বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"নিশীথের আর্তনাদ"

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X নিশীথের আর্তনাদ লেখাঃ- রিয়াদুল  ইসলাম  রূপচাঁন। চারিদিকে ঘুটঘুটে  অন্ধকার।  আমাবস্যায় চাঁদটা হারিয়ে গেছে  কোথাও । নির্জন এলাকা৷  অন্য সময় ঝিঁঝি পোকার কিচিরমিচির শোনা যেতো ।  আজ হঠাৎ  ঝিঁঝি পোকা দল বেঁধে  পালালো কোথায়? শ্বশানে নাকি দৌত্য - দানব থাকে।  নিশীথ চৌধুরী তার মেয়ে বাড়ী থেকে ফিরছিলো।  ফিরে তার নতুন কোয়ার্টারে আসার পথে  এসব ভাবছিলো।  বয়স ৩৫ছাড়িয়েছে।  মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বিত্তশালী এক ছেলের সাথে ৷ ছেলে দুইটা থাকে লন্ডনে। তারাও সেখানে  সেটেল হয়ে গেছে ।  ফোনেই খোঁজ খবর নেয় তারা।  গৃহিণী গত হয়েছেন বছর তিনেক আগে ।  এখন তিনি একাই থাকেন কোয়ার্টারে। কোয়ার্টারটি রবি নিগি নামে বেশ পরিচিত। রবি নিগি হিন্দু  একজন প্রতিষ্ঠিত  ব্যবসায়ী ছিলেন।  তার প্রায় ৭০একর জমি ছিল নাগপাড়ায়।  আরও কোথায়  কোথায় ছিল তারও অজানা। বাংলাদেশের প্রায় সকল ব্যাংকের কাছেই তিনি দায়বদ্ধ ।  এত জমি জমা থাকতে তার এই দায়বদ্ধতার রহস্য  কেউই জানে না। ২০শে জুলাই, ২০০৪সালে হঠাৎই  তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। কোথায় যান তার রহস্যও উদঘাটন  করা হয়নি।  হয়তো হবেও না। নিশীথ চৌধুরী কোয়াটারে উঠার পরেই শুনেছেন যে,এই খানে নাকি একসময়  দিনের বেলাতে কেউ চলাফেরা করতে পারতো না।  শকুনেরা নাকি এদিক থেকেই ছুটে যেতো মাংস ভোগ করে।  মানুষের  মাংস।  বড় বড় গরুও মরে থাকতো। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তো পূর্ব দিকে, পশ্চিম দিকে এবং চতুর্দিকেই।   পাশের এলাকার মানুজনরা বুঝে যেতো লাশ পড়েছে ।  হয়তো মানুষের নয়তো পশুর। মোবাইলের ফ্লাশলাইটটা জ্বালালো নিশীথ চৌধুরী ।  তিনি এসব খুব একটা বিশ্বাস করেন না।  তবে কপাল থেকে  ঘাম ঝরছে আজ।  কেন ঝরছে? নিশীথ কি ভয় পাচ্ছে? শরীরটা ঝাকি দিয়ে দ্রুত হাটতে শুরু করলো।  আরও ৭কিঃ মিঃ পথ হেটে যেতে হবে৷  দূরত্ব বেশি না হলেও আজকে মনে হচ্ছে  এ পথ যেন অসীম। শেষই হচ্ছে না।  বিকট শব্দে চমকে গেল নিশীথ চৌধুরী ।  শরীরটা কেঁপে  উঠল ।  পেছনে তাকিয়ে  দেখলো কিছুই নেই।  পরক্ষণেই  বোধগম্য হল -এতো বাঁশের  সাথে বাঁশের  ঘর্ষণের শব্দ।  রাতে শুলে যেমন শুই পড়লেও তার শব্দ  শোনা যায় ।  তেমনি নির্জন রাতে বাঁশের স্বাভাবিক  ঘর্ষণজনিত শব্দটাও বিকট আকার ধারণ  করেছে।  শরীর টা এখনো কাপছে। কদম বাড়িয়ে দ্রুত ছুটলো নিশীথ চৌধুরী। এবার আর এসব শব্দে কান দিবে না বলে মনস্থির করলো তিনি।  রবি নিগির পুরাতন মন্দির থেকে ২কিঃ মিঃ পরেই নিশীথ চৌধুরীর কোয়ার্টার । মন্দিরটা দৃশ্যমান ।  একদম কাছে এসে গেছে প্রায়।  আর দ্রুত পায়ে চলল তিনি।  তার মনে হচ্ছে  পেছন পেছন কেউ আসছে। কে হতে পারে এতরাতে?  কেউ না মনের ভূল হয়তো। জোরালো বাতাস বইছে মন্দিরের সামনে দাঁড়াতেই । হঠাৎ ধূলিঝড়!  বালিতে সাড়া গা মেখে গেলো নিশীথ চৌধুরীর ৷ কিছুক্ষণ  মন্দিরের গেটে গ্রিল ধরে দাড়াল।  ভেতরে গেলনা।  ধূলিঝড় থামার অপেক্ষায় দাড়িয়ে  রইলো।  প্রচন্ড ঘাম ঝরছে শরীর থেকে ।  ভিজে গেছে পীঠ।  ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হল। গরমড় গড়মর করে বর্ষণ শুরু হল।  বৃষ্টির ফোঁটা গুলো খুবই তীক্ষ্ণ।  গায়ে লাগছে।  ভেজার ইচ্ছে  নেয়।  অগত্যা  মন্দিরের  ভেতরে প্রবেশ করলো তিনি।  দাড়িয়ে থাকতে পারছে না বিধায় ফ্লোরে বসে পড়লো নিশীথ চৌধুরী ।  