বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হৃদয়[MH2]
রাতের খাবার খাওয়ার পর সবাই চাঁদের আলোয় বসে আড্ডা দিতে লাগলাম। এই কয়দিন অ্যামাজনের জঙ্গলে বসবাস করে প্রায় সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েছি আমরা।তাই এখন কোনো কিছুই তেমন একটা অদ্ভূত মনে হয় না আমাদের কাছে।তাই সাবলীল ভঙ্গীতে সবাই আড্ডা দিতে লাগলাম। জিজে'সদের আড্ডাতে কোনোকিছুর অভাব নাই,হাসি মজা,দুষ্টুমি অভিমান প্রায় সব কিছুই আছে।তাই আড্ডা দিতেও মজা লাগে।রাতে কয়েকজন পাহাড়ায় রইল।আমি সহ সবাই ঘুমিয়ে গেলাম। তবে মাঝরাতে ধপাস ধপাস শব্দটার কারণে ঘুম ভাঙ্গল।অনেক জোরে শব্দটা হচ্ছে।
তাবুর বাইরে আসলাম।এসে দেখি সবাই দাড়িয়ে আছে,সবাই কোলাহল করছে।আমিও এগিয়ে গেলাম,
আমি:মি.A আজ শব্দটা খুব জোরে শুনাচ্ছে,তাহলে শব্দটার উৎস কি এখানে???
মি.A: হতেও পারে আবার না ও হতে পারে।একটু আগে যারা পাহাড়া দিচ্ছিল তারা বলল কূপের ভিতর থেকে শব্দ আসছে বিচিত্র রকমের।
তানিম ভাই: আমি তো পাহাড়া দিচ্ছিলাম, আমি লক্ষ্য করেছি এই ধপাস শব্দটা কূপের ভিতরের কোনো একটা জায়গা থেকে আসছে।
শুভ ভাই:আমারও তাই মনে হয় তানিম।কূপের ভিতরই কোনো জানোয়ার আছে।
রনি ভাই:হতে পারে কূপের ভিতর হতেই শব্দটা আসছে। তবে আরও কী কী বিচিত্র শব্দ শুনেছিলে তোমরা???
মেহেদী ভাই:বিচিত্র শব্দ বলতে অনেক কিছুর শব্দ হচ্ছিল।আর আমাদের পাঁচজনের মনে হয়েছিল কূপের ভিতর হতে শব্দ হচ্ছে।
ফারহান: এটা মনের ভুলও হতে পারে।আমাদের যথেস্ট পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।তাহলে নিশ্চিত হতে পারব।
রেহনুমা আপু: পিচ্ছি গোয়েন্দা, এরা আমাদের আগে পাহাড়া দিচ্ছিল, তখন নিশ্চুপ প্রকৃতিতে ওরা নিশ্চিত ভাবেই শব্দ শুনেছে।বুঝেছ???
ফারহান: তারমানে মনে মনে হয় কূপের নিচে আছে সোনার শহর এলডোরাডো।
সবাই অবাক হয়ে বলে উঠল এলডোরাডো
রুবি আপু: ফারহান, আমরা যদি এলডোরাডো পেয়ে যাই তো ইতিহাসে এটা প্রথমবারের মতো হবে।
মফিজুল: হ্যা রুবা আপু,আল্লাহ চাইলে আমরা আবিষ্কার করে ফেলব ওটা।
সুস্মিতা:এখনও এটা নিশ্চিত নয় যে ওই জায়গায় এলডোরাডো আছে কিনা।আগে সবটা নিশ্চিত হয়ে কল্পনা করলে ভালো হয়।
তাহিরা আপু:সুস্মিতা ঠিক বলেছে, নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা ঠিক নয়।
সারা:তারা আপুও ঠিক বলেছ।ফারহানের কথার ব্যাপারে আগে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ।
শিখা: আরে ফারহান ঠিক বলতেও পারে। কারণ আজ পর্যন্ত সবাই মাটির উপরে এলডোরাডো খুঁজেছে।আমরা যাব কূপের ভিতর দিয়ে।পেলে পেতেও তো পারি।
রনি ভাই:হ্যা পেতেও পারি, হি হি হি
