বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নকল বউ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃহাছান(guest) (০ পয়েন্ট)

X নকল বউ””” সন্ধা ৭ টা বাজে । আজকে শুক্রবার বলে অফিস অফ ডে। গার্মেন্টস এ যারা চাকরি করে তাদের শুক্রবার দিন টা কাপড় ধুতেই চলে যায়। ঘুম থেকে উঠে বিকেল বেলা একটু বাইরে হাটতে আসছিলাম । সারা সপ্তাহে একটা দিন সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়ার সময় পাই। এখন রুমে ফিরছি। রাতের খাবার টা রেডি করতে হবে আবার। কিছুদূর যাওয়ার পর লক্ষ্য করলাম কে জেনো আমায় ফলো করতেছে। চারোদিক হালকা অন্ধকার নেমে এসেছি। তাই ঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছি না। কিছুদূর যাওয়ার পর ল্যাম্পপোস্ট এর আলোতে পেছনে ফিরে তাকালাম। দেখলাম একটা মেয়ে বয়স সম্ভবত (২০-২১) আমার মতই হবে, একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে আমার পেছন পেছন আসতেছে। আমি থেমে গেলাম। সোজা মেয়েটার সামনে গিয়ে বললাম… :- এক্সিউজ মি….আপনি কি আমায় কিছু বলবেন..?? মেয়েটা কোন কথা বলছেনা। চুপ করে দাড়িয়ে আছে। আমি আবার বললাম… :- কি হলো কিছু বলবেন..?? মেয়েটা হ্যাঁ সুচক মাথা নাড়লো। আমি বললাম… :-বলুন কি বলবেন..?? মেয়েটা বলল :-পিপাসা পেয়েছে। একটু পানির ব্যবস্থা করবেন প্লীজ। তারপর আমি আপনাকে সব বলছি। আপনার নাম আরিয়ান তাই না..??আরেহ!!! । এই মেয়েতো আমার নাম জানে। কিন্তু আমি তাকে কখনো দেখেছি বলে মনে পরছেনা তো :-আপনি আমার নাম জানলেন কি করে….. মেয়েটা মুচকি হেসে বললো :-সেটা নাহয় পরে বলি। এখন একটু পানি খাওয়ান প্লীজ। …….. একটা হোটেলে গিয়ে হালকা কিছু খেয়ে পানি খেয়ে নিলাম। বাইরে বের হয়ে মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বললাম…. :-কি জেনো বলতে চাইছিলেন..?? মেয়েটা তখন বলতে শুরু করলো। একজনের খোজে এখানে এসেছে। কিন্তু ঢাকা শহরে নতুন। তাই কিচ্ছু চিনে না। অনেক কথা বললো মেয়েটা আমার সাথে। কিন্তু একটা কথা আমায় একদম চমকে দিলো। মেয়েটা বললো… :-কয়েকটা দিন আপনার সাথে থাকার জায়গা হবে..?? .. কয় কি মেয়েটা!!!। কোন এক অচেনা মেয়ে থাকবে আমার সাথে..!!! :-আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন..??মাথা ঠিক আছে তো..?? আমি একটা ব্যাচেলার ছেলে। আর আপনি একটা যুবতি মেয়ে থাকবেন আমার সাথে..??.. ….. এরপর মেয়েটা যা বললো আমি আরো চমকে গেলাম :-আপনি নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারবেন না..?? আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করে আপনার পাশে থাকবো ….. মেয়েটার কথা আমাকে মুগ্ধ করে তুলছে। আমি এবার পুরোপুরিভাবে মেয়েটার দিকে তাকালাম। মায়াবী