বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ১০)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 pমাঝরাতে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ শুনে আমার ঘুম ভাঙ্গল।কী পড়ল কিছু বুঝছি না।রাতের বেলা হঠাৎ করে ঘুম ভাঙ্গলে অনেক প্রশ্ন মনে জাগে আর অনেক কিছু মনে পরে না।আমি কোথায়??? কী শব্দ হলো??? আর চোখ খুলতে দেরী হয়।এসব,তবে এক মিনিটও লাগে নি আমার দ্বিধা কাটতে।মনে পড়ল জিজে'সদের সাথে অ্যামাজনে এসেছি।দড়ির বিছানায় শুয়ে আছি।কিন্তু কী পরে গেল।দেখতে বিছানা থেকে সাবধানে নামলাম।একটা মশাল হাতে নিয়ে দেখতে যাচ্ছি কী হয়েছে।ইতোমধ্যে রনি ভাই আর হৃদয় ভাই জেগে গেছে,অন্যরা ঘুমাচ্ছে। রনি ভাই:কিছু পরার শব্দ হলো,তুমি শুনেছ??? আমি:হ্যা,ওই শব্দেই তো ঘুম ভাঙ্গল। হৃদয় ভাই:মনে হলো ১৫/ ২০ ফুট দূরে শব্দটা হয়েছে।চলো দেখি। মশালটা আমার হাতে।সাবধানে যাচ্ছি।কারণ মশাল হতে কারও দড়ির বিছানায় আগুণ লাগলে সর্বনাশ হবে।আমরা মেহেদী ভাইকে পাহাড়ায় রেখে গিয়েছিলাম,কিন্তু দেখলাম ওনিও ঘুমিয়ে পরেছেন একটা গাছে হেলান দিয়ে।আমরা শব্দ হওয়ার জায়গাটায় গেলাম।দেখলাম মফিজুল ভাই বিছানা থেকে পরে গেছে।বিছানা থেকে পরে গিয়েও তার ঘুম ভাঙ্গে নি,দিব্বি ঘুমিয়ে আছে।ওর ভাগ্য ভালো,অ্যামাজনের বুলেট পিপড়া ওকে এখনও পায় নি।আমরা অনেকবার ডাকার পর ওর ঘুম ভাঙ্গল।ওকে আবার বিছানায় তোলে দিলাম।তবে এবার ওকে বিছানার সাথে বেঁধে রেখেছি। মেহেদী ভাই গাছে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।তাই ওনাকে ডেকে তোলে দিলাম।বললাম,,, "যান,আপনি এবার ঘুমান,আমি পাহাড়া দিচ্ছি।" "আচ্চা,তুমি তাহলে পাহাড়া দাও।আমি একটু ঘুমিয়ে নিই।সাবধানে থেকো।" "আচ্ছা" মেহেদী ভাইও ঘুমিয়ে গেল।সবাই ঘুমিয়ে পরেছে,রাতের নিস্তব্ধ প্রকৃতির সাথে আমি একা জেগে আছি।আজ আকাশে চাঁদ উঠেছে,আজ পূর্ণিমা নয়,তবুও অনেক সুন্দর আলো দিচ্ছে।চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় এই নির্জন বনে মনে হচ্ছে কোনো আলাদা পৃথিবীতে চলে এসেছি।হালাক কুয়াশার মতো একটা ধোয়াটে ভাব আছে,ঝিঁঝিঁ পোকার মতো এক রকমের পোকা শব্দ করছে।নাহ,অ্যামাজনে রাত জাগার মধ্যেও আলাদা একটা মজা আছে যা শহুরে ব্যাস্ত জীবনে বা জনবসতিতে ভর্তি জায়গায় কখনও বোঝা সম্ভব নয়।আমি চারপাশে দেখছি,আর হাঁটছি।মেহেদী ভাইয়ার মতো যেন ঘুমিয়ে না পড়ি তার জন্য মনে মনে কবিতা বানাতে লাগালাম।তারই একটা হলো, দিনের বেলায় নীল আকাশ, রাতের বেলা তা কালো, দিনের বেলা ফুরফুরে বাতাস, রাতের বেলায় চাঁদের আলো, দিনের বেলায় রোদের তাপ, সূয্যি মামা দাড়ায় চেপে মাথার উপর, রাতের বেলা চাঁদের প্রতাপ, নিশাচররা করে চাঁদের উপর নির্ভর, চাঁদনি রাতের মিষ্টি আলোয়, হারিয়ে যেতে মন চায় অজানায়, চাঁদনি রাতে পাশের নদীর পানি যখন টলমলায়, সকল সৌন্দর্য তখন চারপাশ ভরায়, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, এরকম করে বিরবির করে কবিতা বলছি,আর চারপাশে মশাল নিয়ে চলছি,কারণ বন্য জন্তুরা আলো দেখলে চলে যায়।