে একদৃষ্টে তখন আনের দিকে তাকিয়ে আছে। আন শুধোল, " পাশের ঐ বাড়িটায় কি কেউ থাকে? আমি জানি ওটা খালি কিন্তু....... " " কিন্তু কি?" ট্যাপলো জিজ্ঞেস করল। আন হাসল। বলল, " জানলায় কাকে যেন দেখলাম মনে হল। কেউ যেন জানলায় দাঁড়িয়ে ছিল আর ঐ মহিলা....." " মহিলা?", ট্যাপলো বলল, " আপনি বলছেন ও বাড়িতে একজন মহিলাকে দেখেছেন?" আন তার দিকে তাকাল। বলল, " না, এটা হয়ত আমারই মনের ভুল। বাড়িটা তো খালি শুনলাম। কিন্তু তাহলেও......" আমি বললাম, " হয়ত কোনও ভবঘুরে বা অনধিকার প্রবেশকারী হবে। ওরকম খালি বাড়ি পেলে ওরা তো ঢুকে পড়বেই।" ট্যাপলো বলল, " না, দরজাগুলো তো তক্তা দিয়ে এঁটে দেওয়া হয়েছে। কেউ ঢুকতেই পারে না।" আন বলল, " তাহলে তো মিটেই গেল। ওটা তাহলে স্রেফ আমার মনের ভুল। আলোছায়ার খেলা।" " ঠিক তাই", বলেই ট্যাপলো মুখ ফেরাল হঠাৎ। আমরাও তাকে অনুসরণ করে বাড়ির ভেতর ঢুকলাম। হল থেকেই আমরা বিদায় নিলাম। বলে এলাম, " বাড়ির ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা এজেন্টকে জানিয়ে দেব। " গাড়িতে ওঠার আগে আন একটি কথাও বলল না। যেতে যেতে সে বেশ জোর দিয়েই বলল, " কিন্তু আমি কিছু একটা দেখেছি। জানলায় যে হোক কেউ একজন ছিল।" আমি অস্বস্তি বোধ করলাম। " বেশ তো, তুমি না হয় জানলায় কাউকে দেখেছ। তাতে কি হল? বাড়িতে কেউ ছিল, ব্যস মিটে গেল।" আন আবার বলল, " একটি মেয়েকে দেখলাম মনে হল। সে আমার দিকে তাকিয়েছিল।" আমি তার দিকে ঘুরে তাকালাম, " আচ্ছা এটাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছ কেন বলো তো?" আন ভ্রু কুঁচকে বলল, " ঠিক বুঝতে পারছি না। কিন্তু.... না, ওটা কিছু না। তুমি ঠিকই বলেছ, ব্যাপারটা মোটেও গুরুতর কিছু না।" আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, " তবে কেন বলছ? তুমি নিশ্চয় ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিয়েছ। তা না হলে এত গুরুত্ব দিয়ে কথাটা বলতে না।" আন বলল, " ঠিক আছে, এখন এসব ভুলে যাওয়াই ভাল। এখন বাড়ি চলো। " আমি হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দিয়ে বললাম, " তুমি যতক্ষণ না আমায় এ ব্যাপারে সব কথা না বলবে, আমি বাড়ি যাব না।" আন : আমার কথা তুমি বিশ্বাস করবে না। আমি বললাম, " আগে সব খুলে বলো তো শুনি।" আন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, " বেশ, শোনো তাহলে। বাড়িটার জানলার কাছে একটা মেয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেখতে সাদামাটা, লাল চুল। কিন্তু ওর মুখটা"......বলতে বলতে শিউরে উঠল আন। " মুখটা কিরকম? " আমি বললাম। " মুখটা.....মুখটা একেবারে বিবর্ণ, পাণ্ডুর ", আন চাপা গলায় বলতে লাগল, " আর চোখদুটো ধ্বকধ্বক করছিল.....