বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নূপুর

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমি টের পেলাম কেউ একজন লোহার গেটটি খুলেছে। তারপর আস্তে আস্তে আমার রুমের দিকে আসছে। হালকা জুতার শব্দে বুঝতে পারছিলাম আমার রুমমেট। রুমের কাছাকাছি এসে শব্দটা থেমে গেল আর কিছুক্ষনের জন্য শান্ত হয়ে গেল পরিবেশটা। আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি আমার রুমমেট স্থির হয়ে দাডিয়ে আছে। “ভয় পেয়েছ? ” বাঘের প্লাস্টিকের মুখশটা খুলতে খুলতে রুমমেট বলল। আমি কোন কথা বললাম না। রুমমেট বলল “ভয়ত অবশ্যই পেয়েছ! ” রাত প্রায় ৯টা বাজে। আমি মুখশটির দিকে তাকিয়ে বললাম “এটা কিশের জন্য? ” “আমার ছোট ভাইয়য়ের।” রুমমেট বলল। আমার রুমমেট সবসময়ি রশিকতা করতে পছন্দ করে। আর আমি ওর অতিরিক্ত রশিকতা নিয়ে কোনদিন প্রতিবাদ করিনি। ও যখন রুমের ভিতর থাকে তখন রুমটা জমজমাট মনে। একটি পর একটি গল্প বলে চলে ছোট মানুষের মত। ওর কথাগুলো আমি সসবসময় সুনতেও পাইনা। তবে ওর বেশি কথা বলা আমার কাছে বিরক্ত মনে হয়না। বিরক্ত মনে হয় যখন অপ্রয়োযিন কথা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে। আমি মনে মনে বরক্ত হলেও কখন প্রকাশ করিনা। কারন আমার একাকিত্ত দুর করতে ওর ভাল অবদান আছে। রুমমেট বিছানায় সুয়ে গড়াগড়ি খেল। তারপর হাসতে হাসতে বলল “আমি নিশ্চিত তুমি ভয় পেয়েছ।” ওর কথার কারনে আমার পড়ায় মন বসল না। আমি আমার ফ্লাক্সে রাখা চা থেকে এককাপ চা নিয়ে পান করতে শুরু করলাম। আমি রুমমেটকে ইশারা করে বললাম “খাবে? ” রুমমেট না সুচক জবাব দয়ে বলল “আমি একটু আগে হোটেল থেকে খেয়ে এসেছি।” শিতকাল। তাই চা খেতে ভালই লাগল। মনে হল মাথাটা আবার ঠিকঠাক কাজ করতে শুরু করেছে। আমি রুম মেটটির বাঘের মুখশটি হাতে নিয়ে নেড়ে চেডে লেখলাম আর তাচ্ছিল্যের শুরে বললাম “এসব প্লাস্টিকের জিনিশ দিয়ে কি ভয় দেখান যায়।” আমার বন্ধুটি কিছুটা রশিকতা আর কিছুটা অবহেলার শুরে বলল “তাই বলেত আমি এটা মনে করতে পারিনা যে তুমি খুব সাহসী ।” বালিশটা মাথার সাথে চেপে ধরে ঘুমানর চেষ্টা করল ও। আমি হাসতে হাসতে বললাম “আমাকে ভয় দেখাতে হলে অনেক বড় কিছুর আয়োজন করতে হবে।” রুমমেট বলল “তা হলে ওই বাড়িটায় একবার রাতে গিয়েই দেখ? ” আমি রুমমেটকে প্রশ্ন করলাম “কোন বাড়িটা? ” রুমমেট আমাকে সব কিছু বলতে শুরু করল। আমি কোন কথা বললাম না। কিছুক্ষন পরে দুজনে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন দুপুরে আমি রুমমেটকে বলে ফেললাম “আমি যাব বাড়িটিতে।” রুমমেট শব্দ করে হেসে বলল “তুমি লোকটা আসলেই অনেক বেশি রশিক। ঠিক আমার মত। সবসময় রশিকতা করতে পছন্দ কর।” রাতের বেলা রুমমেট যখন বাসায় ফিরল আমি একই কথা বললাম। রুমমেট আবার একিভাবে হেসে বলল “তুমি আসলেই খুব রশিক।” আমি বুঝতে পারলাম ও আমার কথা বিশ্বাস করছে না বরং রশিকতা মনে করছে। রাত দশটা বেজে গেছে। আমি দেখলাম রুমমেটটি ঘুমিয়ে পডেছে। আমি কলেজ ব্যাগটার ভিতর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। শহরে দোকানপাট প্রায় সবই খোলা আছে। আমি একটি দোকান থেকে কয়েটা রুটি ও কিছু পানীয় কিনে সাথে নিলাম। তারপর মহাশড়ক ছাড়িয়ে মাঝারি আকারের পিচের রাস্তা দয়ে হাটতে শুরু করলাম। আমি সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম