বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটি প্রতিদিন বিকেল বেলায় বিলের ধারে গিয়ে অপেক্ষা করে সন্ধ্যা নামা অবধি।বিলের পুস্পিত কোমল শাপলার উপর এসে চাঁদের মিষ্টি কীরন মিটিমিটি করে জ্বলে।মেয়েটি হৃদয় দিয়ে অনুভব করে অনাবিল সেই প্রশান্তি।নীলফা
মারি জেলার ডালিয়া গ্রামে ঘুরতে এসেছি বন্ধুর সাথে।ভার্সিটি তে অবরোধ চলছে।এই অবরোধ ছয় মাসেও ভাঙে কি না সন্দেহ আছে তাতে।তাই মাস দুয়েক ওর গ্রামে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।
মেয়েটির নাম নীলাঞ্জনা।তার রুপের আর গুনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া যে নাম।
অনেক পুরনো সেই বিলের ধার বাঁশবাগান আর জংগলে ঘেরা।বিকেলেও কেউ যায়না ওদিক।আর মেয়েটি কিনা সন্ধ্যা অবধি সেখানে অপেক্ষা করে।ও প্রতিদিন চাঁদের আলোয় বিলের পানিতে মিটিমিটি করে হাসা শাপলা দেখার জন্য অপেক্ষা করে।আর আমি ওকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি।ঘন জংগলে লুকিয়ে দেখি মেয়েটার রিমঝিম হেলে দুলে মন মেতে ওঠা মিষ্টি নাচ আর ধীরে ধীরে গেয়ে ওঠা গান।
প্রতিদিনের মতো আজকেও জংগলের পেছেনের বট গাছের উপরে বসে আছি ওকে দেখার জন্য।মেয়েটা কেনো আসছে না! বিকেল প্রায় ৫ টা বেজে গেছে।ও তো প্রতিদিন চারটায় চলে আসে।তারপর পেছন দিক থেকে এক জনের ডাক শুনতে পেলাম।পেছনে ফিরে দেখলাম ওটা নীলাঞ্জনা।নামটা আসলে আমার বন্ধু অনিকের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি।মেয়েটা অনিক কে বড় ভাই ভেবে রিস্পেক্ট করে।তবে আমাকে চেনে না এক দমি।
নীলাঞ্জনা:- নামেন বলছি।তারাতারি নামেন।
আবির:- নামতেছি।
তারপর প্রকান্ড সেই বটগাছ থেকে নেমে পড়লাম।
নীলাঞ্জনা:- আপনি কতোদিন থেকে এখানে আসছেন? আর এই সবের মানে কি!
আবির:- জি মানে,আমি,মান!
নীলাঞ্জনা:- ভয় পাওয়ার কিছু নেই।সত্যি কথা বলেন।আমি কাউকে বকা দিয়ে কথা বলিনা।নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারন আছে।
আবির:- আমি মাত্র তিন দিন থেকে এখানে আসছি।আর লুকিয়ে লুকিয়ে আপনার নাচ দেখতাম।ভুল হয়ে গেছে আমার।ক্ষমা করে দিন।
নীলাঞ্জনা:- হুম,বুঝলাম।তবে আপনি কাজ টা ঠিক করেন নি।আর কখনো এখানে আসবেন না এই সময়ে কেমন?
আবির:- আচ্ছা ঠিক আছে।একটা প্রশ্ন করতে পারি?
