বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--"আমাকে ধরবে না,আমার কাছেও আসবে নাহ!"
বলেই সূচনা একটু দূরে সরে বসলো।
নীল সূচনার আচরনে খুব বেশি অবাক হয়নি।
সূচনা যখন রিক্সা থেকে নেমেছে তখনি প্রথম ওকে দেখে অবাকের সর্বচ্চ মাত্রাটি পার করে ফেলেছে নীল।এখন আর নতুন করে অবাক হওয়ার মানেই হয় না।
--"সূচনা তোমার কি বেশি খারাপ লাগছে?" অত্যধিক নরম গলায় কথাটি বলেই নীল থেমে গেলো।সূচনাকে কথা বলার সময় দিলো।
সূচনা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আস্তে করে বললো,
--"হুম"
অন্যসময় এমনিই নীল কথা কম বলে এবং জগতের যত গল্প সূচনা সব পালাক্রমে বলতেই থাকে। নীল বড় বড় চোখে সূচনার কথা শুনতে থাকে।কথা শুনতে শুনতে নীল হিপ্নোসিস হয়ে যায়।তখন মুগ্ধ হয়ে ওর কথা শুনতে থাকে।
হাসির কথা বলে সূচনা যখন নিজেই হাসে তখন ওর গালে ব্লাশ চলে আসে। সূচনার ব্লাশিং দেখে নীলের শ্বাস ঘন হয়ে আসে।সে অন্য দিকে চোখ ঘুরিয়ে নেই।সূচনা এই ব্যাপারটি হয়তো কখনোই ধরতে পারেনি। না পারাতে অবশ্য নীলের ভালই হয়েছে।এমন বিব্রতের ভিতর কে পড়তে চাই!
ভালবাসার মানুষের চেহারার কোন অতিরিক্ত সৌন্দর্য মানুষ বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারেনা।তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা সেই ক্ষমতা দিয়ে পাঠাইনি।এই ক্ষমতা সব থাকে পরমানুষের কাছে।
এ কেমন নিষ্টুরতা!
.
নীল সূচনার কাছ ঘেসে বসলো।সূচনার হাতটি নিজের হাতের ভিতর নিতেই চমকে উঠলো।হাতটি একদম বরফের মত ঠাণ্ডা।
তার মানে কি!সূচনার জ্বর আসেনি তো?
নীল জানে জিজ্ঞেস করলে ও নীলকে বিস্তারিত কিছুই বলবে না। ইন্ট্রোভার্ট মেয়েরা যদি কিছু লুকাই তখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এসেও অনুরোধ করলে সেটা বলবে না।ওকে সময় দিতে হবে।
হাত ধরে কিছুক্ষণ বসে থাকা যাক!
মিনিট পাচেক হাতের ভিতরে হাতটি থাকাতে সূচনার হাতটি উষ্ণ হয়ে গেলো।হয়তো তার মনটাও এতক্ষণে হাতের মত উষ্ণ হয়ে গিয়েছে।
নীল এবার সূচনার চোখে চোখ রেখে হুট করেই প্রশ্নটি করলো,
--"তোমার কি হয়েছে সূচনা?অসুস্থ তো বুঝতেই পারছি কিন্তু অসুস্থতার কারনটি কি?"
সূচনা বহুদিন পরে আবারো নীলের দৃষ্টিতে আটকে গেলো। জগতের সবথেকে ভয়াবহ অস্ত্রটি নীলের কাছে আছে।
দৃষ্টি!
নীলের চোখে দৃষ্টি পড়লে খুনের আসামীও ওই চোখকে বিশ্বাস করে খুনের কথা অকপটে স্বীকার করে নেবে।পরে দৃষ্টি সরানোর পর হায় হায় করবে।
নীলের ভেজা ভেজা বড় বড় চোখে চোখ পড়তেই আপনাআপনি সূচনার ভাল বোধ হতে লাগলো।সচরাচর ছেলেদের চোখে এত মায়া লেপ্টে থাকেনা।জগতের যত মায়া সব লেপ্টানো থাকে মায়াপরীদের চোখে কিন্তু সৃষ্টিকর্তা নীলের চোখে এত মায়া দিয়েছে কেন? এমন ভুল তো হওয়ার কথা না!
