বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আপনার সিট কি এইখানে??? (মেয়ে)
- জ্বি। (ছেলে)
- ওহ আচ্ছা...
খুব ভয় ভয় লাগছে সিফাতের। এই প্রথম
শহরের কোন মেয়ে তার সাথে কথা বলছে।
তার জানা মতে শহরের মেয়েরা
অহংকারী হয় আর সহজে ছেলেদের সাথে
কথা বলেনা। আচরনেও হয় রাগী...এজন্য সে
শহরের মেয়েদের সাথে কথা বলতে ভয়
পায়। আর তাছাড়া সে গ্রামের ছেলে।
শহরে এসেছে পড়াশোনা করতে। আজ নতুন
ভর্তি ভার্সিটিতে।
- আমি সিমি। মিরপুরে থাকি। আপনি?
- জ্বি আমি সিফাত। গ্রাম থেকে শহরে
এসছি। পড়াশোনার জন্য।
- বেশ ভাল। পরিচিত হয়ে ভাল লাগলো।
(হেসে)
- জ্বি ধন্যবাদ। আমিও খুশি হলাম।
.
সিমিকে দেখে তার শহরের মেয়েদের
প্রতি চিন্তাধারা একটু ঘুরে গেল। সিমি
ঐরকম নয়। হেসেখেলে কথা বলে। আচরনও
বেশ মার্জিত।
স্যার ক্লাসে আসার সময় হয়ে গেছে।
ছেলেমেয়ে সবাই প্রস্তুত হয়ে বসলো।
কিছুক্ষন বাদেই স্যার ক্লাসে প্রবেশ করল।
.
ক্লাস শেষে সিফাত সরাসরি বাসায়
আসলো। বাসা বলতে সে ম্যাচে থাকে তার
দুই বন্ধু রুমমেটের সাথে। গ্রাম ছেড়ে শহরে
পড়াশোনার জন্য তাকে ম্যাচ ভাড়া করে
থাকতে হয়।
.
সিফাতের মা নেই। যখন সে ক্লাস সিক্সে
পড়ে তখন তার মা ক্যান্সারে মারা যায়।
এরপর বাবাই ছেলের ভরনপোষনের দায়িত্ব
নেয়। বাবা ছোটখাটো মুদির দোকানদার।
যদিও পরিবারে সিফাতের কোন ভাই বোন
নেই। সে একাই বাবার সাথে থাকে। তবুও
শুধু মুদি দোকান দ্বারা অনেক সময় তার
চাহিদা পুরন করা তার বাবার পক্ষে সম্ভব
হয়না। এমনও গেছে বাবা না খেয়ে
ছেলেকে খাইয়েছে। এমন অভাবে চলতো
বাপ ছেলের সংসার। বাবা সামান্য মুদি
দোকানদার হওয়া সত্বেও ছেলের প্রতি
ছিলেন খুব দায়িত্বশীল। পড়াশোনার
একমাত্র ছেলেকে সে শহরে পাঠাবে,
ছেলে বড় হয়ে মানুষ হবে এই আশায়। ছেলে
হিসেবে সিফাত ছিল নম্র ভদ্র, আচরন ছিল
খুব ভাল। পড়াশোনায় ছিল মেধাবী ছাত্র।
তাই তার গ্রামের গুরুজন তাকে বেশ স্নেহ
করতো আর ভালবাসতো। সিফাত তার
বাবার কথা মতোই সবসময় চলতো। বাবা
স্বপ্ন পুরনেও সে কর্তব্যপরায়ন। এজন্যই
সিফাতের বাবা তার একমাত্র ছেলেকে খুব
ভালবাসতো। ছেলেও বাবাকে ভীষন
ভালবাসতো। আর মা মারা যাবার পর তার
বাবা কখনোই ছেলেকে মায়ের অভাব
উপলব্ধি করতে দেন নি। তাই বাবাই ছিল
তার কাছে সব।
.
ঐদিকে সিমি তার বড়লোক বাবার একমাত্র
মেয়ে। বাবা শহরের বড় ব্যবসায়ী, নিজস্ব
গাড়ি, বাড়ি আছে। আর মা গৃহিনীই। আর
আছে ছোট ভাই। ছোট বেলা হতেই বড়
আদরে মানুষ হয়েছে সিমি। আর খুব ভাল,
ভদ্র মেয়ে। চাল-চলন যেমন ছিল সুন্দর
তেমনি দেখতেও...
.
পরেরদিন ক্লাস শেষে বাড়ি যাবার পথে
সিফাতের সাথে সিমির দেখা হয়।
দেখামাত্রই সিফাতকে ডাক দেয়......
- এইযে শুনুন...(সিমি)
- (হঠাৎ থেমে পিছনে তাকিয়ে) আমাকে
বলছেন? (সিফাত)
- হ্যাঁ। গতকাল তো হুট করে চলে গেলেন।
আজও যাচ্ছেন। ব্যাপার কি?
