বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নতুন গুলাগ
চ্যাপ্টার-১
১
‘তাহলে বলবে না ডকুমেন্টগুলো কোথায় রেখেছ?’ বলল রাগে চোখ মুখ লাল করে এক সারিতে তিনটি চেয়ারে বসা তিনজনের মাঝের জন সামনে হাঁটু ভেঙে দাঁড়ানো তিন বন্দীকে লক্ষ্য করে।
হাঁটু ভেঙে দাঁড়ানো তিন বন্দীর খালি গা। পরনে পাতলা কাপড়ের হাফ ট্রাউজার।
বন্দীদের চেহারা বিপর্যস্ত। শরীরে শত নির্যাতনের চিহ্ন।
তিন বন্দীই কাঁপছিল। পা, হাঁটু তাদের দেহের ভার বইতে পারছিল না। কিন্তু বসার উপায় নেই, নিচে তীক্ষ্ণ পেরেক আঁটা চেয়ার। আবার সোজা হয়ে দাঁড়াবারও সুযোগ নেই, মাথার চার ইঞ্চি উপরেই অনুরূপ তীক্ষ্ণ পেরেক আঁটা ইস্পাতের বোর্ড স্থির হয়ে আছে।
‘এই প্রশ্ন তোমরা শতবার করেছ। এ পর্যন্ত শতবারই জবাব দিয়েছি, তোমরা আমাদের স্পুটনিক অফিস পুড়িয়ে সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছ।’ কান্নায় ভেঙে পড়া কন্ঠে বলল তিন বন্দীর মাঝের জন।
‘আমরা বিশ্বাস করি না তোমাদের কথা। তোমরা কম ধড়িবাজ নও। ডকুমেন্টগুলোর শুধু একটি করে কপি তোমাদের কাছে ছিল এটা অবিশ্বাস্য। তোমাদের বলতে হবে ডকুমেন্টগুলোর ডুপ্লিকেট কোথায়।’ বলল চেয়ারে বসা সেই মাঝের জনই।
বন্দীরা তাদের সহ্য ও শক্তির শেষ সীমায় পৌঁছেছিল। তাদের দেহে কম্পন বেড়ে গেছে। শরীর তাদের আঁকা-বাঁকাভাবে দুলতে শুরু করেছে। চোখ তাদের বিস্ফোরিত হয়ে উঠেছে।
হঠাৎ তিনটি দেহ তাদের এক সাথেই খসে পড়ল সারি সারি পেরেক আঁটা চেয়ারের উপর। সঙ্গে সঙ্গে তাদের তিনটি কন্ঠই যন্ত্রনায় বুকফাটা চিৎকার দিয়ে উঠল।
চেয়ারে বসা তিনজন হো হো করে হেসে উঠল। বলল তিনজনের ডান পাশের জন, ‘তোদের ঈমান গেল কোথায়? দাঁড়িয়ে থাকতে পারলি না তো ঈমানের শক্তিতে। তোদের আল্লাহ শক্তি যোগাল না হাঁটুতে এবং পায়ে?’
তিন বন্দীই যন্ত্রনায় আর্তনাদ করছিল। কিন্তু আর উঠে দাঁড়াতে পারছিল না। কারণ পেরেক আঁটা সেই ইস্পাতের বোর্ড নেমে এসেছে ঠিক আগের মতই মাথার চার ইঞ্চি উপরে।
চারদিক থেকে শত শত যন্ত্রনা-জর্জরিত চোখ দেখছিল তাদের অসহ্য আহাজারি।
স্থানটা বিশাল একটি গোলাকার হলঘর। নিচু ছাদ আট-নয় ফুটের বেশি উচুঁ হবে না।
হলঘরটার চারদিক ঘিরে মোটা লোহার গ্রীল ঘেরা ছোট ছোট ঘর। ঘরগুলোকে খোঁয়ার বলাই ভাল। ঘরগুলোতে দাড়ানো যায় না, পা মেলে শোয়াও যায় না। ঘরের মেঝেগুলো এবড়ো-থেবড়ো কাঠের তৈরী। মাথার উপরের কংক্রিটের ছাদগুলো মুভেবল। সুইচ টিপে সেগুলো সরিয়ে দেয়া যায়, আবার লাগানো যায়। দরকার হলে বন্দীদের রোদে পোড়ানো, আবার বরফ বৃষ্টিতে শাস্তি দেবার জন্যেই এই ব্যবস্থা।
