বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিরব প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mk mahammud (০ পয়েন্ট)

X লামিয়া মাত্র রাস্তার মোড় ঘুরল গাড়ী নিয়ে।কোনো এক কারণে গাড়ীর সামনে থাকা আয়নায় চোখ পড়তেই এক পরিচিত মুখ ভেসে উঠলো।ড্রাইভারকে গাড়ী থামাতে বলল।গাড়ী থেকে নেমেই হকচকিয়ে দাঁড়ালো।যার জন্যে গাড়ী থামিয়েছে সেও হকচকিয়ে দাঁড়ালো। - তুমি এখানে? - আপনি লামিয়া নাহ? - চিনেছো তাহলে? - আমি কাওকে সহাশয় ভুলিনা। - আমিতো তোমাকে চিনতেই পারছিলামনা।এত পরিবর্তন?তবে তোমার চুলের স্টাইল দেখে চিনছি।তাইতো নেমে গেলাম গাড়ী থেকে। - আমার জন্যে গাড়ী থামিয়েছো? - হ্যা।তো সবকথা এখানেই শুনবো? - তাহলে? - হাতে সময় আছে? - অনেকটাই। - তো চলো। - কোথায়? - আরেহ আসোইনা। . হাত ধরে গাড়ীতে টেনে বসালো আমাকে।কি করবো বুঝতে পারছিলামনা।নিজেকে কিছুটা নার্ভাস লাগছিলো।আজ প্রায় পাচঁ বছর পর দেখা লামিয়ার সাথে।সর্বশেষ শুনেছিলাম সে স্পেনে থাকে তার স্বামীর সাথে।একটা ছেলেও নাকি আছে।একটা ক্যাফের সামনে গাড়ী থামালো।ক্যাফেটা অতোটা উন্নতমানের না হলেও খারাপ নাহ।তো ক্যাফেতে ঢুকে বসলাম আমি আর লামিয়া। . - তো কি খাবে?(লামিয়া) - কিছুইনা।তুমি কি খাবে সেইটা বলো? - তুমি খাওয়াবে? - কেনো আমার সে যোগ্যতা নেই?অবশ্য না থাকারই কথা।তোমরা এখন বিরাট বড়লোক।অবশ্য আগেও ছিলা। - আবার শুরু করলা তুমি?কোল্ড কফি খাবো।অর্ডার দেও। কথা অনুযায়ী দুইটা কোল্ড কফির অর্ডার দিলাম। - এখন কোথায় থাকো? - মানুষের মাঝে। - আমিতো সেটা জানিই।তবে কোথায় সেটা? - স্টেশনের পাশেই একটা মেসে থাকি। - তুমি আর পরিবারের কাছে ফিরে যাওনি? - আমায় তুমি খুব ভালো করেই চিনো।(একটু রেগে) - তোমার রাগটা এখনও আগেরমত আছে।চোখ মুহুর্তেই লাল হয়ে যাই। - অইটা কখনো পরিবর্তন হবেনা। - নামাজ পড়ো ঠিকমত? - চেষ্টা করি। - পেঁচিয়ে কথা বলার অভ্যাসটা এখনো যায়নি? - ওটা রক্তে মিশে আছে। - সেটা আর নতুন কি?বিয়ে করেছো নাকি সেই আগের জিদটাই ধরে আছো? - করেছিলাম। - বুঝলামনা।তো যাইহোক ভাবি কেমন আছে?নাম কি? - রেলস্টেশন এর পাশেই একটা কবরস্থান আছে সেটার ভিতর যেয়ে প্রথম সাড়িতেই বামে ঘুড়লে সবার প্রথম কবরটায় তাকালেই সব ইনফরমেশন পাবা। - হোয়াট?আর ইউ আউট অফ ইউর মাইন্ড? - কেনো? - কিভাবে কি হলো? মুখটা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে গেলো।কেন হলো বুঝলামনা।অতীতগুলোর কাজই হয়তো এটা। - মেয়েটাকে যখন আমি বিয়ে করি তখনই আমি জানতাম সে ছয় মাসের বেশি বাচঁবেনা।ক্যান্সারে আক্রান্ত্র ছিলো।আমি যেই সংস্থার জন্য কাজ করতাম সেও সেই সংস্থার কর্মী ছিলো।অনেকের কাজ থেকে এটাও জেনেছিলাম মেয়েটা নাকি এমনও দিন গিয়েছিলো যে টানা তিনদিনও রক্ত দিছে মানুষকে।তবুও বিনা পয়সায়।ছোট থেকেই কেমন জানি ছিলো। - তারপর? - তারপর আরকি আমার সাথে ধীরে ধীরে কথা হতো।