তবে কিছু সাপ আছে এরা আলো দেখলে আরও কাছে চলে আসে।এসব ভাবছি।প্রায় আধ ঘন্টা পরে আবার শব্দ শুনলাম।বুঝলাম কেউ পরেছে,দেখলাম ছেলেদের মাঝে ফারহান আর মেয়েদের দিকে সারা পরে গেছে।ফারহানকে ডেকে তোললাম,বিছানায় ওকেও বেঁধে রেখে শুয়ালাম।সারার কাছে গিয়ে দেখলাম রুবি আপু আর শিখা আপু ওকে ডাকছে।ঘুম ওর ভাঙ্গেই না।আমি বোতলে করে পানি নিয়ে এলাম,রুবি আপু ওর মুখে পানির ছিটা দিল,এবার ঘুম ভাঙ্গল ওর।ওকেও বিছনায় বেধে দেওয়া হলো। রাতটা এভাবেই কাটিয়ে দিলাম।ফজরের সময় সবাই ঘুম হতে উঠল।আমিও ওদের সাথে জামাতে নামাজ পড়লাম।কম্পাসের সাহায্যে দিক ঠিক করেছি, মেয়েরা অন্য জায়গায় নামাজ পড়ল।এবার আমি ঘুমাব।কারণ রাতে মাত্র এক ঘন্টাও ঘুমাই নি।আমি আমার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। প্রায় চার ঘন্টা ঘুমিয়ে নিয়েছি।দেখলাম সবার ব্যায়াম করা শেষ।মেয়েরাও রান্নার কাজ করে ফেলেছে। এখন সবাই বসে বিভিন্ন কাজ করছে।আমিও উঠলাম,ব্যায়াম করতে হবে।হালকা কয়েক প্রকারের ব্যায়াম করলাম।অনেক মেয়েরাই ইয়োগা করে,যেমন রুবি আপু,আনিকা আপু,তাহিরা আপু,তুবা আপু,রেহনুমা আপু, সুষ্মিতা আপু,সাবিরা আপু,ইভা,রামিশা এরা সবাই ইয়োগা করে।ছেলেদের মাঝে আমি,হৃদয় ভাই,শুভ ভাই,রনি ভাই,শুভ মানে ইমন ভাই,মফিজুল ভাইয়া,ফারহান ভাইয়া, তানিম ভাই,মেহেদী ভাই এরা সবাই ব্যায়াম করি।আমি মুখ ধুয়ে আসতে গেলাম।মুখ ধুয়ে এসে দেখলাম সবাই জটলা পাকিয়ে বসে আছে।আমি কাছে গেলাম,দেখলাম হৃদয় ভাই আর ইমন ভাই যাকে আমরা আরফান শুভ নামে চিনি তাদের মাঝে প্রতিযোগীতা হচ্চে।প্রতিযোগীতাটা হলো পুশ আপের।দেখলাম হৃদয় ভাই একটানা ৭০ টা পুশ আপ দিয়েছে,আর শুভ ভাই ৪৫ টা পুশ আপ করেই শেষ। এবার খাওয়ার সময় হয়েছে।তাই সকলে একসাথে খেতে বসলাম।জিজের মেয়েরা ভালোই রান্না করতে পারে।টিনে সংরক্ষিত গোশত ভালো করে রান্না করেছে,সাথে অনেক রুটি বানিয়েছে।আমি খুবই তৃপ্তির সাথে খেলাম। রনি ভাইকে বললাম,আকিতা ভাবী তো এসব মশলা দেওয়া খাবার খেয়ে অভ্যস্ত না,ওনাকে জিজ্ঞেস করুন তো কেমন লাগল খাবার।রনি ভাই জিজ্ঞেস করলেন,আকিতা ভাবীও ভাঙ্গা ইংরেজিতে বোঝাল মশলা ব্যাবহার করে রান্না করা খাবার খুবই ভালো লেগেছে তার কাছে। মফিজুল ভাই তো অনেক মিশুক ছেলে,সে উপজাতি ওইসব কয়েকটা লোকের সাথে ভালো করে মিশে গেছে।এবার আবার ম্যাপটা দেখতে বসলাম,T.R.smith এর ম্যাপে দেখলাম আমরা ঠিক পথেই এগুচ্ছি।আর দেরী করা ঠিক হবে না,তাই আবার রওনা হয়ে গেলাম। এবারও আমি আর হৃদয় ভাই একবার,আরেকবার মফিজুল ভাই আর সিয়াম ভাই,অন্যবার উপজাতির দুইজন নৌকা বাইতে লাগল।অন্য ৯ টা নৌকায় বাকি সবাই এভাবে পালা করে নৌকা বাইতে লাগল।মফিজুল আর সামির ভাই একবার নৌকা বাওয়ার সময় বৈঠা প্রায় ফেলেই দিচ্ছিল। কারণ ওরা কাহিল হয়ে গেছে।ওরা হাপাতে হাপাতে বলল,আজ আর পারব না।নদীতে চলার পথে আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখছে নৌকায় বসে থাকা জিজেরা। আমি তখন বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম,অন্যরা নৌকা চালাচ্ছে।