চেহারা। ফর্সা আর ডাগর ডাগর চোখ। মেয়েটাকে কোথায় যেনো দেখেছি মনে হচ্ছি। নাহ্ মনে করতেও পারছিনা। :- এতকিছু ভাবছেন কেনো। এতটুক সাহায্য করুন আমায় প্লীজ আর কিছু বলতে পারলাম না মেয়েটাকে নিয়ে সোজা চলে গেলাম রুমে। রাতের রান্নাটা আজকে বেশী করা লাগবে …… বাসায় বসে ফোন টা গুতাচ্ছি আর মনে মনে ভাবছি যেটা করছি সেটা কি ঠিক হচ্ছে…?? ……. কিছুক্ষণ পর দেখলাম মেয়েটা রান্না করার জন্য কিচেনে গেলো। যাক আমার কাজের কিছুটা আসান হচ্ছে। রান্না করার পর দুজনে একসাথে খেয়ে নিলাম। মনের মাঝে একটা সংকোচ কাজ করতে লাগলো। একই ঘড়ে দুজন অপরিচিত যুবক যুবতি আছি। তাছাড়া আমি এমনেই মেয়েদের সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করি। :- আচ্ছা আপনি কতদিন থাকবেন আমার এখানে..?? …কথাটা শেনার পর মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। আমি আবার সংকোচ এর মধ্যে পরলাম। কেউ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি নিজে খুব বোরিং ফিল করি। মেয়েটি আমার কথার উত্তর দিলো :- কেনো..?? আপনি কি খুব সমস্যায় পরে গেছেন :-না আসলে, সেটা না। এমনি জিঞ্জেস করলাম। আপনার নামটাই তো জানা হয় নি :- ও তাই তো। আমি রিয়া … টুকটাক কথা বার্তা বলে আমি মেয়েটার সাথে অনেক টা ফ্রী হলাম। রাতে খাওয়ার পর এখন শোয়ার পালা। একাই থাকতাম বলে সিঙ্গেল বিছানায় শুতাম। মেয়েটাকে বিছানায় শুতে বলে আমি মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে পরলাম। মেয়েটার সাথে টুকটাক গল্প হচ্ছে। শোনাতে থাকলো তার জীবন কাহিনী। মেয়েটা এক পর্যায়ে এমন কথা বলল যা শুনে আমি আবার বিদ্যুৎ এর শখ খেলাম মেয়েটা বলল… :-আমি একটা কথা বলি রাখবেন..? :-কি কথা :-ওয়াদা করেন কথাটা রাখবেন :-ওয়াদা করছি কথাটা রাখবো …..এরপর মেয়েটা বলল :- আমার সাথে আপনাকে স্বামী -স্ত্রীর অভিনয় করতে হবে :-হোয়াট..!!!। কি বলেন এসব..?। মাথা ঠিক আছে তো..!! :-প্লীজ রাগ করবেন না। এটা আমার জীবন মরণের খেলা। আপনি সহযোগিতা করলে আমি জয়ী হবো :-জীবন মরণের খেলা মানে..?? :-আপনাকে সবকিছু পরে বলবো। আপনার পায়ে ধরি আপনি না করবেন না :-আরে আরে কি করছেন..!!! ছাড়ুন বলছি। ঠিক আছে আমি রাজি :-থ্যাংকস। আমি আপনার কাছে অতি কৃতঞ্জ …. :-আামকে কি করতে হবে..?? :- আপনি শুধু আমার সাথে স্বামীর অভিনয় করবেন। আমি আপনার বউ কালকে আমরা গ্রামে যাবো…. মনে মনে ভাবছি : কি হচ্ছে আমার সাথে এসব। অনেকদিন ধরে ঢাকায় আছি। কমপক্ষে ৭ বছর ধরে। বাসা থেকে রাগ করে চলে এসেছিলাম এক বড় ভাইয়ের সাথে। আগে টুকটাক কাজ করতাম। এখন গার্মেন্টস এ চাকরী করি। চোখে ঘুম চলে আসলো। ঘুমাইতে হবে। কালকে অনেক কাজ। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আসতে হবে। মেয়েটার সাথে আবার গ্রামে যেতে হবে। আল্লাহ জানেন মেয়টা আমায় কোনভাবে ফাঁসাতে চায় কি না। কপালে যা আছে তাই হবে। এটা ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম। …. সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো কিসের শব্দে। দেখলাম মেয়েটা ব্যাগ গোছাচ্ছে। আমি জেগে উঠতেই আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল… :-বেলা অনেক হয়েছে। ঘুম এখনো ভাঙেনি বুঝি..? … আমি কিছু বললাম না। চুপচাপ উঠে চলে গেলাম ফ্রেস হওয়ার জন্য। ফ্রেস হয়ে নাস্তা করতে বসলাম দুজন। আমি মেয়েটাকে বললাম… :- তাহলে কি আমরা আজকে গ্রামে যাচ্ছি..?? :- হুমম। কেনো যেতে ইচ্ছা করছেনা..?? :- না, আসলে সেটা বলছি না। আমাকে একটু অফিস যেতে হবে ছুটি নেওয়ার জন্য :- ঠিক আছে। আমি রেডি হই আপনি ছুটি নিয়ে আসেন :-আমরা কোন গ্রামে যাবো..?? টিকিট কেটে নিতে হবে যে :-ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থাকার টিকিট কাটবেন। :-হরিপুর..??ওখানে তো আমার খালার বাসা..!! :- তাই নাকি..?? তাহলে তো ভালোই হলো যান তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় গিয়ে রেডি হয়ে নিলাম। আল্লাহ ভরষা কি হয় কপালে যা আছে তাই হবে। আমার কারণে যদি একটা মেয়ের উপকার হয় তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই :- কি হলো এখনো হয় নি আপনার..?? :- এই তো আসছি… :- একি..!! আপনি শাড়ী পরলেন যে..!! :- শাড়ি না পড়লে বউ মানাবে কি করে .. মেয়েটাকে যত দেখি ততই মুগ্ধ হই । অদ্ভুত রকমের কথা বলে মেয়েটা। বলতে বলতে বাইরে বের হয়ে গেলাম। অফিস থেকে ফেরার পথে দুই টা টিকিট নিয়েছিলাম। ….****** আমরা এখন গাড়িতে জার্নি করতে হবে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। দুজনে পাশাপাশি দুটো সিটে বসে আছি। মেয়েটার দিকে আড় চোখে তাকালাম। কোন ভয়ের ছাপ নেই। মনে হয় না কোন বিপদে পরেছে। মেয়েটাকে যতই দেখেছি ততই অদ্ভুত এক রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি। আমাদের সিট টা ডান পাশে। বাম পাশের সিটে একজন বৃদ্ধ বসেছে। তখন থেকে বকবক করে চলেছে। রসিকতা করছে অনেকের সাথে। আমাদের উদ্দেশ্য করে বলল.. :- কি ব্যাটা..?? কতদিন হলো বিয়ে করার আমি কি বলবো ভাবতে পারছিলাম না। থ হয়ে ছিলাম মেয়েটা তখন বলল :- ১ মাস হয়েছে চাচা.. :- বাহ্। চালিয়ে যাও ফুলটুসি। বর কি কম কথা বলে নাকি তোমার..?? :- জ্বী…উনি কম কথা বলেন … আমি কথাটা শুনে মেয়েটার দিকে তাকালাম। চোখাচোখি হতেই মেয়েটা জিহ্বায় কামড় দিলো। আমি কিছু বললাম না। জানালার হালকা বাতাসে চরম শান্তিতে চোখটা আরামে বুজে গেলো… ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো হালকা ঝাকিতে। চোখটা