বিশাল ঘরের ঠিক মাঝখানে প্রায় ২০ বর্গফুট আয়তনের গোলাকার একটা কংক্রিটের বেদী। এই চত্বরের উপরের ছাদটা গম্বুজের মতো উঁচু। বিশেষভাবে নির্মিত এই গম্বুজে এবং বেদীর নিচে নির্যাতনের হাজারো উপকরণ সাজিয়ে রাখা। যখন যেটা তাদের প্রয়োজন সুইচ টিপলেই উপর থেকে নেমে আসে এবং নিচ থেকে উঠে আসে। বন্দীদের একাকী বা দলবদ্ধভাবে এখানে এনে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের যতপ্রকার মারাত্মক পন্থা আছে, সবই তারা পরীক্ষা করেছে এখানে বন্দীদের উপর।
হলঘরের চারপ্রান্তের দু’একটি ছাড়া সবগুলো খোঁয়াড়েই বন্দী রয়েছে। তাদের সংখ্যা দু’শ জনের কম হবে না। তাদেরই বেদনা জর্জরিত চোখ অসহায় দৃষ্টিতে দেখছে তিন বন্দীর উপরে চলমান নির্যাতন। কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে কানে আঙুল দিয়ে চেষ্টা করছে বাঁচতে। কিন্তু মনের কষ্ট তাতে এক বিন্দুও লাঘব হচ্ছে না। কেউ কেউ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে প্রার্থনার হাত উপরে তুলে।
তিন বন্দীর অসহায় কাতরানী ছাপিয়ে ধ্বনিত হচ্ছে চেয়ারে বসা তিনজনের উল্লাস ধ্বনি।
এক ঝাঁক পেরেক বিদ্ধ স্থান থেকে রক্ত ঝরছে তিন বন্দীর। রক্ত চেয়ার থেকে গড়িয়ে পড়ছে বেদিতে।
নির্যাতনকারী টিমের তিনজনের মাঝের জনই টিম লিডার। তার বয়স অন্য দু’জনের চেয়ে কিছু বেশী। তবে কারো বয়স চল্লিশের বেশি নয়। তিনজনের পরনেই ইউরোপিয়ান স্যুট। তবে ইউরোপিয়ানদের মত সাদা নয়। মুখের গড়নও এ্যাভারেজ ইউরোপীয় থেকে আলাদা। যারা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেগীন, ইয়াহুদ বারাক, এ্যারিয়েল শ্যারনদের দেখেছেন, তারা বলবেন এরা তিনজন ঐ প্রধানমন্ত্রীদের ভাই হবেন কোন না কোন দিক থেকে। এরা যে নিখাদ ইহুদী তা তাদের দিকে একবার তাকিয়েই ওয়াকিফহাল যে কেউ বলে দিতে পারে।
তিন চেয়ারের মাঝের লোকটি তার ডান পাশের লোকটিকে লক্ষ্য করে বলে উঠল, ‘মি. আইজ্যাক, সুইচে এবার হাত দিন। রক্ত বেশি গেলে আমাদের ক্ষতি।’
হাসল আইজ্যাক শামির। বলল, ‘ঠিক বলেছেন মি. দানিয়েল ডেভিড, ওদের তো আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের ডকুমেন্টের মতই ওদের রক্ত আমাদের কাছে মুল্যবান। ওরা বাঁচলে ডকুমেন্ট বের হবেই।’
বলে আইজ্যাক শামির তার চেয়ারের পাশেই মেঝের উপর সেট করা একটা বাক্সের ঢাকনা খুলে ফেলল একটা হুক অন করে। ওটা ইলেক্ট্রনিক কনট্রোল বক্স। প্যানেলে সারি সারি অনেক সুইচ। একটা প্যানেলের একটা সুইচকে আইজ্যাক শামির রেড কেবিন থেকে গ্রীন কেবিনে নিয়ে গেল। সংগে সংগেই তিনজন বন্দীর নিচ থেকে পেরেক আঁটা চেয়ার মেঝের ভেতর ঢুকে গেল এবং অনুরূপভাবে মাথার উপর থেকে পেরেক বিছানো ইস্পাতের আয়তাকার বোর্ডটিও চোখের নিমেষে উঠে গম্বুজে ঢুকে গেল।
