বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিশির গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X নিশি ওর চুল থেকে ক্লিপ খুলতে খুলতে বলল, -তোমার কি মনে হয় আমি তোমার প্রেমে পড়েছি,,, -না,, -তাহলে এমনটা কেন করলে? . আমি জবাব দিলাম না।মেঝের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমি কি এমন খারাপ কাজ করেছি বুঝলাম না। শুধু তো দুইটা ছবি দেখার টিকিটই এনেছি। নিজেও কিনিনি,হাসান ভাই হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, -নতুন বিয়ে করলি,কিছুই দিলাম না।এ দুটা টিকেট নে, রাতের শোটা দেখে আয় শ্যামলীতে। ভাল লাগবে। . বাসায় সন্ধ্যার আগেই ফিরে এলাম,,নিশিকে টিকেট দেখাতেই ওর মুখে হাসি ফুটল কিন্তু বেডরুমে এসে ও কঠিন কথাটা শুনিয়ে দিল। . এমন তো না যে আমি ওকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেছি, আবার আমাদের মধ্য কোন সমস্যাও নেই। আমরা ভাল আছি,, এক রুমে থাকছি, এক সাথে খাচ্ছি তাহলে সমস্যা কোথায়? . -কি হল কিছু বলো? -ভাবলাম, বাসায় একা থাকো। তাই মুভি দেখলে ভাল লাগবে? -অনেক চিন্তা করছ আমার? -হ্যাঁ, তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে? -কিছু বললা? -না কিছুনা,,, . আমি আর কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসতেই নিশির ডাক কানে এলো। বেডরুমে ঢুকতেই নিশি বলে উঠল, -কোন টা শাড়ি পড়ব? . আমি নিশির দিকে তাকালাম, ও আয়নার সামনে বসে শাড়ি দেখছে, ওর হাতে দূটা শাড়ি একটা আকাশী কালার যেটা ও বাসা থেকে আনছে আরেকটা কালো যেটা বিয়ের পর আমি এনে দিয়েছি। দুটা শাড়িই চমৎকার। আমার কোন সাড়া না পেয়ে নিশি বলল, -বলবা কিছু? -দুটাই দারুন,, যেটা পড়বা সেটাই ভাল লাগবে,, -আচ্ছা,, দেখছি। . তখনি মনে হল,, নিশি কি যাবে মুভি দেখতে। একটু আগেই তো মানা করল। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই নিশি বলল, -হুম,,, যাবো। আর কিছু বলবা? -না,, -যাও ওই ঘরে। ড্রেস চেঞ্জ করব। -আচ্ছা,,, . নিশির সাথে বিয়ে হওয়ার পরে আমি শুধু অবাকই হচ্ছি। এই মেয়েকে আমি সামান্য বুঝতেও পারিনা। বাট আমি কি বলতে চাই সেটাও এই মেয়ে আগেই জেনে ফেলে।কিভাবে সম্ভব? . বাসর রাত থেকে অবাক হওয়া শুরু হয়েছে,সেটা এখনো চলছে। আমার দুলাভাই ঘরে ঢোকার আগে খুব করে বললেন,, -বউকে হাতের মুঠোয় রাখবি? -কিভাবে? -ভয় দেখাবি,, কঠিন গলায় কথা বলবি,, . আমি একটু অবাক হয়ে বললাম,, -ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে এভাবে ভয় পাবে,, -হুম,, পাবে,, তবে দুলাভাই এর কথা শুনে মনে হলো ইনি শিউর না। বুবুর কথা মত যে দুলাভাই চলে তা আমি ভাল করে টের পেতাম।যে মানুষ নিজের বউকে হাতে রাখতে পারেনি,, এরকম মানুষের এডভাইসে নিজের বউকে হাতে রাখার চিন্তা বাদ দিয়েই ঘরে ঢুকেছিলাম। . নিশিকে আগে থেকেই চিনতাম,, হালকা চিনতাম। মায়ের কেমন জানি আত্ত্বীয়র মেয়ে। দু একবার আমাদের বাসায় এসেছিল। আমি বিছানায় গিয়ে বসতেই নিশি বলল, -কোন বুদ্ধি করে আসছ? -কিসের বুদ্ধি? -আমাকে হাতে রাখার? -নাহ,, -সত্যি,, -হ্যা,, আসলে কোন বুদ্ধি পাইনাই। -খুঁজবাও না কোন বুদ্ধি। -কিন্তু তুমি কিভাবে বুঝলা? -সব ছেলেরাই এমনই হয়,,বাসর রাতে বিড়াল মারার চিন্তা ভাবনা করে আসে।যাতে মেয়েরা তাদের সব সময় ভয় পায়। -ওহ,, . সেদিন থেকে নিশিকে একটু কঠিনই মনে হত। তবে এখন অতটা মনে হয়না। এই মেয়েটার প্রেমে টুপ করেও পড়া যায়,,ভালবাসা যায়। . আধা ঘন্টা পর নিশি রুম থেকে বেরিয়ে এল কালো শাড়িটা পড়ে। আমি ভেবেছিলাম ও আকাশী কালারের টা পড়বে,, যেটা ওর মা দিয়েছিল। যাই হোক ব্যাপার টাই ভাল। বড় সুন্দর লাগছে ওকে দেখতে।