নীলাঞ্জনা:- জি,বলেন।
আবির:-আমি কি আপনার সাথে বসে জোস্না দেখতে পারি এই বিলের ধারে?।সন্ধ্যা তো ঘনিয়ে আসছে।
নীলাঞ্জনা:- না,আপনি চলে যান প্লীজ।আর কখনো আসবেন না এখানে।আমার একা একা দেখতে ভালো লাগে।
আবির:- আচ্ছা,ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি।
নীলাঞ্জনা একা একা বসে জোস্না বিলাস করছে।ছোটকালে মাকে হারিয়ে বাবার কোলে বেড়ে উঠেছে।তাই, বাবা ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ যে জীবনে আসতে পারে এমন ধারনাই নেই বিন্দুমাত্র ওর মনে।১৭ বছরে পা দিয়েছে।এখনো সে বাবার বুকে মাথা রেখে ঘুমায়।
আবির মন খারাপ করে বসে আছে বারান্দায়।বন্ধু অনিক এসে পাশে বসলো।
অনিক:- কিরে আজকেও গিয়েছিলি।তোকে এত্তো করে বললাম যাসনা।ওই মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দরী, আর অনেক নম্র ভদ্র স্বভাবের। তবে প্রেম ট্রেমের বিন্দুমাত্র ফিলিংস নাই ওর মধ্যে।
তিন তিন টা দিন যাওয়া হয়নি ওই পুকুরপাড়ে।মেয়েটার জন্য ভিতরটা যেনো কেমন করছে।
ভালোবাসা আসলে একটা পরিকল্পনাহীন বিষয় বস্তু।কিভাবে আসে কিভাবে বাড়ে সবি অজান্তে।ভোলা যায় না সেই মুখশ্রী কিছুতে।
তাই ওর কথা অমান্য করে আবার আসলাম।এবার আর লুকিয়ে নয়।ওর পাশে গিয়ে বসলাম।
নীলাঞ্জনা:- আপনি কিন্তু কথা রাখেন নি।
আবির:- অনেক চেষ্টা করেছি।কিন্তু কিছুতেই পারিনি।
নীলাঞ্জনা:- কেনো? কি হয়েছে আপনার!চোখ তো অনেক লাল।রাতে জেগে জেগে কেঁদেছেন বুঝি?কার জন্য কেঁদেছেন? আর কেনই বা কেঁদেছেন!
আবির:- আপনি আসতে মানা করেছেন।প্রথমে মেনে নিয়েছিলাম।বাট পরে অনেক খারাপ লেগেছে।রাতে ঘুমোতে পারিনি তিন দিন।অনেক কেঁদেছি।
নীলাঞ্জনা:- অনিক ভাইয়ের কাছে জানলাম,আপনি বন্ধুর গ্রামে ঘুরতে এসেছেন।তবে এতোটা বোকা হবেন না।আমার জন্য কাঁদবেন কেনো? রক্তের জন্য রক্ত কাঁদে। এই যেমন আপনি আমার রক্তের কেউ না।আপনার রক্ত ঝড়লেও তো আমার কাঁদা উচিৎ না।
আবির:- আমি যদি রক্ত ঝড়াই আপনি কাঁদবেন না? এক্টুও কষ্ট পাবেন না?
নীলাঞ্জনা:- নাহ।
আবির:- আপনার মনে কি মায়া দয়া নেই?
নীলাঞ্জনা:- হুম,আছে।তবে আপনি অনেক বড় ভুল করতে যাচ্ছেন।আর আমারো ইদানিং কেমন জানি লাগে আপনার জন্য।প্লীজ আর কখনো আসবেন না।আমি একাকী পথ চলতে চাই।এই সেল্ফিস মানব বিচরনে নিজেকে শামিল করতে চাই না।
অতিরিক্ত আপন মানুষ গুলিই যে যত্ন করে তিলে তিলে কষ্ট দেয়।এই রোদ বৃস্টি চাঁদ, জোস্না, বিলের শাপলা, কখনই আমাকে ঠকায় না।
আবির:- আমি কি চলে যাবো তাহলে?
নীলাঞ্জনা:- হুম,আর কক্ষনো আসবেন না।
আমি ফিরে এসে অনিকের রুমে শুয়ে জীবনের গতিপথের মানচিত্র আঁকছি।ওর ছোট বোন টুপুর এসে আমার পাশে বসলো।ভারী মিষ্টি একটা মেয়ে।দেখতে শ্যামলা হলেও মুখের কাট টা অনেক কিউট।ওর চেহারার দিকে তাকালেই মায়া জন্মে যায়। বয়স ১৬ / ১৭ এর মতো।
টুপুর:- ও ভাইয়া।আমাকে জোস্না দেখাতে নিয়ে যাবেন বিলের ধারে?