আহত রক্তাক্ত বন্দী তিনজন আছড়ে পড়ল মাটিতে। বসবার তাদের শক্তি ছিল না, উপায়ও ছিল না। তাদের তিনটি দেহই মেঝেতে শুয়ে পড়ল।
নির্যাতনী টীমের জিজ্ঞাসাবাদকারী তিনজনের নেতা দানিয়েল ডেভিড বলে উঠল সংগে সংগেই, ‘না তোমরা শুতে পারবে না, আরাম তোমাদের কপাল থেকে মুছে গেছে। পরকালে যখন বেহেশত আশা কর, তখন জাহান্নামের শাস্তিটা এখানেই ভোগ করে যাও।’
বলে দানিয়েল ডেভিড চেয়ারের হাতলে তার হাতের নিচেই থাকা একটা সুইচে চাপ দিল। চাপ দেয়ার সাথে সাথেই বেদিটির এক প্রান্ত থেকে ৩ বর্গফুটের মত জায়গার মেঝে একটু নিচে নেমে মেঝের আড়ালে হারিয়ে গেল এবং উঠে এল একটা লিফট। লিফটে একজন মানুষ। লোকটির পরনে সামরিক ইউনিফর্ম। কুস্তিগীরের মত চেহারা।
‘এসটি জিরো ওয়ান, তুমি ওদের আমাদের সামনে সারিবদ্ধ করে বসিয়ে যাও। আর এক পেগ করে ব্রান্ডি দাও ওদের।’ লিফট দিয়ে উঠে আসা ইউনিফরমধারীকে লক্ষ্য করে বলল দানিয়েল ডেভিড।
আদেশ শুনে এসটি জিরো ওয়ান লিফটে করে আবার নিচে নেমে গেল। এক বোতল ব্রান্ডি নিয়ে ফিরে এল আধা মিনিটের মধ্যেই।
জিরো ওয়ান লোকটি তিনটি চেয়ারের সামনে তিনজন বন্দীকে খেলনার মত তুলে এনে বসিয়ে দিল।
বন্দীদের এভাবে বসার ক্ষমতা ছিল না। বসেই তারা কঁকিয়ে উঠল ব্যথায়। ক্লান্তি ও যন্ত্রনায় তারা মাথা সোজা করে বসে থাকতে পারছিল না।
জিরো ওয়ান পেগ ভর্তি ব্রান্ডি ওদের সামনে রেখে বলল, ‘খেয়ে নাও। এ হলো এখনকার জন্যে মেডিসিন। খেলেই দেখবে মাথা সোজা করতে পারছ।’
‘তোমরা এতদিনে নিশ্চয়ই বুঝেছ, মদ, ব্রান্ডি ধরনের হারাম জিনিস আমাদের খাওয়াতে পারবে না। কিছু দিতে চাইলে আমাদের পানি দাও।’ বলল তিনজনের সারি থেকে মাঝের বন্দী।
‘ব্রান্ডি না খেলে তোমাদের পানি দেওয়া হবে না।’ দানিয়েল ডেভিড বলল।
দানিয়েল ডেভিড ৩ জনের জিজ্ঞাসাবাদকারী দলের নেতা।
বন্দীরা কেউ কোন কথা বলল না।
দানিয়েল ডেভিড তার বাম পাশের লোকের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘মি. হাইম হারজেল তাহলে আপনার জিজ্ঞাসাবাদটা সেরে নিন।’
হাইম হারজেল নড়ে চড়ে বসল।
তাকাল বন্দীদের দিকে।
চোখ তার নির্দিষ্ট করল মাঝের জনের দিকে। বলল, ‘কামাল সুলাইমান, অনেক কথাই বলেছ। এখন বল, মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের বংশধর হবার পরেও তোমার এই পরিবর্তন কেন?’