মুভি দেখা বাদ দিয়ে তিন ঘন্টা ওকে দেখলেও মন্দ হবেনা। বেশি শুন্দর হয়েছে চুলের খোঁপা টা। . আমার তাকিয়ে থাকা দেখে নিশি জিজ্ঞেস করল,, -কেমন লাগছে? -ভাল,, -শুধু ভাল? -অনেক ভাল,,অনেক ভালর চাইতে বেশি ভাল. -তাই? -হুম,সত্যি। -এত সুন্দর মেয়ে দেখেছো আগে? -নাহ,, -তার মানে তুমি আমার প্রেমে পড়েছ? -হুম,, হয়ত -গুড,, আমিও চাই তুমি আমার প্রেমে পরো,, -কেন? -কেন আবার তাহলে তুমি আমার হাতে হাতে থাকবে,, -এক কাজ করো? তুমিও আমার প্রেমে পড়ো,, দুজন দুজনেত হাতে থাকব,,, -নাহ,, . আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, -কেন? -কারণ আমি তোমার হাতে থাকলে তুমি এমন থাকবা না? -কেমন? -এই যে এখন যেমন,,তখন তুমি লেট করে আসবা,, আরো অন্য রকম হয়ে যাবা। -ও তাই নাকি,,, -হুম,, -আমার মনে হয়,তুমি এখনি আমার প্রেমে পরেছ, -কিভাবে? -এই যে, রিকোয়েস্ট না করার আগেই সেজে গুজে মুভি দেখতে যাচ্ছ,, তোমার কথা অনুযায়ী তোমাকে কয়েক বার রিকুয়েস্ট করতে হত,, . নিশি আমার কথার জবাব দিল না,, কিছুক্ষন কি যেন ভেবে বলল,, -হুম, আসলেই। না যাবনা তোমার সাথে।। . ও আবার বেডরুমে ঢুকে গেট লাগিয়ে দিল। আমি সোফায় বসে টিভি দেখতে লাগলাম। কেন জানি মনে হচ্ছিল নিশি পাঁচ মিনিটের মধ্য বের হয়ে আসবে। হলোও তাই,, মিনিট পাঁচেক পর বের হয়ে এসে বলল, -চলো, . আমি ওকে দেখে একটু হাসলাম। ও আমার হাসি মুখ দেখে বলল, -ভেবোনা,, তোমার প্রেমে পড়েছি,, -তাহলে,, -এত কষ্ট করে সাজ গোজ করলাম,তা কি বৃথা যাবে? আমিও হতাশ হয়ে বললাম, -না যাবেনা,,চলো। . নিশি যখন রুম থেকে বের হলো তখন ভেবে ছিলাম আমি নিশিকে বুঝে ফেলেছি।কিন্তু না মেয়েদের বোঝা অসম্ভব। আমার শুধু হাসান ভাইয়ের কথাটাই মনে হল,,হাসান ভাই বলতেন, "মেয়েদের বেশি বুঝতে যাবিনা।মেয়েরা নিজেও নিজেদের বোঝেনা।ওরা যা চায় তাই করবি,,যেটা চায়না করবিনা। এতেই ওরা খুশি"" . রিকশাও উঠেও নিশি চুপচাপ। আমি প্রথমে বললাম, -নিশি -হুম,, -আমি তোমাকে ভালবাসি,, -ভালো,, -শুধু ভালো? -হ্যাঁ, আর কি? -তুমি বাসোনা? -জ্বী না,, -তাই,, -মনে হচ্ছে বাসো? -কেন মনে হচ্ছে? -এই যে প্রথম আমার সাথে কোথাও যাচ্ছ এজন্য আমার দেয়া শাড়িটা পড়ে বেরিয়েছ,, -তেমন কিছুনা,এটা বেশি সুন্দর তাই,, -যখন এনেছিলাম,সেদিন তো বলছিলা এটা তেমন ভাল না,, . নিশি কি যেন বলতে গিয়ে চুপ করে গেল। তারপর কিছুক্ষন ভেবে বলল, -ভাবলাম, তুমি খুশি হবা,, -আমার খুশির চিন্তা অনেক করছ,, -উহু,, . তখনি রিকশা খুব জোরে ব্রেক ধরল।নিশি আমার হাত খামচি দিয়ে ধরল।ওর বড় বড় নখ দুটা দিয়ে আমার হাতের চামড়া উঠে গেল।নিশি এটা দেখে বলল, -সরি,, . আমি একটু হেসে বললাম,, -রাস্তা গুলো খারাপ, হাত ধরে বসে থাকো,, . নিশি খুব সুন্দর করে আমার হাতটা ধরল। হাত ধরার সময় মনে হল, হাসান ভাই কথাটা ভুল বলেছিলেন,, কোন মেয়েকে ভালবাসলে ঠিকি তাকে বুঝে ফেলা যায়।এই যে নিশি আমার প্রেমে পড়েছে আর সেটা আমি বুঝে ফেলেছি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপুনিশির আর একটি গল্প !!
→ নিশির পাগলামী অথবা একটি ভালবাসার গল্প
→ নিশির গল্প
→ বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ৩] শেষ
→ বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ২]
→ বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ১]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now