বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হৃদয়[MH2]
আমরা প্রস্ততি নিলাম।আড্ডায় চলে আসলাম।সবাই যেখানে আড্ডা দিচ্ছে সেখানে চলে আসলাম।সকলে এখনও জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে, আমরাও সামিল হলাম।আড্ডার বিষয় হলো,অ্যানাকোন্ডা এবং সাপ বিষয়ক।আমিও সকলের মতো যোগ দিলাম।বিভিন্ন চমকপ্রদ তথ্যও জানতে পারছি এভাবে।যেমন আড্ডার শুরু হলো এভাবে,,,
আনিস ভাই: আজ যে সাপটা মারা হলো প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ছিল তাই না??? এতো বড় সাপ বাংলাদেশে মানুষ দেখলে ভয়ে পালিয়ে যেত।
রুবি আপু: হ্যা,তা তো যেতই,আজ তো সপটার মরদেহ দেখেই আমার ভয় হচ্ছিল।ফারহান ঠিক মতো মেপেছিলে তো ৩০ ফুট??? আমার তো মনে হচ্ছিল কমপক্ষে ৪০ ফুট হবে।
ফারহান: আপু,আমি তো মাপলাম,দেখলাম ৩০ ফুটের চেয়ে একটু কয়েক ইঞ্চি বেশি।এ সাপ যদি আমাদের খেয়ে ফেলতো তাহলে তো এতোক্ষণে আমি সাপের পেটে থাকতাম, বাপ রে বাপ!!!
পুষ্পিতা: তোকে যদি সাপটা খেয়েও ফেলত তবুও মনে হয় সাপটাকে দেখে বোঝা যেত না যে তোর মতো একটা বাচ্চাকে খেয়ে ফেলেছে।হি হি হি,,,
ফারহান: তুই তো হাসবি,একবার মফিজুল আর হৃদয় ভাইকে দেখ,কী অবস্থা ওদের,
হৃদয়:আমার তো কলজে লাফিয়ে উঠেছিল যখন সাপটার লেজ নাড়িয়ে পেচিয়ে ধরতে আসল আমায়।সাপটা মনে হয় মেয়ে সাপ,কারণ মেয়ে সাপই বড় হয়।
সারা: মেয়ে সাপ লম্বা হয়,তারমানে মেয়েরা বড়।এই যাহ্,সাপগুলোর মাঝে মেয়েগুলো লম্বা,ছেলেদের চেয়ে আমরা লম্বা হলে কতো ভালো হতো। না হলে কাব্য ভয়ই এবং রনি ভাইয়ের টাউয়ারের মতো উচ্চতার কাছে আমরা পিচ্ছি।
রনি ভাই: আমি মোটেও টাউয়ার না,মাত্র সামান্য উঁচু আর কি,মফিজুল তোমার রিয়েকশন কী ছিল যখন সাপটার লেজ নড়েছিল???
মফিজুল: আমারও হৃদয় ভাইয়ের মতো কলজে গলার কাছে চলে এসেছিল।
সুস্মিতা: তারপর কি কলজেকে আবার গিলে ফেলেছিলি???
মফিজুল: সুস্মিতা, দেশে মহিলা মশা কামড়ায়,এখানে মহিলা অ্যানাকোন্ডা আমাদের আক্রমন করে।মহিলা মানেই বিপদজনক।
সুস্মিতা: মহিলা সব বিপদজনক??? কাল থেকে সব ছেলেরা রান্না করিস,তাহলেই বুঝবি মেয়েরা কতো উপকারী আর সরলা।
ফাহাদ: তাহলে তোমরাও গিয়ে গাছের ডাল কেটো,নদী থেকে ভারী জিনিস নামাও।
রুবি আপু: আরে তোমরা ঝগরা থামাও তো,ছেলে মেয়ে সবাই সমান।মফিজুলের কান টানতে হবে মনে হচ্ছে,এসব বলে কেন,
বলেই মফিজুলের কান টেনে দিল।
মফিজুল:আরে ভুলে বলে ফেলেছি,আমি তো মেয়েদের সম্মান করি,কখনও আমায় এসব বলতে দেখেছ,আজ মুখ ফস্কে,,,
রেহনুমা আপু: আচ্চা এসব বাদ,বল তো সবচেয়ে বড় সাপ কোনটা পৃথিবীতে???
তানিম ভাই:সবচেয়ে বড় সাপ তো অ্যানাকোন্ডাই।সর্বেচ্চ ৩০ ফুট লম্বা হয়।
মেহেদী ভাই: তাহলে অনেক অভিযাত্রীরা যে বলে ৫০ /৬০ ফুট লম্বা সাপ মেরেছে বা দেখেছে,তাহলে তারা কোন সাপ দেখল???