যেন আমায় কিছু বলতে চাইছিল। সাহায্যের জন্য যেন মিনতি করছিল। কোনওকিছু থেকে উদ্ধার করতে বলছিল।" আন এবার মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, " হয়তো এসব কিছুই আমার মনের কল্পনা। কিন্তু......" আনের কথায় বিচলিত না হয়ে পারলাম না। ভাবলাম, আন তো সেরকম কল্পনাপ্রবণ মেয়ে নয়। আমার বিশ্বাস সে জানলায় কাউকে নিশ্চয় দেখেছে। কিন্তু বাকিটা......। ট্যাপলো ওদিকে বলেছে, বাড়িটা অনেকদিন ধরে পরিত্যক্ত আর দরজা ভেঙেও কেউ ঢুকতে পারে না বাড়িটায়। তাহলে আন কাকে দেখেছে! আমি ব্যাপারটাকে হাল্কা করতে গিয়ে বললাম, " জানলায় রোদ পড়ে গাছের পাতার ছায়ার নড়নচড়নে ভুল দেখেছ।" ঠাট্টাটা কাজে লাগল না। আন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, " জানতাম, তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে না। কাজেই এখন সব ভুলে বাড়ি চলো।" " বেশ চলো", গাড়িতে ফের স্টার্ট দিলাম আমি। " বাড়ি গিয়ে আমার একটু গরম কফিতে চুমুক দেওয়া দরকার ", আন নিজের মনেই বলল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, " আর যে ২৬ নম্বর বাড়িটা দেখতে গেলাম কিনব বলে, সেটার ব্যাপারে কি বলো?" আন হেসে বলল, " সত্যিই ভুলেই গিয়েছিলাম। পরে হবে সব কথা, এখন বাড়ি চলো।" বাড়ি ফিরে ২৬ নম্বর বাড়িটা সম্পর্কে অনেক কথা হল আমাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত স্থির হল, বাড়িটা কেনা হবে। যদিও খুব একটা আহামরি বাড়ি নয় সেটা কিন্তু বিরাট একটা দাঁও পাওয়া গেছে, হাতছাড়া করার নয়। পরে ওটা বিক্রি করে নতুন সুন্দর একটা বাড়ি কেনা যাবে। নতুন বাড়িতে কয়েকটা সপ্তাহ বেশ ভালভাবেই কেটে গেল। দু একটা ঘর নতুন করে সাজিয়ে নিলাম, পছন্দমতো রঙ করে নিলাম। আর কোনও অদলবদল করলাম না। নতুন বাড়িতে আসার কয়েক সপ্তাহ পর ২৪ নম্বর বাড়ির দম্পতির সঙ্গে পরিচয় হল। মধ্যবয়সী দম্পতি, নামটাও জানা হয়নি। একদিন কথায় কথায় তাদের কাছে ট্যাপলোদের কথাটাও তুললাম। ট্যাপলোর নামটা শুনেই তাদের মুখ কঠিন হয়ে উঠল। তাদের কাছেই শুনলাম, ট্যাপলো দম্পতি খুবই সুবিবেচক প্রতিবেশী ছিল; শান্ত, ভদ্র। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই ট্যাপলোর স্ত্রী 'র ব্যবহার কেমন যেন হাস্যকর মনে হত। ঘন্টার পর ঘন্টা বাগানে দাঁড়িয়ে থাকত, বিড়বিড় করত, কাঁদত। তারপর আর কিছুদিন পরেই ওনার স্ত্রী......... অথচ কি সুন্দরী মহিলা ছিল ট্যাপলোর স্ত্রী.......উজ্জ্বল ত্বক, লাল চুল....." আমি চমকে উঠলাম। আন তো ঐ পুরনো বাড়িটার জানলায় এক লালচুল মহিলাকেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে। অস্বস্তি হতে লাগল আমার। তারপর একদিন...... কয়েকদিন পর কাজ থেকে বাড়ি ফিরে দেখি আন আমাদের বাগানের শেষপ্রান্তে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। পুরনো সেই বাড়িটার জানলার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। কাছে গিয়ে তার দুই চোখে ভয় আর হতাশা লক্ষ্য করে আমি চমকে উঠলাম। তাকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে এলাম। একটি কথাও বলল না আন। আমি ওকে গেলাসে পানীয় ঢেলে খাওয়ালাম। আনের শরীর তখনো কাঁপছে। একটু পরে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, " তুমি আবার তাকে দেখেছ না? ঐ লাল চুলের মহিলাকে?" " হ্যাঁ", অস্ফুট গলায় বলল আন। " সেই একই মুখ?" " হ্যাঁ", তারপরেই আন ফের বলল, " দেখো আমি খুবই দুঃখিত। আমি জানি কথাগুলো বোকার মতো শোনাচ্ছে।" আমি জোর গলায় বললাম, " বোকার মতো হবে কেন? ও বাড়িতে নিশ্চয় কেউ বাস করে।" " তা কি করে হবে? বাড়ি তো তালাবন্ধ ", আনের কণ্ঠস্বর আর্ত শোনাল, " সে আমার সাহায্য চায়, আমায় তার খুব দরকার।" আমি জোর গলায় বললাম, " বাজে কথা। তোমায় তার দরকার হবে কেন?" আন কাঁধ ঝাঁকুনি দিল। বলল, " আমি জানি, সে আমায় চাইছে।" গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বললাম, " বেশ তো, তাহলে চলো, গিয়ে দেখেই আসি ব্যাপারটা কি। চলো, লাল চুলের মেয়েটির সাথে আলাপ করে আসি।" আন ধীরেধীরে উঠে দাঁড়াল। বলল, " এটা আমার হয়তো কল্পনা। হ্যাঁ, হয়ত কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়।" " বেশ তো, ওখানে গিয়েই সন্দেহভঞ্জন করে আসি", বলে হাতটা বাড়িয়ে দিলাম আনের দিকে। আমার হাতটা ধরে সে গম্ভীরভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, " আমার আচরণ তোমার কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে না তো? এইসব যা-তা দেখা। ভ্রান্তদর্শন।" বললাম, " না, মোটেও তা মনে করি না। জানলায় তুমি ঠিকই কাউকে দেখেছো। তারমানে ওখানে কেউ থাকে। আর কোনওরকম সাহায্যের দরকার যদি তার হয়েই থাকে তাহলে তো সাহায্য করাই কর্তব্য। অতএব চলো। গম্বুজওয়ালা ভিক্টোরীয় ধাঁচের সেই পরিত্যক্ত বাড়িটার নাম ' দি লরেলস'। ফটক থেকে সামনের সিঁড়ি পর্যন্ত রাস্তাটা ভাঙাচোরা আর আগাছায় ভর্তি। ফটকটাও খুব নিরাপদ মনে হল না। পৌঁছে দেখলাম, সামনের দরজাটা তালাবন্ধ এবং রঙিন কাঁচের পাল্লার ওপর তক্তা মেরে দেওয়া হয়েছে। জানলায় আনের দেখা সেই নারী যে এই দরজা দিয়ে ঢোকেনি, সেটা সহজেই বোঝা যায়। বাড়ির চারিধার ঘুরে ঘুরে দেখলাম। বাগানটা ঝোপেজঙ্গলে ভর্তি। এখানে ওখানে আবর্জনার স্তুপ, পরিত্যক্ত বাড়িতে যেরকম হয়ে থাকে। একতলার জানলাগুলো এঁটে বন্ধ করা। বাড়ির পেছন দিকেও একটা দরজা আছে, সেটাও সামনের দিকের দরজার মতোই বন্ধ। আমি আনের দিকে তাকিয়ে বললাম, " দেখ তোমার সেই রহস্যময় বান্ধবীটি একতলা দিয়ে ঢুকেছে বলে মনে হয় না। হয়তো জলের পাইপ বেয়ে দোতলার জানলা দিয়ে ঢুকেছে।" আন চটে গেল। " ঠাট্টা করছ? তুমি তো আগাগোড়াই আমায় অবিশ্বাস করছ। বেশ, তাহলে সবটাই আমার কল্পনা নয়তো আমি মিথ্যে বলছি। তোমার যা খুশী তাই মনে করতে পারো।" তাড়াতাড়ি ওর পিছু নিলাম। বললাম, " আমি কি ভাবব বলে তুমি আশা কর? তোমায় অবশ্যই বিশ্বাস করি। তুমি জানলায় কাউকে দেখেছ। কিন্তু নিজের চোখেই তো দেখলে বাড়িটা বন্ধ। তাহলে সে ঢুকল কোথা দিয়ে?" কথা বলতে বলতে আমরা আমাদের নিজেদের বাড়ির ফটকে পৌঁছে গিয়েছি। আন ফটক খুলে কোনও কথা না বলেই দরজা দিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। আমিও ওকে অনুসরণ করে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম। ধীরেধীরে বললাম, " তোমার বিশ্বাস তুমি জানলায় কাউকে দেখেছ কিন্তু ও বাড়িতে যে কেউ আছে তা আমি বিশ্বাস করি না।" আন তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলল, " তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াল? আমি একটা হাঁদা?" " আমি জানি না, আমি জানি না", বলতে বলতে বৈঠকখানায় ঢুকে আমি একটা গ্লাস নিয়ে বসলাম। আন দোতলায় উঠে গেল। সে