আমার রুমমেটের সাথে জেদ করে নয়; আমার মনের কৌতুহল থেকে। আমি পিচের রাস্তা ছাড়িয়ে সুদিঘ ইটের রাস্তায় এসে পড়লাম। পুরো এলাকাটা নিস্তব্ধ আর তেমন লোকজন নেই। চাদের হালকা আলোয় রাস্তাটা অনেক দুর পর্যন্ত দেখা গেলেও জংগলের ভিতর গাড় অন্ধকার মনে হয়। আমি রুমমেটের বলা ঠিকানা অনুযায়ী ইটের রাস্তা ছাড়িয়ে মাটির কাচা রাস্তা ধরে একটি ছোট্ট পুকুরেরে পাশে এসে দাড়ালাম। কোথাও কোন মানুষজন নেই। আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোন বাড়ি ঘর আছে বলে মনে হল না। আমি দেখলাম প্রচন্ড কুয়াসা পরেছে তাই আমি আমার গায়ের চাদরটা ভাল করে গায়ের সাথে জড়িয়ে নিলাম। আশার সময় আমার হাত পায়ে ধুলা লেগে গিয়েছে। তাই পুকুরের পানি দিয়ে হাত পা ভাল করে ধুয়ে নিয়ে বাড়িটির দিকে এগিয়ে গেলাম। আমি টচ লাইটের সাহায্যে ঘড়িতে সয়ম দেখে নিলাম। ঠিক ১০:৩০। আমার পৈছাতে আধা ঘন্টা সময় লেগেছে। আমি বাড়িটি দেখে বুঝতে পারলাম জমিদার বাড়ি ছিল এটা। আমি বাড়িটির সামনে দাড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম কেন এখানে বাড়িটি তৈরী করা হয়েছিল। বাড়িটির কাছাকাছি একটা খাল আছে। সম্ভবত এই খাল দিয়েই নৌকায় জাতায়াত করত এই বাড়ির জমিদারেরা। কারন সে সময়ে রাস্তাঘাট পাকা ছিলনা। কাচা রাস্তা বরষা কালে কাদা হয়ে যেত। আমি টচের আলো দিয়ে সবগুলো রুম পরিক্ষা করলাম। ৮ টা রুম আর ১ টা বড় বারান্দা। সবগুলো রুমই ভাল আছে তবে দরজা জালানা ভাংগা। আমি দেখলাম একটি রুমের দরজা ভাল আছে তবে রুমটির এক মাত্র জালানাটা ভাংগা। আমি রুমটির ভিতরে প্রবেশ করে প্রথমে দরজাটা আটকে দিলাম তারপর জালানাটাও কোন রকম আটকে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে দেখানর জন্য সেলফোন দিয়ে রুমের কয়েকটি ছবি তুললাম। তারপর চুপচাপ একটা ভাংগা চৈকির উপরে বসে রইলাম আর সিদ্ধান্ত নিলাম আজ সারা রাতে ঘুমাব না। রাত বারটা পর্যন্ত কিছুই ঘটল না। আমি ব্যাগ থেকে রুটি বের করে খাচ্ছি এমন সময় একটা শব্দ পেলাম। আমি রুটি খাওয়া বন্ধ করে শব্দটি ভালভাবে শুনতে চেষ্টা করলাম। মনে হচ্ছিল বুট জুতা পায়ে বাড়ির উঠোনে কেউ হাটছে। শব্দটা আচ্ছে শোনাচ্ছিল বলে আমি শোনার ভুল মনে করলাম শব্দটাকে। একটু পরে শব্দটি থেমে গেল। আমি কয়েকটি রুটি খাওয়ার পর কিছু পানীয় খেলাম। তখন রাত ১ বেজে গেছে। হঠাত আমার রুমমেটের ফোন এল। “তুমি এত রাতে না বলে কোথায় গিয়েছ? আমার রুমে একা একা ভয় করছে। ” আমি বললাম “আমিত তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে আমি ওই বাড়িতে যাব।” রুমমেট হাসল আর বলল “তুমি সব সময়ই বেশি রশিকতা কর।” আমি বুঝলাম ওর বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আমি ওকে নিশ্চিত করার জন্য বললাম “তুমি যে ছাড়া বাড়িটির কথা বলেছিলে আমি এখন সেখানেই আছি ঘরটির একটা রুমের মধ্যে।” রুমমেটটি আমার কথা শুনে চমকে উঠল। বলল “তুমি তারাতারি বাসায় চলে আসো। তা না হলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” আমি বললাম “কাল সকালে আসব। তুমি চিন্তা কর না ঘুমিয়ে পড়।” বলে লাইনটা কেটে দিলাম। রুমমেটটি আরো কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি ফোন রিসিভ করিনি। রাত তিনটা বেজে গেছে। আমার প্রচন্ড ঘুম আসছিল। আমি না ঘুমিয়ে ঝিম মেরে বসে