বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-
আমি যখন খুব ছোট,এইতো প্রায় দু'বছরের,তখন মা মারা যায়,খুব ছোট থাকায় মা হাড়ানোর কষ্ট'টা বুঝতাম না।মা মারা যাবার পর আব্বুর কাছে আর থাকা হইনি,নানা বাড়ি চলে গিয়েছিলাম,বেশ ভালোই দিন কাল চলছিলো,খুব আদরেরও ছিলাম,মা হাড়ানোর কষ্টটা তেমন একটা বুঝতাম না।এভাবে দিন গুলি পার হচ্ছিলো,তার পর আব্বু আরেক টি বিয়ে করে,তখন আর নানা বাড়ি থাকি নাই,নিজের বাসায় চলে আসি।তখন আমার বয়স প্রায় ছয় বছর হবে,বাবার কাছে যাবার পর শৎ মায়ের ভালোবাসা ভালোই ছিলো,তার পর শৎ মায়ের কোল আলো করে ফাহিম নামের কেউ এলো,মানে আমার সম্পর্কে ছোট ভাই।
ফাহিম কে আমি নিজের ভাইয়ের মতই ভালোবাসতাম,সব সময় কোলে রাখতাম,খেলতাম,এক কথায় আমিই সব সময় রাখতাম।
-
তার পর মা কেমন জানি বদলাতে শুরু করল,মা ভাবতো আব্বু ফাহিম কে বেশি ভালোবাসে না,আমাকে বেশি ভালোবাসে,বেশি আদর করে না।কিন্তু দু'জনকে সমান ভাবে ভালোবাসতো।এই নিয়ে আব্বু আম্মুর অনেক ঝগরা হতো,আমার খুব খারাপ লাগতো,এাব একদমই সহ্য হতো না।ঝগরার কারন হলো আমাকে নিয়ে,তাই নানা বাড়ি চলে যাই আবার।মাঝে মাঝে নিজের বাসায় যেতাম।
-
২০১১ তে ফাহিম এর হার্টের সমস্য দেখা দেয়,ফাহিম কে আই সি ইউ তে এক'টি মাস রাখা হয়।ফাহিম কে দেখার জন্য আব্বুর কাছে অনেক বলেছি,কিন্তু আব্বু বলেছে,বাসায় আসলে ফাহিম কে দেখতেতো পাবিই,তাই আব্বু হসপিটালে নিয়ে যাই নি।
অতঃপর→
আই,সি,ইউ তে চিকিৎসা অবস্হায় ফাহিম না ফেরার দেশে চলে যায়।সর্বপ্রথম কাউকে হাড়ানোর কষ্ট আমাকে ছুয়ে গেলো,অনেক কেঁদেছিলাম সেদিন,তার পর আমি অসুস্হ হয়ে পরি,অনেক দিন যাবৎ খেতাম না, কিছুই ভালো লাগতো না।
-
তার পরের বছরে নানা মারা যায়,সবাই শুধু আমাকে একা রেখে চলে যেতে লাগলো,একসাথে দু'টি ধাক্কা খেলাম।নানার নিজেস্ব বাসা ছিলো,সেখানে আমি আর নানু থাকতাম।
আমার এক আন্টি ছিলো টাংগাইলে,তাদের গাড়ি,বাড়ি কোন কিছুর অভাব ছিলো না,সেই আন্টিই আমাদের মাসে মাসে টাকা দিতো,তার সাথে আব্বুও আমার খরচ দিতো।
দু বছর যাবার পর নানু কিছুটা অসুস্হতা হয়ে পড়ে,তখন রান্না,কাজ সব আমিই করতাম।মাঝে মাঝে আন্টি ঢাকায় এসে নানুকে দেখে যেতো।আন্টিকে আবার আমি ছোট বেলা থেকেই ভয় পেতাম,তেমন ঢাকায়ও আসতো না,তাই ভালো করে চেনা,জানাও ছিলো না।
অতঃপর→
আন্টি একদিন নানুকে দেখতে এসে বলল..!
আমার না কে আমি চমার কাছে নিয়ে যাবো,তুই তোর বাবা কে এখানে আসতে বল।
আব্বু আসল,এখন আন্টি কথা পুরোই উল্টো ধরনের।আব্বুকে আন্টি বলল..!
