বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নরখাদক প্রেমিক

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sinha Chowdhury Mim (০ পয়েন্ট)

X পর্বঃ দুই এবং শেষ পর্ব. আমার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকে তবুও এক গ্লাস পানি পর্যন্ত খায়না অন্য কিছুতো পরের কথা। এছাড়াও মাত্র একসপ্তাহ হলো আর ও ওর মার সাথে দেখা করতে নিয়ে যাবে।যাই হোক বিকেল বেলা আমি একটি লাল শাড়ি পড়ে বের হতে গেলাম আর তখনই আম্মু পথ আটকিয়ে বললো, "এতো সেজেগুজে যাচ্ছিস টা কোথায়।" আমি কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বললাম "আরে তাসনিমার(আমার ফ্রেন্ড) ছোট বোনের জন্মদিন, তো ওইখানেই যাচ্ছি।" আম্মু বললো "আচ্ছা তাড়াতাড়ি ফিরবি" আমি বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম।   আমি আর আবির এখন ৩০০ ফিট এ আছি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। পুব আকাশে সূর্য নিভু নিভু অবস্থা। আমরা বিকেল থেকে হাতিরঝিল এ ঘুরছিলাম। আর ও বললো ওর বাসা নাকি ৩০০ ফিট এ। আমার মনে একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিলো যে আমাদের বাসা থেকে ৩০০ ফিট অনেক অনেক দূরে তাহলে ও এতদূরে গিয়ে আমাকে খুঁজলো কিভাবে। প্রায় ২ ঘন্টার পথ আমাদের বাসা থেকে। অনেক প্রশ্নই নাড়া দিচ্ছে মাথায় কিন্তু জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করছে না এই রোমান্টিক মূহুর্তে আমি এইসব প্রশ্ন করে আবিরকে বিভ্রান্ত করতে চাই না। যাইহোক আমরা ৩০০ ফিট এর অনেকটা ভেতরের দিকে এসে পড়েছি এখানকার রাস্তা খুবই নির্জন প্রায় অনেক্ষন পর পর মানুষের দেখা মিলে। এখন পুরোপুরি সন্ধ্যা নেমে গেছে। আকাশে চাঁদ উঠেছে। আজ বোধহয় পূর্ণিমা। পুরোটা চাঁদ দেখা যাচ্ছে আকাশে। আবিরের হাত ধরে হাটছিলাম আর গল্প করছিলাম। খুব ভালো লাগছিলো। আরো অনেক্ষন হাটার পর একটি বাড়ির কাছে পৌঁছালাম। আবির বাড়িটার কাছে এসে থেমে গেলো। বাড়িটি একদম নির্জন জায়গায়। এই বাড়ির চারপাশে আর কোনো বাড়ি নেই। বাড়িটি দো'তলা। বাড়িটির ভিতরে সম্পূর্ণ অন্ধকার। বাইরেরটুকু চাঁদের আলোর জন্য দেখা যাচ্ছে। আবির বললো "এইটাই আমাদের বাড়ি। ভিতরে চলো মা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। বাড়িটিকে সম্পূর্ণ ভুতুড়ে লাগছে। আমি ভয়ে ভয়ে আবিরের হাত ধরে ভিতরে প্রবেশ করলাম। আবির আমাকে ভিতরে গিয়ে একটি রুমে বসতে দিলো একটি চেয়ারে। রুমে তেমন কিছু নেই। এই বাসায় কোনো বিদ্যুৎ ও নেই। এই রুমে শুধু একটা মোমবাতি জ্বালানো আছে। একটু পর একটি বৃদ্ধা এই রুমে প্রবেশ করলো।  বুঝতে বাকি রইলো না এটা আবিরের মা। বৃদ্ধা আমার সাথে কথা না বলে রুমের কোনার দিকে নিচ হতে একটি বস্তা বের করলো। আমার মনে হলো কেউ একজন পিছন হতে আমাকে রশি দিয়ে বাঁধছে। পিছনে তাকাতেই দেখি আবির। আশ্চর্য তো! ও আমাকে বাঁধছে কেনো? আবার সামনে তাকাতেই আমি আতঁকে উঠলাম। দেখলাম বৃদ্ধাটি ব্যাগটি থেকে কিছু কন্কাল বের করতে লাগলো। কি হচ্ছে কি আমার সাথে? আমি চিৎকার করতে লাগলাম। আবির বললো, " জান চিৎকার করে কোনো লাভ নেই এখানে দূর দূর পর্যন্ত কেউ নেই কেউ শুনবে না" আমি রাগান্বিত হয়ে বললাম "আমি তোদের কি করেছি কি করবি আমার সাথে?" আবির মুখে বাকা হাসি নিয়ে বললো, "বেশি কথা না বাড়িয়ে মরার জন্য প্রস্তুত হও।" আমি বললাম, "মানে! কি করবি আমার সাথে আর তুই না আমাকে ভালোবাসিস৷ আমিতো তোকে বিশ্বাস করেছিলাম রে এর প্রতিদান এই দিলি।" আবির এবার শয়তানি হাসি হাসতে লাগলো, "তোমার মতো আরো শত শত মেয়েকে ভালোবেসেছি আর ওরা আমাকে বিশ্বাস করেছে। এই বৃদ্ধা ডাইনি আর আমি নরখাদক। উনার সৌন্দর্য ফেরতের জন্য যুবতী মেয়ে লাগে আর আমার খাওয়ার জন্য মানুষ। ওই দেখো ডাইনী মন্ত্র পড়ছে একটু পর তোমার দেহ থেকে জান বের হয়ে যাবে। আর আমি তোমাকে খুবড়ে খুবড়ে খাবো। ততক্ষণ যা ভাবার ভেবে নেও।" আমি বললাম, "হয়তো আমাকে মেরে ফেলবি, হয়তো তোরা আরো মেয়েকে মেরেছিস আর আরো মারবি। কিন্তু দেখেনিস একদিন কেউ না কেউ আসবে যে কিনা এসব কিছুর শেষ দেখে ছাড়বে।" এটা বলার পর আবির আরো জোরে হাসতে লাগলো আর কিছু বললো না। আমার খুব খারাপ লাগছে। নিজের জন্য না, নিজের পরিবারের জন্য। মা বাবার সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করেছি। তাদের কথা কখনো শুনিনি। তারা আমার জন্য অনেকের কাছেই লজ্জিত হয়েছে। তারা যখন শাসন করতো আমি তাদের মুখের ওপর কথা ছুড়ে দিতাম। মন চেতো যে তাদের ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাই। আর এখন যখন চলে যাবো তখন খুব খারাপ লাগছে। আস্তে আস্তে আমার শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শরীরটা ভিষণভাবে ছটফট করছে। বড় হওয়ার পর বাবা-মাকে জড়িয়ে কখনো বলিনি ভালোবাসি। এখন খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু কখনোই সব ইচ্ছে পূরণ হয়না। কিছু ইচ্ছে অপূর্ণই থেকে যায়। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নরখাদক প্রেমিক
→ নরখাদক প্রেমিক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now