এমন সময় ধপাস শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল।আমরা একটা বিরক্তিকর জিনিস থেকে এতক্ষণে শান্তি পেলাম।এতক্ষণের এতো বিকট শব্দ শেষে এখন চারদিকের সবকিছু নিশ্চুপ মনে হচ্ছে।চাঁদও পশ্চিম দিকে অনেকটা হেলে আছে, ফলে চাঁদের আলোও খানিকটা ফিকে মনে হচ্ছে।এরই মাঝে আমরা কয়েকজন দাড়িয়ে কথা বলছি।
লাকি আপু: উফ!!!এতোক্ষণে শব্দটা থামল।
আনিকা: আমার তো কান একদম ব্যাথা করছিল।আর হৃৎস্পন্দন এতোক্ষণে স্বাভাবিক হলো।
সারা: আনিকা আপু এতোক্ষণে আমারও শরীর ঠিক হয়েছে।
মফিজুল: আচ্ছা সকাল সকাল তো কূপের ভিতর রওনা দিব আমরা, চলো এখন ঘুমাতে যাই।
নায়রা:হুমম, চলো সবাই ঘুমাতে যাই।
সবাই ঘুমাতে গেলাম। হালকা বাতাস আসছে পূর্ব দিক থেকে। আমাদের তাবুতে হালকা একটু ফোকর দিয়ে মলিন চাঁদের আলোও আসছে। এরকম পরিবেশে খুব ঘুম পায় সবার। আমারও খুব ঘুম পাচ্ছে, তাই ঘুমিয়ে গেলাম।
সকাল বেলা ফজরের নামাজ পড়ে আমরা রান্নার ব্যাবস্থা করলাম। সকাল সকাল কাঠ সংগ্রহ করলাম, আর মেয়েরা উনুন ধরানোর কাজ করল। তুবা, ইভা,শিখা এরা চা বানিয়ে এনে সকলকে দিল,এরা খুব ভালো চা বানাতে পারে,আবার ইভা তো খুব চা খায়। চা খাওয়ার পর অন্যান্য রান্না চলতে লাগল। সকাল বেলার নাস্তার জন্য সারা, রুবি আপু, আনিকা, তাহিরা আপু রুটি বানাতে লাগল, রেহনুমা আপু আর লাকি আপু রুটি সেকতে লাগলেন। আর অন্যদিকে শিখা, তুবা, ইভা আর অন্যান্য মেয়েরা অন্য রান্না করতে লাগল। তানিম ভাই, মেহেদী ভাই,শুভ ভাই, রনি ভাই আর হৃদয় রাতে পাহাড়া দিয়েছিল, ওরা ঘুমাচ্ছে। তাই রান্নার সাহায্য সহযোগীতা আমাদেরকেই করতে হচ্ছে। এক ঘন্টার মধ্যেই রান্না হয়ে গেল।
মি.A আর সাঈম ভাই গেলেন পুকুরের উপর দিক দিয়ে দেখতে, কী কী দেখা যায়। ওনারা ওইদিকে এই আলোচনা করায় ব্যাস্ত। আর আমরা একেকজন একেক কাজ করছি। আমাদের কিছু জিনিস পত্র এখানে রেখে যেতে হবে। কারণ এতো বোঝা নিয়ে পুকুরে নামা সম্ভব নয়। আমাদের সঙ্গে থাকা কিছু টিনে সংগৃহীত খাবার, আরও অনেক জিনিস রেখে যাব। আমাদের সঙ্গে শুধু রাইফেল, পিস্তল, তাবু বানানোর জিনিস, রান্নার সামগ্রী আর কিছু খাবার থাকবে।আর কয়েকজন মশাল নিয়ে এগুতে থাকব। আমাদের উপরে রেখে যাওয়া জিনিসগুলো উপজাতি কয়েকজন যোদ্ধারা পাহাড়া দিবে। এটাই সকলের সিদ্ধান্ত।
আমরা সকালের নাস্তা শেষ করে একটু হাটাহাটি করে নিলাম।শরীর একটু হালকা হওয়ার পর, আমরা কূপে নামার সিদ্ধান্ত নিলাম। মি.A তার আগে আমাদের কিছু বলতে চাইলেন, ওনি বললেন,
" কুয়াটা প্রায় ৫০ ফুটের মতো গভীর, এতো গভীরে লাফ দিয়ে নামা সম্ভব নয়। কুয়ার গায়ে কোনো সিড়ি বানানোও নাই, তাই আমাদের দড়ির সাহায্যে নামতে হবে। আমি একটা সহজ উপায় বানিয়েছি,এটার সাহায্যে সহজেই নামতে পারব।"
