বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নতুন বাড়ি
পুরোনো বাড়িটা যখন তার মালিক একদম জলের দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন,আমরা ওটা কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি আর আমার স্বামী।এত কম দামে চমৎকার একটা বাড়ি কেউ হাতছাড়া করে!
আগে এটা ভাড়া বাড়ি ছিল,শেষ ভাড়াটেও উঠে যাওয়ার পর মালিক ঠিক করলেন এটা বেঁচে অন্য দেশে তার মেয়ের কাছে চলে যাবেন।খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনটা জনই আমাকে দেখালো।এক বিকেলে বাড়ির মালিকের কাছে টাকা-পয়সা মিটিয়ে বাড়ির চাবি বুঝে নিলাম।
আহ,নিজেদের বাড়ি!শান্তি...!
জনের সাথে হাত মিলাতে মিলাতে বাড়িওয়ালা বললেন, ‘ভালোই হয়েছে আপনার এটা কিনে নিয়েছেন,ভাড়াটে পাওয়া এবং ভালো ভাড়াটে পাওয়া ইদানীং খুব ঝামেলার হয়ে যাচ্ছিল!”
জন বলল, ‘মুশকিল কেন হবে? চমৎকার বাড়ি আপনার!’
বুড়ো মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন, ‘না বাবা,আজকাল মানুষ চেনা বড় মুশকিল,ভুলভাল লোক ভাড়া দিয়ে ঝামেলা পোহানো,আমি একা মানুষ ক’দিক আর সামলাবো?’
‘ভুলভাল লোক’?
বুড়ো জবাব দিলেন না।তাড়াহুড়ো করে চলে গেলেন।।
যাওয়ার আগে বলে গেলেন আগের ভাড়াটে দেয়াল ভর্তি করে রেখেছে অদ্ভুত রঙয়ের কাগজে,আমরা যেন তুলে নতুন রঙ দেই!
একটু খটকা লাগলেও আমরা ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না।বুড়ো মানুষ একা থেকে থেকে এমন খিটখিটে হয়ে গেছেন নিশ্চয়ই।আহারে...
আমাদের মাথায় অন্য ব্যাপার চলছে...।বাড়িটাকে নিয়ে চিন্তা।
এটাকে এখন নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিতে হবে।এই বাড়ির রান্নাঘরটা বড্ড বেশি বড়।এত বড় রান্নাঘর দিয়ে মানুষ কি করে!জন বলল ওটাকে মাস্টারবেড করে সাজিয়ে নেবে।এই কাজটা ও-ই সামলাবে।ওর উপর দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকা যায়।আমার উপর পড়ল দেয়াল থেকে ওয়ালপেপারগুলো খুলে নেওয়ার।আমার আপত্তি নেই।
আগের ভাড়াটে পুরো বাড়ির দেয়াল আর সিলিঙে কাগজ দিয়ে মুড়ে রেখেছে,কোন জায়গা সে বাদ রাখেনি পেপার লাগাতে।আর কি অদ্ভুত পেপারের রং।মরচে ধরা রঙ!
দেয়াল আর সিলিং থেকে পেপারগুলো খুলে নিতে কেমন যেন পাশবিক মনে হচ্ছে আমার কাছে!আবার অদ্ভুত আনন্দও লাগছে!
সব থেকে মজার ব্যাপার হল,লম্বা একটা পেপার পেয়ে যাওয়া।টেনে তুলতে ভীষণ আনন্দ হয়!কেমন আনন্দ বলি একটু, সী-বীচে গরমকালে বসে গায়ের চামড়ায় একটা বাদামী-কালচে ভাব হয়।ওই ত্বকটা টেনে তুলতে পারলে ভালো লাগবে এমন মনে হয়না?
আমারও তাই লাগছে,মনে হচ্ছে রোদে পুড়ে,শুকিয়ে যাওয়া চামড়া তুলে নিচ্ছি!
জন একমনে নিজের কাজ করে যাচ্ছে!সে এটাকে বেশ আনন্দের সাথে নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।এমনিতে ও খুব বেশি কাজ করতে পছন্দ করেনা।এবার একটা মনের মতো কাজ পেয়েছে বলে ধারনা আমার!করুক ও ওর মতো।আমিও তো কম আনন্দ পাচ্ছিনা।দেয়াল থেকে চামড়া,ওহ,পেপার তুলে নিয়ে চমৎকার লাগছে!একটা খেলা ভেবে নিয়েছি আমি,সব থেকে বড় পেপারের টুকরাটা খুঁজে বের করা!তারপর আরাম করে টেনে টেনে দেয়াল থেকে খুলে আনা।আহ!
দু’দিন ধরে দেয়ালের পেপার খুলতে খুলতে একটা ব্যাপার নজরে এল।প্রথম প্রথম গ্রাহ্য না করলেও পরে খেয়াল করে দেখলাম প্রতিটি দেয়ালের কর্ণারে একজন করে মানুষের নাম আর তারিখ লেখা!এটা কি হতে পারে?আগের ভাড়াটে কি কারো জন্মদিন লিখে রেখেছে?যাহ,দেয়ালে কে জন্মদিনের তারিখ লিখে রাখবে?
জনকে ডেকে এনে দেখালাম।বেচারা তখন ঘুমে ঢলে পড়ছে,চোখ কচলে পুরো ব্যাপারটা শুনে তার ঘুম পালিয়ে গেল!দেয়াল থেকে একটা নাম নিয়ে সে তখনই গুগুল করে দেখল!রেজাল্ট যা বের হল আমরা বিশ্বাস করতে পারলামনা!
সব পেপারগুলো থেকে নাম নিয়ে নিয়ে একটা লিস্ট করে ফেললাম দুজন মিলে।প্রতিটা নামের সাথে একটা করে তারিখ দেওয়া।নামের পাশে তারিখ সাজিয়ে নিলাম!জন তার ফোনটা হাতে নিল।তাদের ডাকার সময় এসেছে।
কিছুক্ষণের মাঝেই ঘর ভরে গেল লোকে,পুলিশে।ক্রাইম ব্রাঞ্চ,তারা অনেকদিন ধরে নিখোঁজ কিছু মানুষকে খুঁজে বেড়াচ্ছে!
মেঝেতে স্তুপ করে রাখা দেয়াল থেকে খুলে আনা পেপারগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে পুলিশ আমাদের দিকে তাকালেন।
গম্ভীর গলায় বললেন, ‘ম্যাডাম এগুলো কোথায় পেয়েছেন আপনারা?’
‘এই বাড়ির দেয়ালে লাগানো,খুব সম্ভবত আগের ভাড়াটিয়া লাগিয়েছেন’!
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে একজন পুলিশ অফিসার বললেন, ‘ম্যাডাম আপনি টেনে তুলেছেন এগুলো?’
আমি দূর্বলভাবে মাথা ঝাঁকালাম।
‘খারাপ লাগেনি ম্যাডাম?মানুষের চামড়া টেনে তুলতে তো খারাপ লাগার কথা,হোক তারা মৃত।তাইনা ম্যাডাম?’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now