বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৪।
ফেরার পথে খন্দকার সাহেবের মন জুড়ে রইল
দু’জন মানুষ। কি বিচিত্র জীবন! দুজনেরই কত
সমস্যা, আর তার থেকে বাঁচার জন্যে দুজনেই
একই পথ বেছে নিয়েছে। বড় অদ্ভুত!
ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্ক হয়ে
গিয়েছিলেন তিনি। হঠাত করেই খেয়াল করলেন,
তার পাশে কেউ একজন হাটছে। ঘাড় ঘোরাতেই
চোখাচোখি হয়ে গেল। সাদা পাজামা পাঞ্জাবী।
মুখে স্মিত হাসি। সেই বৃদ্ধ। খন্দকার সাহেব
তাকাতেই বললেন, ‘কি ব্যাপার, এত দেরি হল
আপনার ফিরতে? পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন নাকি?’
‘আরে, আপনি? কোথা থেকে এলেন? খেয়াল
করিনি তো?’ বিস্ময় প্রকাশ করলেন খন্দকার
সাহেব।
‘আমিও এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম। আপনার সাথে
দেখা হয়ে ভালই হল। গল্প করতে করতে যাওয়া
যাবে।’
‘হ্যা, সেই ভাল। চলুন। আর ভাল কথা, আপনার সেই
লোকের সাথে আমার দেখা হয়েছিল।’
‘কোন লোক?’
‘ওই যে, পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল, আপনাকে
দেখে পালিয়ে গেল। বলেছিলেন না?’
‘হ্যা, মনে পড়েছে। কথা হয়েছে নাকি তার
সাথে আপনার? কি বলল সে?’
‘আপনি ঠিকই ধরেছিলেন। আত্মহত্যা করতেই
এসেছিল সেই লোক।’
‘তাই নাকি? কিজন্যে, জিজ্ঞেস করেননি?’
‘সে এক লম্বা কাহিনী। তবে আমার কাছে খটকা
লাগল এক জায়গায়।’
‘কোন জায়গায়?’
লোকটা এতদিন ছিল আমেরিকায়। আজ এতদিন পর
আত্মহত্যা করার জন্যে এতদুরে ছুটে আসল
কেন? আমেরিকায় কি আত্মহত্যা করার জায়গা
নেই?’
‘তাই তো? বেশ সন্দেহজনক ব্যাপার বলতে
হবে।‘ হাসলেন বৃদ্ধ। ‘তবে এমনটা হতেও পারে।
মানুষ কিছু কিছু জায়গার মায়া ছাড়তে পারে না। বারবার
ঘুরে ঘুরে ফিরে আসে।’
‘তারমানে আপনি বলতে চাইছেন ওই লোকটাও এই
জায়গার সাথে কোন মায়ায় জড়িয়ে পড়েছে?’
‘হতেও পারে, অসম্ভব কি?’
কথাগুলো ভাবতে শুরু করলেন খন্দকার সাহেব।
লোকটা যদি বহুদিন পরে এখানে ফিরে এসেই
থাকে, তবে তা কিসের টানে? কেন? ভালবাসার
কথা বলেছিল না লোকটা? তবে কি এখানে কি
কাউকে ভালবেসেছিল সে? হঠাত করেই মাথায়
একটা সম্ভাবনা উকি দিল তার। একেবারেই অবাস্তব,
তবুও তার মনে হল, একবার চেষ্টা করে
দেখতে ক্ষতি কি?
‘আচ্ছা, বাংলোর কথা বলেছিলেন না আপনি?’
বলতে বলতে বৃদ্ধের দিকে ফিরলেন খন্দকার
সাহেব। কিন্তু কেউ নেই তার সাথে। কখন যে
হারিয়ে গেছে মানুষটা, চিন্তায় ডুবে থাকার কারনে
খেয়ালই করেননি।
কাঁধ ঝাকিয়ে বৃদ্ধের কথা মাথা থেকে বাদ দিলেন
তিনি। তারপরে জোর কদমে হোটেল
সীগালের দিকে হাটতে শুরু করলেন। হাতে
সময় বেশী নেই।
হোটেলে পৌছাতে তার বেশ খানিকটা সময়
লেগে গেল। কপাল ভাল, প্রায় সাথে সাথেই
সাজেদুল করিম কে পেয়ে গেলেন তিনি।
হোটেলের সামনে একটা টেবিলে বসে
আছেন কুঁজো হয়ে। খন্দকার সাহেব সামনে
গিয়ে দাঁড়ালেন।
মুখ তুলে দেখলেন সাজেদুল করিম। ‘আপনি?
আবার?’
‘হ্যা। একবার দেখা করে যেতে ইচ্ছে হল।
পাহাড়ের চূড়ায় বসে থাকতে থাকতে সময় যে
কোনদিক দিয়ে পার হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।
ভাবলাম, আপনি এখনও আছেন কিনা একবার দেখে
যাই।’
উঠে দাঁড়ালেন সাজেদুল করিম। ‘দেখুন, আমি
বাইরে যাচ্ছি। কোথায় যাচ্ছি বুঝতে পারছেন
নিশ্চয়ই? দয়া করে আমার পিছু নেবেন না।’
বললেন তিনি।
‘না না, সেরকম কোন ইচ্ছে আমার নেই। এখনই
যাবেন আপনি?’
