বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ৯)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 দেখলাম সবাই হাত উপরে তোলেছে।বুঝলাম এরাই হলো জিজে,তরুণ প্রজন্ম,বিপদ সামনে দেখেওও অ্যাডভেঞ্চারের নেশা ছাড়ে না।সবাই খুব সুন্দর সুন্দর করে মনের কথা ফুটিয়ে তোলেছে। রনি ভাই,,, "আমি তো এক পায়ে খাড়া,আমি তো যাবই।" রুবি আপু বলল, "জ্ঞানন আন্বেশন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ,অনেক জ্ঞান তো পাবই, সাথে বিনোদন ফ্রী।" ফারহান,,, "অ্যাডভেঞ্চারের জন্যই তো আসলাম,অবশ্যই অ্যাডভেঞ্চার করব।" আনিকা,,, "আমার অ্যাডভেঞ্চার খুব ভালো লাগে,সুন্দরবনে যা অ্যাডভেঞ্চার হয়েছিল,কী বলব,এখানে তো আরও ভালো অ্যাডভেঞ্চার পাচ্ছি।আমি যাব।" সারা,,,"আমি তো একপায়ে খাড়া "। তাসমিয়া,,, "সারা,তুমি তো দুই পায়ে খাড়া।আমি যাব।" সিয়াম,,, "শাকচুন্নিরা যদি যেতে পারে তাহলে আমরা কেন পারব না???" সবাই রাজি। মি.A বললেন,,,"অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি সকলের ভালোবাসা দেখে খুব খুশি হলাম।কাল সকালেই আমরা রওনা দিব।সবাই নিজ নিজ জিনিস গুছিয়ে রাখ।" আগামীকাল অ্যাডভেঞ্চার করব,তাই সকলের মন আনন্দে ভরপুর।আমি অনেক খুশি,অজানা ভালো লাগা কাজ করছে।কী আর করব??? সকলের সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম।ঘরে গেলাম।আমাদের জন্য আদিবাসীরা ভালোবেসে যে ঘর বানিয়ে দিয়েছিল,তার প্রতি মায়া জন্মেছে।কিন্তু যার জন্য এখানে আসা তার জন্য তো যেতেই হবে।তবে ইচ্ছা আছে,যদি বেঁচে থাকি,তাহলে আবার আসব।রাতে উত্তেজনায় ঘুম আসল না।অনেক জল্পনা কল্পনা করছি।কাল কী কী করব,এসব অনেক ভাবছি।আমার পাশে শুয়ে আছে হৃদয় ভাই আর আরেক পাশে মফিজুল ভাইয়া।হৃদয় ভাই যেকোনো জায়গায় যে কোনো পরিস্থিতিতে ঘুমাতে পারে।তার ঘুম খুব পাতলা আবার খুবই গাড়।তাকে ডাকলে তার ঘুম ভাঙ্গে না,তাকে স্পর্ষ করা মাত্র উঠে যাবে।মফিজুল ভাই অবশ্য আরাম করে ঘুমাচ্ছে।এখনও বাচ্চাদের মতো বেকে ঘুমায়।আমি নানান কিছু ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি,নিজেও জানি না।ফজরের সময় তানিম ভাইয়া আমায় টেনে ঘুম হতে তুলল।নামাজ পড়লাম জামাতে।তারপর অভিযানের জন্য নিজেকে তৈরী করছি।হৃদয় ভাই,আমি,রনি ভাই,সিয়াম ভাই,রাহিন ভাই আরও অনেকে একসাথে ব্যায়াম করলাম।প্রথমে পুশ আপ,তারপর সিট আপ,বাইসেপস ট্রাইসেপস এর ওয়ার্কআউট,পায়ের ব্যায়াম সব করলাম। জিজের অনেক মেয়ে রান্না করতে গেল।সারা আর রুবি আপু রুটি বানাচ্ছে।অন্যরা অন্যান্য রান্নাবান্না করছে।সকালের নাস্তা করলাম।এবার রওনা দিব।তার আগে আবার দেখলাম রনি ভাই নাই।কিন্তু এবার আর অবাক হলাম না,কারণ জানি আকিতার কাছে গেছে,কথা বলে বিদায় নিয়ে তারপর আসবে।আমাদের সাথে সকল আদিবাসীরা দেখা করতে এসেছে।এরা বন্য হলেও মায়া আছে এদের।আমাদের জড়িয়ে ধরে অনেকে কেঁদে দিচ্ছে।মফিজুল অনেক বন্ধু আর বান্ধবী বানিয়েছিল,সবাই তার জন্য মন খারাপ করে আছে।সর্দারও এসেছেন,আমাদের প্রয়েজনীয় বস্তু,যেমন নৌকা,আর জঙ্গল হতে আনা ফলমূলের একটা অংশ দিলেন।কয়েকজন লোকও দিতে চাইলেন।আমরা মি.A এর দিকে তাকালাম।