বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিশি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নিশি কথাটা আবার বলল । মেজাজটা এমনিতেই খারাপ ছিল নিশির কথাটা শুনে আরো একটু বেশি খারাপ হয়ে গেল । বললাম -তুমি বড় বেশি কথা বল । একবার বললাম না বলতে ইচ্ছে করছে না তবুও শুনতে চাচ্ছ কেন ? আমি জানি নিশি এই কথায় শান্ত হবে না । আবার জানতে চাইবে । আমি ওকে আরো কঠিন একটা ধমক দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম । -বললে কি হবে ? সব তো ঠিক ছিল । সুমন আর ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করার পর থেকেই কেমন গম্ভীর হয়ে গেলে । বল না কি হয়েছে ? সুমনের গার্লফ্রেন্ড এই শব্দটা শুনে সত্যিই মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল । নিশি কে বললাম -এতো প্রশ্নের জবাব আমি তোমাকে দিবো না । তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড না, আর আমরা কমিটেড না যে সব কিছু শেয়ার করতে হবে ! চুপচাপ বসে থাকবা তা না হলে সামনে থেকে দুর হয়ে যাবা । নিশি আমার ধমক শুনে মন খারাপ করলো । অন্য সময় হলে আমার মনটা নরম হয়ে আসতো । ওকে সরি বলে আবার কথা বলা শুরু করতাম কিন্তু এখন মাথাটা গরম হয়ে আছে । -একটু বল না ? নিশি আবার অনুনয় করলো । দুর !! এই প্যানপ্যান করা মেয়েকে নিয়ে আর পারা যাবে না । রিক্সাওয়ালাকে থামতে বললাম । -মাহিব শোন প্লিজ । -চুপ, একটা কথা না । রিক্সা করে সোজা হলে যাবা । আর এক সপ্তাহ আমার ধারে কাছে আসবা না খবরদার । নিশির চোখে এইবার পানি দেখলাম । মেয়েটার যদিও কোন দোষ নাই তবুও এখন এসব কিছুই আমার মাথায় ঢুকছে না । মাথার মধ্যে কেবলই সুমনের গার্লফ্রেন্ডের কথা ঘুরপাক খাচ্ছে । সুমনের গার্লফ্রেন্ড ! সুমনের গার্লফ্রেন্ড অরিন । কদিন থেকেই সুমন বন্ধু মহলে খুব হইচই করছিল । আমাদের যে ফ্রেন্ড সার্কেল টা আছে তার মধ্যে কেবল সুমনেরই কোন গার্লফ্রেন্ড ছিল না । আমারও অবশ্য নেই । কিন্তু বন্ধুদের সবাই নিশি আর আমাকে কাপল মনে করে । যা হোক, সুমন গত সপ্তাহে এসে বলল যে সে একজনের সাথে সম্পর্ক করেছে । আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে । সেই সুবাদেই আজ দেখা হওয়া । কিন্তু যখন আড্ডায় সুমন তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে হাজির হল আমি কেবল নাই হয়ে গেলাম মেয়েটা কে দেখে ! একে বারে নাই ! সবার আগে আমার সাথেই পরিচয় করিয়ে দিল । -এ হচ্ছে আমার সব চেয়ে কাছের বন্ধু মাহিব । আমি যেমন অরিনকে দেখে চমকে গিয়েছিলাম অরিনের চোখ দেখে মনে হল ও ঠিক একই ভাবে চমকে গিয়েছে আমাকে দেখে । কিন্তু দ্রুত সামলে নিল নিজে কে । একটু হেসে বলল -হ্যালো ভাইয়া । আহ । সেই কন্ঠস্বর ! সেই হাসি ! এতোদিন পরেও হাসিটা চিরোচেনাই মনে হল । অরিন স্বাভাবিক আচরন করলেও আমি কেন জানি স্বাভাবিক থাকতে পারছিলাম না । কাজ আছে এই অজুহাতে চলে এলাম আড্ডা থেকে । আর আমি চলে আসলে নিশিতো আসবেই আমার পিছন পিছন । সকাল সকালই আজ শুয়ে পড়লাম । অন্যদিন একটা দুইটার আগে কখনই ঘুমাই না কিন্তু আজ কিছুই ভাল