বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অব্যাচেলর

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X 'অব্যাচেলর' -হাসান মুন্না . হাসিগুলো মুখে এনে জমাতে হচ্ছে। প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ঠোট দুইটি মাঝে মাঝে চেপে ধরছি হাসি সামলানোর জন্য। মানুষ কান্না আটকানোর চেষ্টা করে। আর আমি হাসি আটকানোর চেষ্টা করছি। বন্ধুরা আমাকে পিকুলিয়ার পাবলিক বলে। মাঝে মাঝে মনে হয় বন্ধুদের কথাই ঠিক! . সেদিন ডাল পুরি খাচ্ছিলাম বন্ধুরা মিলে একসাথে। কোন এক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে মুরগীর গোশতের বড় পিস আর পরোটা খেতে দিয়েছিল। সে গল্প করছিলাম। গোশতটা অনেকাংশে কাঁচা রয়ে গেছে মনে হয়েছে। তাই খেতে পারিনি পুরাটা। . এটা শুনে এক বন্ধু বলল, কাবাব দিয়েছে যে এটাই জানিস না। . হাসলাম। আমি অনেক কিছু হেসে উড়িয়ে দেয়ার একটা ক্ষমতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছি। আমার মাঝে মাঝে ভয় হয়, বিয়ের কবুল বলার সময় বুঝি হেসে উঠবো। আশেপাশের মানুষ তা দেখে বিরক্তির চোখে আমার দিকে তাকাবে। বয়স্ক কাজী সাহেবের চোখ লাল হবে। রাগত চোখে আমার দিকে তাকাবেন। কি ভয়ানক যে অবস্থা হবে ভাবতেই ভয় লাগে। . ইদানিং আমি বাসায় আয়নার সামনে দাঁড়াই। আয়না বললে ভুল হবে। আয়নার একটা অংশ। জানালার পাশেই আয়নাটা রাখে। একবার প্রচন্ড বাতাসে আয়না পড়ে গিয়ে কয়েক ভাগ হলো। সারা মেঝেটে আয়না ছড়িয়ে পড়েছে। আয়নার যে ভাঙ্গা অংশটা সবচেয়ে বড় ছিল সেটা রেখে অন্যগুলো ফেলে দিলাম। . ওই আয়নার সামনে গম্ভীর মুখে দাঁড়াই। তারপর অনুচ্চ স্বরে বলি, কবুল, কবুল, কবুল। কই হাসছি নাতো! নিজের পারফর্ম দেখে ভালো লাগে। কয়েকদিন পর পর একাজটি করি। প্র্যাকটিস না করলে অনেক কিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য নিয়মিত এ প্র্যাকটিসটা রাখছি। . যে কারণে হাসিগুলো আটকানোর কথা বলছিলাম তাই এবার বলি। আমি আলতাফ সাহেবের সামনে দাড়িয়ে আছি। একটু আগে তিনি অনেক কড়া কথা শুনাচ্ছিলেন। আমাকে নাকি তার চাকরিতে রেখে পোষাচ্ছে না এসব। মধ্যখানে তার ফোন এলো। “বিশ্বাস করো, আমি ভোরে উঠেই চলে এসেছি। ওই রুমে যাইনি।” . ওই পাশের জন হয়ত বিশ্বাস করছেন না। . বার বার বলছে, বিশ্বাস করো। সত্যি বলছি। আমি ওই রুমে যাইনি। . তার চেহারা ভয়ার্ত। এ চেহারাটা দেখে আমার হাসি আসছে। একটু আগে চেহারাটা বস বস ছিল। এখন মনে হচ্ছে, কোন ঘরের চাকর। যে কিনা ঘরের মূল্যবান কিছু ভেঙ্গে ভয়ে আছে। কি শাস্তি দেয় সে ভয়ে কাঁপছে। . হাসলে আমার চাকরি এ মুহূর্তে চলে যাবে। তাই প্রাণপন চেষ্টা করে হাসি সামলানোর চেষ্টা করছি। বস বলেই যাচ্ছেন, বিশ্বাস করো, বিশ্বাস করো। . হাসি সামলাতে না পেরে ঠোটের ওপর কামড় দিয়ে বসলাম। আরেকটু হলেই ঠোট কাটত দাঁতের চাপে! বসের অনুমতি ছাড়া বেরও হওয়া যাচ্ছে না। বস হয়ত ভুলেই গেছেন আমি এখানে। বস কি কান্না করে দিবেন! . হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে চলে যেতে ইঙ্গিত করলেন। বের হয়েই আমি সোজা ওয়াশ রুমে গেলাম। ওয়াশ রুমে ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ হাসতে হবে। এতক্ষণ সামলিয়ে রাখা হাসিগুলো হেসে নিতে হবে। মানুষ লুকিয়ে কান্না করতে হলে ওয়াশ রুমের আশ্রয় নেয়। আর আমি হাসির জন্য যাই। . হাসিটা ছিল বলে রক্ষে। তারিন তো প্রায় সময় বলে, এই তোমার একটা জিনিসই আমার অনেক বেশি পছন্দের। তোমার বোকা বোকা হাসিটা। আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য এটি। . তারিন কঠিন কঠিন বকা দিতে পারে। শুধুমাত্র আমাকে বকা দিতে পারে না। ওকে বকার মুডে দেখলে আমি হেসে দিই। : ঘটনা কি হাসতেছো কেন? হাসার মত কোন কারণ হয়েছে? : না, তা হয়নি। তবে আগের একটা কথা মনে পড়েছে। : আগের আবার কি কথা? : সেদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে বৃষ্টি এলো। যেই সেই বৃষ্টি না। হুরুস্তুল বৃষ্টি যাকে বলে। কাছেই ফ্লাইওভার ছিল। সেটার নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। : এখানে হাসির কি হলো? : ফ্লাইওভারটাকে মনে হচ্ছিলো ছাতা। স্থির ছাতা। এত