মি.A :অ্যানাকোন্ডা এবং অ্যামাজন নিয়ে অনেক রহস্য আছে।অনেকে মনে করে টাইটানোবোয়া এখনও আছে,তারা হয়তো সেটাকেই অ্যানাকোন্ডা ভাবত মেহেদী।
মেহেদী ভাই: টাইটানোবোয়া নামটা চেনা চেনা লাগছে।আচ্ছা এটা মনে হয় বোয়া পরিবারের সাপ,তাই না???
তানিম ভাই: হ্যা,এবার তোমার মনে পরেছে।তবে এটা বোয়া পরিবারের সাপ ছিল,এখন নাই।
শিখা: টাইটানোবোয়া কী??? কেউ বল তো,
সাঈম ভাই এতক্ষণ নিশ্চুপ ছিল,এবার তিনি বললেন,
সাঈম ভাই: টাইটানোবোয়া হলো প্রাগৈতিহাসিক সাপ।এগুলো ৫০ ফুট লম্বা হতো,আর ওজন হতো প্রায় ১ টন,আর এগুলো দক্ষিণ আমেরিকা মানে অ্যামাজনের বনে পাওয়া যেত।পরে গরম অঞ্চল কমে যাওয়ায় বিলুপ্ত হয়েছে বলেই ধারণা করা হয়।
তাহিরা আপু: আমি মনে হয় সাপটা সম্পর্কে পড়েছি। মনে হয় কয়েক বছর আগে প্রথম আলো,দৈনিক সংবাদ এবং ঢাকার সংবাদ এমন পত্রিকাগুলোতে এটা সম্পর্কে লেখা হয়েছিল।
আমি:মনে হয় কার্লোস এবং তার দল এটার জীবাশ্ম একটা খনি থেকে বের করেছিল।আমি ঠিক বললাম তো???
আনিকা: হ্যা,ঠিক বলেছেন।আচ্চা এগুলো কী খেয়ে বাঁচত??? কেউ জান???
ফারহান: এগুলো আস্ত কুমির খেয়ে ফেলত, তবুও মনে হতো কিছু খায় নি,এতো বড় ছিল এদের শরীর।
মফিজুল: আমার তো মনে হয় গাছের গুড়ির মতো ছিল দেহ,আর গাছের মতোই দাড়িয়ে থাকত।
সুস্মিতা: আমার এখন গাছের দিকে তাকাতে ভয় করছে,যদি টাইটানোবোয়া থাকে।আচ্ছা এগুলো কি এখনও আছে???
মি.A : না, না থাকার সম্ভাবনাই ৯৯.৯৯%,থাকতেও পারে কয়েকটা।
ঐশী: এগুলে কবে বিলুপ্ত হয়েছে???
রুবি আপু: এবার আমি বলব,এগুলো বিলুপ্ত হয়েছিল সাড়ে আট কোটি বছী আগে,যখন তোমার দাদার দাদারর দাদারও জন্ম হয় নি।
মেহেদী ভাই: দাদার দাদার দাদর বাদ দাও তো,তখন মানুষই নাকি ছিল না পৃথিবীতে,তাহলে দাদা আসবে কোথা থেকে।
রনি ভাই: তখন আমরা আকাশে আল্লাহর কাছে ছিলাম,আর আরামসে জুরাসিক পার্কের মতো ডাইনোসর আর টাইটানোবোয়ার যুদ্ধ দেখতাম হি হি হি
শুভ ভাই:এগুলো কতো চাপ দিত জান??? এগুলো প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৪০০ পাউন্ড মানে প্রায় ১৫০ কে.জি. এর চেয়েও বেশি ওজনের চাপ দিত।
তুবা: তাহলে তো আমরা ভর্তা হয়ে যাব এতো চাপে।
তানহা: ভাগ্য ভালো এগুলো এখন নাই।না হলে আমায় তুবার ভর্তা খেতে হতো।
তুবা: আমার মতো মাসুম বাচ্চার ভর্তা তুই খাবি??? ভুলে যাস না অ্যানাকোন্ডাও প্রচন্ড চাপ দেয়।
মেহরাজ ভাই: অনেক রাত তো হলো,এবার চলো ঘুমানো যাক।
জাহিদুল: দোস্ত,তোমরা পাঁচ মক্কেল পাহাড়া দাও,আমরা ঘুমাই গিয়ে।
সুস্মিতা: আমার ভয় করছে,আমি গিয়ে রুবা আন্টির সাথে শুব।আচ্ছা এক দড়ির বিছানায়য় ঘুমালে দড়ি ছিড়ে যাবে না তো???
