বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নরখাদক প্রেমিক

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sinha Chowdhury Mim (০ পয়েন্ট)

X পর্বঃ এক. . প্রত্যেকদিনের অভ্যেসমতো বিকালে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। আর আশেপাশের লোকজন আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে থাকার ই কথা, কেননা এই দেশে মেয়েরা সাধারণত চায়ের দোকানে বসে চা খায় না। অনেকেই অনেক কথা বলে। কিন্তু আমিও কারো কথার ধার ধারি না। যথেষ্ট বড় হয়েছি অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ি। নিজের কাছে যেটা ভালো লাগে সেটা করবোই। আর এটা স্বাধীন দেশ আমি আমার নিজের ইচ্ছে মতো চলতেই পারি। অনেকেই ওভার স্মার্ট উপাধি দিয়েছে। নিজের ভালোলাগাকে প্রাধান্য দেয়াকে যদি ওভার স্মার্ট বলা হয় তাহলে হ্যাঁ আমি ওভার স্মার্ট ই। চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম আর এইসব ভাবছিলাম হটাৎ একটি ছেলে ধপাস করে আমার পাশে এসে বসলো আর বলল, "হায়। কেমন আছেন?" আজব তো চিনিনা জানিনা উড়ে এসে জিজ্ঞেস করে কেমন আছি? ছেলেটা ফর্সা মতো, মুখে হালকা চাপদাড়ি। চেহারার গড়ন ও বেশ ভালো। ছেলেটাকে আমি চিনিনা এর আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ছেনা। ভদ্রতার খাতিরে তাকে বললাম, "জ্বি ভালো আছি। আপনাকে ঠিক চিনলাম না।"  ছেলেটি শীতল গলায় বললো,"না চিনার ই কথা। আপনি চিনেন না ঠিকই কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। আপনার নাম সিনহা না? আইডির নাম সিনহা চৌধুরী মিম তাইনা?" আমি বললাম, "হ্যাঁ  কিন্তু আপনি আমায় চিনলেন কিভাবে? “ওইটা পড়ে বলা যাবে কোনো এক সময়। বাই দা ওয়ে আমি আবির। আমার আইডি আরিয়ান চৌধুরী আবির।” আমি বললাম, “আপনার আইডি দিয়ে আমি কি করবো।” আবির বললো, “কিছু করবেন না এমনি ই বললাম আরকি। আসলে গত সাত মাস যাবৎ আপনাকে ফলো করছি আমি  ফেসবুকে ।” আমি বললাম, “ওহ আচ্ছা ।তো আপনার মতলব টা কি বলবেন প্লিজ।” আবির বললো, “হ্যাঁ বলবো কিন্তু আজ না আজ উঠি।” এটা বলেই আবির উঠে যেতে লাগলো। আমার কিছুটা রাগ উঠলো। আমার কোনো কিছুতে আগ্রহ আসলে ওইটা পুরোটা না জানা পর্যন্ত আমার ভালো লাগে না। তাই আমি রাগে কিছুটা মুখ ফুলিয়ে বললাম,”না আপনি এখনি বলবেন।” ও একটু মুচকি হেসে বললো, “রাগলে আপনাকে একদম বাচ্চাদের মতো কিউট লাগে। এখন আমার একটু তাড়া আছে এখন যেতে হবে। আমি আপনাকে পরে ফেসবুকে নক দিবোনে।” এটা বলেই আবির চলে যেতে লাগলো। আমি লজ্জায় কিছুটা লাল হয়ে গেলাম। যদিও শ্যামলা গালের জন্য সেটা কারও নজরে পড়লো না। এতক্ষণ আবিরের সাথে কথা বলতে বলতে চা টা শেষ করতে ভুলে গেলাম। যাইহোক চা খাওয়া শেষ করে চায়ের বিল দিয়ে বাসায় চলে এলাম। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে মোবাইল টা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম আবিরের ম্যাসেজ। ও লাইনেই আছে। আবির ম্যাসেজ দিয়েছিল , -হায় বাসায় পৌঁছিয়ে বইলেন কিন্তু। --হ্যাঁ এসে পড়েছি। -তো কেমন আছেন? --জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি? -জ্বি আলহামদুলিল্লাহ।  --তো বললেন না যে আপনার মতলব টা কি। -না আমার মতলব তেমন কিছুই না জাস্ট আমি একদিন আমার বন্ধুদের সাথে আমাদের এলাকায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম আর দেখলাম আপনাকে ব্যাস পছন্দ হয়ে গেলো। অনেক ভালো লাগলো আপনাকে। এরপর বন্ধুদের বলি আর কিছু বন্ধু চিনতো আপনাকে। আর তারাই আপনার আইডি জোগাড় করে দিলো।  --ওহ আচ্ছা তাই নাকি ভালো লাগে আমাকে?  -হ্যাঁ খুব।  --আমাকে কতদিন যাবৎ পছন্দ করেন?  -এই ধরেন ৮ মাস।  -দেখা করতে পারবেন? -কেনো? --কিছু বলার ছিলো। --আচ্ছা কোথায় আসতে হবে বলেন। -কাল বিকাল ৪ টায় ভিক্টোরিয়া পার্কে।  --আচ্ছা।  বায় আমার একটু কাজ আছে এখন। -আচ্ছা বায়। আর কাল আসবেন কিন্তু। আমি মোবাইল রেখে দিলাম। . . ভিক্টোরিয়া পার্কের একটি পাকা বেঞ্চে বসে আছি আমি আর আবির। কারো মুখেই কোনো কথা নেই দুজনেই নীরব। ভিক্টোরিয়া পার্কে সংস্কারের কাজ চলছে। আগে ঢুকতে দেয়া হতো না কাউকেই কিন্তু পাকা বেঞ্চ গুলি হয়ে যাওয়ার পর সবাই প্রবেশ করতে পারে। আশে পাশের আরো কয়েকটা বেঞ্চে আরো কয়েকজন বসে আছে। আবিরের পড়নে একটি নীল শার্ট আর একটি জিন্স প্যান্ট। হাতে ঘড়ি। বেশ হ্যান্ডসমই লাগছে বলতে হবে। একটু পর নীরবতা ভেঙ্গে আমি বললাম, "কিছু বলার জন্য বোধহয় ডেকেছিলেন। সমস্যা নেই কিছু না বলার থাকলে বলুন আমি চলে যাই।" এবার আবির ক্ষিণ গলায় বললো, "না প্লিজ আমি বলছি" এরপর একটু গলা খাকারি দিয়ে আবির বলতে লাগলো ,"সিনহা আপনাকে না আমার কিছু বলার ছিলো। জানিনা না আমি, আপনি একপাক্ষিক ভালোবাসায় বিশ্বাসী কিনা তবুও বলছি, যেদিন থেকে আপনাকে দেখেছি সেদিন থেকে আপনাকে ঠিক এই বুকের মাঝটায় রেখে দিয়েছি। সোজাভাবে বলতে গেলে আপনাকে বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি।" এবার আবির আমার একটা হাত তার হাতে নিয়ে বলে, "আমি আমাদের  সম্পর্কটাকে আপনি থেকে তুমিতে নিতে চাই। আপনি কি এতে রাজি?" আমি খেয়াল করলাম ওর চোখে কিছুটা পানি রয়েছে যা জ্বল জ্বল করছে। আমি ওর হাত থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত গলায় বললাম, "দেখুন আপনাকে আমি ওতটা চিনিনা তবে কাল জানাবো। আগে ভেবে নেই।" আবির বললো"আচ্ছা।" এটা বলার পর আমি একপ্রকার তাড়াহুড়ো করে বাসায় চলে এলাম। মনে কেমন জানি একধরনের শিহরণ কাজ করছিলো। এই ছোট্ট জীবনে অনেক প্রপোজ পেয়েছি কিন্তু কারও প্রপোজ পাওয়ার পর মনে এতোটা শিহরণ জাগেনি আগে যতটা শিহরণ জাগলো ওর প্রপোজ পাওয়ার পর। ওর চেহারাটা অনেক মায়ায় ভরা ছিলো। আর ওর চোখের জল টা আমায় আরো দুর্বল করেছিলো ওর প্রতি। কেনো জানি এই না চেনা লোকটার প্রতিই আমার একপ্রকার ভালোলাগা কাজ করতে লাগলো। ওইদিন রাতে আমার আর ঘুম হলোনা কেনো জানি সারারাত শুধু আবিরকে নিয়েই ভাবলাম। পরেরদিন ই আমাদের আপনি সম্পর্ক টার ইতি টেনে তুমি তে চলে গেলাম। মানে আমি ওর প্রপোজ এক্সেপ্ট করে নিলাম। ওর সাথে ফেসবুকে কথা হতে লাগলো। রাত বিরাতে ফোন দিতে লাগলো। আবারো ভিক্টোরিয়া পার্কে দেখা করলাম এমনি ভাবেই কেটে গেলো সাত দিন। আজ ও বলেছে আমাকে নিয়ে নাকি সারা বিকাল ঘুরবে আর ওর বাসায় ওর আম্মুর সাথে দেখা করতে নিয়ে যাবে। এই সাত দিন ওর সাথে ভালোই কাটলো কিন্তু…মাঝে মাঝে ওর আচরণ আমার কাছে একটু রহস্যজনক মনে হয়েছিলো। যেমন গত দুইদিন ও পুরো উধাও ছিলো। কোনো কল নেই, কোনো মেসেজ ও নেই। হটাৎ  আজ সকালে কল দিয়ে বললো যে আজ বিকালে ঘুরতে বেরুবে আমায় নিয়ে। আবার যেই দুই কি তিন দিন ঘুরতে বের হলাম একদিনও কোনো রেস্টুরেন্ট এ যেতে চায় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নরখাদক প্রেমিক
→ নরখাদক প্রেমিক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now