বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2
মি.A বলতে লাগলেন,,,
"সেদিন ঝরে তেমন ক্ষতি হয় নি।আমার মতে আল্লাহ সাহায্য করেছিলেন আর দক্ষ ক্যাপ্টেন হওয়ায় কোনো ক্ষয় ক্ষতি হয় নি।
কয়েকদিন পর,,,
আমি জাহাজের উপরে আসলাম।রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছি।তখন দেখলাম,সমুদ্রে আমাদের থেকে খানিকটা দূরে একটা বিশাল তিমি ভেসে উঠেছে।বিশাল তিমিটা উপরে ভাসার সময় পানির ফোয়ারা বের হতে লাগল।আসলে নীল তিমি হলো সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী।এরা বাচ্চার জন্ম দেয়,মাছের মতো ডিম পারে না।বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায়,খানিকটা কষের মতো আঠালো ধরণের দুধ।তারা আবার ফুলকার সাহায্যে চলে না,প্রাণীদের মতো শ্বাস নেয়।তবুও কেন যে বাংলা ভাষায় এদের তিমি মাছ বলা হয় বুঝতে পারি না।'
ফারহান: "আমার মতে পানিতে থাকে আর খানিকটা মাছের মতো দেখতে তাই এদেরও মাছ বলা হয়।যেমন চিংড়ি কোনো মাছ নয় তবুও চিংড়ি মাছ বলা হয়।"
মি.A বললেন," আমারও তাই মনে হয়।তিমি দেখলাম।এরা মূলত প্রায় ৩০/৪০ মিনিট পর্যন্ত পানির নিচে একটা শ্বাস নিয়েই থাকতে পারে।৩০/৪০ মিনিট পরপর শ্বাস নেয়।শ্বাস নেওয়ার সময় এমন পানির ফোয়ারা উঠে।"
মফিজুল: " তাহলে ওরা ঘুমায় কী করে???"
মি.A বললেন,"তিমি মাছের মস্তিষ্কের দুইটা অংশ আছে বলে মনে করা হয়।একটা অংশ শ্বাস নেওয়ার কাজ করে, এই অংশ কখনও ঘুমায় না বলেই আমি জানি।
রাতের বেলায় জাহাজে বসে আকাশ দেখলে অনেক সুন্দর লাগে।পূর্ণিমা রাতে আমি জাহাজের ছাদে বসে দেখতে লাগলাম।বড়ই অপূর্ব লাগে।ততোদিনে সমুদ্র পীরা খানিকটা কাঁটাতে পেরেছিলাম। আমরা নামলাম দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র বন্দরে।সেখান থেকে বন্য এলাকায় চলে আসলাম।সবটা বর্ণণা দিলে অনেক লম্বা হবে।তাই সংক্ষেপে তোমাদের বলছি।আমরা বনে আসলাম।বনে আসার অভিজ্ঞতা এটাই প্রথন নয় আমার,তবে এতো বড় বনে এই প্রথমই আসলাম।বনে বহু গাছ লতাপাতায় ভর্তি।আমরা তাবু গাড়লাম।
টিনে সংরক্ষিত খাদ্য প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।তাই তিনজনে শিকারে বের হলাম।আফ্রিকার বনে এতো বেশী খুঁজতে হতো না তখন,খুব সহজেই পেয়ে গেলাম একটা হরিণের দল।হরিণ শিকার করলাম।
সেই জায়গায় ঝর্ণার পানি দিয়ে বিচিত্র পদ্ধতিতে খাবার রান্না করা হলো। খাবারও যথেষ্ঠ সুস্বাদু হলো। আমরা গন্ডারের দলের সন্ধান করতে লাগলাম।প্রতিদিনই তাবুর স্থান বদলানো হতে লাগল।বনের গভীরে ঢুকার পর সব কিছু যথেষ্ঠ পরিবর্তিত হতে লাগল।রাতের বেলা বিচিত্র সব শব্দ হতো।আমিও এসবের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে লাগলাম।
বেশ কিছুদিন বনে ঘুরবার পর আমরা গন্ডারের দল পেলাম।
গন্ডার দেখে খুশি হলাম ঠিকই,কিন্তু গন্ডার শিকার করা চাট্টিখানি কথা না।গন্ডারদের গায়ের চামড়া অনেক পুরু হয়।তাদের গায়ে বুলেট বিঁধে না।তাছাড়া গন্ডাররা একবার ক্ষেপে গেলে শিকারীরর আর কোনো নিস্তার নেই।এমনিতে তৃণজীবী আর নিরীহ ধরণের প্রাণী বলে এদের খ্যাতি আছে,কিন্তু রেগে যাওয়া বা আহত গন্ডার কতোটা ভয়ঙ্কর হয় তা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না।কিন্তু আমার বাবা আর ডেনিয়েল আঙ্কেল হলেন পাকা শিকারী।তারা জানেন কী করে এসব করতে হয়।
শিকারের জন্য সময় নির্ধারণ করা হলো।সময় মতো আমরা সেখানে গেলাম। বাবা আর ডেনিয়েল আঙ্কেল আমায় গন্ডার শিকারের কৌশল সম্পর্কে বললেন।আসলে ব্যাপারটা খানিকটা অসুবিধার মনে হলেও সহজ।আচ্ছা তোমরা বল তো গন্ডারের দেহে নরম জায়গা কোনটা???
