বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ৬)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 ইভা বাচ্চাটাকে কোলে নিল আর বলল, "গুলোমুলু,কি সুন্দর তুমি।" বাচ্চাটি চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠল।মফিজুল এটা দেখে ইভাকে বলল আপু এমব করছে কেন???ইভা আবার বলল, "গুলুমুলু কাদছ কেন??? মিষ্টি বাবু কাঁদে না।" আরও কতো কিছু বলতে লাগল। কিন্তু বাচ্চা থামছে না।বাচ্চাটির মা বলল,''আপনি আমার বাচ্চাকে কেন মারবেন???" ইভা বলল," মারব মানে??? আমি কখন বললাম মারব???" বাচ্চার মা বলল,"গুলুমুলু মানে হলো মার দিব,এটা তো বাচ্চাকে বলছিলেন।" মফিজুল বলল,"আমাদের বাসায় গুলুমুলু কথাটা আদরার্থে ব্যাবহার করা হয়।আপনাদের ভাষায় বলি নি আমরা।" বাচ্চার মা বুঝল কথাটা।মেনেও নিল,এরা মূলত বিনয়ী প্রজাতির মানুষ।রামিশা আর তুবা যখন শুনল এসব কথা তখন তারা ইভাকে ক্ষেপিয়ে জান শেষ করে দিতে লাগল। ♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥ আমি, হৃদয়,রনি ভাইয়া,শুভ,সাঈম ভাইয়া আর ফারহান বসে আড্ডা দিচ্ছি।আড্ডা দিচ্ছি বললে ভুল হবে, মূলত আমরা আমাদের পরিকল্পনা ঠিক করছি।আমাদের কাজ তো এখানে বসে থাকাই নয়,আমাদের অভিযান শুরু করতে হবে।আমরা যে লক্ষ্যে এসেছি তা হলো মি.A এর হারানো প্রশ্নের জবাব পাওয়া আর অপূর্ব কুয়ার সন্ধান পাওয়া। মাস ছয়েক আগে,,, আমরা জিজের সদস্যরা সুপার লাইব্রেরী নামক লাইব্রেরীর একটা বইয়ের সংগ্রহশালায় গেলাম।এটা মূলত ২০২৪ সালে বানানো হয়েছে।এই দুইবছরে ভালোই সংগ্রহ করেছে।লাইব্রেরীর মালিক এনায়েতউল্লাহ সাহেব অত্যন্ত বিনয়ী আর পড়ুয়া স্বভাবের মানুষ।আমরা জিজেরা ওনার কাছ থেকে আগেও অনেক বই পড়েছি।এটাতে আমাদের জিজের সদস্যদেরকে সদস্য করা হয়েছে।লাইব্রেরীর ম্যানেজার রফিক ভাই হাসিখুশি মানুষ। আমাদের দেখে বলল, "ভাইজানরা কী বই চান???নতুন কিছু বই আসছে।দেখবেন???" হাসিখুশি মানুষ হওয়ায় হাসি যেন তার মুখে লেগে আছে। সাঈম ভাইয়া বলল, "হ্যা,রফিক ভাই চলুন,নতুন বই দেখা যাক।" আমরা চললাম রফিক ভাইয়ের পিছে পিছে।একটা কক্ষে ঢুকলাম।দেখলাম দেশে বিদেশের অনেক বই আছে সেখানে।সবাই বই খুঁজতে লাগলাম।বইটা সর্বপ্রথম আমার চোখেই পরল।নাম,'' A scret story of Amazon".বইটায় আমার ইন্টারেস্ট হলো।বাড়ি এনে পড়লাম।লেখকের নাম হলো T.R.Smith.এই নামের এক অভিযত্রীর কথা শুনেছিলাম।ভদ্রলোক ইংরেজ এবং গত বছর হারিয়ে গেছেন। বইটা খুলবার পরেই নজরে পরল একটার পর একটা ম্যাপ।সবগুলোই অ্যামাজনের ম্যাপ।তারপর ডিটেলস শুরু হলো।সবটাই পড়লাম।সেখানেই আমি এই গ্রামটার নাম পেয়েছিলাম। আমি সর্বশেষ অধ্যায়ে, "some mysterious things of Amazon"অংশে পেলাম একটা কুয়ার ছবি।সেখানে লেখা কথাগুলোর বাংলায় অনুবাদ করলে যা দাড়ায় তা হলো,,, আমি আমার ১৫ তম অভিযানে অ্যামাজনের একটা রহস্যময় এলাকায় গিয়েছিলাম।সেই জায়গাটা সবুজে ঢাকা প্রান্তরের মতো হলেও পাহারী এলাকা।সেখানে অ্যানাকোন্ডারও আবার দারুণ প্রভাব আছে।আমি ওই এলাকায় গেলাম। খানিকটা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হলো আমায়।সেখানে যেখানেই যাই না কেন পথা হারিয়ে ফেলি।বারবার রহস্যময়ভাবে এইরকম অবস্থায় পড়লাম।কম্পাসের দিকনির্দেশনা মেনেও এইরকম বিপদে বারবার পড়লাম।অবশেষে নিজের মতো করে চলতে লাগলাম।সেইসময় আমার অনুমান ভুল যদি না হয়ে থাকে তাহলে পূর্বদিকে আধ কি.মি. যাওয়ার পরই পেয়ে গেলাম একটা কুয়া।এইরকম কুয়া কী করে আসল এখানে জানি না।এটা অতি আধুনিক রকমের কুয়া।কুয়াটা পাথরের নয় তামা অথবা পিতলের তৈরী।পায়ে লিখা আছে কিছু বর্ণ,যার কিছুই আমি বুঝি নি।