সাইমন ভাই আর মি.A হলো গ্রুপ লিডার।তাই তাদের সিদ্ধান্তকে তো সম্মান করতে হবে।ওনারা নিজেদের মাঝে যুক্তি করতে লাগল।সর্দারের কাছ থেকে খানিকটা সময় নিয়েছেন,এটুকু সময় ভেবে নিবেন।রনি ভাইয়ের সঙ্গে আকিতা ভাবী আসল।বলতে হবে,রনি ভাইয়ের যেমন ভালো একটা মন আছে তেমনি পছন্দ করার মতো চোখও আছে।অনেক সুন্দরী ওনি।কিন্তু কান্না করছেন।মনে হয় রনি ভাই ভালোবাসার কথা না বললেও আকিতা ভাবী মন থেকেও যে রনি ভাইকে ভালোবাসেন তা বুঝা গেল। সাইমন ভাই আর মি.A সিদ্ধান্ত নিলেন কয়েকজন যোদ্ধা নিবেন।কিন্তু আকিতা ভাবী বায়না ধরল তিনিও যাবেন।রনি ভাইয়ের অনুরোধে মি.A রাজি হলেন।কারণ এইসব মেয়েরা মেয়ে হলেও অনেক কৌশলী,যোদ্ধা সবই পারে।সর্দার অবশ্য খানিকটা ইতস্তত করছিল,কিন্তু তার দলের লোক সঙ্গে আছে তাই আর মানা করল না। আমাদের জন্য ১০টা নৌকা দিয়েছেন সর্দার।একেকটাতে কমপক্ষে ১০ জন বসা যায়,খালি নৌকাগুলোয় করে আমাদের মালপত্র তোলা হলো।টিনে করে সংগ্রহিত মাংস আর অন্যান্য সামগ্রী বাকি নৌকাগুলোয়,এক জন করে লোক আছে নৌকাগুলোয়।মেয়েদের নৌকাতেও আমাদের কয়েকজনকে থাকতে হচ্ছে,কারণ ওরা তো নৌকা বাইতে পারে না। সর্দার যেভাবে বলেছেন আর T.R.Smith এর লিখনি থেকে যা পাওয়া গেছে তাতে নৌকায় করে অন্তত এক সপ্তাহ নৌকায় চলতে হবে।আমাদের নৌকায় আছি,আমি, হৃদয় ভাইয়া,রুবি আপু,সারা,সিয়াম,সামির ,মফিজুল, সুস্মিতা আর দুইজন আদিবাসী।ঠিক হলো এক ঘন্টা করে দুইজন দাড় বাইবে,পরের বার অন্য দুইজন।আমি আর হৃদয় ভাই প্রথম দাড় বাইতে আরম্ভ করলাম। অন্য নৌকাগুলোতে অন্যরা বসে আছে।রনি ভাই,মেহেদী ভাই,সাঈম ভাই,মি.A ফারহান,এরা দাড় বাইছে।অন্যরাও বাইছে।দাড় বাইতে বাইতে খেয়াল করলাম যে মেয়েগুলো সব আনন্দে বসে আছে।একেকজন আড্ডা শুরু করে দিয়েছে।বাংলার চির চেনা ঐতিহ্য হলো মাঝিরা গান গায়।কিন্তু আমরা গান গাব কই??? মেয়েরাই গান গাইতে লাগল।প্রথমে রেহনুমা আপু আর তাহিরা আপু গান গাইল।তারা গাইল,,,"নদীর এ কূল ভাঙ্গে,ও কূল ঘরে,এই তো নদী খেলা,,," আর একটা আধুনিক গান।এর পর রুবি আপু আর সুস্মিতা আর সারা গাওয়া শুরু করল একটা ভাটিয়ালি গান।আমরা গান শুনে শুনে দাড় বাইছি।ইভা,তুবা এরা সবাই গান গাইল।এবার পালা আসল ছেলেদের।আমি আর মফিজুল গাওয়া শুরু করলাম।মফিজুল ভাইয়া সব গানই পারে।ও আর আমি একটা নৌকার গান গাইলাম।আনিকা আর ইভা ভাওয়াইয়া গান গাইল।সবাই গান গাইছে।হৃদয় ভাই গান গাইতে পারে না।এসময় আমাদের জন্য একটা চমক ছিল,তা হলো রনি ভাই আর আকিতা ভাবী ইংরেজি একটা গান গাইতে লাগলেন। এদিকে এক ঘন্টা দাড় বাওয়া শেষ হলো।আমার হাত তো আর হাত নেই মনে হচ্ছে।হৃদয় ভাই তো ব্যায়াম করে,তবুও সে হাপিয়ে গেছে।এবার পালা মফিজুল ভাই আর সিয়াম ভাইয়ের।ওরা খুব দ্রুত হাপিয়ে গেল।আবার সামির ভাই আর রুবি আপু দাড় বাইতে লাগল।রুবি আপু জেদ ধরেছিল,বলল ছেলেরা বাইতে পারলে আমি পারব না কেন।তাই বাইতে শুরু করল।কিন্তু ওরা দিক ঠিক রাখতে পারছে না।রুবি আপু ঠিকই চালাচ্ছে,কিন্তু সামির ভাই সমস্যা লাগাচ্ছে।ওদের বেশিক্ষণ কষ্ট করতে দিলাম না।আমি আর হৃদয় ভাই বাইতে লাগলাম।আসর ওয়াক্ত পর্যন্ত নদী পথে চললাম।তারপর আসরের নামাজ পড়ার জন্য পাড়ে গেলাম।