- না মানে...এমনি আর কি।
- তাড়া আছে?
- নাহ! কিছু বলবেন?
- চলেন এক জায়গায় যাব।
- কোথায়?
- আহ চলুন না!
- আচ্ছা চলুন।
এক বট গাছের সামনে সিমি সিফাত কে
নিয়ে গেল। তারা দুইজন সেখানে বসল।
চারদিকে হালকা শীতল হাওয়া এসে বইছে।
বেশ নিরিবিলি আর সুন্দর একটা জায়গা।
ফ্রি টাইমে সিমি প্রায়ই এখানে আসে।
আজ সে সিফাতকে নিয়ে বসল। সিফাতের
একটু নার্ভাস ফিল হচ্ছে কারন সে সহজে
মেয়েদের সাথে কথা বলেনা। ভয় পায়। এই
প্রথম একটা মেয়ে তার সাথে এমন ভাবে
হেসে খেলে কথা বলছে যেন মেয়েটি তার
অনেক দিনের চেনা। সত্যিই সিমি মেয়েটা
বড় অদ্ভুদ মনে মনে ভাবছে সিফাত।
- নার্ভাস লাগছে? (সিমি)
- কই নাতো! (সিফাত)
- ভয়ের কিছু নাই। আমি ফ্রেন্ডলি সবার
সাথে।
- না না তেমন কিছুনা।
- তারপর আপনার বন্ধু আছে কে কে?
- আছে বর্তমানে দুইজন ম্যাচের রুমমেট।
- আর কেউনা! (অবাক হয়ে সিমি)
- আমার বাবাই বড় বন্ধু।
- হুমম... আরেকটা যে নতুন বন্ধু যোগ হতে
যাচ্ছে। তাকে কি এক্সেপ্ট করা যাবে?
- বলেন কি? কে সে?
- আমি... কি বন্ধু হিসেবে কি নেয়া যায়
এই
হতভাগীকে! (কবি কন্ঠে বলে উঠল সিমি)
- কি যে বলেন! আমার মত ছেলের সাথে
বন্ধুত্ব! (মাথা চুলকিয়ে সিফাত)
- দেখুন এটা ঠিক না! (রাগান্বিত সুরে)
- আচ্ছা আচ্ছা। আপনার বন্ধুত্ব গ্রহন
করলাম।
- তবে এখন হতে আর আপনি নয়। তুই করে
বলতে হবে। আমিও বলব।
- আচ্ছা ম্যাডাম তাই হবে। (দুষ্টুমির সুরে
বলে উঠে সিফাত।)
- হাহাহা...
.
এভাবে সিফাত আর সিমির বন্ধুত্বের সূচনা।
ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুত্ব গভীর হতে
লাগল। দিন হতে মাস, মাস হতে বছর। দুইজন
একসাথে সবসময় চলে, একে অপরের
পারস্পরিকতায় তাদের বন্ধুত্ব। আর সিমির
স্বভাবের সাথে সিফাতের অনেক মিল
আছে। দুইজনই ঠান্ডা স্বভাবের আর
সাদামাটা জীবন যাপন পছন্দ করে। তাই
তারা একে অপরকে খুব পছন্দ করে। দুষ্টুমি,
হাসি-ঠাট্টা, রাগ, ভালবাসা এই মিলিয়ে
তাদের বন্ধুত্ব......
.
প্রায় কয়েক বছর কেটে গেল সিফাত আর
সিমির বন্ধুত্বের...
ঠিক এমন সময় একদিন হঠাৎ খুব সকালে
সিমি সিফাতকে ফোন দেয়......
- কি ব্যাপার সিমি এত সকালে ফোন
দিলি
যে?
- সিফাত তুই এখনি ঐ জায়গায়টায় আয়
যেখানে আমরা প্রথম বন্ধুত্ব করি।
- এত সকালে??
এত সকালে?? কেন? ৮টা বাজে মাত্র।
- (উত্তেজিত সুরে) তুই আসবি কিনা বল!
- আচ্ছা আসছি ওয়েট।
- হুম জলদি আয়...
এই বলে ফোন রেখে দেয় সিমি। সিফাত
চিন্তায় পরে গেল। কি হল মেয়েটার! মনে
হচ্ছে বেশ চিন্তায় আছে আর বিরাট বড়
সমস্যায় পরেছে। যাক দেরি না করে
বেরিয়ে পরল সিফাত।
.
সকাল ৮টা ১৫ বেজে গেল ঐদিকে সিমি
অপেক্ষা করতে করতে অস্থির। হঠাৎ দূর
থেকে দেখে সিফাত দৌড়ে আসছে। আর
এসেই হাপাতে হাপাতে বলল...
- কিহ! বল...
- সিফাত আমায় নিয়ে চল! (সিমি
সিফাতের হাত ধরে বলল।
- কোথায়??