হৃদয় ভাইয়া: গন্ডারের দেহে নরম জায়গা হলো তার লেজের নিচের অংশ।
মি.A: কী করে জান??? আমি ওইসময় এসব জানতাম না।
হৃদয় ভাইয়া: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর লেখায় এ বিষয়ে পড়েছিলাম।
মি.A::: ওহ আচ্ছা,যা বলছিলাম,বাবা আর ডেনিয়েল চাচা আমায় বললেন গন্ডারের লেজের নিচে গুলি করতে হবে। এর জন্য সুযোগ খুঁজতে হয়।অপেক্ষা করতে লাগলাম কখনও গন্ডাররা মলত্যাগ করবে।সুযোগ আসল,আমি ১ টা, বাবা ৩ টা আর ডেনিয়লে চাচা ২ টা গন্ডার মারলেন। নির্দিষ্ট প্রকৃয়ায় গন্ডারের চামড়া খুলা হলো,ব্যাপারটা কতো কঠিন একবার চিন্তা করে দেখ।বুলেট বিঁধে না এমন পশুর চামড়া খুলতে হবে।ছুড়ি চাকু এসব দিয়ে নয়,তলোয়ারের মতো বড় ছুড়ি দিয়ে চেষ্টা করলাম হলো না।তখন বাবা আর ডেনিয়েল আঙ্কেল কাজটা করলেন।তারা সাবধানে সিংগুলো নিলেন।
এখন একটা কাজ শেষ।পরের কাজটা হলো হাতির দাঁত সংগ্রহ করা।তবে তার আগে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।বাবা আর আঙ্কেলের সাথে সেই অভিজ্ঞতা হলো।তারা আমায় লাফলা'আ নামক এক লতা দেখালো,এটা নাকি ক্ষত সারানোর কাজে লাগে।মুঙ্মু নামক এক ছোট ঔষধী গাছ নাকি দুর্বলতা কাটায় আর অজ্ঞান রোগীর জ্ঞান ফিরাতে সাহায্য করে।এরকম অনেক লতা দেখানোর পর তারা আমায় দেখলো হলুদ রংয়ের এক ধরণের ফুল,এগুলোর গন্ধ অনেক মিষ্টি লাগছিল।বাবা বললেন,"নাক চেপে ধর,এই ফুলের গন্ধে বিষ আছে,জ্ঞান হারাতে পার।" বুঝলাম বনে ভ্রমণ যতোটা সহজ বিষয় তার চেয়েও কঠিন জিনিসও আছে এখানে। বাবার সঙ্গে শিকার এবং রান্না করার কৌশল শিখলাম।বলা চলে তাদেরর কাছ থেকেই এতো কিছু শিক্ষা পেলাম।হাতির দাঁত সংগ্রহের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে পৌছলাম আমরা।আমরা ঠিক করলাম হাতি শিকার করব না,কারণ হাতি মারতে গিয়ে অসংখ্য মানুষেরর প্রাণ যায়। তারপরও আমরা হাতির দাঁত সংগ্রহ করেছিলাম।কিন্তু কিভাবে বল তো।"
শিখা: আমার মনে হয় আপনারা হাঁতির ফাদ ফেলে হাতি শিকার করেছেন।
মি.A মাথা নেড়ে বুঝালেন উত্তরটা হয় নি।
মফিজুল: আপনারা মনে হয় হাঁতির মড়াদেহ খুঁজে পেয়েছিলেন।
মি.A এবারও বললেন উত্তরটা ভুল।আনিকা ভাবছিল এতক্ষণ কী উত্তর দিবে।
আনিকা: আপনারা আদিবাসী উপজাতিদের থেকে হাঁতির দাঁত সংগ্রহ করেছিলেন।
মি.A বললেন, " হ্যা,আমরা চুরুল নামক একপ্রজাতির কাফ্রিদের কাছ থেকে এনেছিলাম।ওদের গ্রাম বলতে লতা পাতা আর বাঁশ দিয়ে তৈরী ঘর।তারা তাদের পুরোহিতের অধীনে দলগতভাবে থাকে।তাদের কাছ থেকে হাঁতির দাঁতও সংগ্রহ করা হলো।এবার ফিরে যাওয়ার পালা।ফিরতি পথে তেমন ঝামেলা হয় নি।বাড়ি আসলাম। এর কয়েকদিন পরই আমার বাবা আর ডেনিয়েল আঙ্কেল এক অভিযানে নিখুঁজ হয়ে যান।"
আমি:"কিভাবে নিঁখুজ হলেন???"
মি.A কোনো কথা বললেন না।বুঝলাম এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চান না তিনি।ততক্ষণে আবার আমরা রাতের খাবার খেলাম।খেয়েদেয়ে একসাথে বসে বসে গল্প করতে লাগলাম।এই উপজাতিদের বাচ্চাগুলো অনেক সুন্দর হয়।এই উপজাতিরা একদম ফর্সা।একটা বাচ্চাকে অনেক কিউট লাগছিল।ইভা আর মফির বরাবরই বাচ্চা পছন্দ।বাচ্চাটার বয়স আর কতো হবে,হয়তোবা বছর ২ হবে।ইভা ইংরেজিতে ওর মাকে বলে কোলে বাচ্চাটা নিল।নিয়ে বাংলায় বলল,
"গুলুমুলো,কী সুন্দর তুমি!"
বাচ্চটা মারাত্মক জোরে কেঁদে উঠল।কারণ জানলে আপনারা হেসে উঠবেন।কারণটা হলো,,,
[ কেমন লাগল গল্পটা কমেন্টে জানাবেন।আর পরের পর্ব শীঘ্রই আসছে।ততদিন ভালো এবং ভালোর দলেই থাকুন।]
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now