‘কোন পরিবর্তন?’ হাইম হারজেলের দিকে চোখ তুলে জিজ্ঞেস করল কামাল সুলাইমান।
এই কামাল সুলাইমান ৭ জনের গোয়েন্দা সংস্থা স্পুটনিক এর প্রধান। সে কামাল আতাতুর্কের বংশধর, একমাত্র জীবিত বংশধর।
‘তোমাদের মৌলবাদ গ্রহনের কথা বলছি। কামাল আতাতুর্কের যুক্তি ও প্রগতির পথ পরিত্যাগ করে তোমরা মৌলবাদী পথ বেছে নিতে গেলে কেন? যেমন ধর তোমার নামের দুটো অংশ ‘কামাল’ ও ‘সুলাইমান’। কামাল ঠিক আছে, এটা পারিবারিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি স্বীকৃতি। কিন্তু সুলেমান কেন? ‘সুলেমান’ তো ওসমানীয় খলিফাদের একজনের নাম। কামাল আতাতুর্ক এদের পরিত্যাগ করেছিলেন। এদের একজন তোমার নামের অংশ হলো কি করে?’ বলল হাইম হারজেল।
‘নামটা রেখেছিলেন আমার পিতা। তিনি আমার নাম রাখার সময় পারিবারিক ইতিহাস এবং জাতীয় ঐতিহ্য দুই-ই সামনে রেখেছিলেন’। বলল কামাল সুলাইমান।
‘জাতীয় ঐতিহ্য কোনটা? সুলেমান নাম?’ জিজ্ঞেস করল হাইম হারজেল।
‘হ্যাঁ, সুলাইমান নাম’। বলল কামাল সুলাইমান।
‘সুলাইমান জাতীয় ঐতিহ্য হলো কি করে? কামাল আতাতুর্ক তো এই ঐতিহ্য পরিত্যাগ করেছিলেন’। বলল হাইম হারজেল।
‘কামাল আতাতুর্ক যাঁকে এবং যাঁদেরকে পরিত্যাগ করেছিলেন, আমার পিতা নিশ্চয় তাঁদেরকেই গ্রহন করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ওসমানীয় খিলাফতের মহান বিজেতা, মহান শাসক এবং ইউরোপের মহাভয়ের ঝান্ডা সুলাইমানকে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনতে। তার চাওয়ার স্মারক আমার ‘সুলাইমান নাম’। বলল কামাল সুলাইমান।
‘তার মানে তোমার পিতা তাহলে কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, তুর্কিরা শুধুই তুর্কি এবং তুর্কিদের পরিচালনা করবে তুরস্ক ও পাশ্চাত্যের জ্ঞান, ইসলাম নয়-এই মতবাদ পরিত্যাগ করেছিলেন?’ বলল হাইম হারজেল।
‘শুধু আমার পিতা কেন, সাধারণভাবে তুর্কিরা সবাই এই মতবাদ পরিত্যাগ করেছে’। কামাল আতাতুর্ক ১৭ বার সামরিক আইন ব্যবহার করে তুর্কি জনগণকে ধর্মনিরপেক্ষ বানানোর জন্যে বহু আইন করেছেন, কিন্তু এরপরও মসজিদে বসার আসন স্থাপন, মসজিদে জুতা পায়ে নামাজ আদায়, নামাজের ভাষা হিসেবে তুর্কি ভাষা চালু, আরবী বিলোপ, নামাজে সেজদার নিয়ম বাতিল, মসজিদে প্রার্থনাকে সুন্দর করার জন্যে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র চালু ইত্যাদির মত পরিকল্পনা তাকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হতে হয়। সেই তুর্কি জনগণ আজ আরও স্বাধীন এবং শক্তিশালী’। বলল কামাল সুলাইমান।
‘আচ্ছা তোমার পিতার কথা বাদ দিলাম। তোমার পিতা আংকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ গ্রাজুয়েট। কিন্তু তুমি তো ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করেছ, ইউরোপের সংস্কৃতি-সভ্যতার মধ্যে বড় হয়েছ, কিন্তু তুমি মৌলবাদী হলে কি করে?’ জিজ্ঞেস করল হাইম হারজেল।
‘মৌলবাদ বা মৌলবাদী পরিভাষা পশ্চিমের একশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশ্যমূলক সৃষ্টি। মুসলিম জাতির ক্ষেত্রে এই পরিভাষা প্রযোজ্য নয়। সুতরাং আমাকে মৌলবাদী নই, বলতে পারেন ধর্মনিরপেক্ষতা পরিহার করে আমি মুসলিম হলাম কি করে’। বলল কামাল সুলাইমান।
‘ঠিক আছে বল, গোঁড়া মুসলিম হলে কি করে?’ বলল হাইম হারজেল।
‘গোঁড়া বা অগোঁড়া মুসলমান বলে কিছু মুসলিম জাতির মধ্যে নেই’। ‘মুসলিম’ হওয়ার গুণগুলো যার মধ্যে যত বেশি বর্তমান সে তত বেশি পূর্ণাংগ মুসলমান, যার মধ্যে যত কম সে তত অপূর্ণাংগ।’ কামাল সুলাইমান বলল।
