বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীরব ভালোবাসা। (সুমু)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এস এম মোরশেদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X গল্প:নীরব ভালোবাসা। (সুমু) । । । প্রতিদিনের মত মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে নিরবের।নিরব এবার ভার্সিটিতে পড়ে।ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ~ ভার্সিটিতে গিয়েই আকাশ এর সাথে দেখা করে। আকাশই হলো নিরবের বন্ধু,শুধু বন্ধু না একজনকে ছাড়া অন্যজন থাকতে পারে না।নিরবের সকল কষ্টের খবর আকাশ জানতো।শুধু আকাশ না নিরবের আরো বন্ধু রয়েছে, কিন্তু আকাশ ই হলো একমাত্র বন্ধু যার সাথে নিরব সব কথা শেয়ার করে।দুজন মিলে ভার্সিটির সকল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়।নিরবের সকল বন্ধুর গালফ্রেন্ড আছে আকাশের ও আছে কিন্তু নিরবের নেই।তাই বলে নিরব দেখতে খারাপ না।দুই একটা মেয়ের কাছ থেকে প্রপোজ ও পেয়েছে, কিন্তু তার সেইদিকে কোনো ইন্টারেস্ট নাই।এর একটা কারন ও আছে যেটা শুধু নিরবের পরিবার আর তার বন্ধু আকাশ ছাড়া আর কেউ যানে না।নিরব এক সময় স্বপ্ন দেখতো তার ও একজন গালফ্রেন্ড থাকবে যার সাথে সে তার সকল সুখ দুঃখ ভাগ করবে, কিন্তু একটা ঘটনা তার জীবনের সকল স্বপ্ন বিসর্জন দিতে বাধ্য করে। কিছুদিন আগে একটা পরীক্ষায় নিরবের হার্টে ছিদ্র ধরা পরেছে। ডাক্তার বলেছে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম।নিরবের বাবা মা কথাটি নিরবকে জানাতে চায়নি কিন্তু নিরব জেনে যায়। নিরব সেদিন খুব কেঁদেছিল। এর পরের দিনই সে আকাশ কে সব খুলে বলেছিলো,সেদিন দুইজনই খুব কেঁদেছিল শান্তনা দেওয়ার মত কেউ ছিলো না,আর থাকবেই বা কিভাবে এই কথা আর কেউ জানতো না।সে আকাশকে নিষেধ করেছিলো কথাটা যেন আর কাউকে না বলে, আকাশ ও আর কাউকে বলে নি।এখন আর নিরব কাঁদেনা। সে নিজেকে একটা পাথরে পরিনত করেছে। এখন কোনো দুঃখ তাকে কাঁদাতে পারে না,আর কোন সুখ তাকে হাঁসাতে পারে না।সে এখন অন্যরকম হয়ে গেছে।মাঝে মাঝে তার অন্য বন্ধুরা অবাক হয় একটা ছেলে এমন কি করে হয়।আকাশ মাঝে মাঝে নিরবের জন্য কাঁদে, আর নিরব আকাশকে শান্তনা দেয়।আকাশ মনে মনে ভাবে,, কী অদ্ভুত ছেলে, যেখানে তার ই নিরব কে শান্তনা দেওয়ার কথা অথচ আজ নিরব তাকে শান্তনা দিচ্ছে। এভাবে নিরব আর আকাশের কিছু দিন যায়।একদিন ভার্সিটিতে একটি মেয়েকে দেখে নিরবের ভালো লেগে যায়।মেয়েটির মায়বি চেহারা, টানা টানা দুইটি চোখ নিরবের পাথরের হৃদয়ে প্রানের স্পন্দন জাগাতে সক্ষম হয়।যদিও নিরব ভালো করে যানে যে তার কখনো মেয়েটিকে পাওয়া হবে না। সেদিন নিরব নিজেকে প্রকৃতির কাছে অনেক অসহায় মনে করছিল।একদিন নিরব আকাশকে মেয়েটির কথা বলেছিলো,আকাশ বলে,, মেয়েটির নাম ঊর্মিলা, এই ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হয়েছে।আকাশ দের বাসার পাশে ওর বাসা।আকাশ নিরবকে বলেছিলো মেয়েটিকে প্রপোজ করতে, কিন্তু নিরবের এক কথা,সে তার জীবনে অন্য কাউকে জরিয়ে তাকে কষ্ট দিতে পারবে না।আকাশ খেয়াল করেছিলো কথা গুলো বলতে নিরবের চোখের কোনে এক ফোঁটা জল জমেছিলো।এতে আকাশ খুব অবাক হয়।সে বুঝতে পারে নিরব ঊর্মিলাকে অনেক ভালোবেসে পেলেছে। নিরবের কষ্ট দেখে আকাশ নিরব কে ধরে খুব কেঁদেছিল। সেদিন নিরব ও কেঁদেছিল তবে আকাশের সামনে না,বাসায় এসে নিরবে কাঁদে।