সন্ধ্যায় আর নিচে নামল না। রাত তিনটে নাগাদ ঘুম ভাঙতে দেখি আন বিছানায় নেই। স্নান ঘরে নেই, একতলাতেও নেই। গোটা বাড়িতেও তাকে খুঁজে পেলাম না। ভয় পেয়ে গেলাম। হঠাৎ মনে হল, সে কোথায় থাকতে পারে। পিছনের শোবার ঘরে গিয়ে জানলা দিয়ে বাগানের দিকে চেয়ে দেখি, চাঁদের আলোয় বাগানের শেষপ্রান্তে আন দাঁড়িয়ে আছে; একদৃষ্টে সেই বাড়িটার জানলার দিকে তাকিয়েই আছে, তাকিয়েই আছে। সেই থেকেই আন কেমন বদলে গেল। হাসিখুশি মেয়েটা দিনদিন কেমন চুপচাপ, চাপা স্বভাবের হয়ে গেল। আমার দিকে ভাল করে তাকায় না, কোনওসময় চোখাচোখি হলেও চোখ সরিয়ে নেয়। আমি না দেখলেও অনুমান করতে পারি, আমি রোজ সকালে কাজে বেরিয়ে গেলেই সে সোজা বাগানে চলে যায়। সন্ধ্যেয় আমি ফিরে এলে দেখি সে রান্নাঘরে ব্যস্ত কিন্তু তার চোখমুখের ক্লান্তি বলে দেয় সে সেই নারীকে আবার দেখতে পেয়েছে। রাতে বিছানায় শুয়েও সে আমার দিকে পিছন ফিরে শুয়ে থাকে। যখন জেগে উঠি দেখি সে বিছানায় নেই। সে যে কোথায় গেছে তা নিয়ে আমি ভাবি না। আমি জানি সে কোথায়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে বাধ্য মেয়ের মতোই সে আমার সঙ্গে গেল। কিন্তু ডাক্তারের বড়িতে কোনও পরিবর্তন হল না। আমি বললাম, "চলো এখান থেকে চলে যাই আর বাড়িটা বিক্রি করে দিই" কিন্তু ওর তীব্র আপত্তিতে আমি চুপ করে গেলাম। আন বাগানে গিয়ে কি দেখে সেটা জানবার জন্য দু'একবার বাগানে গিয়ে বাড়িটার জানলার দিকে তাকিয়েও দেখেছি। দেখতে চেয়েছি সেই নারীকে। কিন্তু ধূলিমলিন কাঁচের ওপর আলো আর গাছপালার ছায়া ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ল না। কি যে করব বুঝতে পারছি না। আমার এত ঘনিষ্ঠ সঙ্গিনী স্ত্রী যেন ক্রমেই আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারপর, একদিন সন্ধ্যেয় বাড়ি ফিরে দেখি বাড়ি খালি। পিছনের দরজা দিয়ে বাগানে গেলাম। বাগানও জনশূন্য। বাগানে গিয়ে ' দি লরেলস'এর দিকে তাকালাম। হঠাৎ মনে হল, আন সেখানেই গেছে। সশব্দে বাড়ির সদর দরজা আর ফটক বন্ধ করে আমাদের বাড়ি আর ' দি লরেলস'এর মাঝখানের কয়েজ গজ জায়গা ছুটে পার হলাম। অন্ধকার জানলাগুলো অন্ধের চোখের মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাঙা সিঁড়ি আর কাঠ লাগানো দরজায় যাবার পথে বারকয়েক হোঁচট খেলাম। কেন যাচ্ছি, কিসের আশায় যাচ্ছি, জানি না। শুধু জানি যে আন ঐ বাড়িতেই আছে আর তাকে খুঁজে বের করতে হবে। সামনের দরজাটা আজ খোলা দেখে আমার অবাক হওয়া উচিত ছিল। দরজাটা কেন খোলা আছে, কে-ই বা খুলে রেখেছে - এসব একবারও না ভেবে অন্ধকার, ধূলোভরা হলঘরে ঢুকে পড়লাম আমি। সিঁড়ির ওপরের স্কাই লাইট দিয়ে আসা একটা আবছা আলো হলঘরে ছড়িয়ে আছে। দু পাশের বন্ধ দরজাগুলোর দিকে না তাকিয়ে আমি চওড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগলাম। একবার কান পেতে কোনও শব্দ শোনার চেষ্টা করতে লাগলাম কিন্তু কিছুই শোনা গেল না। নিস্তব্ধতার একটা শ্বাসরোধকারী কালো কম্বল যেন আমায় ঘিরে ধরেছে; আমার পায়ের শব্দ ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই! দোতলার চাতালে পৌঁছে একবার থামলাম। তবু কোনও