বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৫]

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2[হৃদয়] দড়ির বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।সারাদিনের ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসতে লাগল।এবার কি ঘুমিয়ে পড়ব??? না,ঘুমালে চলবে না।কারণ রাতের আকর্ষণে পেয়েছে আমায়,রাত জাগার নেশা ধরেছে এখন আমায়।আমার ঘুমালে চলবে না।আমি জেগে থাকব।ছোট থেকে হিমুর মতো হওয়ার ইচ্চা ছিল,হিমুর বই গুলোয় চাঁদনি বিলাশেড কথা আছে।তাহলে অবশ্যই রাত জেগে চাঁদের সৌন্দর্য এবং রাতের সৌন্দর্য দেখব। মেহেদী ভাইয়ার কন্ঠ হতে জোরে গান ভেসে আসছে,তিনি গাইছেন,,, "ও সখিনা গেসস কিনা ভুইলা আমারে,আমি এহন নৌকা চালাই অ্যামাজনে,,,,,,,," মফিজুলও থেমে নেই,সেও গাইছে,,, "ও মাঝি নাও ছাইড়া দে,ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে,গাও মাঝি গাও কোনো গান,একদিন তোর গান মাঝি শুনবে না কেউ নীল নদের তীরে ও মাঝিরেএএএএএএএএএএ" "এই মফি চুপ করবা,এমন জোরে কেউ চিল্লায় নাকি???" "আমার গানকে আপনার চিল্লানি মনে হয় মেহেদী ভাইয়া???" "চিল্লানি নয় তো কী??? এএএএএএ বলে তো চিৎকার করছ" "আমি যদি চিৎকার করে থাকি,তাহলে আপনিও গানের মান ইজ্জত নষ্ট করছেন।" আমিও আর শুয়ে থেকে এমন একটা মজার মূহূর্ত নষ্ট করতে চাইলাম না।আমিও বিছানা থেকে উঠলাম।ওরা তখনও হাসি মজা করে তর্ক করেই যাচ্ছে। মফিজুল: আপনার গান যদি সখিনা শুনত তাহলে নৌকা হতে লাফিয়ে পানিতে পড়ত। মেহেদী ভাই: তোমার মতো এমন সিঙ্গারের গান শুনলে তোমার বাকি তিনটা গার্লফ্রেন্ড,জরিনা,মর্জিনা আর কি একটা যেন একদম আকাশ থেকে লাফিয়ে পড়ত। মফিজুল: বুঝতে হবে না,কে গান গাইছে।আমার মতো সিঙ্গার পাবেন আপনি??? আমার গান শুনে তাই তো আমার গার্লফ্রেন্ডগুলো খুশিতে আকাশ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে পড়বে আবার উঠবে আবার লাফিয়ে উঠবে,,,," মেহেদী ভাইয়া:আমি তা বলি নি আমি তো,,, আমি:চুপ করুন তো,বাকিরা না হলে ঘুমাতে পারবে না। মেহেদী ভাই: দেখলে মফি,তুমি তোমার গানের শব্দে সবার ঘুম নষ্ট করে দিয়েছ। মফিজুল: আমি মোটেও কারও ঘুম নষ্ট করি নি।বরং আপনার ফাটাবাশ গলার কারণে সবার ঘুম ভাঙ্গছে,,, আমি: আরে কারও শব্দে আমার ঘুম ভাঙ্গে নি।আমার ঘুম আসছিল না তাই উঠে আসলাম। মেহেদী ভাই: তোমার তো আজ বিশ্রাম নেওয়ার কথা ছিল। আমি: রাতে জেগে থাকাই মজার।তাই চলুন গান গাই,,, মফিজুল:আমিই শুরু করি। আমি: হ্যা,মফিজুল তুমি শুরু করে দাও। মফিজুল:আমার মতো এতো সুখি নয়তো কারও জীবন,কী আদর স্নেহ ভালোবাসায় জড়ানো মায়ার বাঁধন,,, আমরা তালি দিলাম gjgjgj মেহেদী ভাই: যাও পাখি বল তারে সে যেন ভুলে না মোরে,সুখে থেকো ভালো থেকো মনে রেখো এ আমারে,,, আবার তালি দিলামgjgjgj আমি:আমি গান গাইতে পারি না।চলো চাঁদ দেখি। সবাই চাঁদের দিকে তাকালাম।আজ চাঁদটা একটু বড় হয়েছে,পূর্ণিমা হতে এখনও দেরী আছে।হালকা কুয়াশা আজও পড়ছে,চাঁদের আলোয় পরিবেশটা রহস্যময় লাগছে,বন ফুলের হালকা গন্ধ ভেসে আসছে।পরিবেশটা অনেক সুন্দর হয়ে আছে।অবাক হয়ে দেখার মতো একটা প্রকৃতি এখন।আমরাও সৌন্দর্যপিপাসু দৃষ্টিতে দেখছি সব।