বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১১]

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 রনি ভাইয়া আজান দিল,তারপর একজন ইমামতি করল।সবাই জামা'আতে নামাজ আদায়য় করলাম।মেয়েরা আরেকজায়গায় নামাজ পড়ে নিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আরও কিছুক্ষণ পথ চলব।কিন্তু আমাদের কারও আর সেই শক্তি নেই।হাতদুটো প্রায় ফুলে গেছে,কারণ আজ অনেকক্ষণ নৌকায় বৈঠা বাইতে হয়েছে।অনেকেরই আমার মতো হাতে আর জোর নেই।তাই আর নৌকা চালাব না বলে ঠিক করলাম।তাছাড়া নদীতে অ্যানাকোন্ডার যা ভয়ঙ্কর অবস্থায় পড়েছিলাম,তা ভেবে আর কেউ এই সময়ে আর চলতে চাইলাম না।আরেকটা কারণ হলো সন্ধ্যা কিছুক্ষণ পরেই হয়ে যাবে।পাহাড়ি এলাকা আর জঙ্গলে খুব দ্রুতই সন্ধ্যা হয়ে যায়।তাছাড়া রান্না করতে হবে,থাকার মতো জায়গা দেখতে হবে।অনেক কাজ আছে।তাই আর চলব না অন্য কোথাও।একবার জায়গটার উপর নজর বুলালাম।।জায়গাটাও মন্দ নয়।যদি আমরা অভিযানে না এসে পিকনিক করতে আসতাম,তাহলে এই জায়গাটা হলো সর্বোত্তম জায়গা পিকনিক করার জন্য। চারপাশে দেখছি।সূর্য পশ্চিম দিকে খানিকটা হেলে গেছে।T.R.smith এর কথা মতো এই জায়গাটা হতে রহস্যময় অঞ্চল শুরু হয়েছে।চারপাশে সমতল জায়গা আছে,তাছাড়া এখানের তাছগুলোর বিন্যাসও বিছানা টাঙ্গানোর জন্য ভালো।কিছু বুনো ফুল ফোটে আছে,রং হালকা নীল।নাম না জানা অনেক গাছ আছে।ঘাসে ভরা মাটি।একটা ফাকা জায়গাও আছে।আর কী চাই???এটাই তো সবচেয়ে সুন্দর এবং উপযোগী জায়গা। আমরা সবাই নৌকা হতে জিনিস নামাতে লাগলাম।কেউ নৌকা হতে দড়ির বিছানাগুলো নামাচ্ছে,কেউ রান্নার উপকরণ নামাচ্ছে,কেউ হাড়িপাতিল নামাচ্ছে,আবার কেউ অস্ত্র নামাচ্ছে।কেউ কেউ আবার বিশ্রামও নিচ্ছে।এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সব কিছু নামানো হয়ে গেল। এবার আমাদের দরকারী দুইটা কাজ হলো রান্না করা আর দড়ির বিছানা বাধার মতো গাছ খুঁজা।দুটো কাজই দিন থাকতে থাকতেই করতে হবে।কারণ সন্ধ্যা নামার পর আর এসব কাজ করতে অনেক অসুবিধা হবে।মেয়েরা এবং তানিম ভাই,মেহেদী ভাইয়া,রনি ভাই এবং সিয়াম ভাই সহ আরও কয়েকজন মেয়েদের রান্নায় সহায়তা করার জন্য থেকে গেল।আমি, ফারহান, হৃদয় ভাইয়া,মি.A, সাঈম ভাই এরা সবাই জায়গা খুঁজতে লাগলাম। আমরা থাকার মতো জায়গা খুঁজছি।দেখতে কিন্তু মনে হয়েছিল সবার বিছানার জন্য জায়গা হয়ে যাবে।কিন্তু দেখা গেল অতো জায়গা নেই।আর যদি থাকার মতো ওই ব্যাবস্থা করি তাহলে অনেক দূরে দূরে হয়ে যাবে।তাই ঠিক করা হলো যতোগুলো বিছানা টানানো যাবে ততোগুলো টানাবো,বাকি যারা থাকবে তাদের জন্য তাবু খাটানো হবে।আমরা বিছানা টানাতে লেগে গেলাম।গাছগুলের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দেখে নিচ্ছি,কারণ গাছে সাপ থাকতে পারে।এবার নতুন প্রকৃয়ায় বিছানা টানানো হলো।এক গাছের সাথে আশেপাশের গাছে মিলিয়ে অনেকগুলো বিছানা টানানো হলো। রান্নার জায়গায় আসলাম।