লাগছিল না । বারবার কেবল পুরনো কথা গুলোই মনে পড়ছিল । তখন সবে মাত্র সিগারেট খেতে শিখেছি । কিন্তু নিজ এলাকায় সিগারেট খাওয়ার মত এতোটা দুঃসাহস তখনও হয়ে ওঠে নি । বাবা সম্মানীয় ব্যাক্তি ছিল । আমাকে কেউ সিগারেট খেতে দেখলেই রিপোর্ট সোজাসুজি বাসায় পৌছে যেত । তাই সিগারেট খেতে হলে পাশের এলাকায়ে যেতাম প্রায় । ওখানে আমার বন্ধুও ছিল কয়েক জন । একদিন সিগারেট খেতে গিয়ে দেখি প্যাকেট খালি । তখনও বন্ধুদের কেউ আসে নি । ভাবলাম ওদের আসার আগেই আমি কিনে এনে টানতে থাকি । তারপর না ওরা আসলে ওদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে । কাছেরই একটা মুদি দোকানে গিয়ে উকি ঝুকি দিতে লাগলাম কিন্তু দোকান খালি । কোন লোক নাই । চলে আসবো বলে ঘুরেছি ঠিক তখনই পিছন থেকে চিকন মিহি সুরে কেউ বলে উঠল -ভাইয়া কি লাগবে ? যাক এতোক্ষনে দোকানদার এলো !! দোকানদারের উপর খানিকটা বিরক্ত লাগলই এতো সময় দোকান ফাঁকা রেখে কোথায় ছিল !! আমি ঘুরে দাড়াতেই স্তদ্ধ হয়ে গেলাম । আমি তখন ঠিক মনে পড়ল না এমন মিষ্টি চেহারা আমি আর কোন দিন দেখেছি কিনা । কিছুক্ষন একভাবে তাকিয়েই কেবল রইলাম মেয়েটার দিকে । -ভাইয়া কি লাগবে ? মেয়েটি আবার জানতে চাইল । -হুম ? আমি বাস্তবে ফিরে এলাম । -কিছু নিবেন ভাইয়া ? হুম! নিবো মানে তোমার মনটা নিবো । আমি জানি না এই অনুভূতির নাম কি তবে এইটুকু নিশ্চিত যে প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে আমার ভাল লেগে গেল । খুব বেশি ভাল লেগে গেল । আমি হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমার বুকের ভিতরটা খুব বেশি পরিমান লাফাচ্ছে । আমার হাটুর নিচে কেমন একটা কেমন একটা দুর্বল ভাব অনুভব করলাম । আমি কোন রকম বললাম সিগারেট দেওয়ার জন্য । মেয়েটি সিগারেটের প্যাকেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিতে বলল -আমি বুঝি না আপনারা ছেলেরা কেন যে সিগারেট খান ? কি এমন আছে এর ভিতর ? এর থেকে জুস খেলেই পারেন । আমার মাথায় তখন আর কিছু নাই । কেবল মেয়েটার চেহারাটা ভাসছে ! আর মেয়েটার কথা গুলো ! কি মিষ্টি করেই না মেয়েটা কথা গুলো বলল !! কি মেয়েটা সিগারেট পছন্দ করে না ? মেয়েটা সিগারেট পছন্দ করে না ! আমি বললাম -শুনুন । -জি । আমি সিগারেটের প্যাকেট টা ফেরৎ দিয়ে বললাম -আমাকে এক প্যাকেট জুসই দিন । আমার কথা শুনে মেয়েটা একটু চমকালো । কিছু যেন বোঝার চেষ্টা করলো যে আমি ঠিক ওর সাথে ইয়ার্কী করছি কি না !! একটু যেন খুশিও হল । একটা ছেলে কেবল তার এক কথাতেই সিগারেট ফেলে দিয়ে জুসের প্যাকেট নিল এটা খুশি হবার মতই কথা । আমি যখন প্যাকেট টা হাত দিয়ে নিতে গেলাম একটু যেন স্পর্শ লাগল মেয়েটার হাতের সাথে ! কি এক বিদ্যুৎ খেলে গেল আমার পুরো শরীর জুড়ে । আমি কেবল তাকিয়েই রইলাম মেয়েটার দিকে । ফিরে যাবার সময় যতবার ফিরে তাকালাম ততবারই দেখলাম মেয়েটা আমার দিকেই তাকিয়ে আছে । ফোন বাজছে । অতীত থেকে বাস্তবে ফিরে আসতে হল । নিশির ফোন । একবার মনে হল ফোনটা না ধরি । কিন্তু ফোন ধরেও উপাই নাই । যতক্ষন না ফোন ধরবো নিশি বিরামহীন