দেখেন আপনার আপনার মেয়েকে আমার বড় ছেলের জন্য নিব,মা আর কতো দিনই বা বাঁচবে,তার আগে মিথিলার গ্রতিটা ভালো হলে,বাবাও শান্তি পাবে(আন্টি)
আব্বু কিছু দিন সময় চায়,কিন্তু আন্টি সেদিনই আমাকে বিয়ে পড়িয়ে নিয়ে যায়।তখন আমার বয়স প্রায় ১৪ হবে,তখন এাব কিছু বুঝতাম না,একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো,কিন্তু চমি কিছু বলতে পারিনি।
-
আন্টির বড় ছেলের নাম ছিলো,সাজিদ,এবং সাজিদ ভাইয়ের আরো দুইটি বোন ছিলো,মোট মিলিয়ে সদস্য সংখা চার জন।
সাজিদ ভাই আই,ইউ,বি,টি তে ২য় বর্ষ,কখনও দেখি নাই।তাদের ফ্যামেলির সবাই একটু অন্য রকম,তাদের লাইফ ষ্টাইল সব কিছুই অন্য রকম,সাজিদ ভাই কে দেখতেও খুব সুন্দর,আমার আর তাদের মাঝে আ্কাশ পাতাল তফাত।আমি এটা ভেবে পেতাম না,আমার সাথে তাদের যায় কি করে,কেন?আন্টি তার বড় ছেলের জন্য আমাকে আনল।
-
আন্টির বাসায় আসার পর অনেক কেই দেখতাম কিন্তু কাউকেই চিনতাম না।কিছু দিন যাবার পর জানতে পারলাম,সাজিদ ভাইয়ের একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো,আন্টি সেটা মেনে নেয় নি।
কিছু দিন এভাবে পার হবার পর আন্টি কেমন জানি পাল্টে গেলো,খুব খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করল।প্রায় দিন,সকাল ৬টা হতে ১২টা পর্যন্ত কাজ করাতো আমাকে দিয়ে,তবুও আন্টির মন পেতাম না,খারাপ ব্যবহার চালিয়েই যেতো।
-
সাজিদ ভাইয়া কখনও আমার সাথে কথা বলতো না,তার মুখ দেখে বুজতে পারলাম সে এই সম্পর্কে রাজি নয়।
তার পর সহ্য করতে না পেরে, ছয় মাস পর আব্বুর কাছে চলে আসি,এবং আন্টিকে বলে দেই,আমি আর সেখানে যাবো না।
এর পর আমার পড়াশোনা এক'টি বছর পিছিয়ে যায়,তার পর বাবাকে বলে ক্লাস ৮ এ ভর্তি হই।অনেক কষ্ট হতো নিজেকে সামলাতে,আমাদের আত্মীয় স্বজ্বন সবাই অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করতো,আমি কিছুই বলতে পারতাম না,সব মুখ বুজে সহ্য করতাম।
-
এভাবেই তিন মাস যাবার পর বাবা হঠাৎই অসুস্হ হয়ে পরে,তার একটা কিড্নি নষ্ট হয়ে যায়,২'টি মাস বাবা কে ঢাকা মেডিকেল এ এডমিট করিয়ে রাখি।এমন কিছু নাই যে করি নাই বাবাকে সুস্হ করার জন্য,রাত দিন না খেয়ে তাকে সুস্হ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতাম।এই পৃথিবীতে এক মাত্র আব্বুই শুধু ছিলো,অনেক চেষ্টার পরও বাবা কে বাঁচাতে পারি নাই,২০১৬র জুলাই এর ১তারিখে বাবা আমাকে একা রেখে,সবার মতো না ফেরার দেশে চলে যায়।সেদিন হাউমাও করে কেঁদেছিলাম,কিন্তু বাবা আমার ডাক শোনে নি।
তার পর কিছু দিন শক এ ছিলাম,এখনও সবাই কে হাড়ানো কষ্ট আমাকে কাঁদায়।এখন আমার আপন বলতে এই পৃথিবীতে কেউ নেই,সবাই আমাকে একা রেখে স্বার্থপর এর মতো চলে গেছে।
তবে এই একাকিত্তর মাঝে একজনকে পেয়েছি,সেটা হলো আমার স্কুলের হেড ম্যাম,মায়ের মতো আমাকে ভালোবাসে,তার সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই,কেন যে সে আমাকে এতো ভালোবাসে আমি বুঝি না।
ম্যাম না থাকলে হয়তো আমি এতো দিনে মরে যেতাম,তবে কোন রকম বেঁচে আছি।
ম্যাম এর আসা আমাকে বড় হতে হবে,ভালো করে পড়াশোনা করে ভালো কিছু করতে হবে।
এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি ইন্ডিয়ায় গিয়ে গান এর প্রতিযোগিতা দিবো,আর আমার পুরো সার্পোট করেছে আমার ম্যাম,ম্যাম না থাকলে এসব কিছুি সম্ভব হতো না,এবং তাকে আমি আমার মায়ের মতোই ভালোবাসি।
আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন,যাতে আমি ম্যাম এর আশা পূরণ করতে পারি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now