নিরবের অন্য বন্ধুরা নিরবের সাথে অনেক সময় ঠাট্টা করতো, কিন্তু তারাতো জানতো না যে নিরব কত কষ্ট বুকে নিয়ে পৃথিবীতে কিছুদিনের জন্য তাদের মাঝে বেঁচে আছে। নিরব প্রায় ঊর্মিলাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতো।ঊর্মিলাও বিষয় টা খেয়াল করেছে যে একটা ছেলে তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে।ঊর্মিলা ভাবে যে ছেলেটা কত ভিতু এতদিন একটা মেয়েকে ভালোবাসে অথচ বলতে পারে না।ঊর্মিলার ও ছেলেটিকে ভালো লাগতো,তাই একদিন ঊর্মিলা নিরব কে ডেকে বলেদেয়,,,, -- আপনি প্রতিদিন আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেন কেন?? (ঊর্মিলা) -- কই নাতো আমি কেন আপনাকে লুকিয়ে দেখতে যাব(নিরব) -- আমিতো রোজ দেখি আপনি আমার দিকে তাকিয়ে, থাকেন।ভিতু কোথাকার, আমাকে যদি আপনার ভালো লাগে সেটা বলে দিতে পারেন না?? -- আমি আপনাকে কখন বল্লাম আপনাকে আমার ভালো লাগে?? -- আপনার আমাকে ভালোলাগে না?? --না,,( কথাটা বলতে নিরবের চোখের কোনে এক চিলতে পানি জমে,খুব কষ্ট করে সে ওকে কথা টা বলে) -- সত্যিই আপনার আমাকে ভালো লাগে না??( মন খারাপ করে কথাটা বলে ঊর্মিলা) -- আজব মেয়েতো আপনি, কখন থেকে এক কথা বার বার জিঞেস করছেন? আর কত বার বলবো আপনাকে আমার ভালো লাগেনা। কেঁদে কেঁদে সেখান থেকে চলে গেল ঊর্মিলা। নিরব ও কাঁদে,, সত্যিই মানুষ প্রকৃতির কাছে কত অসহায়। আজ তাদের দুইজনের মাঝে প্রকৃতিই বিশাল বাধা। ~ এভাবেই অনেক দুঃখে ২ মাস পার হয়।আজ নিরব আর আকাশ নদীর পারে বসে আছে। কাল নিরবের অপারেশন। ডাক্তার বলেছে অপারেশন সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই আজ আকাশ আর নিরব দুইজনের চোখেই পানি।দুইজনই আজ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।আজ ও শান্তনা দেওয়ার কেউ নেই। আর কি বলেই তাদের শান্তনা দিবে? দুইজনের চোখের জলে পার হয় সেই দিন। - অবশেষে আজ সেই কাক্ষিত দিন।আর ১ ঘন্টা পরে নিরবের অপারেশন। আকাশ নিরবের সাথে দেখা করতে এসেছে,আকাশ এখনো কাঁদছে।কিন্তু নিরব আর কাঁদছে না। - নিরবকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো।বাইরে নিরবের সকল বন্ধু অপেক্ষা করছে।না আজ আর আকাশ নিরবের কথা রাখতে পারলো না।সে নিরবের সকল বন্ধুকে নিরবের সব কথা বলে দিয়েছে। - আজ সবাই হাসপাতালে এসেছে।সবার চোখে জল।ঊর্মিলা ও এসেছে।ঊর্মিলা আজ সব বুঝতে পেরেছে।সেদিন কেন নিরব তাকে দূরে ঠেলে দিলো।আজ তার দুই চোখ কোনো বাধা মানছে না।অবিরাম তার অশ্রু বর্ষিত হচ্ছে।ওইদিকে আকাশ তার সমস্ত চোখের পানি শেষ করে পাথর হয়ে আছে।সকলে নিরবের তার জন্য নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তার কাছে নিরবের জন্য প্রার্থনা করছে। - ২ ঘন্টা পর ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার থেকে মলিন মুখে বেরিয়ে এসেছে। ডাক্তার এর মলিন মুখ দেখে সবাই হতবম্ব হয়েযায়।তারপরও আকাশ মনে একটু আশার সঞ্চয় করে ডাক্তার কে জিঞেস করলো,, নিরব কেমন আছে??,, ডাক্তার তার মুখে গম্ভীর ভাব নিয়ে শোনালেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম উক্তি,,,সরি, আমরা নিরব কে বাঁচাতে পারি নি,,,মুহর্তের মধ্যে নিরবের সকল বন্ধুর চোখ দিয়ে অশ্রুর ধারা বয়ে যায়।সবার অশ্রুতে হাসপাতাল সিক্ত হয়ে গেল।আর বেচারা আকাশ সে স্তব্ধ হয়ে রইলো।মুহুর্তের মধ্যে তার স্মৃতির পাতায় নিরবকে নিয়ে কাটানো সকল স্মৃতি ভেসে উঠলো।সেই ক্লা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীরব ভালোবাসা। (সুমু)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now