কি আজব ব্যাপার! প্রতিটা মেয়েই কি চাঁদনি রাতে জোস্নার মোহনীয় রুপশ্রীতে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ব্যাকুল।আগে জানলে জোস্নার আলো হয়ে জগতে আসার জন্য বিধাতার কাছে অনুগ্রহ করতাম।মানুষ হয়ে জন্ম নিলেই যে কষ্ট অবিরত।কষ্ট বিহীন জীবন যে নাই এই জগতে।
টুপুর:- কি ভাবছেন ভাইয়া।এতো বিষন্ন মনে? শরীর খারাপ হলে যেতে হবেনা ভাইয়া।রেস্ট করেন।অনিক ভাই বাজারে গেছেন।ফিরতে অনেক লেট হবে।
ভাইয়া কাল আপনাকে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে যেতে চাই।আমার বন্ধু, সবচেয়ে আপন বন্ধু নীলাঞ্জনার বিয়ে।
আবির:- কার কথা বলছো তুমি?
সন্ধায় একা একা বিলের ধারে যায় যে মেয়েটা ও!
টুপুর:- হুম।কিন্তু আপনি কি করে জানলেন? ও তো এই রহস্য আজ অবধি কারো কাছে শেয়ার করেনি। আর কাউকে সাথেও নেয় না।
ও বুঝেছি,অনিক ভাইয়া ওর গল্প শুনিয়েছে আপনাকে।অনেক ভালো একটা মেয়ে নীলাঞ্জনা।কিন্তু নীরবে কি নিয়ে যেনো ভাবে মাঝে মাঝে।ভাইয়া আপনার চোখে পানি কেনো? আজব তো? কি হইছে?
আবির:- মা মারা যাওয়ার দু বছর হয়ে গেলো।বাবা একা একা না জানি কি করছেন।খুব মনে পড়ছে বাবাকে।আর থাকতে ইচ্ছে করছেনা।কালকে চলে যাবো ঢাকা।
টুপুর:- ধুর! বোকা ভাইয়া।এতো বড় মানুষ বাবার জন্য এভাবে কাঁদে নাকি।
কাল নীলাঞ্জনার বিয়েতে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি। যেতেই হবে আপনাকে।দেইখেন আমার পরীর মতো সুন্দরী বান্ধবী টাকে কত্তো নাইস লাগে দেখতে!
আমি কিচ্ছু বলতে পাড়ছিলাম না।
চোখ বন্ধ করে মনের শান্তিতে ঘুমোচ্ছিলাম।চোখ জোরা ছল ছল করছিলো অশ্রুতে।
পরদিন আমার মরা মরা অবস্থা।
অন্নেক জ্বর। এত্তো জ্বর যে আগে কখনো হয়নি।অনিক, টুপুর আমার পাশে বসে আছে।টুপুর মাঝে মাঝে মাথার পট্টি টা চেঞ্জ করে দিচ্ছে।অনিক সাইকেল টা বের করে ডাক্তার কে ডাকতে যাচ্ছে। আমার যে জীবন প্রদীপ ধীরে ধীরে অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার কিই বা করতে পারবে আর!
ধীরে ধীরে আমার অবস্থা খুব খারাপের দিকে যাচ্ছিলো।আসলে এতোটাই ভেংগে পরেছিলাম যে বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই মরে গিয়েছিলো।যে নিজে বাঁচতে চায় না জীবন তার জন্য কিই বা করতে পারে!
এর পর এম্বুলেন্সে করে আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিলো।তারপর সুস্থ ও হয়েছিলাম।কেটে গেছে দু দুটি বছর।
বন্ধু অনিক সহ ওর পুরো পরিবার অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে মরে গেছে।বছর খানেক আগের কথা,কলেজে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলো পরী।
মেয়েটা এখন ওই বাড়িতে কাজের মেয়ে আন্টিকে নিয়ে একা থাকে।তিন / চার মাস থেকে আসি আসি করে আসা হয়না
টুপুর কে দেখতে।অবশেষ এ লম্বা ছুটি পেয়ে চলে আসলাম।
এইতো রিক্সা নিয়ে গ্রামের মেঠো পথ ধরে চলছি অবিরত।সেই পুরনো স্মৃতি মনে করে মন্টা কাঁদছে নীরবে। কি যে নির্মম সেই কান্না!নাই কোনো রুপ কিংবা রঙ তার।
২০ মিনিট পর টুপুরদের উঠোনে নেমে পরলাম।টুপুর আর নীলাঞ্জনা নাকি পুকুর পাড়ে গেছে ঘুরতে, সেই পুরনো পুকুরপাড়। ও তাইতো বিকেল ৫ টা বাজে যে!