খুলে আমার কাধে কারো অস্তিত্ব টের পেলাম। মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে। কি নিষ্পাপ চেহারা। মনে হচ্ছে খুব চেনা ফেস। একদম আমার গায়ের সাথে মিশে গেছে। আমি তার দেহের উষ্ণতা টের পাচ্ছি। আমার ভেতরের অনুভুতিটা জাগ্রত হওয়ার চেষ্টা করছে। মেয়েটাকে সরিয়ে দিলাম সিটটাতে ভালোভাবে মাথাটা বসিয়ে… প্রায় ১২ ঘন্টা জার্নি করার পর গাড়িটা এসে থামলো হরিপুর বাস স্টেসনে ঘড়িতে তখন : রাত ৯:৩০ . . বাসটা থেমে গেলো। মেয়েটা এখনো ঘুমে আচ্ছন্ন। আমি আস্তে করে ডাক দিলাম…. :- এই যে মিস…আমরা এসে গেছি। নামতে হবে। … মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে তার কাপড় চোপড় ঠিক করে নিলো। তারপর বললো… :- ঠিক আছে চলুন নামা যাক … আমরা নামার পর থেকে মেয়েটা কি যেনো খুজতেছে। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। :- আপনি কি কিছু খুঁজতেছেন..?? :- উমম..!! না না কিছু না। রাত হয়েছে। চলুন রিকশায় করে উঠি :- আমি যতদূর জানি এখানে রিকশা নেই। এটা গ্রাম্য এলাকা। এখানে অটো সিএনজি তে করে যেতে হয় :- বাহ্..!! আপনি তো দেখি ভালোই জানেন। :- হুমম বহুবার এসেছি আমার খালার বাসায়। :- আচ্ছা..!! আপনার খালার বাসাটা কোথায়..?? :- প্রায় ৭ বছর আগের কথা। বাসাটা কি আর আগের মতই থাকবে। ভুলেই গেছি। শুধু এইটুকু মনে আছে যে এইদিক দিয়ে যেতে হবে। :- হুম… আমরা এখন ঔদিক দিয়েই যাবো :- মানে কি..!! আপনার বাসাও কি ঐদিক নাকি :- হুমম… …. মাথায় কিছু ঢুকছে না। কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে আল্লাহ জানে। আটোতে করে যাচ্ছি। অন্ধকারে কিছু চিনতে পারছিনা। গ্রামটা পুরো বদলে গেছে। সেই ৭-৮ বছর আগে কেমন ছিলো আর এখন পুরোটা বদলে গেছে। :- আপনাদের গ্রাম টা পুরো পাল্টে গেছে :- হুমম..সময়ের সাথে সাথে সবকিছু পাল্টে যায়। যেমন আপনি পাল্টে গেছেন :- মানে কি..!! আপনি কি আমায় আগে দেখেছিলেন..?? :- না, ইয়ে মানে। আপনি নিশ্চয় আগে এরকম ছিলেন না। বয়স হয়েছে তাই এখন আলাদা হয়েছেন। তাই না..?? ….. আবারো অদ্ভুত লাগছে মেয়টার কথা বার্তা। আমি আবার বললাম :- আচ্ছা..!! আপনাদের বাসায় গিয়ে আমার কাজ কি..?? :- কিচ্ছু কাজ নেই। আপনি শুধু আমার বরের অভিনয় করবেন। আমি আপনার বউ। ব্যস এইটুকুই কাজ :- কিন্তু এতে আপনার লাভ কি..?? :-আমার লাভ না আপনারই লাভ। :- মানে..?? :- না কিছুনা। আমরা এসে গেছি। নামুন প্লীজ। ….. মেয়েটার কথা যতই শুনছি ততই বড় অদ্ভুত লাগছে। কথাটা শুনে মনে হচ্ছে মেয়েটা কি যেনো লুকাচ্ছে আমার কাছে। অটো থেকে নামলাম। অন্ধকারে বাসাটা ঠিকভাবে দেখতে পেলাম না। মেয়েটা বাসার গেট টাতে টোকা দিতে লাগলো। ভেতর থেকে একজন মহিলা এসে গেট খুললো তারপর