বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2
তারপরের দিন,,,
সকাল বেলার আকাশের সূর্য অনেক সুন্দর লাগছে এই গহীণ বনে।চারিদিকে সবুজে সবুজময়,,,তার উপর নীল আকাশ একদম মেঘমুক্ত,,,সেই নীল আকাশে ভোরের রাঙ্গা সূর্য।কী অপূর্ব প্রকৃতি।এই অপূর্ব প্রকৃতির মহিমা যেন আরও বাড়িয়ে দিল পাহাড় আর নদী।এই গ্রামটা অনেক সুন্দর।
আমি, হৃদয় ভাইয়া,রনি ভাইয়া,মফিজুল ভাইয়া,ফারহান,সুস্মিতা,রুবি আপু,শিখা, সাঈম ভাইয়া আরও কয়েকজন মিলে পাহাড়ে উঠতে থাকলাম।আগেও একবার উঠেছিলাম সবাই।এইবারও উঠলাম।তবে এবারে আরও নতুন কিছু চোখে পড়ল।যেমন : একটা ঝর্ণা চোখে পড়ল খানিকটা দূরে।কিছু বুনো ফুল দেখলাম।আরও অনেক কিছু।পাহাড় থেকে আমরা দূর দূরান্ত দেখতে লাগলাম।সবটাই সবুজে ঢাকা।বাংলায় এইবনকে অ্যামাজন না বলে সবুজ স্বর্গ বলা উচিৎ ছিল।যদিও এটাতে নরকও আছে।নিচ থেকে ডাক আসল খাবার খেতে হবে।তাই নামতে লাগলাম।
সকালের খাবারটা খেলাম।সারা আজ নাস্তার জন্য রুটি বানিয়েছে।ও ওর বানানো রুটির কথা আমাদের আগেও বলেছে।অনেক সুস্বাদু হয়েছিল ওর বানানো রুটিগুলো।সবাই রুটি আর হরিণের গোশত দিয়ে খেলাম।
খাওয়া শেষ।এখন আমরা বিনোদনের কিছু কাজ শুরু করব।সবাই দৌড়ের প্রতিযোগিতা খেললাম। আমি একবার মাত্র জিতলাম। তারপর একেকজন একেকরকম খেলা খেলতে লাগল।কেউ দাবা খেলছে,আবার কেউ লুডু খেলছে,কেউ আবার সাঁতারও কাটছে।অসাধারণ এক দৃশ্য ছিল সেটা।
ভেবেছিলাম আরও কয়েকদিন থাকব।কিন্তু এইসময় রনি ভাইয়ের রোগটা দেখা দিল।তিনি আবার, "A secret story of Amazon"বইটা পড়ছিলেন।তিনি আর তর সইতে পারলেন না,,,তিনি বললেন,,,
" আমরা জিজে'সরা এখানে এসেছি অ্যাডভেঞ্চারের জন্য।কিন্তু বসে বসে সময় কাটাচ্ছি।এটা ঠিক নয়।চলো অ্যাডভেঞ্চারে যাব।"
কিন্তু বললেই তো আর চলে যাওয়া যায় না।তার উপর এইখানটার উপর মায়া পরে গেছে।সবাইকে ভালোবেসে ফেলেছি।হঠাৎ করে চলে যেতে হবে শুনে একেকজন একেক রকম প্রতিক্রিয়া করল।কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া তোলে ধরা হলো।
ইভা: না আমি যাব না,কয়েকদিন থেকে যাব।এখানকার গুলুমুলু বাচ্চাগুলো অনেক কিউট।আর এখানে রাতে বসে কতো ভালো করে চা খাওয়া যায়।কয়েকদিন থাকলে ভালো হতো।
মফি: রনি ভাই,আপনিই তো বললেন এখানে থেকে যেতে চান।এখন কেন এতো দ্রুত যেতে চান।কয়েকটা দিন থাকি না হয়।
সাঈম ভাইয়া: আমি রনিকে সমর্থন করছি।কালকেই চলে গেলে ভালো হয়।
তুবা: হাফ হিমু ভাইয়া,,,অন্তত দুইটা দিন থাকি।
সারা: সবাই যেটা চায়,আমিও সেটা চাই।অন্তত দুইটা দিন থাকি।
ফারহান: চলো এডভেঞ্চারে যাই।
সুস্মিতা: বললেই হলো,দুইটা দিন থাকবই।
মফি: সুস্মি ঠিক বলছে এতোদিনে।
সুস্মিতা:আমি সবসময় ঠিকই বলি মফিন্নি
মফি:কী কস,,,
ওরা আবার ঝগড়া লাগল।
সিয়াম ভাইয়া,ফারহান ভাইয়া,রনি ভাইয়া,সাঈম ভাইয়া,হৃদয় ভাইয়া,তাহিরা আপু,তানিম ভাইয়া এরা চায় চলে যেতে।আর তুবা আপু,সুস্মিতা,সারা,মফিজুল ভাইয়া,রুবি আপু,শুভ ভাইয়া,শিখা আর ইভা,আনিকা,প্রত্যয়,আনিস ভাইয়া সহ সবাই চায় অন্তত দুইদিন থাকবে।তাই পরমতসহিষ্ণুতায় বিশ্বাস করে আমরা দুইদিন থাকব ঠিক করলাম।রনি ভাই আবার পাগলামি করতে শুরু করল।
সবাই এই জায়গাটা মন ভরে দেখছি।সবার মন বিষন্ন দেখে মি.A আর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,সবার মনটা ঠিক করা উচিৎ।আমি ঘোষণা করলাম,,,
"মন খারাপের কিছুই নেই।আমরা অ্যাডভেঞ্চার শেষ করে বেঁচে থাকলে এখানে কয়েকটা দিন আরও কাটিয়ে যাব।এবার খুশি তো???"
