বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যাঙ্গোলা: মৎসকুমারী কিয়ান্ডা এবং অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী

"পৌরাণিক গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)

X অ্যাঙ্গোলার অনেক গল্প, উপকথা এবং পৌরাণিক চরিত্র আছে যা বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার মত। এগুলো ছোটদের এমনকি বড়দের কল্পনাকেও পূর্ণ করে, সমৃদ্ধ করে অ্যাঙ্গোলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে। উদাহরণ স্বরূপ, কিয়ান্ডা চরিত্র টি বেশ জনপ্রিয়। জলের দেবী, যে প্রথাগতভাবে ভোট প্রদানে পূজিত হয়। অ্যাঙ্গোলার সাহিত্যে বোদ্ধাদের মধ্যে একজন, পিপেটেলা, “ও সাইলেনসিও ডা কিয়ান্ডা” [ কিয়ান্ডার নিরবতা] শীর্ষক একটি বই লিখেছেন। এ্যা ম্যাটারিয়া দো টেম্পো [সময়ের উপাত্ত] নামক ব্লগের লেখক দেনুডাদো বলেছেন এই মৎসকুমারীর প্রতি দূর্বলতা সম্পর্কে কিছু কথা: অনুবাদ মূল উক্তি যখন আমি অ্যাঙ্গোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাজশ্রেণীর সাথে মিলিত হয়েছিলাম তখন আমি সে দেশের অনেক প্রচলিত উপকথা এবং লোকগাথা শুনেছিলাম। জীববন্তুর অন্যান্য লোকগাথা ব্যতিত, প্রায় সব গল্পেই আমি শুনেছিলাম মৎসকুমারীর একটা পৌরাণিক ভূমিকা আছে। অ্যাঙ্গোলার সাধারণ জনগণ দৃঢ়ভাবে মৎসকুমারীর অস্তিত্ব বিশ্বাস করে, যাকে তারা অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী ভাবে। কুইমবুনডো (জাতীয় ভাষার একটি) তে মৎসকুমারীকে বলা হয় ইয়ান্ডা, যা এক বচনে কিয়ান্ডা বলা হয়। প্রত্যেক জলীয় পরিবেশে মৎসকুমারী থাকে, এরকমই বলা হয়ে থাকে। প্রত্যেক নদী, জলাশয় অথবা পুকুর এ তার নিজস্ব কিয়ান্ডা আছে যার নামানুসারে নদী, জলাশয় বা পুকুরের নামকরন হয়। কিছু ক্ষেত্রে, সে জলীয় পরিবেশের প্রতিমূর্তি। উপরের ব্লগে, লেখক কিয়ান্ডার সম্পর্কে যেসকল গল্প শুনেছেন তার একটি বর্ণনা করেন: অনুবাদ মূল উক্তি প্রায়শ:ই আমি মৎসকুমারীর যে গল্পটি শুনতাম তাতে একজন গরীব লোকের সামনে এক মৎসকুমারী দেখা দেয় যার কাছে সে (মৎসকুমারী) এক গুপ্তধনের সন্ধান পেশ করে। হঠাৎ ধনী হয়ে ওঠা লোকটি সব ধন সম্পদ তার লোকালয়ের কল্যান ব্যতিত কেবল নিজের কল্যানে ব্যয় করে স্বার্থপরের মত আচরণ করতে শুরু করেছিল। শাস্তি স্বরূপ মৎসকুমারী তখন তার গুপ্তধন অদৃশ্য করে দিয়ে লোকটি সম্পূর্ণ দুর্দশায় পতিত করল। কখনও কখনও শাস্তি হতো রুঢ় এবং লোকটি নদী বা পুকুরের তলদেশে চিরকালের মত জাদুতে বশীভূত হয়ে থাকত। মৎসকুমারীর আরোও গল্প আছে যেখানে পুরো গ্রাম স্বার্থপর এবং লোভী আচরণ করে, যে ক্ষেত্রে পুরো লোকালয়ের উপর শাস্তি নেমে আসে, তারপর জলাশয় বা নদীর তলদেশে জাদুতে বশীভূত হয়ে থাকে। এমন অ্যাঙ্গোলাবাসী আছে যারা যীশূর রক্তের শপথ করে বলে যে তারা একটা গ্রামের নারীর কান্নার শব্দ, কুকুরের ডাক অথবা গৃহপালিত মোরগের গান শুনেছে যাদের পুকুর বা নদীর তলদেশে বাস করা জন্য জাদু করা হয়েছে। কিয়ান্ডার সাথে আরও আছে জ্যাকার ব্যাংগো রূপকথা। এই চরিত্রকে ঘিরে অনেক ধরনের সংস্কার চালু আছে , যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো: উপকথায় আছে যে ব্যাংগো প্রদেশের ক্যাক্সিটো শহরে, একটি বিশেষ কুমির অফিসের প্রধানকে কর দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল, যে ব্যক্তি(প্রধান) কর পরিশোধ হলো কিনা তা সুনিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ। বলা হয় যে সেই অফিস প্রধান এলাকার অধিবাসীদের প্রতি এমনই নিষ্ঠুর ছিল যে কুমিরটি সে আচরণ দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিজে কর দিতে যাবে এবং তার ঔদ্ধত্বকে থামিয়ে দেবে। যখন কর সংগ্রাহক দেখল যে মহৎ কুমিরটি দানদে নদী হতে তার অভিলাষ পূরণে উঠে এসেছে, তখন সে ভীত হলো এবং জনগণের সাথে অসদাচারণ বন্ধ করে দিল। অলথার দো টেমপো ( সময়ের দর্শন) এর লেখক অন্য সংস্করণটি সম্পর্কে বলেন: অনুবাদ মূল উক্তি আমাকে যা বলা হয়েছিল, ঔপনিবেশিক আমলে সকলকে কর/খাজনা দিতে হত। সে জন্য ক্যাক্সিটোর জনগণ করের সকল অর্থ একত্রিত করে তা কুমিরের মুখে রেখেছিল এবং তারপর সেটাকে তারা গভর্ণরের কাছে পাঠাল কর হিসেবে গ্রহনের জন্য। সেটা দেখে, গভর্ণর অর্থ আর চাইলেন না এবং জনগণের কাছ থেকে কর নেয়া বন্ধ করে দিলেন। এটা সত্য হোক বা না হোক, গুজব বা উপকথা হোক বা নাহোক, স্পষ্টভাবে আমি তা জানিনা, কিন্তু আমি মনে করি আমাদের পর্তুগালে কুমির থাকা উচিৎ ছিল। পেডরো করডোসো তার ব্লগ কোইসাস ডি’অ্যাঙ্গোলা, যা কিমবুনডো লোকগাথার একটি উপকথা, তে বলেন“ সিংহ বন্ধুত্বের মতই শক্তিশালী।”: অনুবাদ মূল উক্তি দুইজন বন্ধু প্রতিদিনই দেখা করত এবং কথোপকথন চালিয়ে যেত। তাদের একজন মন্তব্য করেছিলেন: -চারদিকে সিংহ। সমস্যা এড়ানোর জন্য বাসায় সাবধানে থেকো। -সিংহ প্রবেশ করতে সমর্থ হবেনা। আমার কাছে বন্দুক ও ছুরি আছে। -তুমি ভুল করছ। তুমি সিংহের সাথে লড়াই করতে পারবেনা। – আমি জানি আমি পারব। তারা হেসেছিল এবং আডডা চালিয়েছিল বিচ্ছিন্ন হওয়া পর্যন্ত। ঐ ব্যক্তি তার বন্ধুকে উপদেশ দেয়ার পর একমাস অতিক্রান্ত হলো, তাই সে উপায় বের করল যে নিজেই সিংহ সাজবে এবং সিদ্ধান্ত নিল বন্ধুকে ভয় দেখাবে হিংস্রভাবে গর্জন করে। সে তার বাড়ীর দরজায় আঁচড় কাটল এবং বন্ধুকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেল। সে তাকে জাগাল, প্রহার করল এবং যা পেল সব ধ্বংস করে ফেলল। বন্ধুকে দুর্দশাপূর্ণ অবস্থায় ফেলে রেখে সে চলে গেলো এবং পুনরায় মানুষ রূপে পরিবর্তিত হলো। পরবর্তী দিন সে যে বন্ধূকে হামলা করেছিল তাকে দেখতে গেলো যে তাকে বলল: -প্রিয় আমার! সিংহ এসেছিল এবং সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল! – কেনো তুমি তাকে গুলি করনি বা আঘাত করনি। -বন্ধু আমার, সিংহ বন্ধুত্বের মতই শক্তিশালী ছিল! এই অংশটাকে শেষ করতে, আরেকটা জনপ্রিয় উপকথা রয়েছে, যা কচ্ছপ ও হরিণের একটি গল্প থেকে নেয়া হয়েছে কনফেরারিডেসাগ্যডোস [ কচ্ছপের ভ্রাত্তৃত্ব বোধ] ব্লগ হতে: অনুবাদ মূল উক্তি একদিন, কচ্ছপ ও হরিণ তর্ক করতে লাগল যে তাদের মধ্যে কে উত্তম দৌড়বিদ। তাই কচ্ছপ তার পুরাতন বন্ধু হরিণকে একটা প্রতিযোগীতার প্রস্তাব দিল: তারা দৌড়াবে তাদের প্রস্থান হতে গন্তব্য পর্যন্ত পথ চিহ্ণিত করে করে। তার একসাথে শুরু করবে এবং দেখবে কে প্রথমে শেষ করতে সমর্থ হবে। হরিণ চ্যালেঞ্চ গ্রহণ করা পর, ঘুমাতে গেলো। অন্যদিকে কচ্ছপ তার সকল কচ্ছপ বন্ধুদের সাথে দেখা করল। সে তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা করল যে তাদের প্রত্যেকে তাদেরকে হরিণের প্রত্যাশিত পথে দাঁড় করিয়ে রাখবে। নির্দিষ্ট দিনে, হরিণ দেরী করে ফেলল, বিলম্ব হলো, কিন্তু কচ্ছপরা ঠিকই তার জন্য অপেক্ষা করছিল। হরিণ একসাথে যাত্রার সুবিধা পরিত্যাগ করলো, দ্রুত দৌড়াতে শুরু করল। পথের কিছু স্থানে সে থামল এবং পেছনে তাকিয়ে দেখল তার সহযোগীকে দেখা যায় কিনা। সে দেখল কচ্ছপ তাকে ফেলে আগে চলে গেলো। আসলে সে তার জন্য পথে অপেক্ষা করছিল। পুরো যাত্রায় এরকম ঘটনা অনেকবার ঘটল যতক্ষণ না হরিণ অধৈর্য্য হয়ে বুঝতে পারল যে কচ্ছপ তার চেয়ে দ্রুত ছোটে, যার প্রেক্ষিতে তার বন্ধু প্রতিউত্তর দিল:-, বন্ধু, আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমি স্কুল শেষ করেছি!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যাঙ্গোলা: মৎসকুমারী কিয়ান্ডা এবং অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now