নীলাঞ্জনা, আমার কল্পনার নীলাঞ্জনা।
আমার নীরব প্রেমের গল্প,আমার স্বপ্ন কন্যা।
এক পলক দেখতে ছুটে এসেছি বহুদুর গন্তব্য হতে।
ঠিকানা টুপুরের বাড়ি ওকে একটু শান্তনা দেয়া, আর উদ্দেশ্য শুধু তুমি, তোমাকে এক পলক দেখা।
আমি পুকুর পাড়ে যাচ্ছি, কিন্তু ভুল সময়ে চলে এসেছি। টুপুর ফিরে আসছে আমার দিকে।আমাকে দেখে ওর যে কি কান্না!
টুপুর:- ভাইয়া, আর মিনিট পাঁচেক আগে আসলে নীলাঞ্জনা কে দেখতে পেতেন।ওই যে দুরের রিক্সাটা আবছা দেখা যাচ্ছে।
ও আর ওর বর চলে যাচ্ছে ওর শশুর বাড়িতে।ওর ফুটফুটে একটা বেবী হয়েছে।ওর কাছ থেকে সব কিছু জেনেছি।কষ্ট পাবেন না ভাইয়া।মানুষের সব আশা যে পুরন হওয়ার নয়।
___________________________
ও ভাইয়া প্লীজ মন খারাপ করবেন না।ওর তো বিয়ে হয়ে গেছে বাচ্চাও হয়েছে।এমন করলে মানুষ আপনাকে কি ভাববে বলেন তো? আমাকে নিয়ে যাবেন ভাইয়া,বিলের ধারে শাপলা দেখতে? সন্ধে বেলায় চাঁদের জোস্না শোভিত মায়ায়।কতোদিন দেখা হয়না! আগে অনিক ভাইয়ার সাথে প্রায় যেতাম। আপনার মধ্যে আমি আপনার বন্ধু, আমার আপন ভাইয়ের ছায়া দেখতে পাই।
আবির:-অবশ্যই আজ বিকেলে তোমাকে নিয়ে বিলের ধারে ঘুরতে বেরুবো। তবে নীলাঞ্জনাকে এক বারের জন্য দেখে ঢাকায় ফিরতে চাই লক্ষী আপি।ওর প্রতি যে আমার ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি।প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।যদি একটি বারের জন্য ওকে ছুয়ে দেখতে পাড়তাম?
টুপুর:- মন খারাপ কইরেন না,ভাইয়া।কালকে ওর শশুর বাড়ির ঠিকানা দিবো আপনাকে।একবার গিয়ে দেখে চলে আসবেন কেমন?তবে ভাইয়া একটা কথা মাথায় রাখবেন ও কিন্তু কখনই আপনাকে ভালোবাসেনি।
আবির:-তুমি কি ভালো আছো টুপুর? লক্ষী বোন আমার।মুখটা কেমন যেনো শুকিয়ে গেছে তোমার।
টুপুর:-বাবা মা ভাইয়া এভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেন!প্রতি রাতে ঘুমোনের আগে কান্না করি জানেন।দেখছেন না কাঁদতে কাঁদতে চোখের কোনে কালো দাগ পরে গেছে।এখন আর ইচ্ছে করলেও চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়াতে পারিনা।কতো দিন প্রান খুলে কাদা হয়না!চাপা কষ্ট গুলো আমাকে তিলে তিলে যন্ত্রণা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আবির:- আমার লক্ষী আপিটা।এমন করে বলতে হয়না।এই তো ভাইয়া আছে তোমার সাথে।এখন থেকে খারাপ লাগলে ভাইয়ার সাথে ফোনে কথা বলবে কেমন?তারপর ওর কপালে একটা চুমু একে দিলাম।ওর মুখে মিষ্টি হাসির ঝিলিক খেলা করতে লাগলো।
রাতে ভালো ঘুম হলোনা।এতো কাছে এসেও নীলাঞ্জনা কে দেখতে পেলাম না।আমার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেই বা আছে বলেন তো!