লম্বা ছাতা দেখেতো আমি পুরাই মুগ্ধ। : এটা হাসির ভাবনা? : না। : তবে? : তোমার কঠিন মুখ দেখে হাসির ভাবনাটা পুরাই ভুলে গিয়েছি। তবে তখন হাসছিলাম তা মনে আছে। ওই হাসির সময়টা মনে করে হাসতেছিলাম। আচ্ছা এখন বন্ধ। তোমার মন খারাপ? : হুম। মনে হয় কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হতে যাচ্ছে আমার। : এটাতো খুশীর খবর। মন খারাপের কি আছে। একটা ছেলের গতি হলো। আবাসন সমস্যা দূর হলো। এখনকার ব্যাচেলর ছেলেদের আবাসন সমস্যা জীবন মরণ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। কেউ ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। জঙ্গী ধরার পর কয়েক বাড়িঅলা ধরে নিয়ে গিয়ে রিমাণ্ডে নেয়ার ঘটনার পর সব বাড়িওয়ালা এখন অনেক সতর্ক। বিয়ে করলে তো ওই ছেলের আবাসনজনিত আর সমস্যা থাকবে না। একটা ছেলের জীবনমরণ সমস্যা দূর হচ্ছে তোমাকে বিয়ের মাধ্যমে। এটাতো অনেক বড় খুশীর সংবাদ। তোমারতো আনন্দ হওয়ার কথা। : তোমার লেকচার শেষ হয়েছে? আমি যাচ্ছি। : রিকসা ঠিক করে দিই? : না, আমিই ঠিক করে নিতে পারবো। একজন ব্যাচেলর মানুষের আবাসন সমস্যা দূর হচ্ছে ভেবে তুমি আনন্দে ভাসতে থাকো। আমি গেলাম। : তুমি কি রাগ করেছো? : আচ্ছা, তুমি মানুষটা এত বোকা কেন? কোনদিন চালাক হবে না? . তারিন এটা ভুল বলেছে। আমার মনে হয় না আমি বোকা। আমি জানি তারিনকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না। ও আমাকে যত বেশি ভালোবাসুক এটা সম্ভব না। ওর সাথে অনেক বেশি যোগ্য ছেলে মানাবে। আমাকে কোনভাবেই না। একসাথে থাকতে গেলে রাত দিন অনেক সমস্যা হবে। . দুই মাসের মাথায় তারিনের বিয়ে ঠিকঠাক। তারিন দেখা করতে চাইলো। : বিয়ের দাওয়াত কার্ড দিলে আসবে? : সবান্ধব দেবে নাকি একজনকেই দিবে? : তোমার বন্ধু বান্ধব কয়জন আছে? : হিসেব করতে হবে। এই ধরো.... আচ্ছা একটা দিন সময় দেয়া যায় না? : এখন তো আমার বিয়ে হয়ে যাবে। তোমাকে সিরিয়াস হতে আর বলা হবে না। এরপরও কি একটু সিরিয়াস হওয়া যায় না। কোন মতেই যায় না? তুমি তো হাসিখুশী থাকো সব সময়। কষ্ট তোমাকে স্পর্শ করে না। কিন্তু আমি জানি আমি অনেক খারাপ সময়ের দিকে যাচ্ছি। প্রথম আবেগের, ভালো লাগার বিষয়গুলো মেয়েরা কখনও ভুলতে পারে না। সেগুলো তাদের মাথায় থেকে যায়। কখনও ফেলতে পারে না। কখনই পারে না। . বিয়েতে আমি একাই গিয়েছি। চারদিকে ঝিকিমিকি লাইট জ্বলছে। লাইট গুলো একবার জ্বলে একবার নিভে। আবার জ্বলে আবার নিবে। হাঁটছি। বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি আমার অনেক পছন্দ। কয়েকটা বাচ্চার দৌড়াদৌড়ি দেখছিলাম। কয়েকজন কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলো। আমিই শুধু একা। হঠাৎ দেখি এক মেয়ে আমাকে ধরে অনেকটা টেনে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গেলো। করছেন কি, করছেন কি বাধা দেয়ার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না। . : আমি তারিনের বান্ধবী। পেছনের দরজাটা খোলা আছে। বাহিরে তারিন আছে। তাড়াতাড়ি যান। : ওর না বিয়ে। ও আবার কই যাচ্ছে। এটা তো লিগ্যাল কাজ হচ্ছে না। ওরতো এ মুহূর্তে স্টেজে থাকার কথা। : একটা কথা বলবেন না। আপনাকে যা বলেছি তা করেন। . মাইক্রোবাস ছুটে চলছে। আমি বসে আছি। পাশেই তারিন। তারিনের মাথা কোলের ওপর। . : যে লোকটা এত এত বোকার মত হাসতে পারে, তাকে ছাড়া থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। বিয়েতো মানুষের জীবনে একবারই হয়। তা প্রথম ভালো লাগা, পছন্দের মানুষের সাথে হবে নাতো কার সাথে হবে! এই, আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও না! চেহারাটা এমন করেছো কেন! এত সিরিয়াস করে রাখার কোন দরকার নেই। তুমি যেমন ছিলে তেমনই থাকো। দুইজনকেই সিরিয়াস হতে হবে এমন কথা নেই। সংসারে একজন সিরিয়াস হলেই হবে। তুমি তোমার মত থাকবে। আর শুনো আবাসন নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। কিছুক্ষণ পরতো আমরা আর ব্যাচেলর থাকছি না। অব্যাচেলর হয়ে যাচ্ছি। কই হাত দাও না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অব্যাচেলর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now