বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হৃদয়[MH2]
অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৫] এর পর হতে,,,
মি.A কিছুটা মাটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করলেন।মনোযোগ সহকারে দেখতে লাগলেন। কী এমন আছে মাটিতে যে এমন মনোযোগ নিয়ে দেখতে হচ্ছে??? আমার মন কৌতুহলী হয়ে গেল।আর মনে একবার কৌতুহল জাগলে তা মিটাতে হয়,নাহলে মন অশান্ত হতে থাকে ধীরেধীরে।ইতিমধ্যে আরও কয়েকজন জিজে মাটি পরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে। আমিও হাতে নিলাম সেই সোনালী মাটি। মাটির রং হলদে এবং খানিকটা সোনালী রংয়ের। তবে কয়েক রকমের ধাতু মিশ্রিত আছে মাটিতে এমনই মনে হলো। সে ধাতু স্বর্ণও হতে পারে। তবে স্বর্ণ থাকলেও তা হালকা পরিমাণে,আর মাটিতে হলুদ বর্ণের অন্য পদার্থও মিশ্রিত থাকতে পারে। তবে সেগুলো রসায়ন গবেষণাগার ছাড়া আপাতত এখানে কোনো যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা না করে বলা সম্ভব না। মি.A এর দিকে তাকালাম। দেখলাম খুব মনোযোগ দিয়ে তিনি দেখছেন, তার ব্যাগ হতে তিনি তার ম্যাগনেফাইং গ্লাসটা নিলেন এবং সামনের দিকে হাটতে লাগলেন।দেখলাম ফারহান আর সাঈম ভাইও তাদের ম্যাগনেফাইং গ্লাস নিয়ে সামনে যাচ্ছে। ওরা কেন সামনে যাচ্ছে তা জানার জন্য মি.A কে জিজ্ঞেস করলাম,,,
আমি:মি.A আর ফারহান,তোমরা কোথায় যাচ্ছ???
মি.A: এখানে আমাদের মাথার উপর গাছে ঢাকা।ফলে ছায়ার কারণে ম্যাগনেফাইং গ্লাস দিয়ে সূক্ষ্ম পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।তাই রোদের দিকে যাচ্ছি।
আমারও কৌতুহল হলো,আমিও ওদের সাথে চলতে লাগলাম। বাকি জিজে'সরাও মাটি হাতে নিয়ে দেখছে। আবার কেউ কেউ বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। চারদিকে গাছপালায় ঢাকা এ জায়গা।বিশ্রাম নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ,পাখির কিচিরমিচির শব্দ।বানরগুলো হতে কিছুটা সড়ে এসেছি আমরা।ফলে বিরক্ত করার মতোও কেউ নেই।সামনের ঝোপঝাড় পার করে আমরা সামনের দিকে রোদের সন্ধানে যাচ্ছি। সবটা জায়গায় মাটির রং হালকা সোনালী।শালবনের মাটির রং লাল হয় তা পড়েছি এবং নিজের চোখেও দেখেছি।এই প্রথম সোনালী মাটি দেখলাম।তবে সোনালী বালু হয় এরকম মুভিতে দেখেছি,কিছু সাহিত্যেও পড়েছি।কোনোকোনো নদীর সাথে স্বর্ণের খনির যোগ সূত্র থাকলে নদীর বালির রং হালকা সোনালী হয়। আমরা কিছুটা হাটার পর একটা ফাঁকা জায়গা পেলাম,এখানে মোটামোটি রোদ আছে।
মি.A আর বাকিরা ম্যাগনেফায়িং গ্লাস দিয়ে মাটি পরীক্ষা করছে। মি.A একটু সময় পর বললেন,,,
মি.A: মাটিতে হালকা স্বর্ণের গুড়ো আছে,রোদে সেগুলো চিকচিক করছে।হয়তো এই জায়গাটা বর্ষায় প্লাবিত হয়,আর কোনো একটা খনি হতে হয়তো এরকম গুড়ো এসে জড়ো হয়ে মাটির রং সোনালী বানিয়ে দিয়েছে।
সাঈম ভাই: হুমম, মাটি কিছুটা চকচক করছে। স্বর্ণই আছে।তবে হালকা।
ফারহান: আমরা বাকিদের কিছু বলে আসি নি। চিন্তা করতে পারে।চল যাওয়া যাক।
আমরা আবার ফিরে আসলাম। তানিম ভাই একটা গাছের গুড়িতে বসেছিলেন। আর চারপাশ দেখছিলেন।মি.A কে আসতে দেখে বললেন,,,
তানিম ভাই:মি.A মাটিতে কী আছে??? ম্যাগনেফাইং গ্লাস দিয়ে কী দেখলেন???
মি.A : মাটিতে হালকা স্বর্ণ আছে। আর তামা এবং আরও কিছু পদার্থ আছে।তাই মাটির রং এমন।
তানিম ভাই: আমরা তারমানে স্বর্ণের জমিনের উপর দাড়িয়ে আছি। ভাবতেই আনন্দ হচ্ছে।হি হি হি,,,
রনি ভাই কথা শুনছিলেন এতক্ষন। এবার বললেন,,,
রনি ভাই:মি.A এইরকম মাটির কি ভৌগোলিক কারণ আছে??? নাকি অন্য কারণ।
মি.A : আমার যতটুকু অনুমান তা থেকে বলতে পারি জমিতে প্লাবনের সময় কোনো খনি হতে স্বর্নের গুড়ো এসে জড়ো হয়েছে।
স্বর্ণের কথা শুনে সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে কথা শুনছে।
রুবি আপু: মি.A মাটির রং এমন হলুদ হতে হলে তো অনেক বেশি প্লাবন হওয়া দরকার আর প্রচুর সময়েরও দরকার। আপনার কী মনে হয়???
