বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2
ছেলেরা আগে গোসল করে আসলাম।তারপর মেয়েরা গোসল করতে গেল।ছেলেরা ততক্ষণ খাবার তৈরীর ব্যাবস্থা এবং বিছানা ও তাবু চেক করতে লাগল।আমাদের কানে শোরগোলের শব্দ আসল এবং চিৎকার।তবে কি মেয়েদের কিছু হলো নাকি।আমরা সবাই দ্রুত সেখানে গেলাম,গিয়ে দেখি রামিশা আর সারা পানিতে পরে গেছে,রুবি আপু,আকিতা, শিখা তাদের পাড়ে তোলতে চেষ্টা করছে।তারা তোলতে সফল হলো।দুজনেই প্রচুর পানি খেয়ে ফেলেছে।তাদের পেট চেপে পানি বের করা হলো।ঘটনাটা হলো:
রামিশা আর সারা এক সাথে পাড়ে বসে মগ দিয়ে গোসল করছিল,কিন্তু সারার পা পিছলে যায়,সে তখন রামিশাকে ধরে,কিন্তু রামিশাও তাল সামলাতে না পেরে পরে যায়।দুজনের কেউই সাঁতার জানে না।তাই যা হওয়ার তাই হলো,পানিতে ডুবে গেল।অন্যরা কাছে না থাকলে কী যে হতো আল্লাহই জানে।আধঘন্টার মাঝেই তারা ঠিক হলো।
রাতের রান্নার কাজ শেষ।বসে বসে সকলে আড্ডা দিচ্ছি।আড্ডার বিষয় এখনও নির্ণয় হয় নি।একেকবার একেক প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ চলছে আমাদের।প্রসঙ্গ ছাড়া কথা বলা পাগলামির লক্ষণ।তাই সকলের পরামর্শ শুরু করা যাক।
আমি: কথা বলার জন্য এবং সময়টা সুন্দর কাটানোর জন্য কী করা উচিৎ আমাদের???
রুবি আপু: চল কোনো খেলা খেলি।
তানিম ভাই: কী খেলব???
মেহেদী ভাই: চলো লুডু খেলি।
সারা: এই সামান্য চাঁদের আলোয় খেলায় দুই নম্বরী চলবে,এটা হবে না।
শিখা: তাহলে চলো কানা মাছি খেলি।
মফিজুল: না,কানা মাছি খেলে শেষ পর্যন্ত না আবার কোনো কিছুতে খোঁচা খেয়ে কানাই হয়ে যাই।
সুস্মিতা: বান্দরের মতো লাফালে তো কানা হবিই,,,
মফি: ভালো হচ্চে না কিন্তু,,,
ওরা এবার ঝগরা করবে, ওদের ঝগরা বাদ দিলাম।
রনি ভাই: চল সত্য বলার খেলা খেলি,,,
ফারহান: একবার সত্য বলার খেলা খেলে কি আর শিক্ষা হয় নি???
সিয়াম: তাহলে কী খেলব আমরা???
হৃদয় : চল আমরা ছন্দের খেলা খেলি,কবিতার শেষ অক্ষর দিয়ে নিজে নিজে একটা কবিতা বলতে হবে।
মাহিন: চল, শুরু করা যাক।
আনিকা: কয় ছন্দের কবিতা বলতে হবে???
তুবা: চলো সর্বোচ্চ চার লাইনের কবিতা হবে।
সামির: আচ্ছা,গেম শুরু করি।
টস করলাম,দেখলাম ছেলেদের দল আগে,তাই ছেলেরা শুরু করবে,হৃদয় ভাই প্রথমে শুরু করল।তার কবিতা:
আকাশের নীলের নীলিমায়,
যেমন অসীম নীল,
ঠিক তেমনি মনের ভাবনায়,
প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা সীমাহীন।।
শেষ অক্ষর "ন"।এটা দিয়ে কবিতা বলতে হবে,এবার পালা মেয়েদের।মেয়েদের মাঝে রুবি আপু বলল:
নতুন দিনের শুরু আজ,
আছে বহু কাজ,
অতীতকে পিছনে ফেলে,
যেতে হয় জীবনে এগিয়ে।
হৃদয়: আপু,য় দিয়ে কোনো কবিতা শুরু হয় না।
রুবি আপু:তাহলে শেষ উচ্চারণ এ দিয়ে শুরু কর তোমরা।
আমাদের মাঝে মেহেদী ভাইয়া বলল:
এখান থেকেই পথের শুরু,
জানি না কোথায় শেষ,
মনের মাঝেই জীবনের তরু,
সেই তরু ধীরে নেয় বড় হওয়ার বেশ।
এবার "শ" দিয়ে শুরু করল আনিকা:
শপথ নিলাম ভালো থাকার,
ভালো থাকার নেই আকার,
কেউ কেউ ধন দৌলত পেয়েই ভালো,
কিন্তু আমার আপনজনই আমার ভালো থাকার আলো।
তানিম ভাই: ল দিয়ে শুরু করব নাকি ও দিয়ে।
সারা: এটা আপনার সুযোগ,কাজে লাগান।
তানিম ভাই: শুন তাহলে আমার কবিতা:
লোক সকল শুনেন দিয়া মন,
পুষ্পিতার মাথায় গোবর ভরা,
তাই তো বুদ্ধি করে টন টন,
জানিতে কি পারি বুদ্ধি পেতে মাথায় গোবর দিয়েছ কয় মন???