আবার "ধপাস" করে শব্দ হলো। মফিজুল: কেই পড়ে গেছে নাকি??? আমি: না মনে হয়,কারণ গত রাতেও এমন শব্দ হয়েছে,কিন্তু কেউ পড়ে নি। মেহেদী ভাইয়া:কাল তো তানহা বলছিল তুবা নাকি পড়ে গিয়েছিল,সাথেসাথেই নাকি আবার বিছানায় উঠে পড়েছিল,আবার সারা বলছিল পুস্প নাকি পড়ে গিয়েছিল। আমি:ওরা মজা করে বলেছে। কেউ পড়লেও এতো জোরে শব্দ হতো না।আর এমন ধপাস ধপাস শব্দ বারবার করে হবে কেন???আর আমি ভালো করেই দেখেছি,কেউ পড়লে নিচের ঘাস তো দেবে যেতো বা ঘাসে চিহ্ন থাকত।কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।চলুন আজও দেখি। তিনজন তিনদিক দিয়ে চেক করলাম।না, কেউ পরে নি,নিচে ঘাস বা মাটিতে কোনো দাগ বা চিহ্নও নাই।আবার সবাই নিজেকে দড়ির বেল্ট দিয়ে বেধে রেখেছে।তারমানে ১০০% নিশ্চিত কেউ পড়ে যায় নি।তাহলে শব্দটা কীসের??? চিন্তার ভাজ পড়ল আমাদের কপালে। আমি: এটা কীসের শব্দ হতে পারে??? মফিজুল: মনে হয় কোনো উপজাতি দল ঢোল বাজায় যা এমন শব্দ করে। আমি: না,এরকম করে শব্দ ঢোল দিয়ে হয় না। মেহেদী ভাই: তাহলে কি কোনো গাছে বাঁদর লাফানোর শব্দ??? আমি: না,এটাও হয় না। ফজরের আজানের কিছুক্ষন আগে আবার দুইবার ধপাস করে শব্দ হলো।সারারাত এটা নিয়েই আলোচনা চলল।কিন্তু ভেবেও কোনো কূল পেলাম না।ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙ্গার পর,,,দেখলাম রান্না করা শেষ।দাঁত ব্রাশ করে হাতমুখ ধুয়ে এলাম।সবাই খেতে বসেছে,আমিও খেয়ে নিলাম।খেয়েদেয়ে আবার প্রস্তুুতি নিতে হবে।তবে তার আগে আবার লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে হবে,জানতে হবে প্রতিটা স্তর।আবার মি.A, আমি, হৃদয় ভাই,তানিম ভাই,ফারহান T.R.smith. এর বইটা বের করলাম।বইটায় আমাদের যাত্রা পথের নির্দেশনা আছে।বইটায় খোলে আমাদের যাত্রাপথটা দেখলাম।মোট আটটা বিষয় আছে আমাদের যাত্রা পথে,আজকে নদী পথে চলার শেষ দিন।লেখা আছে,"Boat until you see the tree road,It will be on the east bank and west bank of the river".মানে ততক্ষণ নৌকা বাও যতোক্ষন না গাছের রাস্তা পাও,এটা নদীর পূর্ব দিকের বাকের কাছে এবং পশ্চিম তীরে হবে। মি.A:গাছের রাস্তা মানে কী??? হৃদয় ভাই: হয়তোবা গাছের সারি দিয়ে বানানো রাস্তা। তানিম ভাই: বা গাছের দ্বারা বানানো সাড়ি সাড়ি রাস্তা। ফারহান: অথবা কোনো গাছের তৈরী সাকো হবে মনে হয়। মি.A: হতে পারে। এবার আমাদের নৌকায় চলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হলো।আমি এবং হৃদয় ভাই দড়ির বিছানাগুলো নৌকায় তোলতে লাগলাম,মফিজুল এবং ফারহান সকলের কাপড়ের বোঝা নিতে লাগল,তানিম ভাই এবং মেহেদী ভাই খাওয়ার বিশুদ্ধ পানি নিতে লাগলেন।সিয়াম,মাহিন,ফাহাদ,শুভ ভাই,রনি ভাই,এরা খাদ্যের বোঝা নিতে লাগল। সারা,রুবি আপু, আনিকা, শিখা, পুষ্প, রামিশা,নাইরা, তুবা সুস্মিতা, ইভা, তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু,ঝুমুর আপু,জান্নাত আপু,ইশা আপু এবং অন্যান্য মেয়েরা, তারা হাড়িপাতিল, এবং মেয়েদের জিনিস পত্র নিতে লাগল।মেহরাজ ভাই, সাঈম ভাই, আনিস ভাই এরা সবাই নৌকার সব ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করতে লাগলেন।মি.A সকলের সব জিনিস নেওয়া হলো কিনা পরীক্ষা করতে লাগলেন।