- যেথায় ইচ্ছা। বাবা আমার বিয়ে ঠিক
করেছে। কিন্তু আমি তোকে ভালবাসি।
- কি বলছিস এসব?
- আমি ঠিকই বলছি। তুই প্লিজ আমাকে
কোথাও নিয়ে চল। আমাকে বিয়ে কর।
- পাগলামি করিস না। (সিমির হাত ছেড়ে
দিয়ে।)
- বিশ্বাস কর আমি তোকে ভালবাসি। আই
লাভ ইউ সিফাত। আমি থাকতে পারব না
তোকে ছাড়া।
- তুই বাড়ি যা।
- না যাবনা।
- তবে আমিই যাচ্ছি। আমি তোকে
ভালবাসিনা। সো ইমপসিবল।
এই বলে সিফাত পিছনে ফিরে সজোরে
হাটা দিল। সিমি অনেক জোরে চিৎকার
করে ডাকছে তাও শুনলো না।
হতাশ মনে সিমি বাড়ি গেল। সিফাতের
নাম্বারে ফোন দিলে রিসিভ করেনা।
এরকম বারবার কল দিয়ে যায় সিমি। হঠাৎ
সিমির নাম্বারে একটা ম্যাসেজ আসে। আর
সেটা সিফাতের দেয়া। তাতে লেখা...
"আজকের পর আর কোনদিন আমার নাম্বারে
ফোন দিবিনা আর যদি দিস ও আমি সিম
চেঞ্জ করে ফেলব। আমি তোকে
ভালবাসিনা। শুধু শুধু আমায় বিরক্ত করিস
না। যদি চাস আমি ভাল থাকি তবে আমায়
একা ছেড়ে দে প্লিজ। আর ভাল থাকিস। যা
তোর বাবার কথা মতো চল। আল্লাহ
হাফেজ।"
ম্যাসেজ টি পাবার পর কিছুক্ষনের জন্য
বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। চোখ জুড়ে তার
বেদনার অশ্রু...
সিফাত যে তার সাথে এমনটা করবে সেটা
সে জানতো না আর কল্পনাও করতে
পারছেনা। কিছুক্ষন স্তব্ধ হয়ে থাকার পর
নিজেকে সামাল দিয়ে বাবার রুমের দিকে
যায় সিমি......
এরপর তার বাবাকে জানায়...
- বাবা!
- কিছু বলবি?
- বিয়ে ঠিক কর। আমি তোমার পছন্দের
ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি।
- আয় কাছে আয়।
- (কেঁদে গিয়ে বাবার বুকে মাথা রেখে
জরিয়ে ধরে বাবাকে) সরি বাবা তোমাকে
কষ্ট দেয়ার জন্য।
- আরেনা না মামনি। আমি জানি তুই
বুঝবি
সব। আমি কষ্ট পাইনি।
এরপর সিমির তার বাবার পছন্দের পাত্রের
সাথেই বিয়ে হয়। আর সিফাত তাকে ঐ
ম্যাসেজ দেওয়ার পর আর কোনদিন তার
নাম্বারে কল, ম্যাসেজ দেয়নি সে। কারন
সে সিফাতকে খুব ভালবাসে। সে চায় তার
ভালবাসার মানুষ ভাল থাকুক। তাই তার
কথা মতই সে তার আর খোঁজ নেবার চেষ্টা
করেনি
।
.
দেখতে দেখতে প্রায় তিন বছর কেটে গেল
সিফাতের নাম্বারে সিমির আর কোন কল
আসেনা, ম্যাসেজ আসেনা...তাকে কেউ
যখন তখন ধমকায় না, যখন তখন হাসায় না...
সত্যি কথা বলতে সিফাত ও সিমিকে খুব
ভালবাসতো। সিমিকে ওভাবে কষ্ট দিয়ে
এক মুহূর্তের জন্য সে ভাল থাকতে পারেনি।
সিমি বড় লোকের মেয়ে আর সে সামান্য
দোকানদারের ছেলে। এই অভাবের
সংসারে সিফাত চায়নি সিমিকে বিয়ে
করতে, চায়নি তাকে কষ্টে রাখতে।
তাছাড়া সে শহরে এসেছে বাবার স্বপ্ন
পুরন করতে। সে তার বাবাকে ও কষ্ট দিতে
পারবেনা। এভাবে দুই তীরের কথা ভেবে
সে নিজের ভালবাসাকে ত্যাগ দিল...
.
এখন সিফাত সেই জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে
যেখানে সিমির সাথে তার বন্ধুত্বের সৃষ্টি
হয়... সবকিছু আগের মতই আছে শুধু সিফাতের
সিমিটা নেই...
এই ভেবে ছোট্ট এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো
সিফাত আর বলল......"আমায় ক্ষমা করে
দিস
সিমি, আমিও তোকে অনেক ভালবাসি।
ভাল থাকিস তোর নতুন জগতে"......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now