ওনি আমাদের সকলকে কুয়ার পাড়ে নিলেন। দেখলাম সব ব্যাবস্থা তিনি আগে থেকেই করে রেখেছেন। একটা দড়ি কুয়ার একটু দূরে একটা গাছে বেধেছেন, আর দড়ির আরেকটা প্রান্ত নিচে কুয়ার একটা জায়গায় আটকানো।আর দড়ির মাঝে একটা যন্ত্র লাগানো।ওইটায় হাত দিয়ে চাপ দিলে নিচে ধীরে ধীরে নামা সম্ভব।ফলে অধীক গতীর সমস্যা হবে না কারও। আবার কুয়া হতে উপরের দিকে উঠতে হলে ওইখানে একটা অপশন আছে,সেখান দিয়ে উঠা যাবে।
মি.A এর আরও একটি পরিকল্পনা হলো আমরা ছেলেরা কয়েকজন সবার আগে নামব। কারণ ভিতরে ফিয়া সাপ আর কোন কোন বিপদ আছে তা দেখতে হবে।তার জন্য মি.A, রনি ভাই,তানিম ভাই, আমি, মেহেদী ভাই,শুভ ভাই, সিয়াম, ফারহান, হৃদয়, মফিজুল এরকম কয়েকজন ভিতরে নামলাম।হাতে রাইফেল প্রস্তুত করে এগুচ্ছি সামনের দিকে, মফিজুলের হাতে মশাল। আমরা কুয়ার নিচের দিকে আশার পর দেখলাম কূপের গর্তটা অন্য একটা দিকে বাক নিয়েছে, বলা চলে একটা গুহা পথের রূপ নিয়েছে। লতাপাতা আর কিছু আগাছায় ভর্তি, যদি একটু গভীর গাছপালা থাকত, তাহলে এটাকে একটা ছোটখাট জঙ্গলই বলা যেত। প্রায় ২০ মিনিটের মতো হাটার পর সামনে কিছুটা দূরে কিছু একটার নড়াচড়া করার শব্দ হলো। আমরা সবাই অনুমাণ করে নিলাম যে এটাই সম্ভবত" ফিয়া" সাপ। তাই সবাই সাবধান হয়ে গেলাম। মশাল নিয়ে ধীর পায়ে অগ্রসর হচ্ছি, আর তখনই সামনে দেখলাম সাপটাকে।আমাদের আগের অনুমাণ ছিল এটা অ্যানাকোন্ডার কোনো প্রজাতি,কিন্তু আমাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।কারণ সামনে থাকা সাপটা অ্যানকোন্ডার মতোও না,কারণ অনেক বড়।বলা চলে টাইটানোবোয়া সাপের প্রজাতির মতো। কারণ সাপটা অন্তত ৪৫ ফুট লম্বা হবে। আর সাপটার মাঝে বোয়া গোত্রের সাপের লক্ষণ ছাড়াও আরেকটা অন্যকিছুর লক্ষণ আছে,যার কারণ বা লক্ষণ আমরা সঠিকভাবে ধরতে পারছি না। তবে আমরা অবাক হওয়া মুডটা কাটিয়ে নিলাম,কারণ এটা টাইটানোবোয়া সাপের মতোই, তবে অনেক বয়স্ক। আমরা দেরী না করে গুলি শুরু করলাম।কিন্তু সাপটার শরীরে গুলি প্রবেশ করার আগেই সাপটা আমাদের দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। আমরা গুলি কয়েকটা প্রবেশ করাতে পারলাম সাপটার শরীরে,কিন্তু সাপটাকে তখনও মারতে পারি নি।এরই মাঝে সাপের লেজের ধাক্কায় মফিজুলের হাত থেকে মশালটাও পড়ে গিয়ে নিভে গেল। আমাদের চারিদিক দিয়ে অন্ধকার গ্রাস করে নিল।সামনে আমাদের মারবার জন্য রয়েছে মরণদূত,আর আমাদের চারদিক ঘিরে আছে অশুভ রাতের কালো অন্ধকার। বিপদের পর বিপদ। তবে এই অন্ধকারেও গুলি করে যেতে লাগলাম।