সবার মনের বিষন্ন ভাবটা খানিকটা কাটল।যদিও কিছুটা মন খারাপ রয়ে গেল।
আজ আবারও শিকারে যাব।আমি,মফিজুল ভাইয়া,হৃদয় ভাইয়া,সিয়াম ভাইয়া,ফারহান ভাইয়া,তুহিন আমরা ছোটরা যাব।আনিস ভাইয়া অপরাজিতা ভাবীর সাথে কথা বলছে।সাঈম ভাইয়া তার অসংখ্য প্রেমিকা মানে বইগুলোর সাথে বসে আছে,বই পড়ছে।রনি ভাইয়া স্থানীয়দের সাথে কথা বলছে। ইভা,তুবা,সুস্মিতা,পুস্পিতা,সারা,অবন্তি আর রামিশা আপুরা একদলে আড্ডা দিচ্ছে।রুবি আপু,ইশিকা আপু,তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু আর জান্নাত আপু বড়রা আড্ডা দিচ্ছেন একসাথে।তানিম ভাইয়া,প্রত্যয় ভাইয়া,ইমরান ভাইয়া এর নদীর তীরে হাটছেন।পরিবেশটা বর্ণণা করলাম।এখন শিকারের সময়টা বর্ণণা করা যাক।
এবারে আর আদিবাসীদের থেকে দূরে যেতে চাইলাম না।তাই আমাদের সাথে ওরাও থাকল।আমরা এই গ্রামের ভূখন্ড পেরিয়ে অন্য জায়গায় গেলাম।আজ অনেকটা ভিতরে ঢুকেছিলাম।কিছুটা দূরে চলে আসলাম আমরা জিজেরা আদিবাসীদের থেকে।একটু অন্যপথে চলে আসলাম।হঠাং তীর আসতে শুরু করল।তীর কোথা থেকে আসছে???
দেখলাম গাছ থেকে কতকগুলো অদীবাসীরা আমাদের সামনের দিকে তীর ছুড়ছে।এদের উল্কিগুলো অন্যরকম।আমরা আমাদের দিকের আদিবাসীদের ডাকলাম। ওরা আমাদের মানা করল ওইদিকে যেতে।ওইটা অন্যদের এলাকা।
যথেষ্ঠ ভয় পেলাম যখন জানলাম ওর মানুষ খেকো।আর ওইমুখো হলাম না।অন্যদিকে আমরা একটা হরিণ আর একরকমের পাখি মারলাম।আদিবাসীরা তো অনেককিছু শিকার করেছে।ওদের কাছে আমাদেরগুলো নগণ্য।
গ্রামে আসলাম।দিনটা সবাই দৌড় খেলে,আদিবাসীদের সাথে কথা বলে কাটালাম। মেয়েগুলো ছোট বাচ্চাদের সাথে কথা বলতে লাগল।কিন্তু রনি ভাইকে দেখতে পাচ্ছি না।ওনার জন্য চিন্তা হচ্ছিল।
সন্ধ্যার দিকে আমরা যখন চা খাচ্ছিলাম চাঁদনী রাতে চাঁদের আলোয় পাথরগুলোর উপর বসে,তখন রবি ভাই আসল।হাপ ছেড়ে বাঁচলাম।রনি ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম কোথায় গিয়েছিলেন।ওনি আমাকে আর হৃদয় ভাইকে আলাদা জায়গায় ডেকে নিয়ে গেল।আর ফিসফিস করে বলল,
"আকিতার কাছে গিয়েছিলাম।"
হৃদয় ভাই বলল,,,
"আকিতা কে???"
"আকিতাকে আমি ভালোবাসি।ও এখানকার আদিবাসীদের মেয়ে।ওর সাথে সারাদিন কথা বললাম।"
"কী করে সব হলো রনি ভাইয়া???"
কী করে এসব হলো জানতে পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকুন।
[আমি চরিত্রে নিজেকে কল্পনা করুন।আর কাজে ব্যাস্ত ছিলাম বলে এতোদিন সাবমিট করি নি।ভুল থাকলে বলবেন।ভালে লাগলেও বলবেন।ধন্যবাদ]
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now