সবার সব কাজ শেষ।এবার পালা নৌকা চালানোর। নৌকায় ছেলে মেয়েরা সবাই উঠলাম।আমাদের নৌকায় আমি,হৃদয় ভাই,মফিজুল,সামির, ফারহান, মেহেদী ভাই,রুবি আপু,সারা,সুস্মিতা, আনিকা উঠল। অন্য নৌকাগুলোয় অন্যরা উঠল।বিসমিল্লাহ বলে চলা শুরু করলাম।আমি আর হৃদয় ভাই প্রথম চালানো শুরু করলাম।পুষ্প গান গাইতে লাগল,,,"আমায় ডুবাইলি রে,আমায় ভাসাইলি রে,অকূল ও দড়িয়ায় কোনো কূল নাই রে,,,,,,"। এভাবেই একের পর একেক জন গান গাইতে লাগল।আমি আর হৃদয় ভাই টানা দুই ঘন্টা নৌকা বাওয়ার পর কাহিল হয়ে গেলাম।মফিজুল এবং সামির নৌকা বাইল,তারাও কাহিল,তারপর ফারহান এবং মেহেদী ভাইয়া বাইতে লাগল।আজ নৌকা চালানোর সময় সতর্ক হয়ে চালালাম,কারণ আর অ্যানাকোন্ডার কবলে পড়তে চাই না।কিন্তু আমাদের সামনে পরল অ্যানাকোন্ডার চেয়ে ভয়ঙ্কর জীব।তা হলো পিরানহা।তখন যোহরের নামাজ পড়া শেষ,তারপর মানে দুপুর বেলায় দেখলাম একদল ছোট ছোট মাছের ঝাক আসছে পানি দিয়ে।সারা আর সুস্মিতা তো খুব খুশি,মাছ ধরে ফেলবে।ছেলেরা সবাই মনে হয় আন্দাজ করতে পারছিল এই মাছগুলো কী।তাই তারা কোনো এমন ইচ্ছা করল না।ফারহান বলল,"এই মাছগুলোকে ধরল একেবারে কঙ্কাল হয়ে যেতে হবে তোমার,সারা এবং সুস্মিতা। এগুলো পিরানহা।পুষ্প তো মজাই শুরু করল,"সারা আর সুস্মিতাকে পিরানহা নিজেরাই ভাজি করে খাবে।"রুবি আপু জানতে চাইল পিরানহা তো এতো ছোট প্রাণী তাহলে কী করে এতো ভয়ঙ্কর।মি.A তখন বললেন,"পিরানহা এতো ছোট দেখতে হলে কী হবে এদের মারাত্মক ধারালো দাঁত আছে,আর একটা দল কিছু সময়ের মাঝেই শরীরের সব গোশত খেয়ে নিবে।অ্যামাজনে প্রায়ই মানুষ এবং গরু বা ঘোড়া বা অন্যান্য প্রাণী কয়েক মূহুর্তেই কঙ্কাল হয়ে যায়।এরা মারাত্মক হিংস্র।" সারা: আমি ভুলেই আর এসব ধরার কথা ভাবব না বাবা। সুস্মিতা: আমিও জীবনে এসব ধরার নাম মুখে আনব না। রুবি আপু: কী হলো সব মনোবল কী শেষ নাকি??? মফিজুল: সুস্মিতা আর কখনও মুখে আনবে না জানি,যা ভয় পেয়েছে চেয়ে দেখ। সুস্মিতা: বান্দর তুই থাম। -------------------------- সারাটি দিন নৌকা চালালাম।শেষ দিকে এখন যে জায়গায় আছি,মনে হচ্চে আর বেশি দূরে নই গন্তব্য হতে।কারণ এখানে খাড়াখাড়া সোজা লম্বা গাছের জঙ্গল শুরু হয়েছে।প্রতিটা গাছই অনেক লম্বা।আর খুব ঘন বন এখানে।আরও আধঘন্টা নৌকা চালানোর পর নদী পূর্ব দিকে বাক নিল, আমরা পশ্চিম দিকে দেখতে লাগলাম।একটুর জন্য পাথরে বাড়ি খেতে যাচ্ছিল রনি ভাই আর ফারহানদের নৌকা।আমরা পশ্চিম দিকে খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম গাছের রাস্তা।অপরূপ দেখতে।বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এমন জিনিস বাস্তবেও আছে।আমরা নৌকা থামালাম। সবাই অবাক হয়ে গেছে,আমিও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। অবাক হওয়া ভাবটা কাটিয় নিই।তারপর না হয় পরের পর্ব দিব। [কেমন লাগল??? কমেন্টে জানাবেন।ভুলগুলো দেখিয়ে দিলে খুশি হবো।] বি.দ্র.: প্রচুর সময় এবং মেধা খাটিয়ে এবং শ্রম নিয়ে গল্পগুলো লিখি।তাই দয়া করে কপি করবেন না। চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৫]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now