কারও একটা আর্তনাদ কানে আসল, আর আমার পায়ে ঠান্ডা কিছু একটা পেঁচে ধরতে লাগল।আমি দ্রুত ওই ঠান্ডা জিনিসটাকে গুলি করতে লাগলাম, কিন্তু নাহ্, ওই ঠান্ডা জিনিসটা আমার শরীর বেয়ে দ্রুত উপরে উঠছে।হঠাৎ একটু আলো জ্বলে উঠল, আর সেই আলোয় মি.A সাপটাকে গুলি করল,আর সাপটা আমাকে ছেড়ে দিল। তখনও সাপটা মরে নি, আফ্রিকার শক্তির প্রতীক যেমন সিংহ, তেমনি অ্যামাজনের শক্তির প্রতীক হলো অ্যানাকোন্ডা। আমি দ্রুত শ্বাস নিতে লাগলাম।কারণ এরকম লম্বা সাপ যখন কাওকে পেঁচিয়ে ধরে তখন তার হৃৎস্পন্দন অনেক বেড়ে যায়।আমি বসে হাপাতে লাগলাম। এরই মাঝে সাপের লেজের ধাক্কা খেয়ে ফারহান আর সিয়ামও পড়ে গেল।সবাই গুলি করতে লাগল, সবার গুলি খেয়ে সাপটার মাথা ঝাঝরা হয়ে গেল।সাপটা আর নড়াচড়া করতে পারল না,সেখানেই মারা গেল। এতোক্ষণে আলোর উৎসের দিকে তাকালাম, আলোটা মি. A জ্বালিয়েছিলেন।ওনার কাছে একটা ছোট টর্চ ছিল, ওটা জ্বালিয়েছিলেন ওনি। আমাকে আর ফারহান আর সিয়ামকে ওরা টেনে তোলল।এতোক্ষণে শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক হলো আমার।
আমরা আবার উপরে উঠে আসলাম।সবাই কোলাহল করছিল, গুলির শব্দে অনেকে ভয় পাচ্চিল।আমরা গিয়ে পানি দিয়ে গোসল করলাম। গোসল করে শরীর শুকানোর পর এবার সবাইকে সবটা কথা বলা হলো। এবার পালা সবার একসাথে নামবার।সবাই মিলে দড়ি বেয়ে নামলাম। নিচে নামবার সময় অনেকে ভয় পাচ্ছিল,যেমন তুবা, সুস্মিতা, সারা, শিখা, পুষ্পিতা।ওদের এমন ভয় পাওয়া দেখে সবাই হাসছিল, আর ওরা রাগে ফুলছিল। নিচে নামবার পর অতি সতর্কতার সাথে আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। কারণ সাপ যেহেতু একটা ছিল, তাহলে আরও অনেকগুলো থাকতেও পারে। সাপটার মরদেহের কাছে আসার পর সবার শরীর শিরশির করে উঠছিল, কয়েকজন তো ভয় পেয়ে চিৎকারও করে উঠল। এই কূপের নিচের গুহা মুখটা বারবার বাক নিতে লাগল। প্রতিটা বাক অনেক সাবধানে দেখে শুনে পাড় হতে হচ্ছে।কারণ যদি আরেকটা সাপ থেকে থাকে,তাহলে আরও বিপদ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে একটানা দুই ঘন্টা হাঁটার পর আমরা গুহা পথটা পাড় হতে পারলাম। কোনো সাপ সামনে আর নজরে পড়ে নি। গুহার শেষ মুখ দিয়ে বের হওয়ার সময় সামনে,,,
পরে কী দেখলাম, তা জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করুন।
[কেমন লাগল??? সকল জিজে'স দের নাম নেওয়া সম্ভব নয়।তাই যাদের নাম নিই নি,তাদের সরি বলছি। তারা নিজেকে আমি চরিত্রে কল্পনা করে নিবেন।আর কোনো ভুল নজরে আসলে বলবেন]
বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now