দেখলাম মফিজুল আর ফাহাদ ভাই,সৃজন, সুস্মিতা এরা সবাই মাছ ধরছে।অনেকগুলো মাছ দিয়ে গেছে রান্নার জন্য।আমাদের পরিচিত গোশতের তরকারির গন্ধ আসছে,কিন্তু আরও নতুন কিছু খাবারের গন্ধ পাচ্ছি।দেখলাম সারা,রুবি আপু,তাহিরা আপু,জান্নাত আপু, আনিকা,তুবা আপু,ইভা আপু,শিখা এদের রান্না ছাড়াও আজ আকিতা ভাবী রান্না করছে,রনি ভাই তাকে সাহায্য করছে।আমি মৃদু হাসলাম।তানিম ভাই খাবার চেখে দেখতে ব্যাস্ত,প্রতিটা পদ মুখে দিচ্চেন,টেস্ট করে বলছিলেন লবণ,মরিচ,হলুদ এসব ঠিক আছে কিনা।আকিতা ভাবীর রান্নার দিকে গেলাম।দেখলাম তিন রকমের পদ রান্না করেছেন,নাম জিজ্ঞেস করলাম বলল,এই যে শিম আর চাল দিয়ে রান্না করা খাবারটা দেখছ এটার নাম বাঁইয়াও ডে ডইস,আর মাছ, চাল আর কয়েকরকম উপাদানে রান্নাটার নাম হলো বুঁবুঁছ ডে ক্যামেরিও।আরেকটা রান্না আছে নাম ক্যালডেরিয়া।নাম শুনেই আমার মাথা ঘুরছে।তবে ঘ্রাণ কিন্তু মন্দ নয়।এদিকে গন্ধ শুকতে শুকতে তানিম ভাই হাজির।তিনি চাইছেন সবার আগে তিনি চেক করে দেখবেন খাবারগুলো, রনি ভাই চাচ্চেন আকিতা ভাবীর রান্না তিনি প্রথম খাবেন।তারা কাড়াকাড়ি শুরু করে দিল।এসব দেখে রেহনুম আপু বলল,তোমরা দুজনে একসাথে চেখে দেখ,না হলে আমিই চেখে দেখি।তিনজনই টেস্ট করলেন,তাদের কাছে অনেক ভালো হয়েছে,তবে ঝালটা একটু বেশি। রান্নার পর্ব শেষ হলো,সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে।কিছু লাকড়ী সংগ্রহ করতে পাঠিয়েছিলাম মেহেদী ভাই,হৃদয় ভাই,রামিশা আপু আর সামির ভাইকে।তারা দেরী করছে আসতে,ওদের কিছু হলো কিনা বুঝছি না।তবে কিছুক্ষণ পরেই তারা হাজির হলো।হৃদয় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, "দেরী হলো কেন???" "আসলে সাপ মারতে গিয়ে দেরী হয়ে গেল,আর কাঠের ওজনও তো আছে।" "কী সাপ মারলেন???" "আমি মারি নি,মেহেদী ভাই মেরেছে।একটা কালো রংয়ের তিন ফুটমতো লম্বা সাপ,লাকড়ী যে জায়গায় জরো করেছিলাম,সেখানে এসে হাজির হয়েছিল ওইটা,তখন রামিশার যে কী চিৎকার,তখন মেহেদী ভাই সাপটাকে মারে।তবে আগে বলে নিয়েছে,জ্বীন হলে চলে যা,সাপটা যায় নি,মানে এটা সাপই অন্যকিছু না।সাপটা বাড়ি খেয়েও মাথা উপরে তোলে ফেলছিল বারবার,অনেকবার মারার পর মরেছে ওইটা।" বুঝলাম এ জঙ্গলের সাপ ভয়ঙ্কর,ছোট পোকাগুলোও ভয়ঙ্কর।লাকড়ীগুলো নিয়ে আগুণ জ্বালালো মেহরাজ ভাইয়া।আমরা চারদিকে ছড়িয়ে বা গোল হয়ে বসে আছি।সবার মনটাই প্রফুল্ল হয়ে আছে,এতো ক্লান্তি আর নেই তাদের মাঝে।আসলে আপনজনদের কাছে থাকলে ক্লান্তিও আর ক্লান্তি মনে হয় না।যখন বাইরে আমার পড়ার জায়গা হতে ছুটির সময় এতো জার্নি করে বাড়ি যাই,বাবা মায়ের সামনে গেলেই সব ক্লান্তি পালিয়ে যায়।এরা বাবা মায়ের মতে না হলেও আমরা কিন্তু খুবই ঘনিস্ঠ বন্ধু,সবাই সবার আপন।তাই আমাদের ক্লান্তিও চলে যায়।সবাই আড্ডা দিচ্ছি।মি.A আর সাঈম ভাই যথারীতী দূরে বসে আছে,আর বই হাতে তারা বসে আছে।