‘আচ্ছা বল, যে কামাল আতাতুর্ক একদিন বলেছিলেন, ‘কেবলমাত্র ইসলামের কর্তৃত্ব নির্মূল করার পরই তুর্কিরা অগ্রগতি লাভ করতে পারে এবং সম্মানিত আধুনিক জাতিতে পরিণত হতে পারে’, সেই কামাল আতাতুর্ক পরিবারের ছেলে হয়ে পূর্ণাংগ মুসলমান হলে কি করে? বলল হাইম হারজেল।
‘এই প্রশ্নের জবাবের সাথে আমার বন্দী হওয়া বা তোমাদের স্বার্থের তো সম্পর্ক দেখছি না?’ কামাল সুলাইমান বলল।
‘দেখ, তোমাদের ‘স্পুটনিক’ সংস্থা ধ্বংস ও তোমাদের বন্দী করার পেছনে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাসি ও লিবার্টি টাওয়ার ধ্বংস বিষয়ে তোমাদের তদন্ত বানচাল করা ছিল একটি বড় কারণ মাত্র, সব কারণ নয়। আমাদের উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মহীনতা, ভোগ-বিলাস আর চরিত্রহীনতার সয়লাবের মধ্যে থেকে তোমরা এবং তোমাদের মত হাজার হাজার যুবক কি করে নিখাঁদ ইসলামে ফিরে এলো!এই ফিরে আসার পথগুলো, কারণগুলো আমরা চিহ্নিত করতে চাই। এ জন্যেই দেখ আমরা তো তোমাদের সাতজনকেই মাত্র ধরিনি। এই বন্দীখানাতেই তোমরা আছ দু’শজনের মত। তোমাদের সাথে আরও যারা এখানে আছে, তারা সবাই তোমাদের মত নেতৃস্থানীয় এবং ‘ডু অর ডাই’ ধরনের সাংঘাতিক এ্যাকটিভিস্ট যুবক। তাদের ধরে তাদের আন্দোলন বানচাল করতে চেয়েছি এটা ঠিক, কিন্তু আসল কারণ এদের আদর্শবাদিতার উৎস সন্ধান করা। এক্সরে করার মত করে সব অজানা রহস্য জেনে নেয়া। এই একই কারণে তোমাকে এই জিজ্ঞাসাবাদ। এখন বল, উত্তর দাও’। বলল হাইম হারজেল। তার দুই চোখে ঠান্ডা সাপের মত ক্রুরতা।
‘এই অজানাকে জানা তোমাদের কোন কাজে লাগবে?’ জিজ্ঞেস করল কামাল সুলাইমান।
ঠান্ডা হাসি হাসল হাইম হারজেল। বলল, ‘রোগ জীবানু কি, কেমন, তার ধর্ম কি জানলেই তো কেবল প্রতিষেধক তৈরী করা যায়। তোমাদের মৌলবাদ কোত্থেকে কিভাবে এল জানলে তবেই তো প্রতিবিধানের পথ বের করা যাবে। আচ্ছা বল, আমার প্রশ্নের জবাব দাও।
‘তুমি যে প্রশ্ন করেছ, এক কথায় তার কোন জবাব নেই। অনেক কথা বলতে হবে এজন্য’। বলল কামাল সুলাইমান।
‘ক্ষতি নেই বল। আমরা শুধু তা শুনবই না রেকর্ডও করব।’ বলল হাইম হারজেল।
‘তুমি ঠিকই বলেছ, ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মহীনতা এবং ভোগবাদিতার সয়লাবের মধ্যে আমি মানুষ হয়েছি জার্মানীর এক অভিজাত পল্লীতে। আমার পিতার মধ্যে ঐতিহ্য-প্রীতি প্রবল ছিল। কিন্তু সেটা ছিল তার মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাইরের কাজ-কর্মে তার কোন প্রকাশ ছিল না। জার্মান-সংস্কৃতির আবহাওয়ায় আর দু’দশজনের মতই আমি মানুষ হয়েছিলাম। চেতনা আমার প্রথম ধাক্কা খেল নূরী এ্যারেন-এর Turkey today and tomorrow বইয়ের কয়েকটা লাইন পড়ে। কামাল আতাতুর্কের অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের মধ্যে ৪৬ জন কুর্দি নেতাকে কামাল এক সাথে ফাঁসি দিয়েছিলেন। ফাঁসির মঞ্চে একজন কুর্দি নেতা শেখ সাইদ হত্যাকারীকে যে কয়টি বলেছিলেন, নূরী এ্যারেন তার বইতে সে কথাগুলো উল্লেখ করেছেন। শেখ সাইদ বলেছিলেন, ‘তোমার প্রতি আমার কোন ঘৃণা নেই। তুমি ও তোমার মনিব কামাল আল্লাহর নিকট ঘৃণিত। শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর কাছে আমাদের ফায়সালা হবে।’ শেখ সাইদের এ কথাগুলি প্রথমবারের মত আমার মনে চাবুকের মত আঘাত করে। এই ঘটনার পরপরই আরেকটা বড় ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনা আমার কাছে প্রায় অপরিচিত আমাদের গ্রন্থ আল কোরআন-এর মর্যাদা আমার কাছে আকাশস্পর্শী করে তোলে। ঘটনাটি হলো, একটা ম্যাগাজিনে বৃটিশ রাজনীতিক গ্লাডস্টোন-এর একটা উক্তি পাঠ। উক্তিটি বৃটিশ পার্লামেন্টে গ্লাডস্টোন-এর ভাষণের একটা অংশ। এতে বৃটিশ পার্লামেন্টের ‘সেক্রেটারী ফর কলোনিজ’ মি. গ্লাডস্টোন বলেছিলেন। ‘যতদিন মুসলমানদের আল কোরান থাকবে, আমরা ততদিন তাদেরকে বশ করতে পারবো না। হয় আমাদেরকে তাদের কাছ থেকে এটি কেড়ে নিতে হবে, অথবা তারা যেন এর প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে তার ব্যবস্থা করতে হবে। (So long as the Muslims have the Quran, “we shall be unable to dominate them. We must either take it from them, or make them lose their love of it.”) এই বক্তব্য পাঠ করার সংগে সংগে আমার মনে ঝড়ের বেগে একটি কথা প্রবেশ করল এবং সেটা হলো, ‘আল কোরআনই আমাদের মানে মুসলমানদের স্বাধীনতার শক্তি, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি। আরও মনে হলো, আমার পূর্ব-পুরুষ মোস্তফা কামাল তাহলে হয়তো তার অজান্তেই গ্লাডস্টোনদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই চিন্তা হঠাৎ করে আমাকে নতুন মানুষে পরিণত করল। পাল্টে গেল আমার জীবন ধারা। পড়া-শোনার বিষয় আমার পাল্টে গেল। পরিবারের সবাইকে বিস্মিত করে আমি নামাজী বনে গেলাম। এই সময় আমি মোস্তফা কামালের সমসাময়িক তুরস্কের নির্ভীক জননেতা বদিউজ্জামান নূরসীর জীবন ও কর্মের উপর একটা গ্রন্থ পড়লাম যা আমার জীবনকে আমূল পাল্টে দিল। তার অনেক কথা আমার কাছে অথৈ সমুদ্রে পথহারা নাবিকের কাছে ‘বাতি ঘর’ এর মত জীবনদায়িনী মনে হলো । যেমন মোস্তফা কামাল এক ঘটনায় নামাজকে কটাক্ষ করে উক্তি করলে জনাব নুরসী তুরস্কের লৌহ মানবের মুখের উপর বলেছিলেন, ‘পাকা, ঈমানের পর ফরয নামাজই তো ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা নামাজ আদায় করে না, তারা বিশ্বাসঘাতক। আর বিশ্বাসঘাতকের অভিমত গ্রহন করা যায় না।’ ইসলামের প্রতি ভালোবাসাও আমি নূরসীর কাছ থেকে শিখেছি। মোস্তফা কামালের শাসনে তুরষ্কে ইউরোপীয় সংস্কৃতির সয়লাব যখন অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে উঠল, তখন স্বাস্থ্যগতভাবে নুরসী খুবই ভেঙে পড়লেন, অথচ তার কোন রোগ ছিল না। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার নিজের দুঃখ গুলো সইতে পারি। কিন্তু ইসলামের দুঃখ আমাকে বিধ্বস্ত করে ফেলেছে। ইসলামী দুনিয়ার উপর আমি প্রদত্ত প্রতিটি আঘাত আমার অন্তরের উপর হানা দেয়। তাই আমি এমন ভেঙে গেছি। শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সকলের উপর নীতি ও আইনকে স্থান দেয়া, মানুষকে ভালোবাসা, মুসলমানদেরকে ভালোবাসার শিক্ষাও আমি জনাব নুরসীর কাছ থেকে পেয়েছি। মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক জনাব নুরসীর উপর জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, নির্বাসন কতই না করেছেন। কিন্তু যখন মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে অস্ত্র, সৈন্য, গোলা-বারুদ সব প্রস্তুত করে তার কাছে যুদ্ধের অনুমতি চাওয়া হলো, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা কার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান? মোস্তফা কামালের সৈন্য কারা? ওরা এদেশেরই ছেলে। আপনি কাদেরকে হত্যা করবেন? তারা কাকে হত্যা করবে? আপনি কি চান আহমদ মুহাম্মদকে আর হাসান হোসাইনকে হত্যা করুক।’ যে কোন অবস্থায় অস্ত্রের চেয়ে যুক্তিকে, বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেবার শিক্ষা আমি নূরসীর কাছ থেকেই পেয়েছি। তিনি সশস্ত্র তৎপরতার ঘোর বিরোধী ছিলেন। যুক্তি ও বুদ্ধি অস্ত্রকেই তিনি সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর মনে করতেন। আমরা ‘স্পুটনিক’ গড়েছি তা অনেকটা তাঁর এ শিক্ষা থেকেই। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যুক্তি ও বুদ্ধির অস্ত্র দিয়েই আপনাদের এবং সকলের সব ষড়যন্ত্র আমরা নস্যাত করতে পারব।’ থামল কামাল সুলাইমান।
‘যদি বেঁচে থাক।’ বলেই হাইম হারজেল চোখ ফেরাল কামাল সুলাইমানের বামপাশে বসা ওসমান আবদুল হামিদের দিকে। তুরষ্কের ওসমানীয় খিলাফতের শেষ সক্রিয় খলিফা সুলতান আবদুল হামিদের বংশধর। তার দিকে চোখ তুলে ধরে বলল হাইম হারজেল, ‘তোমার পূর্ব পুরুষদের কামাল আতাতুর্ক সুইজারল্যান্ডে নির্বাসন দিয়েছিল। পরবর্তীকালে তোমাদের পরিবার নিরেট একটি ইউরোপীয় পরিবারে পরিণত হয়। আরবী ভাষার চর্চা তাদের মধ্য থেকে উঠে যায়। আরবী ভাষা ভুলে যায় তারা। তুমি কিভাবে মৌলবাদী হলে মানে পূর্ণাংগ মুসলমান হলে সে কাহিনী তোমার কাছ থেকে শুনেছি। শুধু একটা বিষয়ই জানার বাকি আছে সেটা হলো, তুমি আরবী শিখলে কোথায়?’
‘আরবী আমি শিখিনি। আরবী ভাষা আমি জানি না। সবে শিখতে শুরু করেছি।’ বলল ওসমান আবদুল হামিদ।
‘জান না? তাহলে কোরআন ও হাদিস পড় কি করে?’ হাইম হারজেল বলল।
‘ইংরেজী অনুবাদ পড়ি।’ জবাব দিল ওসমান আবদুল হামিদ।
‘ও, আচ্ছা।’ বলে হাইম হারজেল ফারুকের বংশধর এবার আবদুল্লাহ আল ফারুকের দিকে তাকাল। তাকে উদ্দেশ্য করে বলল হাইম হারজেল, ‘সেদিন তোমার কাছ থেকে কিছু জেনেছি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা বিষয় জিজ্ঞেস করতে বাকি রয়ে গেছে। বল, তোমার ঘরে ফেরার উপলক্ষ বা কারণটা কি?’
‘ঘরে ফেরা মানে কি ইসলামে ফিরে আসা?’ জিজ্ঞেস করল আবদুল্লাহ আল ফারুক।
‘হ্যাঁ ঠিক, ইসলামে ফেরা।’ বলল হাইম হারজেল।
‘এটা ঠিক ইসলামের চর্চা আমাদের পরিবার থেকে লোপ পেয়েছিল। কিন্তু আমরা মুসলমান এ কথা কেউ আমরা কখনোও ভুলিনি। তারপর নানা কার্যকারণ ও ঘটনায় পূর্ণাংগ ইসলামে আমি ফিরে এসেছি। সে অনেক কথা, কোনটা বলব আমি?’ বলল আবদুল্লাহ আল ফারুক।
‘শুধু বল, কোরআন হাদিস পড়ে, না কিভাবে তোমরা প্রথম চোখ খুলল?’ বলল হাইম হারজেল।
সংগে সংগে উত্তর দিল না আবদুল্লাহ আল ফারুক হারজেলের প্রশ্নের। ভাবছিল সে। একটু পর সে বলল, ‘আমি তখন প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। একদিন লাইব্রেরীতে বসে নোট তৈরী করছিলাম। নোট শেষে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম আমার হাতের কাছেই ইবনে খালদুনের মুকাদ্দামা পড়ে আছে। এই বিখ্যাত বইটির অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু কোন দিন হাতে নিয়ে দেখিনি। কাছে পেয়ে আজ হাতে তুলে নিলাম। সূচীটা দেখে নিলাম। তারপর পাতা উল্টাতে লাগলাম। এক জায়গায় কয়েকটা লাইন সবুজ মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করা দেখলাম। ভাবলাম আমার মতই নোটকারী পাঠকের কাজ। আগ্রহ নিয়ে মার্ক করা লাইন কটি পড়তে লাগলামঃ ‘নবীর আল্লাহ প্রদত্ত বাণী ছাড়া