বললো… :- এসেছিস..!!.. আয় ভেতরে আয় তোরা … আশ্চর্য!! । মহিলাটা এত স্বাভাবিক ভাবে কথাটা বললো মনে হচ্ছে কিছুই হয় নি। আজব সব মানুষ এরা মেয়েটা বললো :- কি ভাবছেন…? আসুন ভেতরে আসুন। …. ভেতরে গিয়ে ভদ্র মহিলা কে সালাম দিলাম। আসল আর নকল হোক শাশুড়ি বলে কথা। মহিলা আমার সালাম নিলেন। বাসাটাও অন্ধকার। আমি মেয়েটাকে বললাম.. :-আচ্ছা আপনার বাসায়… :- সসসসসস..!! তুমি করে বলুন। বউ কে কেউ আপনি করে বলে। মেয়েটা বলল… :- ইয়ে মানে..!! তোমাদের বাসায় কি বিদ্যুৎ নেই?? :- হুম আছে তো.. :- তাহলে অন্ধকার কেনো। :- ও তুমি বুঝবেনা। বাইরের বাতি সব অফ করা আছে একটা কারণে। আমরা একটা ঘড়ে গিয়ে ঢুকলাম। ঘড়ের বাতি জালানো আছে। মেয়েটা ঘড়ে পানি নিয়ে আসলো। আমার মুখ হাত ধোওয়ার জন্য। :- আচ্ছা বাসায় কি আর কেউ নেই..?? :- আছে অনেকে :- তাহলে বাসা খালি কেনো..?? :- আজকে বিশ্রাম করুন কালকে সকালে সবাই কে থাকতে হবে :- আচ্ছা..!! আমাকে এখানে কতদিন থাকতে হবে..?? মেয়েটা মুচকি হেসে বলল.. :- শশুড় বাড়ি কি কেউ হিসেব করে থাকে..??☺☺ ….. কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আমার জন্য খাবার নিয়ে আসলো। পেটে অনেক খুদা। আগে খেয়ে নিই তারপর দেখা যাবে খাওয়া দাওয়া সেরে এবার আমাদের ঘুমানোর পালা। আমি শুয়ে আছি আর মেয়েটা আমার পাশে বিছানায় বসে আছে। মেয়েটা মনে মনে হাসতেছে :- হাসেন কেনো..?? :- আমি সাকসেস হয়েছি তাই হাসছি :- আপনাদের পরিবারের সদস্যরা সবাই কি অদ্ভুত..?? :-কেনো?? :- এই যে আপনি আমায় নিয়ে বাসায় ঢুকলেন কারো কোন আপত্তি হলো না..!! :- হা হা হা হ্যাঁ। আমরা অদ্ভুত ফ্যামিলির মানুষ কালকে সকালে আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করতেছে। :- আমার আবার কিসের সারপ্রাইজ..?? :- সকাল হলে দেখবেন…. মেয়েটা আমাকে গল্প শোনাতে লাগলো। আমার সাথে এমন আচরণ করছে যেনো সত্যি আমার বউ। হাত নেড়ে নেড়ে গল্প শোনাচ্ছে। হঠাৎ করে আমার চোখটা চলে গেলো ঘড়ের দেওয়ালে। সেখানে একটা ছবি টাঙানো। বিদ্যুৎ শখ খেলে যেমন হয় তার থেকেও বেশী অনুভব করলাম। আমি শোয়া থেকে উঠলাম। আমার উঠা দেখে মেয়েটা আমায় বলল… :- উঠছেন কেনো… :- ঐ ছবিটা এখানে কেনো..?? মেয়েটা আমার কথা শেনার পর জিহ্বায় কামড় দিয়ে মুখটা ঘুড়িয়ে ফেললো.. :- কি হলো বলুন মেয়েটা কিছু বলছে না… আমি পেছনে পিট থেকে ওর ব্লাউজ টা একটু করে তুলতে লাগলাম। মেয়েটা লজ্জায় মুখ ঘুড়িয়েই আছে (পাঠক/ পাঠিকা রা খারাপ কিছু মনে করবেন না। এখানে রহস্য লুকায়িত আছে) আমি মেয়েটার ব্লাউজ টা পেছন থেকে হালকা ভাবে তুলতে লাগলাম। কিছুটা তুলার আমি সেই দাগ টা দেখতে পেলাম। আর কোন কথা না বলে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম…. :-সুমি