যেহর নৌকায় পড়েছি।এখন আর নদীতে থাকা ঠিক হবে না।তাই একটা শুকনো পাড় দেখে উঠে পড়লাম।নৌকাগুলোকে বেধে রাখলাম। নামাজ শেষ হলে আমরা রাতে থাকার মতো জায়গা খুজছিলাম।রুবি আপু বললেন,,, "আমরা থাকব এখানে,কিন্তু মাটিতে শুয়ে কিভাবে ঘুমাব।" মি.A বললেন,,, "তোমায় মাটিতে তো ঘুমাতে হবে না রুবাইয়্যা,আমরা দড়ির বিছানা নিয়ে এসেছি,গাছে বিছানা লাগিয়ে ঘুমাবে।" তাহিরা আপু,,, "জীবণে প্রথমবার এভাবে ঘুমাব।খুব মজা হবে।" তাহিরা আপু আর রেহনুমা আপু অনেক খুশি নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে। মফিজুল আর ফারহান তো সেই রকম খুশি।রনি ভাইকেও খুশি খুশি লাগছে,,,জিজ্ঞেস করলাম খুশি কেন,,,ওনি বললেন,,, "সালমান শাহের একটা মুভিতে দেখেছিলাম ও এভাবে দড়িতে ঘুমায়,আর নায়িকা তাকে খাবার দিয়ে যেত।কতো ভালো একটা অভিজ্ঞতা হবে।" সবাই বেশ খুশি।এবার ছেলে মেয়ে সবাই রান্না করার কাজটা দিন থাকতেই শেষ করার কাজটা করলাম।কাজ শেষ,,,এবার যে যার মতো একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি।তবে কেউ কারও থেকে বেশি দূরে নই।কারণ এটা অ্যামাজন,দুনিয়ার ভয়ঙ্কর জায়গা,এখানকাট ১০ সে.মি. লম্বা ব্যাঙ এর কামড়েও মানুষ মারা যায়।তাছাড়া কতো সাপ আছে।আমি আর মি.A খুঁজে খুঁজে শক্ত আর লম্বা এবং দড়ির বিছানা টাঙ্গানোর উপযোগী অনেক গাছ নির্বাচন করলাম।প্রত্যেকের জন্য একটা করে বিছানা।আর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে চলবে না,তাই একজন একজন করে পাহাড়া দিব ঠিক করলাম। সবার আড্ডা চলছে,মাজখানে কিছু লাকড়ি এনে আগুণ ধরিয়েছি আমরা,এবার সবাই গোল হয়ে বসে আড্ডা দিলাম।একেকজন একেক বিষয়ে কথা বলছে।আড্ডা শেষে খাবার খেলাম।বেশি রাত করলাম না ঘুমাতে,কারণ সারাদিন অনেক ধকল গেছে শরীরের উপর। ছেলেদর বিছানাগুলো একদিকে,আর মেয়েদেরগুলো অন্যদিকে।আমার আশেপাশে আছে হৃদয় ভাই,মফিজুল ভাই,রনি ভাই আর মি.A। জীবণে প্রথম এভাবে ঘুমাব।তাই আর কারও তর সইছিল না,মি.A কোনো একটা কারণপ হাসছিলেন কিন্তু কারণটা বললেন না।শরীর কাহিল হয়ে আছে।তাই আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম। এবার ঘুমাব।তাই ঘুম হতে জেগে পরের পর্ব লিখব।ততক্ষণ আপনিও ঘুমান,,,sleepsleepsleep [আমি আসলে খুব একটা গান শুনি না,শুনলেও ইংরেজি গান।তাই গান উল্লেখ করতে পারি নি।দুঃখিত।আর কেমন লাগল কমেন্টে জানাবেন।] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ৩০ এবং শেষ]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৬]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৫]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৪]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৩]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২২]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২১]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২০]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ১৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৬]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now