সূচনা থেমে থেমে বললো,
--"কয়দিন ভার্সিটিতে খুব প্রেশার যাচ্ছে!এই ক্লাস,দৌড়াদৌড়ি, এসাইনমেন্ট,টিউশনি তার উপরে যে বাজে ওয়েদার! তাই শরীর খুব খারাপ করছে !জ্বরজ্বরও লাগছে!জ্বর যেন তোমার না হয় তাই ছুতে বারন করেছিলাম তখন।"
বলেই সূচনা আবার কিছুক্ষণ থেমে জোরে জোরে দুই বার শ্বাস নিয়ে বললো,
--"উফফফ আমার যে কি খারাপ লাগছে বলেও বোঝানো যাবেনা তোমাকে নীল!"
এটুকু বলতেই সূচনার চোখে পানি চলে এলো।তার আসলেই অতিরিক্ত খারাপ লাগছে।
নীলকে ও প্রচুর না,প্রচণ্ড ভালবাসে বলেই আজ দেখাটা করতে এসেছে। প্রচণ্ড ও প্রচুরের পার্থক্য কেউ না খুজে পেলেও নীল খুঁজে পেয়েছে কারন নীলও যে সূচনাকে প্রচুর না,প্রচণ্ড ভালবাসে।
সূচনার বাদামী চোখে পানি দেখে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো নীল। অতিরিক্ত মুগ্ধতা মানুষকে সম্মোহন করে ফেলে।নীলেরও বোধহয় তাই হল।কাজল ধোয়া চোখের পানি নীল এর আগে কখনো দেখেনি। নীল ভাবতে লাগলো,
--"কি অদ্ভুত মেয়ে!এই মেয়ের মুখটি আল্লাহ হয়তো খুবই স্পেশাল মাটি দিয়ে যত্ন করে বানিয়েছে যেই মাটির বৈশিষ্ট্য একেক অনুভূতির সময় একেক রকম সৌন্দর্য ফুটে উঠানো"
.
নীলের ফোন পেয়ে সূচনা বিছানা থেকে উঠে চোখে শুধু কাজল টেনেই চলে এসেছে।সেই মহামূল্যবান কাজল গুলি আবার চোখের পানিতে ধুয়ে গাল বেয়ে কালো মুক্তার মত গড়িয়ে পড়ছে।
আচ্ছা কালো মুক্তা কেউ কখনো দেখেছে?
হয়তো দেখেনি!
যেটা কেউ দেখেনি সেটা আদেখায় থাকা ভাল।তাই নীল দুইহাতের আঙুল দিয়ে সূচনার চোখ মুছতে মুছতে বললো,
--"তো তখন বললেই তো হত সূচনা! আমি কি জোর করতাম আসার জন্যে হু? জ্বর এখন কেমন?"
সূচনা ঠোট বাঁকিয়ে নাক হালকা টেনে বললো,
--"আরে বুদ্ধু! গালে হাত দিয়ে জ্বর না বুঝলে কপালে হাত দিয়ে দেখো জ্বর চলে এলো কিনা?"
নীল চোখেমুখে হঠাৎ দুষ্টু হাসি এনে বললো,
--"ভালবাসার মানুষের কপালের জ্বর হাত দিয়ে দেখতে হয়না!"
সূচনা অবাক হয়ে বললো,
--"তো কি দিয়ে দেখতে হয়?"
নীল বোধহয় তৈরিই ছিল কথাটির জন্যে তাই কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে উঠেই সূচনার কপালে পাচ ছয় সেকেন্ড ওর ঠোট দুইটি ঠেকিয়ে গভীর আবেশে মাঝারী সাইজের একটি চুমু দিয়ে বললো,
--"ঠোট দিয়ে দেখতে হয়!"
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now