রইলাম। আর দেখতে চেষ্টা করলাম কিছু ঘটছে কিন। আমি আবার পায়ের শব্দ পেয়ে চমকে উঠলাম। এবার শব্দটা একটু জোরে শোনা যাচ্ছে। শব্দটা বারান্দা থেকে আস্তে আস্তে বাড়ির ছাদের উপর উঠে থেমে গেল। আমি জালানার কাছ থেকে দুরে গিয়ে বসলাম যাতে কেউ জালানা দিয়ে উকি মেরে আমাকে দেখতে না পায়। শব্দটা এবার ছাদ থেকে নেমে এসে আস্তে আস্তে বারান্দা হাটতে লাগল। একপর্যায় আমার রুমের সামনে এসে থেমে গেল। আমি দেখলাম প্রচন্ড শীতের মধ্যেও আমার শরীর ঘামে ভিজে গেছে। আমি টচটা জালিয়ে আমার হাত ঘড়িটায় সময় দেখব এমন সময় হঠাত কে যেন রুমের দরজায় জোরে জোড়ে দুইটা লাঠি মারল। আমি প্রচন্ড ভয়ে চমকে উঠলাম। আমি নড়াচড়া না করে অনেক্ষন স্থীর হয়ে বসে রইলাম। আমি দেখলাম রাত তিনটা বেজে গেছে। আর মাত্র তিন কি সাডে তিন ঘন্টার পরে রাত শেষ হবে। আর রাত ৪টা সাড়ে চাটটা বাজলেই আমার ভয় কেটে যাবে। মাঝ খানে ১থেকে দেড় ঘন্টা ভয় করবে আমার। তবুও আমি সাহস জোগানর চেষ্টা করলাম। আমি দেখলাম রাত চারবাজতে মাত্র ১২ মিনিট বাকি আছে। এর মধ্যে একবারো পায়ের শব্দটা শুনতে পাইনি। আমার আস্তে আস্তে সাহস হতে লাগল। এমন সময় আমার জালানার কাছে প্রচন্ড জোড়ে নুপুরের শব্দ শুনতে পেলাম। শব্দটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে থেমে গেল। আমি দেখলাম আমার গা থেকে দর দর করে ঘাম বের হচ্ছে। আমি সকাল বেলা যখন বাড়িটি থেকে বের হলাম দেখলাম বাইরে মিষ্টি রোধ উঠেছে। আমার ভয় সম্পুরন কেটে গেল। আমার মনে হল না রাতে তেমন কিছু ঘটেছে। আমি হটাৎ দেখলাম বাইরে একটি পাগল বসে আছে। আমি পাগলটার পায়ের জুতা লক্ষ করে দেখলাম। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম রাত্রে বাড়িটির আসে পাশে এই পাগলটাই হাটাহাটি করছিল। আমি লক্ষ করে দেখতে লাগলাম ওর হাতে পায়ে কোন নুপুর দেখা যায় কিনা। আমি কিছুক্ষন দাড়িয়ে রইলাম। আমি দেখলাম পাগলটা হেটে চলে যাচ্ছে। ওর পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু নুপুরের শব্দ শোনা গেল না। আমি যে রুমটায় রাতে থেকেছি সেই রুমটার জালানার কাছে আসলাম। দেখলাম নুপুরের শব্দের উৎস খুজে পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু নুপুরের শব্দ আসতে পারে এমন কোন উৎস দেখতে পেলাম না। আমি সেলফোন দিয়ে বাড়িটির কয়েকটি ছবি তুললাম এবং বাসায় ফিরে এলাম। রুমমেটটি আমাকে দেখে অবাক হয়ে বলল “তুমি এসেছ! ” আমি শেলফোনে তোলা ছবি গূলো বের করে রুম মেটটিকে প্রমান হিসেবে দেখালাম। রুমমেটটি কৌতুহলের সাথে জানতে চাইল “কিছুই দেখনি ওখানে?” আমি বললাম “ওখানে রাতের বেলা শুধু একটা পাগল এসে থাকে আর সকালে চলে যায়।” কিন্তু নুপুরের শব্দ পাওয়ার কথা ওকে বললাম না। রুমমেটটি হাসতে হাসতে বলল “আমি জানতাম তুমি খুব রশিক আর এখন জানলাম তুমি সাহসীও।” কিন্তু আমার মনে হল আমি মোটেও সাহসী নয়। একটু পরে আমি ঘুমিয়ে গেলাম কারন গতকাল সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি। আর রাতটি ছিল ভংয়কর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নূপুর ধ্বনি
→ ভালোবাসা (নূপুর)
→ নূপুর পরি
→ আদৃশ্য নূপুরের শব্দ
→ নূপুরধ্বনি
→ নূপুরের সেই ভালোবাসা
→ আমার পায়ে নূপুর পড়িয়ে দিবে?
→ নূপুর নাকি পায়েল
→ নূপুর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now