ভাবে ফোন করেই যাবে । ফোনটা ধরলাম । -বল । -মন ভাল হয়েছে ? -কি কারনে ফোন দিয়েছ বল ? - মাহিব তোমার কি হয়েছে আমাকে বল প্লিজ । একবার বল ! -শোন তোমার সাথে এখন কথা বলতে ভাল লাগছে না । -আমি জানি কিছু একটা প্রবলেম হয়েছে । আমার সাথে শেয়ার কর । তোমার ভাল লাগবে । এবার আমার মেজাজ টা সত্যিই খারাপ হল । -শোন মেয়ে , একটা কথা তোমার কানে যায় না নাকি মাথায় ঢোকে না ? আমি তোমার সাথে এটা শেয়ার করতে চাই না । নিশি চুপ করে থাকলো । আমি নিশ্চিত এখন ও কাঁদবে । আমি বললাম -দেখো আমার মেজাজটা এখন সত্যিই খারাপ । কি বলতে কি বলছি । তুমি আর এখন ফোন দিও না। এই বলে আমি ফোন রেখে দিলাম । ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোন বেজে উঠল । আমি ভাবলাম নিশি হযতো আবার ফোন করেছে। খুব বড় একটা ধমক দেওয়ার প্রস্তুতি নিলাম কিন্তু ফোন স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখি আননোন নাম্বার । কে ফোন দিল ? নিশির ফোন হবার সম্ভাবনা কম । আমি যতদুর জানি মেয়েটা এখন বালিশে মুখ লুকিয়ে অথবা বাধরুমে গিয়ে কাঁদবে । তাহলে ? ফোন রিসিভ করলাম । -ইয়েস ! -মাহিব ! আমি ... কিছুক্ষনের জন্য চুপ হয়ে গেলাম । মেয়েটির নাম বলার দরকার হল না । আমি কেবল অবাক হলাম এই ভেবে যে এতো গুলো দিন পার হয়ে যাওয়া সত্তেও মেয়েটির কন্ঠস্বর আমি ভুলি নি । আশ্চর্য ! ঐ দিনের পর আমার মনের শান্তি যেন সব উড়ে গেল । সারা দিন কেবল ঐ মুদি দোকানে দেখা হওয়া মেয়েটার কথাই ভাবতে লাগলাম । দুদিনের ভিতরেই মেয়েটার নাম পরিচয় সব খুজে বের করে ফেল্লাম । মেয়েটার নাম অরিন ! আমার বছর খানেকের জুনিয়র । আমি আর যেন নিজেকে ধরে রাখতেই পারছিলাম না । সারা দিন কেবল ঐ দোকানের আসে পাশেই ঘোরাঘুরি করি কিন্তু ঐ অরিনের দেখা আর পাই না । কেবল এক বুড়ো মত লোক কে দেখতে পাই দোকানে বসে আছে । তবে ভাগ্য খুব বেশিদিন বিপক্ষে থাকলো না । একদিন ওদের এলাকা থেকে আসছি দেখি আমার ঘুম হারাম করা মেয়েটি আমার এলাকার এক ছোট বোনের সাথে হেটে আসছে । আর দেরি না করে ঐ ছোট বোনকেই গুরু দায়িত্ব দিলাম । তারপর কদিন যে কি উৎকন্ঠায় কাটলো !! তিন দিন পর আমার মোবাইলে এক আননোন নাম্বার থেকে ফোন এল । রাতের বেলা । সবে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়েছি । ফোনটা এল তখনই । -ইয়েস ! কে বলছেন ? -মাহিব ভাইয়া বলছেন ? আমি ... যদিও এখনও ফোনে আমি তার কন্ঠস্বর কোনদিন শুনিনি কিন্তু আমাকে বলে দিতে হল না যে কে ফোন দিয়েছে । নিজেকে সংযত করলাম । ঐ দিনকার পরিস্থিতি আর আজকের পরিস্থিতি এক না । ঐদিন আমি যেরকম উচ্ছাসিত হয়েছিলাম আজ সেরকমটা হওয়া মানায় না । আমি বললাম -কেন ফোন দিয়েছ ? অরিন কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পর বলল -তোমাকে আজ দেখে আমি আসলেই খুব অবাক হয়েছি জানো ? আমি কখনও ভাবি নি তোমার সাথে আবার দেখা হয়ে যাবে । অরিনের কথা বলার ধরন দেখে আমি অবাক না পারলাম না । এমন একটা ভাব যেন কিছুই হয় নি । -তুমি কি এই কথা বলার জন্য আমাকে ফোন দিয়েছ ? -না মানে ! কাল তোমার সাথে একটু দেখা