বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ৮)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 রনি ভাই এবার তার প্রেম কাহিণী মানে ভালোবাসার কাহিনী বলতে আরম্ভ করলেন।তাকে হৃদয় ভাই জিজ্ঞেস করলেন,,, "কী করে এসব হলো রনি ভাই???" রনি ভাইও আমাদের বলা শুরু করলেন,আসলে আমরা রনি ভাইকে অনেক ভালোবাসি,ওনিও আমাদের ভালোবাসেন,তাই তিনি আমাদেরকে বিশ্বাস করে সব কিছু বলেন।তো তার ঘটনাটা তার মতো করেই বলি,,, "এই জায়গাটায় প্রথম যেদিন এসেছি, জায়গাটার সৌন্দর্যে আমি অভিভূত।তখন আশেপাশে তাকাচ্ছিলাম,সব উপজাতিদের দেখছিলাম।ভাবছিলাম,এরা দেখতে তো আমাদের মতোই।আমাদের দেশের উপজাতিদের হয় চোখ ছোট,নয় চাইনিজদের মতো দেখতে। কিন্তু এই উপজাতির লোকেরা সম্পূর্ণ বাঙ্গালিদের মতো দেখতে,তবে একটু বেশি ফর্সা, এটাই পার্থক্য।আমি তো চারপাশে দেখছি।তখন বছর ১৭/১৮ একটা মেয়েকে আমি দেখলাম,দেখেই আমার মধ্যে যে ফিলিংসটা আসল তাকে লাভ এট ফার্স্ট সাইট বলতে পার।তবে জানই তো আমি এসব বিষয়ে গম্ভীর মানুষ।তো ভাবলাম পরীক্ষা করে দেখা যাক এটা ভালেবাসা নাকি ভালোলাগা।তাই তো প্রথম দিনই বলেছিলাম এখানটায় থাকতে চাই। মেয়েটাকে প্রতিদিন দেখতাম।মেয়েটা সর্দারের মেয়ে,তাই ইংরেজি জানে।ওর সাথে কথা বলতে শুরু করলাম।খুব মিশুক এই মেয়েটি।নাম বলেছে আকিতা।আকিতার অর্থ নাকি সুন্দর ফুল।সঠিক নামই রেখেছে,একদম ফুলের মতো মেয়ে,ফুলের মতো নিষ্পাপ,কতো সুন্দর করে কথা বলে,,," রনি ভাই এটুকু বলেই চোখ বন্ধ করে কল্পনা করা শুরু করে দিল।অনেক ধাক্কাধাক্কির পর বাস্তবে ফিরলেন।আমি বললাম,,, "ভাই,প্রতিদিনই কি কথা বলেন??? " রনি ভাই:" প্রতিদিনই তো বলি,কেন তুমি জান না??? আমি তো ভাবলাম হৃদয় যেভাবে আমার উপর নজরদারি করে,এতোদিনে হয়তো তোমরা সব জান।" হৃদয় ভাই:রনি ভাই,একটুও তো বুঝলাম না।আচ্ছা বাদ দিন,ঘটনাটা তো বলুন। রনি ভাই গলা ঝাকারি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে বলা শুরু করলেন, "মেয়েটির সাথে যেদিন থেকে কথা বলছি,মনটা ভালো হয়ে গেছে ভাই।প্রতিদিন কথা বলতে বলতে কখনও যে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি,নিজেই জানি না।অনেক ভালোবাসি ওকে।" আমি:তাহলে ভাই প্রপোজ করেছেন??? রনি ভাই: আরে মিয়া আমারে কওআর লাইগ্যা তো দিবা। কতো সুন্দর কইরা কইতাছি। আমি:আচ্ছা ভাই উত্তরটা দিয়ে বলুন তো। রনি ভাই: ওকে যখনই প্রপোজ করতে যাই করতে পারি না,জানি না তো ওদের নিয়মে প্রপোজ কিভাবে করে।জান আজকে তো প্রায় প্রপোজ করেই বসেছিলাম,হাটু গেড়ে বসে যেভাবে বসে সেভাবে বসলাম,হাতে একটা ফুল ছিল,তা বাড়িয়ে প্রপোজ করতে যাব,তখনই ও কী করল জান??? আমায় বলে আমাট হাটুয় ব্যাথা হয়েছে নাকি??? নাকি আমার পা মচকে গেছে,এভাবে বসেছি কেন??? দাড়াও ঔষুধ নিয়ে আসছি,বলেই দৌড়ে ঘর থেকে ঔষধ নিয়ে আসল।