পরদিন সকালে টুপুর আমার জন্য দেশী টেংরা মাছের ঝোল আর বিভিন্ন পদের ভরতা বানিয়ে সেই একটা খাওয়া উপহার দিলো।খাওয়ার সময় নিজ হাতে ওকে খাইয়েও দিয়েছিলাম।মেয়েটা
খাচ্ছিলো আর অবুঝ শিশুর মতো চেয়ে ছিলো।হয়তো ওর অনিক ভাইয়ের কথা মনে পড়ছিলো।ভাই বোনের মিষ্টি মধুর আবেগী সম্পর্ক যে জগতের সব কিছুকেই হার মানিয়ে দেয়।
খেয়ে বিশ্রাম করে একটা রিক্সায় করে নীলাঞ্জনার শশুর বাড়িতে রওনা দিলাম।আহারে কি অপরুপ রুপে আচ্ছন্ন আমাদের গ্রামীন রুপমা!চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। একদল চাষী বন্যায় ডুবে যাওয়া জমি থেকে ধান কেটে উজানে তুলে আনছেন।এমন ভাবে নেংটি খিচেছেন পেছন টা জ্বল জ্বল করে দেখা যাচ্ছে। হায় রে গ্রামীম সরল মানুষ! চারদিকের হাসি তামাশার বিন্দুমাত্র মুল্য নাই উহাদের কাছে।প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে মানুষ গুলি সারি বেধে বসে পরেছেন রাস্তার ধারে মাথা নত করে। আহ খোলা পরিবেশে কি শান্তিতেই না মল ত্যাগ করছেন!মাঝে মাঝে নাকের মধ্যে সেই দুষিত বায়ুর গন্ধ ভেসে আসছে।দূরে একটা নদী বয়ে চলেছে এঁকে-বেঁকে।১০/১১ বছরের দামাল নেংটো ছেলেরা ব্রীজ থেকে লাফিয়ে পড়ে কি অফুরন্ত উল্লাসেই না মেতে আছে!
চাষী বউয়েরা গামছায় বেঁধে দুপুরের খাবার নিয়ে যাচ্ছেন তার প্রিয়তম স্বামীর জন্য।এমন শান্তিময় গ্রামীন পরিবেশ ছেড়ে কেনো যে মানুষ সেল্ফিস শহরে পাড়ি জমায়।শুধু টাকার জন্য।
২ ঘন্টা দেখতে দেখতে কেটে গেলো।এসে পড়েছি নীলাঞ্জনার বাড়ি.অনেক ধনী পরিবারের বধু সে।হবেই বা না কেনো? এমন গুণী আর রুপবতী মেয়ে যে লাখেও একটা জোটেনা।
খুব বেশি অপরিচিত পরিবেশ।
তাই নারভাস হয়ে চারদিকে পায়চারি করতে লাগলাম।
এক মাঝ বয়স্ক কাঁচাপাকা চুলের লোক এসে আমার কাধে হাত রাখলেন।
তুই কায় বাউ(তুমি কে ভাই)?
তোক তো আগোত দেখোংনাই( তোমাকে তো আগে দেখিনি)?
বাউ তুই কার বাড়িত যাবু মোক ক(তুমি কার বাসায় যাবে আমাকে বলো)?