করতে চাই । -তুমি চাইলেই যে আমি দেখা করবো এটা তুমি কিভাবে ভাবলে ? -একবার দেখা করলে কি এমন হবে ? তোমার সাথে কয়টা কথা ছিল । তোমার বন্ধু সুমনের ব্যাপারে । -সুমনের ব্যাপারে ?? সুমনের ব্যাপারে কি কথা থাকতে পারে ? ব্যাটা সুমন একটা আস্ত গাধা । প্রেম করার আর মানুষ পাই নি জগতে ! অবশ্য সুমনকে দোষ দিয়ে আর লাভ কি ! আমি নিজেও তো একই ভুল করেছিলাম । ঐ দিনের কথার পরে থেকে অরিন ছাড়া যেন জীবনে আর কিছুই ছিল না । সকাল বিকাল যেতাম অরিনদের দোকানে । অরিন ঐ সময়টাতেই বসতো । আহা কথা বলতাম কত !! ও যখন কলেজে যেত ওর যাওয়ার পথে কিংবা আসার পথে ! মাঝে মাঝে ও আসতো আমার কলেজের সামনে । দিন গুলো আসলেই ভাল কাটছিল । কিন্তু ভাল দিন খুব বেশি যায় না । একদিন আমার এক বন্ধু আমার মোবাইলে একটা ভিডিও ক্লিপ ট্রান্সফার করে বলল -দেখ মামা একেবারে দেশি মাল । আমি ভিডিওটা ওপেন করে দেখলাম একটা কলেজের ড্রেস পরা একটা মেয়ে একটা ছেলে কে কিস করছে । মেয়েটাকে কেমন চেনা চেন ....... আমি মনের কথা মনেই রয়ে গেল । আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না । ক্লিপের মেয়েটা আর কেউ না আমার গার্লফ্রেন্ড অরিন । অরিনের সম্পর্কে আরো খোজ খবর নিয়ে যা কিছু জানতে পারলাম তা জানে আমি এবার সত্যি সত্যিই নাই হয়ে গেলাম । কেবল আমি তার একা বয়ফ্রেন্ড না আরো গোটা কয়েক বয়ফ্রেন্ড তার আছে । আর ... আমি কিছু ভাবতে পারলাম না । অরিন আজ সাদা রংয়ের একটা সেলোয়ার কামিজ পরেছে । স্বীকার করতে লজ্জা নেই যে অরিন আগের থেকে আসলেই আরো সুন্দর হয়েছে । যদি ওর আসল চেহারাটা আমি না জানতাম তাহলে হয়তো অরিনের দিক থেকে চোখ ফেরানো আমার পক্ষে সহজ হত না । কিন্তু ওর ভিতরটা এতো কুৎসিত যতটা ওর বাইরের রুপটা সুন্দর ! আরিন আমার সামনে এসে আমাকে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখলো । তারপর বলল -তুমি আগে থেকে আরো সুন্দর হয়েছে , জানো ? -সুমনের কি কথা বলবা বল ? অরিনের কোন কথা না বলে হাসলো । -মাহিব তোমার প্রতি আমার সব সময় একটা আলাদা টান ছিল জানো ? -মানে ? এই মেয়েটা কি বলতে চাইছে !! -মানে তুমি একমাত্র ছেলে যে আমাকে উপেক্ষা করে চলে গিয়েছিলে । আর কোন ছেলে পারে নি । আমার সব কথা জানার পরও না । সবাই আমার পিছন পিছন ঘুরেছে । তোমার ঐ বন্ধু সুমনও ঘুরবে ! তাই ওকে আমার ব্যাপারে বলে কোন লাভ নাই । বুঝেছ ? আমি ঠিক বুঝলাম না অরিন আসলে ঠিক কি বোঝাতে চাইছে । আমি তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে ! অরিন আবার বলল -আমার আকর্ষন সে এড়াতে পারবে না । সে তো আর তুমি নও ! তবে আমি তোমার প্রতি হতাশ ! আমি আবার কিছু না বলে কেবল তাকিয়ে রইলাম অরিনের দিকে ! -আমি ভেবে পাই না তুমি নিশির মত একটা মেয়ের সাথে প্রেম করলে শেষ পর্যন্ত ! আমি অনুভব করলাম আমার বুকের ভিতয়ে কেমন একটা ক্রোধ বোধ হচ্ছে । -দেখতো তো একটুও ভাল না । আমার তুলনায় তো পেত্নী বলা চলে । আমার ভিতরটা যেন বিশ্ফোরন হল । এই বেশ্যার বেশ্যা বলছে কি ? আমার পরীর মত নিশিকে বলছে ........... এতো বড় সাহস ! আমার হাত শক্তই হয়ে