পুষ্প এবং সারা দুজনে মিলে একটা কবিতা বলল:
নাই কোনো গোবর মাথায়,
বলব কী করে কতখানি,
আপনার মাথায় ছাগলের বুদ্ধি,
তাই তো মগজ এসব বাতলায়।
তাহিরা আপু: বাহ,তোমরা তো অনেক রকম ছন্দে কবিতা বলতে পার।
মাহিন: খালি আমিই পারি না।
সিয়াম আবার কবিতা বলা শুরু করল:
সকলের মাঝেই থাকে প্রতিভা,
কারও কারও মাঝে দেয় তার আভা,
কেউ বা রাখে লুকিয়ে সেটা,
আবার কেউ চেষ্টা করলে পারবে তবুও বলে পারেনা।
শিখা: সিয়াম তোমরা হেরেছ।"য়" দিয়ে কবিতা বলতে হতো তোমার,কিন্তু স দিয়ে বললে।হেরে ভূত
মফিজুল: "য়" দিয়ে হয় না কবিতা,
যায় না লেখা প্রথন শব্দ,
"স" দিয়ে তাই তো হলো লেখা,
ভুল করেছ তোমরা তাই তোমরা জব্দ।
সুস্মিতা: খবরদার মফিন্নি,জব্দ বললে তোকে জর্দার কৌটা বানিয়ে ফেলব।
মফিজুল: দেখ ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
রেহনুমা আপু: আরে থাম,এবার বল কারা জিতল???
তাহিরা আপু:কেউ জিতে নি,বা হারেও নি।কারণ সবাই সমান তালে কবিতা বলেছে।শেষ অক্ষর য় বলেছে,যা দিয়ে কবিতা বলা যায় না।কিন্তু ভুল কেউ করে নি।তাই খেলায় কেউ হারে নি।
মেহরাজ ভাই: হ্যা,সমান সমান হয়েছে।কিন্তু য় শেষে বলায় সারা এবং পুষ্পের শাস্তি পেতে হবে।
পুষ্প: কী শাস্তি???
তাহিরা আপু: শাস্তিটা হলো তোমরা আজ আর কোনো ঝগরা না করে শান্তুি বজায় রাখবে।মফি আর সুস্মিতার ঝগরা থামাবে।রাজি???
মেহরাজ ভাই: আরে শাস্তি অন্যটা।
তাহিরা আপু: আমি বললাম না,এটাই শাস্তি হবে পিচ্ছি।
সারা:You are so sweet
কবিতা বলার পালা শেষ।রাতের খাওয়ার সময় চলে আসল,সবাই খাবার খেলাম তৃপ্তি মতো।এবার সবাই ৪০ কদম হাটলাম,আবার কিছুক্ষণ আড্ডা চলল।আজ তো মফিজুল আর মেহেদী ভাই রাতে পাহাড়া দিবে,সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।
মফিজুল: জরিনা,রুবিনার কথা আর গান গেয়েই রাত কাটিয়ে দিব।
মেহেদী ভাই: আমি সকিনারে নিয়ে গান গাব।
এটা নিয়েও মজা হলো অনেক।এবার পালা ঘুমানোর।মফিজুল আর মেহেদী ভাই পাহাড়ায় রইল।আমি আমার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।ক্লান্তিতে চোখ জড়িয়ে আসছে।ঘুমিয়ে পরব এবার।
এবার ঘুমাব,পরে না হয় পরের ঘটনা বলি,শুভ রাত্রি।
[কেমন লাগল এই পর্বটি??? ভুলগুলো ক্ষমা করবেন।আর আমার এই লেখাটা হয়তো পছন্দ না হতেও পারে,তবে পরের পর্ব হতে সত্যিকারের অ্যাডভেঞ্চার শুরু হবে।]
বি.দ্র.::: অনেকটা সময় ব্যায় করে এবং মাথা খাটিয়ে লিখি,লেখাগুলো এখনও ভালো করতে পারি নি।দয়া করে কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now