কোলাহল তাদের পছন্দ নয়,তাই দূরে বসেছে।সুস্মিতা আর মফিজুলের মধ্যে তো একবার না একবার ঝগরা বা তর্ক হবেই।আজকেও তারা ঝগড়া লাগছে,বিষয় চশমা নিয়ে। মফিজুল ভাই:ফকিন্নি আমি বলছি না,চশমা স্প্রিং দিয়ে আটকালে সুবিধা বেশি,সুপার গ্লু দিলে অতো আটকায় না। সুস্মিতা আপু:মফিন্নি বান্দর,চশমার মাঝখানে যদি ভাঙ্গে,তাহলে তো স্প্রিং কাজে আসবে না,তখন তো সুপার গ্লু লাগবে।তাই সুপার গ্লু বেশি কাজের। এসব নিয়ে কিছুক্ষন তর্ক করবে,যেকোনো একজন মন খারাপ করে ফেলবে,আরেকজন রাগ ভাঙ্গাবে,অথবা সারা গিয়ে তাদের ঝগড়া থামাবে।নিয়মিত এসবই হয়।খুব ভালে বন্ধু এরা। অন্যদিকে সারা আর পুস্পিতা,ইভা,রামিশা তুবা আড্ডা দিচ্ছে।রনি ভাই আর আকিতা ভাবী কথা বলছে।আমি, হৃদয় ভাই,ফারহান ভাই,মেহেদী ভাই,সিয়াম ভাই,তানিম ভাই সবাই আড্ডা দিচ্ছি।আনিস ভাই অপরাজিতা ভাবীর সাথে ব্যাস্ত।বড় মেয়েরা যেমন তাহিরা আপু,রুবি আপু,রেহনুমা আপু, জান্নাত আপু,ঝুমুর আপু এরা সবাই একদিকে আড্ডা দিচ্ছে। খাওয়ার সময় হলো সবাই খেতে গেলাম।আজকের রান্না খুবই চমৎকার হয়েছে।নতুন কয়েক প্রকার রান্নাগুলোও চমৎকার হয়েছে।সবাই প্রশংসা করছে,শুধু হৃদয় ভাই বাদে।কারণ তিনি ঝাল খেতে পারেন না।তাই তাকে অনেক খাবারই পরিহার করে চলতে হয়। খাওয়ার কাজ শেষ।এবার সবাই গল্প করতে লাগলাম।মি.A অভিযানের একটা গল্প বলল,সাঈম ভাই এডগার এলান পো এর একটা ছোট গল্পের সারসংক্ষেপ বলল।পরেই প্রসঙ্গ আসল ভূতের।একেকজন একেক রকমের গল্প বলতে লাগল।আগুণের শিখার নাচার মাধ্যমে যে আলোছায়া একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে,তার মধ্যদিয়েও আরও ভৌতিক আবহ বাড়ল।তানহা আপু একটা ভৌতিক গল্প বলেছিল যা খানিকটা হাস্যকর হলেও অনেক ভয়ের।রুবি আপু যে ভৌতিক গল্পটা বলল তা গায়ে কাঁটা ধরিয়ে দেওয়ার মতো।তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গল্পটা বলেছিল রনি ভাই।এই গল্পটা শুনার পর আর কোনো ভৌতিক গল্প শুনার ইচ্ছা হলো না ভয়ে।ছেলেরা কেউ ভয় না পেলেও মেয়েরা অনেক ভয় পেয়েছে।ছেলেরা ভয় না পেলেও শিহরীত যে হয় নি তেমন নয়।অনেকরকম গল্পের পর সবাই হাসি খুশি মনে ঘুমাতে গেল। আজও আমার দায়িত্ব পড়ল পাহাড়া দেওয়ার,রাত জাগতে ভালোই লাগছে।আমার সঙ্গে ফারহানও পাহাড়া দিতে চাইল,কিন্তু রাজি হলাম না।একা একা রাত জাগার মাঝে একটা আলাদা মজা আছে।রাতের প্রকৃতি উপভোগ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একা থাকা। সুপ্রিয় পাঠক,আমি এখন পাহাড়া দিব আর রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করব,আপনারা ঘুমান।পরের পর্ব শীঘ্রই আসছে। [নিজেকে আমি চরিত্রে কল্পনা করেছেন??? কেমন লাগল জানাবেন।কোনো ভুল নজরে এলে দয়া করে জানাবেন।] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১১]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now