‘দেরি করে লাভ নেই।‘
‘আমি কি আপনার সাথে কিছুদূর আসতে পারি?’
ভ্রু কুঁচকে খন্দকার সাহেবের দিকে কিছুক্ষণ
তাকিয়ে রইলেন সাজেদুল করিম। তারপর বললেন,
‘চলুন।’
দুজন একসাথে হাটতে শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর
খন্দকার সাহেব বললেন, ‘আপনি কি আগেও
এসেছিলেন এখানে?’
‘হ্যা। কেন?’
‘এমনিতেই। তা আপনি কি আপনার সিদ্ধান্ত
কোনভাবেই পাল্টাবেন না?’
‘আপনি কি এই কথা বলার জন্যেই আবার ফিরে
এসেছেন? তাহলে এখন আমার সাথে আর না
থাকলেই আমি খুশি হব।’
‘বেশ, এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলছিনা। বরং অন্য
কোন বিষয় নিয়ে কথা বলি আসুন। যেমন ধরুন
জঙ্গলের ভিতরে ওই বাংলোর কথা। এখানে একটা
পুরানো বাংলো আছে, জানেন?’
হুট করে থেমে গেলেন সাজেদুল করিম।
‘কোন বাংলো?’
‘আজ সকালে হাটতে হাটতে পথ হারিয়ে
ফেলেছিলাম। জঙ্গলের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে
একটা পুরানো বাংলো দেখলাম। তবে অদ্ভুত
ব্যাপার কি জানেন, দেখে মনে হল কেউ
জায়গাটায় বসবাস করে। বহুদিন খালি পড়ে থাকলে
যেমন হয়, তেমন নয় একেবারেই।‘
হা করে খন্দকার সাহেবের দিকে তাকিয়ে
আছেন সাজেদুল করিম, যেন ভূত দেখছেন।
‘নিচের একটা জানালায় ধাক্কা দিয়ে দেখলাম,
ভেবেছিলাম বন্ধ থাকবে। কিন্তু না, ধাক্কা দিতেই
খুলে গেল। মানুষ বসবাসের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা
যাচ্ছে, বুঝলেন? খুবই ইন্টারেস্টিং!’
কিছু বললেন না সাজেদুল করিম। এখনও এক
দৃষ্টিতে খন্দকার সাহেবের দিকে তাকিয়ে
আছেন।
‘আপনাকে আর বিরক্ত করব না। আসি।’ সাজেদুল
করিমকে হতভম্ব অবস্থায় রেখেই হাটতে শুরু
করলেন খন্দকার সাহেব।
বিকেলের পড়ন্ত আলোয় খন্দকার সাহেব
হাটতে হাটতে হোটেলের দিকে ফিরছেন।
মাথায় চিন্তা চলছে তার। বাংলোটার কথা শোনার পর
সাজেদুল করিমের প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি এখন
নিশ্চিত, এখানে অবশ্যই কোন গড়বড় আছে। আর
তার সন্দেহ যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে আত্মহত্যা
করতে যাওয়ার পথে সাজেদুল করিম অবশ্যই
একবার ওই বাংলোয় উঁকি মেরে যাবে। বিশ বছর
আগের এক বিকেলে যে সন্দেহ, যে ভালবাসা
তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, সেটাই তাকে
আজ আবার এই নির্জন সৈকতের শহরে টেনে
নিয়ে এসেছে। আর ভালবাসার শক্তি যদি সত্যিই
তেমন হয়ে থাকে, তবে তা আরেকবার কাজ না
করার কোন কারণ নেই।
আর, তারপর? তারপরে আর কোন পর নেই।
আনমনেই একটু হাসলেন তিনি। মানুষের মন বড়
বিচিত্র, কখন যে মস্তিস্কের কোন গহিন অলিগলি
থেকে কোন ধূসর স্মৃতি বের করে নিয়ে
আসে, আর মানুষকে বাধ্য করে তার হাতের
সুতোর অদৃশ্য টানে পুতুল হয়ে নাচতে, মানুষ তা
আজও বুঝতে পারেনি। কোনদিন পারবে বলেও
মনে হয় না।
কিন্তু, তার সন্দেহ যদি সত্যি না হয়? তাহলে হয়ত
এতক্ষণে শেষ হয়ে গেছে একটি প্রাণ, অথবা
কে জানে, দু’টি। তবে নিজেকে জোর দিয়ে
বললেন খন্দকার সাহেব, সত্যি হতেই হবে।
সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাময় জীবনের শেষ প্রান্তে
এসে তিনি বুঝতে পারেন, মানুষ যদিও নিজের
ভাগ্যের নিয়ন্তা হিসেবে নিজেকেই ভেবে
নেয়ার বড়াই করে, তবুও দিনের শেষে নিয়তির
হাতে সে একান্তই অসহায়। অদৃশ্য সুতোর বাঁধনে
বাঁধা সে, আর কোথাও বসে কোন এক অদৃশ্য
কারিগর তার খেয়ালখুশি মত মানুষকে বাধ্য করে
হাসতে, কাঁদতে। হঠাত করেই নিজেকে বড়
অসহায় মনে হয় খন্দকার সাহেবের।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now