বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পার্ট : ১৪
তারপরও আমার স্মৃতি এখন অনেক ঝাপসা হয়ে গেছে,অনেক কিছুই হয়তো একদম ভুলে গেছি । স্মৃতি থেকে লিখতে গিয়ে ভয়ে ভয়ে লিখছি।গুরুত্বপূর্ণ কিছু কি ছিল যা একদম ভুলে গেছি? নাকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলো ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে আমার ভেতরে একতাল কাদায় পরিণত হচ্ছে?যাহোক না কেন,এভাবেই আমাকে কাজ করে যেতে হবে।দূর্বল,মলিন,হারিয়ে যেতে বসা স্মৃতিগুলো বুক বের করে করে কোনভাবে লিখে ফেলতে হবে ।রাখতে হবে নাওকোর কাছে দেয়া প্রতিজ্ঞা ।আগে যখন স্মৃতি পরিষ্কার ছিল,অনেকবার ভেবেছি নাওকোকে নিয়ে লিখবো । কিন্তু একটা লাইনও বের করতে পারিনি । আমি বুঝতে পারছিলাম যদি একটা লাইন কোনভাবে লিখে ফেলতে পারি,তাহলে বাকি পুরোটাই ঝরঝর করে বেরিয়ে আসবে । কিন্তু সম্ভব হয়নি ।সবকিছু এত স্পষ্ট ছিল যে,আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কিভাবে শুরু করবো ।যেই মানচিত্র সব কিছু বেশি বেশি দেখায় সেটা কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে । এখন মনে হচ্ছে আসলে এত নিখুঁত করে কোন কিছু শুরু করার কোন দরকার নেই । নাওকোর স্মৃতি আমার ভেতর যতই অস্পষ্ট হয়ে আসছে ততই যেন আমি ওকে ভালোভাবে বুঝতে পারছিলাম । বুঝতে পারছি কেন সে তাকে ভুলে না যেতে বলেছিল । নাওকো নিজেও জানতো কারণটা ।(চলবে. . .)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
পার্ট : ১৯
তিনি ছিলেন বেশ লম্বা,বয়স হবে পঞ্চাশের শেষ অথবা ষাটের প্রথম দিকে । আর ছিল ঈগলের মত চোখ । এবড়ো খেবড়ো ধূসর চুল,রোদে পুড়ে যাওয়া ঘাড়ে লম্বা একটা ক্ষত চিহ্ন । সবাই বলাবলি করত তিনি নাকি যুদ্ধকালীন 'নাকানো স্পাই স্কুল' এর গ্রাজুয়েট ছিলেন,যদিও কেউ নিশ্চিত ছিল না । তার পাশে তার অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে দাঁড়ানো থাকতো এখানের এক ছাত্র । ছেলেটা সবসময় নেভি ব্লু ইউনিফর্ম পড়তো,আর তার চুল ছিল কারো দেখা দুনিয়ার সবচেয়ে ছোট ক্রুকাট । আমি ছেলেটার নাম জানতাম না,কোন রুমে থাকতো সেটাও জানতামনা । তাকে কখনও ডাইনিং হল বা গোসলখানায়ও দেখিনি । এমনকি সে আসলেও ছাত্র কিনা সেটাও বলা মুশকিল । তার সবসময়ের পোশাকের কারনে সবাই তার ডাকনাম দিল 'ইউনিফর্ম' । স্যার নাকানোর তুলনায় তার অ্যাসিস্টেন্ট তেলতেলা মুখ ওয়ালা ছোটখাট গাট্টা গোট্টা টাইপের ছিল । এই অদ্ভুত মানিকজোড় প্রতিদিন ভোর ছয়টায় একসাথে পতাকা উত্তোলন করত । ডরমে আসার পর প্রথম প্রথম ভোরে উঠে পতাকা উত্তোলন দেখতাম । রেডিওতে ছয়টা বাজার সাথে সাথেই মানিকজোড় হাজির হত । পরনে থাকতো তার ইউনিফর্ম আর চামড়ার কালো জুতো । নাকানো পড়ত খাটো জ্যাকেট আর সাদা ট্রেইনিং সু । (চলবে. . .)