এই কুয়ায় একটা মানচিত্র আছে যার অর্ধেকটা যেতে পেরেছিলাম।সব অভিযানটা বলতে আমি ইচ্ছুক নই।অর্ধেক পথ যাওয়ার পরই আমি একটা অ্যানাকোন্ডা দেখে চলে এসেছিলাম।এইটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও কমপক্ষে ৬০ ফুট লম্বা,যদিও প্রাণীবিদরা আমার এই কথায় বিশ্বাস করে নি।তবে আমি সত্যি বলছি।অর্ধেক পথ যেয়ে আমি একটা সোনার মূর্তি পেয়েছিলাম।আমি চাই ওই জিনিসটার সন্ধান আবার করব। আর কিছু লিখেন নি T.R.Smith.আমি জিজের সকলকে বলেছিলাম এইটার ব্যাপারে।তারাও উৎসাহী হয়েছিল।বেশি লোক আনি নি কারণ অভিযানে বেশি লোক রাখা ঠিক নয়।তো আমরা সবাই ঠিক করলাম এখানেই আর মাত্র ১ সপ্তাহ থাকব। বসে বসে বাকি রাতটা উপভোগ করতে লাগলাম।অবশেষে আমরা ঘুমাতে গেলাম। ------------------------------------- সকাল বেলা ঘুম হতে উঠলাম।উঠে যেরকম পরিবেশ দেখলাম তা হলো:: তুবা আর ইভা ছবি আঁকছে।হৃদয় ভাইয়া কবিতা লিখছে।মফি আর সুস্মিতা ঝগড়া করছে।রনি ভাই আর সাঈম ভাইয়া "A secret story of Amazon" বইটা পড়ছে।সিয়াম, ফারহান, সামির, জাহিদুল, তুহিন এরা বসে অনেক মজা করছে।আমি ভাবছি কোন দলে যাব। মি.A কে দেখলাম সেক্সট্যান্ট যন্ত্র হাতে কী যেন কাজ করছেন। কাছে গেলাম।দেখলাম সেক্সট্যান্ট যন্ত্রটা কেমন।দেখলাম একটা চলনক্ষম ব্যাসার্ধ বাহু আছে যার শেষ প্রান্তে আয়না লাগানো।অপরপ্রান্তটি স্কেল পর্যন্ত বিস্তৃত।এর উপর টেলিস্কোপ লাগানো এবং এর সামনে আয়না যুক্ত করা আছে। আমি: মি.A এই যন্ত্রটা সম্পর্কে কিছু বলুন। মি.A::: এটা হলো সেক্সট্যান্ট মেশিন।ইংরেজি শব্দ এটা।ইংরেজি সেক্সট্যান্ট শব্দটা এসেছে ল্যাটিন শব্দ সেক্সটাস থেকে।যার অর্থ হলো সোয়া ছয় অংশ।১৭৩১ সালে জন হেডলি নামের একজন ইংরেজ ভদ্রলোক এটি আবিষ্কার করেন।এটি মূলত জাহাজ বা বিমান হতে অক্ষ নির্ণয় করতে কাজে লাগে। আমি: মি.A এই যন্ত্র চালানোটা যদি শিখাতেন তাহলে ভালো হতো মি.A :তুমি শিখতে চাও।ভালো ভালো। দেখ এই যে টেলিস্কোপটা দেখছ তার ভিতর দিয়ে দেখতে হবে আকাশের দিকে।তারপর এই যে আয়নাটা দেখছ তাকে সূর্যের দিকে অথবা কোনো তারার দিকে ঘোরাতে হবে যাতে লক্ষবস্তু দিগন্তের উপর দৃশ্যমান হয়।যে বাহুদন্ডটা মানে এই যে এই দন্ডটা আয়নাকে চালনা করে এটা থেকেই প্রয়োজনীয় কৌণিক দূরত্বের পরিমাপ পাওয়া যায়।এই কৌণিক মাপ থেকে এবং দিনের সঠিক সময়ের হিসাব টেনে অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়। তারপর মি.A আমায় শিখাতে শুরু করলেন।বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর শিখে গেলাম।হিসাব করাটাও শিখালেন। তাহিরা আপু আর রেহনুমা আপু আনিস ভাইয়ের সহায়তায় জায়গাটার বিষয়ে একটা নোট নিল। তারপর,,,, তারপর কী হলো জানতে পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকুন। [ কেমন লাগল গল্পটি??? কমেন্টে জানাবেন।আমি চরিত্রে নিজেকে কল্পনা করে পড়বেন।সবসময় ভালো এবং ভালোর দলেই থাকবেন] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ৩০ এবং শেষ]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৬]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৫]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৪]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৩]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২২]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২১]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২০]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ১৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৬]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now