আর আমি কেমন সেটা তুমি জানোই।আমি যেইকাজে হাত দেই সেটা না করা অব্দি বসিনা।ওর ব্যাপারটাও তাই। তবে হাস্যকর জিনিস কি জানো? - কি?(একটু ক্লান্তি ঝেড়ে বলল) - ও কিভাবে যেন বুঝে গিয়েছিলো আমি ওর প্রতি দুর্বল।তাই ও নিজ থেকেই একদিন আমায় ঢেকে নিয়ে দূরে সরে যেতে বলে। - এরপর? - সেদিনই আমি তাকে বিয়ে করি। - সেদিনই?(অবাক হওয়ার দৃষ্টিতে) - হ্যা।এরপর দুজনে ছয়টা মাস কত সুন্দর কাটিয়েছি যা ভুলা অসম্ভব।দুজনে মিলে কয়েকটা এতিমখানায় খাবারও বিতরণ করছি।বাসার সব কাজ মেয়েটা নিজ হাতে করতো।কখনো ক্লান্তির ছাপ দেখিনি ওর মুখে।এই জিনিসটা যেনো কখনো তাকে ছুতে পারেনি। - নাম কি মেয়েটার? - মিষ্টি - বাহ!ভারি সুন্দর নাম।মানুষটাও নিশ্চয়ই ভারি সুন্দরী ছিলো। - সেটা আমি জানিনা।তবে হ্যা আমার কাছে সে নয় শুধু তার প্রতিটা কাজই সুন্দর লাগতো। - তো এমন মেয়েকে লাইফে আনার কারণটা?বাকিটা জীবন কিভাবে পার করবে? - রাস্তায় বের হবার পর কেও কিন্তু এটা সঠিক বলতে পারবেনা যে সে কখন বাসায় যাবে আবার।ঠিক তেমনি আমি নিজের জীবন নিয়ে সর্বদাই চিন্তিত থাকি।আর সবাইতো বলে বিয়ে না করলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যায়না তাই করে ফেললাম ক্ষণিকের জন্যে।কিন্তু অনুভূতিটা ছিলো আজীবনের।এখনো চোখ বুঝলে তার প্রতিটা পরোশ আমাকে তার উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়। - হুম।বুঝলাম।তোমার চিন্তাভাবনাগুলো খুব অদ্ভূত তা না মেনে উপায় নেই। - সেটা আমি ঠিক জানিনা। - তবে বিয়ে কি আর করবেনা?নাকি সারাজীবন এভাবেই থাকবে? - যেমন আছি তেমনিত বেশ আছি।কি দরকার এই জীবনে অন্য কাওকে আনার? - তাই বলে উত্তরাধীকার বলে কাওকে লাগবেনা নাকি? - যেখানে এত ছেলে বাবা বলে ডাকে সেখানে অন্য কারো মুখ থেকে বাবা শব্দ শোনাটা কি বেশি জরুরি? - তবুও! - তবুও কি?আজকাল খবর পড়োনা নাকি?ছেলের চাহিদা পূরণ করতে না পারলেই বাবা খারাপ।পারলে গায়েও হাত তুলে। - তাই বলে কি সবাই তোমার মত থাকবে? - আমি কখনো বলেছি? - আমিতো শুধু এতটুকু বললাম যে আমার ছেলের আর উত্তরাধিকারীর অভাব নেই।আর আমার তেমন সম্পদও নেই।যা আছে সেটাও মরার পর কোন এক এতিমখানায় দান করে দিবো। - লাইফটা এখনো অগোছালো করে রেখেছো?একটুতো সাজাও? - আমার লাইফটা সাজানোই।সকালে ঘুম থেকে উঠেই কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যাই।পথশিশুদের সাথে কিছুক্ষণ হাসি ঠাট্টা করে কাজে বেরিয়ে পরি। - ওহ আচ্ছা - তো আমার কথাতো অনেক শুনলে।এইবার তোমারটা বলো। - আমার কি শুনতে চাও? - তোমার স্বামী আর ছেলে সম্পর্কে কিছু বলো। - আমার খোঁজ রাখো তুমি? - অনেক আগেই শুনেছি। - যাই হোক।আমার ছেলে আসিফ বয়স প্রায় সাড়ে তিন।ছোটবোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই দেশে আসলাম।পরশু শুক্রবার বিয়ে। - কি বলো?