খুবই ক্লান্ত। মন্দিরের  বেলকনিতে গা এলিয়ে বসলেন।  তিনার নজর গেল মাটির তৈরী মূর্তির উপর।  যার প্রাণ নেই।  তবে মানুষের মতো করেই তাকে সাজানো হয়েছে  বাহারি সাজে। নিশীথ  চৌধুরীর চোখজোড়া  ছোট ছোট  হয়ে আসছে৷ ঘুমে বিভোর হয়ে পড়েছেন।  কখন যে ঘুমিয়ে গেছিল নিজেই জানেনা।  ঘুম ভেঙেছে, মন্দিরের লাইর অফ।  বৃষ্টির দ্রুতি কমে গেছে ।  মোবাইলটা তার হাতে নেই।  মোবাইল খুজতে ডানে বামে হাতরাতচ্ছে। সামনের দিকে ঝুকতে গেলে ঝুকতে পারছেন না।  নিশীথ চৌধুরী অনুভব করলো তার তলপেটে বেঁধে  আছে দুটো হাত।  কর্কশ আর আঠালো। শরীরের সমস্ত লোমদ্বয় মুহুর্ত  দাড়িয়ে উঠলো।  কম্পন শুরু হল।  ঘাড় পেছনে ঘুরিয়ে দেখলেন আগুনের গোলার মতো দুটি চোখ ।  বড় বড় দাঁত  বের করে তার ঘাড়ের দিকে হা করে চেয়ে  আছে।  নিশীথ  চৌধুরী তাকে ঝটকিয়ে গেটখুলে দৌড়াচ্ছে ।  বৃষ্টি  ঝিরিঝিরি  হচ্ছে।  দৌড়াচ্ছে  আর জোরালো চিৎকার করছে তিনি।  কারো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।  কোয়ার্টারের গেট হতে একজন লোক আসছে।  নিশীথ চৌধুরী একটু স্বস্তি পেল।  সে লোকটিকে তিনি বলল, দেখুন ভাই আমাকে ধাওয়া করছে।  আমাকে মেরে ফেলবে।  শেষ  করে দিবে।  বাঁচান  আমাকে বাচাঁন।  আমি বাঁচতে  চাই।  নিশীথে আর্তনাদে লোকটির কিছু  যায় আসছে না মনে হচ্ছে  নিশীথের।  তাই আর্তনাদ থামিয়ে তার দিকে তাকাল তিনি।  লোকটি বলল, আপনি কি বোবা? লোকটি অদ্ভুতভাবে হাসছে।  মুহূর্তেই তার চোখও আগুনের ন্যায় রূপ নিল।  দাঁতগুলো  লম্বা আকার নিলো।  নিশীথ চৌধুরী আবারো আর্তনাদ করতে করতে দৌড় দিল দক্ষিণ দিকে ঝোপটায়।  যেখানে মরে পড়ে থাকতো মানুষ ও পশুরা।  এখন সেটা পুরোপুরি ঝোপ নয়।  তবে কবরস্থান ।  সেখানে  সমাধিত করা হয় প্রাণহীন লাশগুলোকে।  একটা কবরস্থানের পিছনে লুকিয়ে ছিল নিশীথ চৌধুরী ।  ঘুম ছিলনা চোখে।  পাখি ডাকছে।  সকাল হয়ে গেছে ।  চারদিক আলোকিত ।  ঝলমল করছে আজকের আকাশটা।  ভেজা শরীর নিয়ে  কোয়াটারে পৌছালো তিনি।  পাশের ফ্ল্যাটের রহিমাদি বলল,আপনার একি অবস্থা ?  সাড়া রাত কোথায়  ছিলেন? রহিমাদি কে তিনি সব কিছু  খুলে বললেন।  রহিমাদিও আঁতকে উঠলেন শুনে৷ তিনি বললেন, যান গিয়ে  স্নান করে রেস্ট  নেন। উত্তরে নিশীথ চৌধুরী বিড়বিড় করে বলল, স্নানের কি প্রয়োজন? যদি দেহে প্রাণই না থাকে। রহিমাদি এর মানে বুঝতে পারলেন না।  নিশীথ চৌধুরী স্নান সেরে তার বেডরুমে গেল।  কেমন যেন লাগছে তার। একঘেয়েমিতা।  দুনিয়াটা কি একঘেয়েমি তা নয়? ঘরের সব আসবাবপত্রকেও তার পর মনে হচ্ছে ।  পর মনে হচ্ছে  সবাইকে । সবাই কি বিরক্তিকর? তার ছেলে,  মেয়ে? বিমলার কথা তার খুব মনে পড়ছে।  হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন নিশীথ চৌধুরী ।  এমন আর্তনাদ কখনো করেনি তিনি। বিমলা তার স্ত্রী । সেদিন স্বপ্নে তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল সুখপুরীতে। সুখপুরী কোথায়? উল্টাপাল্টা  কিসব ভাবছে নিশীথ।  সব ভাবনা রেখে বিছানায়  শুয়ে পড়লো।  আজ রাতে তার বন্ধু মোহনের আসার কথা ৷ ধীরে ধীরে  রাত হয়ে গেল।  মোহন এলো৷ ঘরের বাইরে থেকে অনেক ডাকলো কোনো সাড়া পেলোনা।  হতচ্ছা হয়তো ঘুমুচ্ছে।  বিছানায় গিয়ে পীঠে ঠেলে ঠেলে  ডাকলো সাড়া নেই৷ নিশ্বাস নেই।  চোখের পাতা বন্ধ।  রক্ত চলাচলও বন্ধ।  নিশীথ চৌধুরী  বেঁচে  নেই।  তার প্রাণহীন নিথর দেহটা বিছানায় পড়ে আছে শুধু। 


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "নিশীথের আর্তনাদ"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now