আবির:- আমি নীলাঞ্জনার কাছে এসেছি।আমার নাম আবির।আমার নাম শুনে তিনি বিস্মিত হয়ে অনেক ক্ষন চেয়ে রইলেন।উনিই যে ওর স্বামী।পরে উনিই বললেন আমার গল্প নাকী নীলাঞ্জনা এই বাড়ির সবাইকে বলেছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম, ১৯ বছরের একটা মেয়ে কিনা ৪৫ বছরের মানুষ টার সাথে সংসার পেতেছে!আর ইনি তো দেখি গন্ড murkho.কথা বলার সময় দাঁতের ফুটো দিয়ে পানের পিক সংবলিত থু থু ঝড়ছিলো অনবরত।বাউ তুই খাড়ায় থাক এটকোনা,মুই অক ধরি আইসোচোং( তুমি দাঁড়িয়ে থাকো এখানে,আমি ওকে নিয়ে আসতেছি।
মিনিট বিশেক পর তিনি ফিরে আসলেন।হয়তো ও আমাকে ভিতরে ডেকেছে।কি যে আনন্দ লাগছে আমার বলে বোঝাতে পারবোনা!দু -দুটি বছর ওর মিষ্টি মুখখানা দেখা হয়নি।এক পলক ওকে দেখতে পেলে আমার যে আর কিছুই চাওয়ার থাকবেনা।
তিনি এসে জানালেন নীলাঞ্জনা আমাকে চলে যেতে বলেছেন।ও নাকি দেখা করবেনা।আর কখনো যেনো না আসি সেই অনুরোধ নাকি করেছে।
আমার মাথায় যেনো পুরো আসমান টা ভেঙে পরলো।এর চেয়ে বড় কষ্ট যে জীবনে আর কখনই পাইনি।রাস্তা দিয়ে একরাশ হতাশা নিয়ে হেটে চলেছি।অনেক চেষ্টা করেও চোখ দিয়ে অবিরত ঝরে পরা অশ্রু গুলোকে আরাল করতে পাড়ছিনা।ওহ,কি লজ্জা!আহ কি যন্ত্রণা! পথের মানুষ গুলি যে চেয়ে দেখছে ভেঙে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া আমিকে।
তারপর বাসায় ফিরে আসলে টুপুর আমার নিস্তেজ ভেঙে পরা নির্বাক চেহারা দেখে পাগলের মতো জড়িয়ে ধরে কান্না করতো শুরু করলো।ও বিকেলের ট্রেনে আমাকে ঢাকা চলে যেতে বললো নিজ থেকেই।এখানে থাকলে নাকি আমি এই যন্ত্রণা ভুলতে পারবো না।
ট্রেনের কামড়ায় বসে কি যে কষ্ট লাগছে আমার!জগতের সব যন্ত্রণা বুঝি নিরপরাধ অসহায় হয়ে যাওয়া মানুষ গুলির উপরে এসে পরে।
ছেড়ে এলাম তাকে,,,,
অদেখা রেখে ওরে,,,,,
সে যে নীলাঞ্জনা,,,,
আমার মনের সকল জল্পনা আর কল্পনা,,,,,,
ডাইরির পাতাগুলি ভিঁজে জব জব করে,,
অবিরত ঝরে পরা নির্মম অশ্রু জলে,,,,,
ফিরে যায় অবচেতন ভাঙা মন্টা ডুকরে কেঁদে,,,,,,
তবু শোনেনা যে সে,,,
কিছুতেই যায় না তারে বলা,,,
নীলাঞ্জনা, নীলাঞ্জনা।
""''''''''''''''''''''''''''''’'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''""'''''
নীলাঞ্জনা কে এভাবে ছেড়ে আসলাম।একটি বারের জন্য দেখার যে খুব ইচ্ছে ছিলো।মানুষ বড়ই অসহায় প্রাণী।মানুষ কে বেশির ভাগ সময়ই আশা ভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।ঢাকায় এসে ছয় ছয়টি মাস কাটিয়ে দিলাম।দিন দিন আমার রেজাল্ট খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। তবে লেখালেখি গুলি বন্ধু মহল থেকে শুরু করে পরিচিত অপরিচিত মহলে খুব বেশিই সারা ফেলে দিয়েছে।সব সময় অনুপ্রেরনা দিয়ে সহায়তা করছে সবাই।ভাঙা মন নিয়ে লিখিত গল্প কবিতা গানে ছেয়ে যাচ্ছে ফেসবুক।