কতো রোমান্টিক মুডে থেকে ভাবছিলাম প্রপোজটা করেই ফেলব,কিন্তু তার আগেই সব ভেস্তে দিলweepweepweep" আমি আর হৃদয় ভাই হাসব না কাঁদব বুঝছি না। মফিজুল:রনি বাবু,এতোদিন তাহলে লুকিয়ে লুকিয়ে এসব চলছিল??? রনি ভাই: অ্যা,মফি কোথা থেকে চলে আসল???সব শুনে ফেলেছ??? মফিজুল: লুকিয়ে ছিলাম,সব শুনেছি,শুধু আমি না সারা আর সুস্মিও শুনে ফেলেছে। রনি ভাই: আমার মান ইজ্জত সব গেলরে,আমারে কেউ ধর,,, ফারহান:রনি ভাই কী হলো চিৎকার করছেন কেন???(ছুটতে ছুটতে এসে বলল) সারা:ফারহান রনি ভাই এখানে আ,,,(এটুকু বলা মাত্র রনি ভাই তার মুখ চেপে ধরল) রনি ভাই: ও কিছু না,মফি বেশি দুষ্টুমি করছিল তো তাই চিৎকার করলাম। আমি:আচ্চা রনি ভাই,ব্যাবস্থা করে দিব সব। বললাম,রনি ভাই এমন ভাবে তাকালো যেন চোখ দিয়ে আমায় পুড়িয়ে ফেলবে। আমি আর হৃদয়য় ভাই হাসি মজা করতে করতে আড্ডায় আসলাম।ওইদিকে রনি ভাই আর সারা ঝগরা করছে,মফি আর সুষমা নিরব দর্শক। আমি ইভাকে ডেকে নিয়ে বললাম,,,ইভা রনি ভাইয়ের বিয়ে করাতে হবে মনে হচ্ছে। ইভা: কী বলেন???রনি ভাইয়ের বিয়ে, কোন মেয়েটাকে ডাকাতি করে আনব,বলুন। আমি: মেয়ে ডাকাতি করতে হবে না,রনি ভাইয়ের পছন্দের মেয়ে,,, দেখলাম রনি ভাই আমাকে বলতে মানা করছে, অনুরোধ করছে। ইভা: বলুন আমি: অ্যামাজনের ওই কূপটা থেকে এসে তারপর সব বলব,ঠিক আছে??? তখন রনি ভাই আর ইভার কথা বার্তা হচ্ছে। _______________________ এদিকে সবাই যেখানে বসে আছে সেখানে গেলাম,দেখলাম সাঈম ভাইয়া,মি.A, হৃদয় ভাইয়া একসাথে বসে বই পড়ছে,আমি যাওয়ার পর,,, সাঈম ভাই: তোপসে কে দেখেছ??? আমি: ওইতো সারা আর সিয়ামের সাথে কথা বলছে,ফারহান(ডাক দিলাম) ফারহান: ডাকছেন কেন??? সাঈম ভাই: তোপসে বস,কালকে তো অভিযানে যাব তার পরিকল্পনাটা করে নিই। ফারহান: চলুন,বসি,ফেলুদা। আমি,হৃদয়য় ভাই,সাঈম ভাই আর মি.A একসাথে বসে সবকিছুর হিসাব নিরীক্ষা করলাম।দেখলাম সব ঠিকই আছে প্রায় ১ সপ্তাহ মতো লাগবে গন্তব্যে যেতে,তারপর ওইখানে নির্দিষ্ট স্তম্ভটা পেতে আরও কষ্ট হবে,কারণ ওইখানে চৌম্বক ক্ষেত্রে গুলমাল আছে,কম্পাস কাজ করে না।বারবার বহু পথ হেটেও আবার একই জায়গায় হাজির হওয়ার বহু নজির আছে,T.R. Smith এ কথাটাই বলেছে তার বইয়ে। আমার মাথায় প্রথম বুদ্ধিটা আসল।আমি বললাম, "মি.A এই উপজাতিরা তো খুব শিকারী জাতি,তাছাড়া আশেপাশের এলাকা সম্পর্কে এদের জ্ঞান অনেক।এদের কাছে জায়গাটার সম্পর্কে জানলে ভালো হতো।" মি.A :এদের সব ঘটনা জানে সর্দার।