সেই ছোট্ট রাইসা আজ এত বড়? - সময়টাতো আর তোমার মত থেমে নেই। - হাহাহাহা সত্য বলেছো। - তোমাকে বিয়ের কার্ড দিবোনে যাবার সময়।সময় হলে এসো। - আল্লাহ চাইলে। - তো লাইফে আর কি কি করার ইচ্ছা আছে? - ইচ্ছেতো বিল গেটসের মত হওয়ারো আছে।তবে চাইলেইতো আর হওয়া যায়না। - একসময় তোমার এইরকম ভাবনাগুলো খুব ভালো লাগতো। - এখন লাগেনা? - লাগে,তবে অন্যরকম।শেভ করোনা কতদিন? - মাস খানেক হবে।তুমিওতো এখন চশ্ম পড়ো।সবাইকেতো বলতে যে কখনো চশ্মা পড়বেনা। - হ্যা এখন পড়তে হয়।ছেলেটাও পড়ে। - এতটুকু ছেলেও? - হ্যা।সারাদিন বাবার সাথে ল্যাপটপ নিয়ে গুতাগুতি করলে কি আর চোখ ভালো থাকবে? - হাহাহা। - কখনো ভাবিনি তোমার সাথে এভাবে আবার দেখা হবে। - যেদিন তোমাকে বলেছিলাম আমায় ভুলে যাও সেদিন তুমি বলেছিলে আমার সামনে আর আসবেনা অথচো আমি সেদিন হাসতে হাসতে তোমায় বলেছিলাম পৃথিবীটা গোলাকার। - সকালে কিছু খাইছো? - হ্যা,তুমি? - হ্যা,আমি না খেলে ছেলেও খায়না। - তো যাচ্ছো কবে? - আমি গেলে মনে হয় খুশি হবে? - আরেহ সেটা কখন বললাম? - এইমাসের শেষেই যাবো।অবশ্য বোনের বিয়ের পরই ঘুড়তে বের হবো।যখন আসছি একটু ভালোভাবেই ঘুরি তাহলে।এইজায়গাটা চিনো? - খেয়াল নেই, কেনো? - তুমি ভুললেও আমি ভুলিনি। এইটাই সেই জায়গা যেখানে তুমি আমাদের ব্যাসের সবাইকে তোমার জবের জন্যে ট্রিট দিয়েছিলে।আমি সেদিন আমার কাজিনের সাথে আসছিলাম।বাসায় বোরিং ফিল করছিলাম তাই আমায় নিয়ে আসছিলো।আর সেদিনই প্রথম সাক্ষাৎ তোমার সাথে হাসিমুখে।ভাবিনি কান্না দিয়ে শেষ হবে এই সাক্ষাতের সমাপ্তিটা।আমি কি তোমার জন্যে একটুও উপযুক্ত ছিলামনা।আমি কি তোমায় একটুও সুখ দিতে পারতামনা? - আমি তোমায় কষ্ট দিতে পারতামনা। - আমিতো তোমার কাছে কিছু চাইনি।শুধু ভালোবাসা চাইছি। - আমি নষ্ট জীবনে ভালোবাসা বলতে কিছু দেখিনি। - তুমি সেদিন এতটা পাষাণ কিভাবে হয়েছিলো আজও ভাবলে অবাক লাগে আজও। - আমি নরম হৃদয়ের ছিলাম কবে? - শিশির!!!(কিছুটা রেগে) - সেটাই।তাহলে উঠি আজ নাকি? - চলো বিয়ের কার্ডটা দেই তোমায়। - আচ্ছা। . গাড়ী থেকে এক ঝাক কার্ড বের করে তার মধ্য থেকে একটা আমায় দিলো।পরে বলল যে "এটাই কি শেষ দেখা? " ও জানে আমি যাবোনা,তবুও সেই পুরোনো উত্তরটাই দিলাম "পৃথিবীটা গোলাকার"।হঠাৎ করেই চোখ মুছতে মুছতে গাড়ীটা টান দিতে বলল ড্রাইভারকে।আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম গাড়ীর পাশে।মুহুর্তেই গাড়ীটা উধাও হয়ে গেল।আজও হয়তো আমায় ভালোবাসে।আমি কার্ডটা দেখতে লাগলাম।খুব সুন্দর ডিজাইন করেছে।তবে আমি যাচ্ছিনা।গেলেই সর্বনিম্ন এক কি দুহাজার টাকা শেষ।সেই টাকা দিয়ে এতিমখানার মেধাবী ছাত্র আরিফের একটা শার্ট আর প্যান্ট কিনা হয়ে যাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিরব প্রেম
→ নিরব প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now