সামনে দেখলাম একটা গাছ ঝুকে পড়েছে,একটা ডালও ঝুলে আছে।আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেছি,কারণটা হলো ওইরকম গাছে অ্যানাকোন্ডা বসে থাকে,রোদ পোহায়, অথবা নিচে পানিতে গাছের মতো পরে থাকে।এখন যদি যাই তাহলে তো মরতেও হতে পারে।আমরা সবাই আল্লাহর নাম নিয়ে যাচ্ছি।সবার সামনে ছিলাম আমরা।আমরা আল্লাহর নাম নিতে নিতে নৌকা বাইছি।আর সিয়াম, রুবি আপু,মফিজুল এরা বন্দুক হাতে প্রস্তুত হয়ে আছে,সাপ যদি নৌকায় নেমে পরে তাহলে অন্তত গুলি করে ওটাকে মেরে ফেলবে,যদিও এভাবে বাঁচবার আশা অনেক কম।আমরা গাছের নিচে চলে এলাম।গাছে দেখলাম অ্যানাকোন্ডা আছে,আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল বলে বারবার মনে হচ্চিল,তখন আল্লাহর নাম নিতে নিতে চলে আসলাম।কোনো একটা বইয়ে পড়েছিলাম অ্যানাকোন্ডা সাধারণত মানুষ ভয় পায়,মানুষ খায় না এরা,এদের খাদ্য তালিকায় মানুষের নাম নেই।তবুও কেউ যদি এদের বিরক্ত করে তাহলে এরা ওকে পেঁচিয়ে দম বন্ধ করে মেরে ফেলে।এই সাপটা প্রায় ৩০ ফুট লম্বা হবে।আমাদের ৯ টা নৌকা চলে আসল গাছটার নিচ দিয়ে।কিন্তু বিপত্তি বাধল তখনি যখন ১০ নম্বর নৌকাটা আসছিল,এই নৌকায় কোনো মেয়ে নেই। এই নৌকায় মি.A, রনি ভাই,সাঈম ভাই,আনিস ভাই এদেরর মতো বড় মানুষরা আছে।তাদের নৌকাটা যখন আসছিল তখনই অ্যানাকোন্ডাটা লাফ দিয়ে পানিতে পড়ল,আর একটু হলেই নৌকায় পড়ত,সাপটা নৌকায় না পড়লেও সমস্যাটা হলো সাপটা নৌকার পিছন আসতে লাগল,নৌকার পিছন দিকে যখনই স্পর্ষ করবে ঠিক তখনই গুলির শব্দ শুনলাম।মি.A গুলি করেছেন,সাপটাও মরে গেছে। পরপর ৫ টা গুলি করতে হয়েছে সাপটাকে মারার জন্য। আমরা এতোক্ষণ শিহরিত অবস্থায় ছিলাম,চোখের পলকও ফেলছিলাম না ভয়ে এতোক্ষণে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। নৌকা আরও ৩ ঘন্টা চলার পর যেন রূপকথার জগতে প্রবেশ করলাম,কারণ এই জায়গাটা এখনও আবিষ্কৃত হয় নি,আবিস্কার হয় নি এখানকার প্রাণী এবং উদ্ভিদের জায়গা।লেখক বলেছিল এই জায়গা থেকেই নাকি রহস্যময় জায়গা শুরু।অনেক সুন্দর সুন্দর গাছপালায় চারপাশ ঘেরা এখানে।আমরা সবাই অবাক হয়ে জায়গার সৌন্দর্য দেখছি। আবার আমার আর হৃদয় ভাইয়ের দাড় বাওয়ার সময় এলো,আমরা বাইতে লাগলাম।অনেকেই গান গাচ্ছে। আরও প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠা বাইলাম,শরীরে আর বল নেই,আর দাড় বাইতে পারছি না।তাই এখানে থামলাম,ইতোমধ্যে আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে।ভ্যাপসা গরম এই জায়গাটায়।বাতাস নেই।এ সময়টায় বাতাস থাকে না,আর পরে সন্ধ্যার দিকে এখনে বাতাস বইবে।এই গরমে আর পারছিলাম না।তাই এই জায়গায় নোঙর ফেললাম।রনি ভাই আজান দিল।আমরা নামাজ পড়ার জন্য ওযু করতে গেলাম। এখন নামাজ পড়তে যাব। নামাজ পড়ে এসে পরে কী হয়েছিল তা লিখব।ততক্ষণ অপেক্ষা করুন। [নিজেকে আমি চরিত্রে কল্পনা করেছিলেন???কেমন লাগল এই পর্বটা কমেন্টে জানাবেন।] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ১০)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now