মি.A: হুমম সময় তো লাগেই।তবে আমি কিন্তু সিউর না।অন্য কারণও হতে পারে।
ফারহান: আমার কিন্তু আরেক কারণ মনে হয়।আমার মনে হয় এলডোরাডো আছে আশেপাশে।কারণ প্রাচীন লোককথা মতে এলডোরাডোর মাটিও স্বর্ণের হয়।
সারা: হুমম ভন্ডু,আই মিন বন্ধু এলডোরাডো আবিষ্কার করতে পারলে খুব ভালো হবে।
সুস্মিতা: এলডোরাডো সত্যিই আছে কী???
মফিজুল: সুস্মি এলডোরাডো আছে নাকি নাই তা কেউ জানে না। তবে আমরা এখন যেখানে আছি সেটা অনাবিষ্কৃত জায়গা।সব থাকতে পারে এখানে।
ইভা:বাহ আমার ছোট ছোট ভাইবোন গুলোও দেখছি আজকাল বড়দের মতো কথা বলছে।
সুস্মিতা: আমরা কি সবসময় ছোট নাকি??? আমি অন্তত তোমার চেয়ে বড়
সামিয়া: তোরা কোন দিক দিয়ে বড় হয়ে গেছিস??? ইভা আপু কত্ত বড় বয়সে দেখেছিস???
সুস্মিতা: আরে তুই আমি আর মফি বয়সের উল্টো দিক দিয়ে আপুর বড়
এরা এরকম কথা বলতে লাগল।অন্যদিকে এলডোরাডোর কথায় অনেকে যোগ দিয়েছে।
মেহেদী ভাই: এলডোরাডো থাকুক বা না থাকুক আমাদের অন্তত সেটার অনুসন্ধান করা উচিৎ।
মি.A: হুমম আমরা অনুসন্ধান করব। তারপর আমরা সেই বইটার সবটা সমাধান পাব।
মাহিন: আমরা T.R.smith এর চেয়ে বেশি জায়গা এসেছি।আর সেই রহস্যটাও শেষ করতে পারব।
আমরা অনেকক্ষণ কথা বললাম। তবে এবার আমাদের যাওয়ার পালা শুরু। আমরা ঠিক করলাম একটা মূল কেন্দ্র ঠিক করে নিয়ে যাওয়া শুরু করব।সাথে কিছু অস্ত্র আর খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আমরা রওনা হবো। তবে তার পূর্বে একটা বিষয় জানা দরকার ছিল,আর তা হলো এই সোনালী ভূমির দৈর্ঘ্য কতটুকু।মি.A বা আমরা কেউই তা জানি না।
মি.A: আমরা আমাদের লক্ষ্য স্থির করেছি ঠিক তবে একটা বিষয় আমাদের সমস্যা আছে।আর তা হলো এই ভূমির কতটা বিস্তৃতি আছে তা কেউ জানি না।হাটতে হাটতে প্রচুর সময়ও যেতে পারে।বলা যায় না।
লাকি আপু: আমি অত্তো হাটতে পারব না।হাটতে হাটতে জান শেষ এই কয়দিনে।
মেহেদী: আপু এতোদিন তো হেটে হেটে আসলে।কত্ত কি.মি. হেটেছ তার কোনো হিসাব আছে নাকি।
লাকি আপু: হুমম তারমানে আমিও অন্নেক হাটতে পারি
তানিম ভাই: আমাদের অন্তত একটা দিক স্থির করতে হবে।না হলে লক্ষহীন জাহাজের মতো চলতে হবে
আনিকা: একটা লক্ষ্য স্থির করা যায়। সেই শব্দটাকে লক্ষ্য করে আমরা চলতে পারি।হয়তোবা আমাদের সমাধান সেখানেই আছে।
হৃদয়: হুমম আনিকা ঠিক বলেছ।এলডোরাডো বা এরকম জনপদ থাকলে সেটা একমাত্র সেখানেই থাকতে পারে।
মাহমুদ: আমার তো এটাকে একটা ধাঁধাঁ আর ভুল পথ মনে হচ্ছে,অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো।
রুবি আপু দাড়িয়ে সব মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।এমনিতেও আপুর মনোযোগ ভালো সব বিষয়ে।আর যে বিষয়ে আপুর আকর্ষণ বেশি সেটাতে তো আপু আরও বেশি মনোযোগ দেয়। আপু মাহমুদের কথায় বলল,,,
রুবি আপু: এইযে গজনী মাহমুদ, আমরা এতোদিন অন্ধকারে ঢিল ছুড়েই এত্তোদূর এসেছি।
মি.A: তাহলে সেটাই ঠিক লক্ষ্য বা দিক মনে করা হলো।শব্দটার দিকেই যাব। বেশিদূর নয় সে জায়গা।হয়তো আর কয়েক মাইল। দুতিনদিনের মাঝে পেয়ে যাব,এই বিশ্বাস আমার আছে।এখন বড় জার্নির সামনে আমরা, আজ এই জায়গায় বিশ্রাম নিব সবাই।কাল সকালে জার্নি শুরু করব।
[কেমন লাগল??? অনেকদিন পর লিখলাম।এই গল্পটা লিখলেই সব পুরনোদের মনে হয়।অনেক মিস করি সবাইকে।গল্পে সবার নাম নেওয়া সম্ভব হয় নি,দুঃখিত।আর পরের পর্ব সময় পেলে লিখব]
বি.দ্র.: যথেস্ট সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি।দয়া করে কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now