রাজনৈতিক ও স্থায়িত্ব অর্জনে আরবরা অক্ষম। কারণ চারিত্রিক কঠোরতা, গর্ব, বর্বরতা এবং রাজনৈতিক ব্যাপারে পরস্পরের প্রতিহিংসা তাদের মজ্জাগত। ইচ্ছা ও আকাঙ্খার ঐক্য ছাড়া এগুলো দূরিভূত হওয়া খুবই কষ্টকর। নবীর ধর্মই তাদের রুক্ষতা ও প্রতিহিংসাকে দমন করতে পারে। কারণ এই ধর্মই তাদেরকে বর্বর জাতি থেকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে এ সময় এমন ব্যক্তির আবির্ভাব হওয়া উচিত যিনি তাদেরকে সত্যের দিকে আহ্বান করবেন এবং অসত্য থেকে বিরত রাখবেন তবেই তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে এবং নেতৃত্ব দানে সক্ষম হবে।’ ইবনে খালদুনের এ বক্তব্য একবার দু’বার নয় অনেকবার পড়লাম। কথাগুলো সম্মোহিত করে ফেলল আমাকে। আমার মনে হলো এই লাইন কয়টিতে পৃথিবীর সমাজ বিজ্ঞানের জনক ইবনে খালদুন যা বলেছেন তার চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নেই। এক মুহূর্তেই আরব দেশগুলোর অনৈক্য, দূর্বলতা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বহুমুখিতা, পারষ্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ইত্যাদির কারণ আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। মনে হলো, নবীর শিক্ষা ও আদর্শের শক্তিই আরবদের এবং মুসলমানদের আবার শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করতে পারে। এই চিন্তা আমার সত্ত্বা জুড়ে তড়িত প্রবাহের মত ছড়িয়ে পড়ল। আমি যেন নতুন চিন্তা চেতনায় নতুন মানুষে পরিণত হলাম। তারপর কয়েকদিনে আমি ইবনে খালদুনের এই মুকাদ্দামা পড়ে শেষ করলাম। তখন শুধু আরব জীবন, আরব ইতিহাস নয়, গোটা পৃথিবীর ইতিহাস ও সভ্যতা নতুন পরিচয় নিয়ে আমার সামনে আবির্ভুত হলো। আমার মনে হলো মুসলমানরা ঈমান, কোরআন ও হাদীসের ভূমিকা পরিহার করলে তাদের সংস্কৃতি সভ্যতার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না-আরবতত্ত্ব নয়, জাতিতত্ত্ব নয়, লীন হয়ে যেতে হয় বৈরী সভ্যতা সংস্কৃতি ও জাতিদেহের মধ্যে। সেদিনই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম শুধু স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিয়ে বাঁচার জন্যে নয়, সুন্দর মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী চিরন্তন শান্তির জন্যে আমাকে ইসলামে ফিরে আসতে হবে। এই হলো আমার ঘরে ফেরার কাহিনী।’ থামল আবদুল্লাহ আল ফারুক।
আবদুল্লাহ আল ফারুক থামতেই দানিয়েল ডেভিড বলে উঠল আবদুল্লাহ আল ফারুকদেরকে লক্ষ্য করে, ‘তোমরা খুব সরল এবং সৎ। কিন্তু স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন তোমাদের ভাগ্যে নেই, সুন্দর মৃত্যুও নয়। পরকালীন শান্তি হয়তো পাবে। কারণ আর যাই হোক আজকের বিশ্ব পরিচালনা তোমাদের দ্বারা সম্ভব নয়।’
‘হ্যাঁ, জানোয়ারের বিশ্ব যদি হয় তা পরিচলানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু মানুষের বিশ্ব পরিচালনা সম্ভব। আর এ বিশ্ব জানোয়ারদের নয় মানুষের।’ বলল কামাল সুলাইমান।
‘জানো মানুষই সবচেয়ে বড় জানোয়ার?’ বলল দানিয়েল ডেভিড।
‘তাদের মানুষ করার জন্যই তো শেষ নবীর শেষ রেসালত।’ কামাল সুলাইমান বলল।
‘কিন্তু তা করতে পারেনি তোমাদের শেষ নবীর শেষ রেসালত। এই কারণেই তো জানোয়ার বন্দী করতে পারনি, যাদের জানোয়ার বল তারা তোমাদের বন্দী করে এনেছে।’ বলল দানিয়েল ডেভিড।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now