শব্দ নেই। আমার ডান দিকে একটা বারান্দা চলে গেছে, সেটা ধরেই এগিয়ে চললাম। বারান্দার শেষপ্রান্তে একটা দরজা; তার ফাঁক দিয়ে একটা রূপোলি আলোর রেখা বারান্দায় এসে পড়েছে। সেই দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে আমি এই প্রথম ডাকলাম " আন! আন, তুমি কোথায়?" কোনও উত্তর এল না। একটা শব্দ পর্যন্ত নেই। আস্তে করে দরজাটায় ধাক্কা দিলাম। দরজাটাও আস্তে আস্তে ভেতর দিকে খুলে গেল, আর সঙ্গে সঙ্গে একটা কিছু.....একটা মাকড়শারজাল অথবা বদ্ধ হাওয়া এসে আমার গালে ঝাপটা মারল। ঘরের মধ্যে তাকালাম। আমার মুখোমুখি একটা জানলা। রঙিন কাঁচের ছোট ছোট টুকরো দিয়ে তৈরি বিচিত্র পাড় বসানো একটা মস্ত বড় জানলা। ঘরের মধ্যে আন একা। আর কেউ নেই, কোনও লাল চুল মেয়ে নেই, আছে শুধু আন। ধুলোভর্তি মেঝেতে সে তালগোল পাকিয়ে শুয়ে আছে। লম্বা চুলের রাশি তার মুখের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে। সেই চুল একপাশে সরাতে দেখলাম সে হাসিমুখেই মারা গেছে। * * * * * * * * * * * * * * * * এক যুবক দম্পতি আজ আমার এই ২৬ নম্বর বাড়িটা দেখতে এসেছে। বাড়িটা দেখে তারা বেশী কিছু বলল না, তবে মনে হল যে, বাড়ি তাদের পছন্দ হয়েছে। পছন্দ হবারই কথা। বাড়িটা এমনিতে ভাল, পরিবেশটাও ভাল। আর কোনওরকম অযৌক্তিক দামও আমি চাইনি। আন মারা যাবার পর এখন আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িটা বিক্রি করে দিতে চাই। যেমন করে ট্যাপলো আমাদের কাছে তড়িঘড়ি বাড়িটা বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। একটা ব্যাপার বুঝেছি, ওই 'দি লরেলস ' বাড়িটা আসলে অভিশাপগ্রস্ত। যারাই এখানে নতুন আসে, তারাই ওই বাড়ির জানলায় এক রহস্যময় নারীকে দেখতে পায়। সেই অমোঘ আকর্ষণের ফাঁদে পা দিয়ে যারাই ঐ বাড়িতে ঢুকে দোতলার ঘরটায় গেছে, তারাই মারা গিয়েছে। ট্যাপলোর স্ত্রী'ও এরকম কাউকে ঐ জানলায় দেখতে পেত, তাই সে-ও বাগানে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ' দি লরেলসের' দোতলার জানলার দিকে তাকিয়ে থাকত। সে-ও আমার স্ত্রী'র মতো ঐ বাড়িতে ঢুকেই মারা গিয়েছিল । আবার আন যাকে জানলায় দেখতে পেত....সেই লালচুল মহিলা, সে ট্যাপলোর মৃত স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নয়। যুবকটির সঙ্গে যখন বাড়ি কেনার ব্যাপারে কথাবার্তা বলছিলাম তখন বাগানে দাঁড়িয়ে যুবকের স্ত্রী 'টির আচরণ কেমন যেন অদ্ভুত মনে হল। ঠিক আন যেমন করে পাশের সেই পুরনো, পরিত্যক্ত ' দি লরেলসের' দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকত ঠিক সেইরকম এই যুবকের স্ত্রী 'টিও অনেকক্ষণ ঐদিকে তাকিয়ে থেকে আমার কাছে জানতে চাইল, ও বাড়িতে কে থাকে। আমি যখন বললাম যে বাড়িটা খালি পড়ে আছে তখন সে ভ্রু কুঁচকে বলল যে সে শপথ করে বলতে পারে যে দোতলার একটা জানলায় সে কাউকে দেখেছে। একটা মেয়ে, যার মাথায় লম্বা চুলের রাশি। আমি মুখে কিছু না বললেও মনে মনে বুঝলাম, ও কাকে দেখেছে। এইভাবেই অভিশাপ চলবে ধারাবাহিকভাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবাঞ্ছিত আবাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now