ছিল সোজাসুজি অরিনের গালে কষে একটা চড় মারলাম । ক্লিপ দেখা আর অরিনের আসল কথা জানার পর নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারি নি । সোজাসুজি ওর কলেজে গিয়ে হাজির হলাম । ওকে কলেজের পিছনে ডেকে নিয়ে এসে ক্লিপ দেখালাম । ও কিছু না বলে মাথা নিচ করে দাড়িয়ে রইল কিছুক্ষন । আমার তখন রাগে সারা শরীর জ্বলছে । এই মেয়েকে আমি ভালবেসেছি এটা ভাবতেই আমার নিজের উপরেই রাগ হচ্ছিল । অরিন কিছু বলতে যাচ্ছিল আমি আর সহ্য করতে পারলাম না । অরিনের গালে পরপর দুটো চড় মেরে ওখান থেকে চলে আসলাম । আমি আর কিছু ভাবতেই পারছিলাম না । আমার পুরো পৃথিবী যেন ধ্বংশ হয়ে গেছে । এতো বিশ্বাস করে যাকে ভালবাসলাম সে এমন বের হল । সেদিন অরিনকে যে ভাবে চড় মেরেছিলাম আজ তার থেকে বেশি জোরে মেরেছি । আসলেই কিছুটা জোরেই মেরেছি । নিজের হাতটা কেমন ব্যাথা করতে লাগল । অরিন কিছু না বলে আমার দিকে তাকিয়েই রইলো । চোখে খানিকটা যেন অবিশ্বাস ! -তোর মত একটা মেয়ের সাথে নিশির তুলনা চলে না । আর একবার ওকে একটা বাজে কথা বলেছিস তো একেবারে মাটির নিচে পুতে ফেলবো । আমি আর দাড়ালাম না ওখানে । আসলে এতো দিন পর নিশির প্রতি টান টা আমি বুঝতে পারলাম । ওর ব্যাপারে একটা বাজে কথা আমার সহ্য হল না । অরিন কে এই ব্যাপারে একটু ধন্যবাদ দিতেই হয় । তা না হলে ঠিক বুঝতে পারতাম ওর প্রতি আমার অনুভুতি টা কেমন ! ইস!! বেচারীকে খামোখা কত কষ্টই না দিয়েছি । ওকে একটা ফোন দেই । -হ্যালো । এতো দিন ফোন করলেই নিলি আমাকে আগে জিজ্ঞেস করতো যে মন ভালো ? আজ আমি বললাম -মন ভালো তোমার ? কিছুক্ষন নিরবতা ! আমি আবার বললাম -কি মন ভাল তোমার ? -হ্যা । নিশির কন্ঠে কেমন একটা উচ্ছাস । -খুব ভাল । আমি বললাম -আজ বিকালে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে ? -বিকালে ? আমি এখন আসি ? না এখন আসতে হবে না । বিকালে আসো আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো । ঠিক আছে ? -আচ্ছা ! -আর ঐ নীল রংয়ে চুড়িদার পরে এসো ! আর সম্ভব হলে মেহেদী দিও হাতে ! সম্ভব !! নিশি বলল -খুব সম্ভব !! আমি আর কিছু বললাম না । কিছুটা কৌতুহল বিকেলের জন্য বাকী থাকুক ! নিশি নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে ! ও এখনই কত খানি খুশি এটা আমি ওর কন্ঠস্বর শুনেই আমি বুঝতে পারছিলাম ! মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম যে নিশিকে আর কষ্ট দিবো না ! আর সব থেকে বড় কথা সুমন গাধা টাকে আগে থেকে সাবধান করতে হবে ! -অপু তানভীর


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিশির ডাক
→ নিশিকাব্য
→ নিশির জন্যে ভালােবাসা পর্ব-২ [শেষ পর্ব]
→ নিশির জন্যে ভালােবাসা পর্ব-১
→ নিশিকন্যা [নিশিকন্যা]
→ নিশা তান্ত্রিক [নিশিকন্যা]
→ বদরুল মামা [নিশিকন্যা]
→ নিশা তান্ত্রিক [নিশিকন্যা]
→ বদরুল মামা [নিশিকন্যা]
→ ভীতু নিরঞ্জন [নিশিকন্যা]
→ বাসা [নিশিকন্যা]
→ আয়না [নিশিকন্যা]
→ জালালের বাস ভ্রমণ [নিশিকন্যা]
→ নিশি রাতের হাসি
→ নিশিকাব্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now