তুই….!! … ও কোন কথা বলছে না। কাঁদতে শুরু করেছে। মুখ টা ঐদিকেই ঘুড়ে আছে। :- আগে বলিস নি কেনো যে, তুই সুমি..?? …ও কাঁদতে কাঁদতে অভিমানী কন্ঠে বলল :- হুহ..!! মানুষ এত স্বার্থপর হয় আগে জানতাম না। আমাকে তুই ভুলে যেতে পারলি..?? :- সরি রে..!! তুই যে এত বড় হয়েছিস তা আমার ধারণার বাইরে। ৭ বছরের তুই আর আজকের তুই অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছিস। :-হুহ..!! আমি কেমনে তোকে চিনতে পেরেছি..? :- ছোট থেকেই তো তোর স্মৃতিশক্তি আমার থেকে বেশী। তাই তুই চিনতে পেরেছিস। :-আচ্ছা…!! যে মহিলাটা দরজাটা খুলেছিলো ঐটা কি তাহলে খালা ছিলো..?? …. সুমি আমাকে কিল ঘুষি মারতে মারতে বললো… :- কুত্তা, বিলাই, ছাগল কোথাকার নিজের খালার কন্ঠ চিনতে পারিস না..!! :- তোরা কত চালাক মাইরি…বাইরে আলো বন্ধ ছিলো কেনো..?? :-হুমম…তোর সাথে কেমন গেইমটা খেললাম। আরো অনেক কিছু করতে চাইছিলাম। কিন্তু ঐ ছবিটা সব প্লান নষ্ট করে দিলো… ….. আমি সুৃমিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর গালের সাথে আমার গাল ঘষতে লাগলাম। ও চোখ বন্ধ করে আছে। আমি বললাম… :-তুই আসলেই খুব চালাক রে…কত বুদ্ধি তোর। আমাকে ফিরিয়ে আনলি তুই :- আরিয়ান ছাড়….আমার আম্মু তো জানে যে আমরা স্বামী-স্ত্রী না। আমাকে অন্য ঘড়ে ঘুমাতে হবে। :- ঠিক আছে যা। তবে খালাকে পাঠিয়ে দিস। অনেকদিন দেখিনা :- ঠিক আছে.. …. কিছুক্ষণ পর খালা আসলো রুমে। এসেই আমায় জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগলো। আরো কিছু কথা বলে খালা চলে গেলো… আপনারা হয়তো এতক্ষণে বুঝে গেছেন যে আমার বউ এর অভিনয় করতো সে আমার আপন খালাতো বোন। ওর নাম সুমি। অনেক বুদ্ধিমতি মেয়ে। কোন চাল চালিয়ে আমাকে নিয়ে আসলো। আর আমি ওকে চিনতে পারিনি এটাই বড় ব্যর্থতা। কিছুক্ষণ পর সুৃমি আবার রুমে আসলো। :- কিরে আবার আসলি যে… :- মা আমাকে এ রুমেই শুতে বললো। আমি নিচে শোব তুই উপরে থাক :- আমার সাথে থাকবি..?? ভয় করেনা..??☺☺ :- তোকে আমি ছোট থেকেই চিনি। তাই তোকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তুই কিছু করলে আমি আমায় যখন একা পেয়েছিলি তখনেই করতিস :- তুই আমায় খুজে পেলি কেমনে রে ঢাকায়..?? :- তোর ঠিকানা নিয়েছিলাম রাসেল ভাইয়ের কাছে। রাস্তায় দেখা না হলে সোজা তোর বাসায় যেতাম :- হুমম। ওকে এখন ঘুমাতে দে :- ঠিক আছে ঘুমা. কি থেকে কি হলো। ভাবছিলাম কি আর হলোটা কি। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম। ঘুমটা ভেঙে গেলো কারো হাতের ছোয়ায়। সম্ভবত সকাল হয়েছে। চোখটা খুলতে যা দেখলাম… দেখলাম আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ৭ বছর পর মায়ের মুখ দেখছি। আমি উঠতেই মা কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরলো। তারপর বলল.. তোর এত রাগ রে খোকা…!!