চলো তার কাছে,যদি কিছু জানা যায়। আমরা কয়েকজন চললাম। সর্দারের ঘরের কাছে আসলাম,আগুণ জ্বালিয়ে তার পাশে বসে আছে ওরা,ছোট ছোট বাশ আর পাতা দিয়ে বানানো ঘরগুলো অদ্ভূত লাগছে এখান থেকে।আগুণের শিখার নড়াচড়া থেকে এক ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। সর্দারকে মি. A সব ঘটনা খুলে বলল,আমাদের উদ্দেশ্যগুলোও বলা হলো।তখন সে জায়গাটা সম্পর্কে মি.A জানতে চাইল সর্দাররে কাছ থেকে।সর্দার বললেন,,, "আমার বাবার মুখে শুনেছি,আমার দাদার আমলে ওইখানে আমাদের গোত্রের কয়েকজন গিয়েছিল।তারা নাকি ফিরে আসে নি।আমাদের বড়দের মুখে শুনেছি,যারা ওইখানে যায় তারা পথ হারিয়ে ফেলে,এক বড় ফিয়া সাপ ওইটাকে পাহাড়া দেয়।যে ওই কুয়ায় ঢুকতে চায় তাকে খেয়ে ফেলে।তাছাড়া সেখানে অপদেবতারা থাকে, অপদেবী ইয়ত্রার সুরেলা গান শুনে নাকি মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে,তারপর সেখানকার মাটি মানুষের রক্ত শুষে নেয়,একসময় মারা যায় তারা।আরও ওইখানে ফিয়া সাপ ছাড়াও আছে ভয়ানক সব জন্তু,যাদের আমরা আগে কখনও দেখি নি।" আমি: ফিয়া সাপ মানে কি অ্যানাকোন্ডার সম্পর্কে বলছেন??? সর্দার: না অ্যানাকোন্ডা নয়,অ্যানাকোন্ডার পূর্বপুরুষ এরা,অ্যানাকোন্ডাকে খেয়ে ফেলতেও এদের কষ্ট হয় না। আমাদের কপালে চিন্তার ভাজ পরল,কারণ সুন্দরবনে যে অভিযান করেছিলাম,সেখানে মানুষ ছিল প্রতিপক্ষ, কিন্তু এখানে সব অজানা প্রতিপক্ষ আছে।আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম,আগামীকাল অভিযানে বের হওয়ার আগে সকল জিজে'সদের জানানো উচিৎ এ বিষয়ে।তাই সবাইকে এক জায়গায় ডাকা হলো।মি. A সকলকে সব কিছু খুলে বললেন।এবার প্রশ্নটা করলেন, "সব কিছু জানার পর,কে কে যেতে চাও হাত উপরে তোল।" যারা যারা যেতে চান তারা কমেন্টে হাতটাকে উপরে তুলুন।পরে কী হবে,তা জানার জন্য পরের পর্বের অপেক্ষা করুন। [আমি চরিত্রে নিজেকে কল্পনা করেছিলেন??? আর কেমন লাগল গল্পটা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ৩০ এবং শেষ]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৬]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৫]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৪]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৩]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২২]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২১]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২০]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ১৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৬]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now