মফিজুল: না তোর মতো এমন চিকনা মেয়েকে নিয়ে দড়ি কখনও ছিড়বে না।দড়ি যথেষ্ট শক্ত।
সারা: তাহলে তো আমিও গিয়ে ইভা আপুর সাথে থাকব।না হলে আমারও ভয় করবে।
রুবি আপু: আচ্চা সুস্মিতা দাদি আমার সাথে চলো।
এভাবে অনেকেই আলাদা শুতে ভয় পাচ্চিল,ভয় পাওয়ারই কথা,কারণ যে বড় অ্যানাকোন্ডা সাপ দেখলাম,ভয় তো পাওয়ারই কথা।ওরা সবাই চলে গেল।আমি, মফিজুল,মেহেদী ভাই,হৃদয় ভাই,ফারহান আর রনি ভাই বন্দুক আর কার্তুজ নিয়ে তৈরী হলাম।তিনজন পথের নদীর দিকের তীরে থাকবে,আর তিনজন অন্যদিকে থাকবে।আমার দিকে থাকল মফিজুল এবং ফারহান।তবে নির্দিষ্ট করে কেউ নেই।কারণ আমরা হাটাহাটি করছি।চাঁদের আলোয় দেখতে সুবিধা হচ্ছে,তবে স্পষ্ট করে দেখারর জন্য ইনফ্রা রে চশমা ব্যাবাহার করছি।তাই সবই স্পষ্ট দেখছি। মফিজুল এবং মেহেদী ভাই গান গাচ্ছে,আমরা শুনছি।রাতের তাপহীন স্নিগ্ধ আলোয় সব ভয় কেঁটে গেছে,বনের সমস্ত আলোছায়া যেন কোনো শিল্পির আঁকা নিঁখুত ছবি মনে হচ্ছে।মাঝেমাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার
মতো এককরম পোকা শব্দ করছে,যার ফলে রাতটা অন্যরকম সুন্দর হয়ে গেছে। চাঁদের দিকে কখনও তাকাচ্ছি,চাঁদের বড় হওয়া নিরন্তর প্রতিদিন দেখে আসছি,তবুও বারবার দেখতে ইচ্ছা করে।চাঁদের পশ্চিমে হেলে যাওয়া ছোট থেকে দেখছি,তবুও পুরনো হয় নি,বরং এখনও নতুন লাগে।সত্যিই আল্লাহ অপরূপভাবে সব বানিয়েছে।
রাতের এতো সুন্দর প্রকৃতি এবং ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর মফিজুল এবং মেহেদী ভাইয়ের গান,ফারহান এবং রনি ভাইয়ের কবিতা আবৃত্তি আর হৃদয় ভাই আর আমার মতো নিরব শ্রোতার কাজ চলছে।কিন্তু রাতের নিরবতা ভেঙ্গে "ধপাসস ধপাস ধপাস " করে শব্দ হলো,তবে তা অন্যদিনের মতে কম করে নয় বরং আজ আরও জোরে,আরও কাছে।মনে হচ্ছে যেন শব্দের উৎসের কাছে আমরা চলে এসেছি।কতগুলো রাতের পাখি উড়ে চলে গেল,অ্যামাজনের কালো বাদুড় গুলো মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল,ভৌতিক আবহ তৈরী করে দিয়ে গেল।আর কোনো কিছু নিয়ে নয় বরং তখন আবার ওই শব্দ নিয়ে আলোচনা চলল।আমাদের মাঝে কারও মত হলো এটা ঢোলের শব্দ,কারও মত হলো কোনো ভূমি ধ্বসের শব্দ,কারও মত হলো এটা পানির পতনের শব্দ।তবে সঠিক কী তা আমরা জানি না।মেহেদী ভাই,ঝুমুর আপু,রুবি আপু,মেহরাজ ভাই,সাঈম ভাই,মি.A এর মতো অনেকেই জেগে গিয়েছিল,তবে তারাও এখন ঘুমিয়ে গিয়েছে।এভাবে রাতটা কেটে গেল।ফজরের নামাজের পর ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুম হতে উঠার পর হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম।রাতের সেই শব্দ এবং অ্যানাকোন্ডার বিভিষিকা মন হতে এখনও দূর হয় নি।দেখলাম মি.A T.R.Smith এর বইটায় কিছু দেখছে,আমিও গেলাম।
মি.A :তুমি এসেছ, ভালোই হলো।দেখ আমাদের গন্তব্য আর দূরে নয়,খুব কাছেই,আর মাত্র দুইদিন লাগবে পৌছুতে।
আমিও ম্যাপটা দেখলাম,বললাম,,,
আমি: আজই তো রওনা দেওয়া দরকার।
মি.A : অবশ্যই, সবাই এখন রওনা দিয়েছে।তুমিও সব গোছগাছ করো।
আমি এখন সব গোছগাছ করব।পরে না হয় পরের ঘটনা বলি,,,,
[কেমন লাগল??? পরে কী হলো জানতে পরের পর্বেরর অপেক্ষা করুন।পড়ার জন্য ধন্যবাদ]
বি.দ্র.: যথেষ্ট সময় আর শ্রম ব্যায় করে প্রতিটা পর্ব লিখি।তাই দয়া করে কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now