… সবাই কে ছেড়ে তুই একা সাত টা বছর কাটিয়ে দিতে পারলি … আমি কিছু বলতে পারলাম না। চোখো কখন পানি এসে গেছে ভাবতে পারিনি। পেছনে দেখতে পেলাম বাবা দাড়িয়ে। বাবার সাথে রাগ করেই সেদিন বাসা থেকে চলে গেছিলাম। সোজা গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম… :- কি রে খোকা..!! তোর বাবা নাহয় ভুল করেই তোকে মেরেছিলো। বাবা রা তো মারলেও আদর করতে দেরী করে না। তুই সেদিন আমাকে আদর করারো সুযোগ দিলি না..!! আপনজন দের কাছে পেয়ে আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলো না। আবেগের বসে কান্না বের হচ্ছে। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম ছোট বোনটা কাঁদছে। আমার সেই ছোট বোনটা আজ কতটা বড় হয়ে গেছে ওর কাছে যেতেই অভিমানে মুখটা ফিরিয়ে নিলো… তারপর বললো… :- যে আমায় ছেড়ে চলে যেতে পারে সে আমার ভাইয়া না.. কথাটা শোনার পর বোনটাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম তারপর কান্না জড়িত কন্ঠে বললাম.. :- সরি রে আপু… আমায় ক্ষমা করে দে। আর কোনদিন তোকে ছেড়ে যাবো না ও চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে আমার বুকে এসে লুকোলো। আরো কত মানুষ আমায় দেখতে এসেছে। সবাই দাড়িয়ে মনে হয় সিনেমার কাহিনী দেখতেছে। সবার চোখে অশ্রু। আমি ফ্রেস হয়ে আসলাম। কিছুক্ষণ পর সুমি আমার খাবার নিয়ে আসলো। আমি খাচ্ছি আর সুৃমির দিকে তাকিয়ে আছি। ও আমায় ইশারায় বলতেছে..কি দেখো? আমি ওকে কাছে ডাকলাম… ওকাছে আসলো। আমি ওর কানে কানে বললাম… :-তুই আমার সত্যিকারের বউ হবি..?? … কোন কথা বলছে না। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে আছে। আমি আবার বললাম। :- কি রে..!! আমার বউ হবি..?? সত্যিকারেরর..?? সুমি বলল.. :- তোর জন্যই তো আমি এতদিন অপেক্ষা করেছি। নাহলে এতদিন কবেই আমার বিয়ে হয়ে যেতো কথাটা বলেই বউ আমার দৌড়ে চলে গেলো … ৭ বছরে টাকা ভালোই জমিয়েছি। বিয়েটা করেই ফেলি। পারিবারিক আলোচনা সাপেক্ষে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হলো…আপনাদের দাওয়াত দিবো না কিন্তু… বাসর রাতে :- :- কি হলো তুই বালিশ নিয়ে কোথায় যাস(সুমি বলল) :- কেনো নিচে শোবো না..?? :- থাপ্পড় দিবো একটা ফাজিল কোথাকার। তুই জানিস না আমি এখন তোর সত্যিকারের বউ… ওরে বাবা। কোন বউ রে বাবা। বাসর রাতেই এত ঝাড়ি। না জানি পরে কি হয় ********সমাপ্ত *******


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আশ্চর্য ফোনকল
→ রেসলিং আসল না নকল?
→ নকল বউ
→ ,আসল নকল
→ নকল মানুষ
→ নকল ডাক্তার!
→ নকল বৌ
→ নকল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now