ধীরে ধীরে বুঝতে পাড়লাম লেখক সত্ত্বায় আমার মুক্তি।না লিখলে ধুকে ধুকে মরে যাবো হয়তো অজান্তে।কারন নীলাঞ্জনার প্রতি হৃদয়ে জমে থাকা ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণার আগুন আমাকে নির্মম ভাবে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে।
কিছু উদ্দমী বড় ভাই ( শর্ট ফিল্ম মেকার) আমার লেখা নীলাঞ্জনা গল্প পড়ে চোখ বন্ধ করে বলে দিলেন,ভাইয়া তুমি এই সময়ের শ্রেষ্ঠ তরুন প্রতিভা।তোমার এই উপন্যাস যে পড়বে তার হৃদয়ে নির্মম ভাবে দাগ কেটে যাবে। তোমার অসাধারন রচনা শৈলি দেখে আমি বিস্মিত!আমার তো মনে হচ্ছে তোমাকে জনপ্রিয় লেখক বানানোর জন্য ই নীলাঞ্জনাকে বিধাতা এই জগতে পাঠিয়েছে।দেইখো একদিন তুমি অনেক বড় লেখক হবে।অতিরিক্ত কষ্ট তোমাকে অনেক বড় সাফল্য এনে দিবে একদিন।সে দিন তুমি প্রান খুলে হাসবে।সেই হাসিত শামিল হতে গিয়ে তোমার নীলাঞ্জনা অজান্তেই কেঁদে ফেলবে।তুহিন ভাইয়ের কথা গুলি শুনে প্রচুর কান্না করছি আমি।মনে হচ্ছিলো উনি কেবল শান্তনা দিচ্ছেন আমাকে।উনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে কথা বলছেন।সামনের একুশে বই মেলায় আমার প্রকাশনী থেকে এবার একটা বই ই পাবলিস্ট হবে।সেই বই সারা বাংলাদেশ আর পশ্চিবংগ জুড়ে আলোরন তুলবে।তোর নীলাঞ্জনা উপন্যাস পরে লাখো লাখো তরুন তরুণীর হৃদয়ে প্রকম্পন স্মৃস্টি হবে।কাঁদিস নারে ভাই।লেখক দের এভাবে কাঁদতে নেই।পুরুষ হয়ে জন্মাইলে মন টারে পাথরের মতো শক্ত করে নিয়ে ভালো থাকার অভিনয়ের খেলা যে খেলে যেতে হয় আজন্ম।
আমি অবাক হচ্ছিলাম ওনার শান্তনা দেয়ার ধরন দেখে।কোথায় সাধারন আমি আর কোথায় জনপ্রিয় লেখক মহল!
দু দুটি মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফুল পান্ডুলিপি তুহিন ভাইয়ার কাছে দু সপ্তাহ আগে দিয়ে দিয়েছি।বই এর সব কিছু ফুল্ফিট হয়ে গেছে।আগামীকাল একুশে বই মেলায় মোরগ উন্মোচন হবে ঠিক সকাল দশটায়।টেনশনে সারাদিন কিচ্ছু খাওয়া হয়নি।রাতে ঘুমোতে পাড়ছিনা ঠিক মতো।যদি নীলাঞ্জনা উপন্যাস ফ্লপ যায় তুহিন ভাইয়ের যে ৫০ হাজার টাকা লস যাবে।এমনিতেই উনি ছোট খাটো প্রকাশক।আার আমারি বা কি আছে!এত্তো কষ্ট করে মানুষ টা আমার জন্য এতো টাকা ম্যানেজ করলেন!ওনাকে হাজার দশেক টাকাও দিতে পাড়লাম না।তুহিন ভাই গল্পটা ফ্লপ গেলে আমি আর কখনই গল্প লিখবো না।হয়তো সেই কষ্ট কিছুতেই সইতে পাড়বো না।মরেই যাবো রে ভাই।আবেগ গুলি যে নির্মমতার চুরান্ত স্টেজে চলে এসেছে।আমি যে বেঁচে থেকেও মরার মতো বেঁচে আছি।
পরদিন সকাল ৮ টায় ফোনের সুইচ অফ করে গাজিপুর জংগলে এসে বসে রইলাম।আমাকে ফোন দিতে দিতে অবস্থা খারাপ তুহিন ভাইয়ের অংকুর প্রকাশনীর।আর যে মিনিট ত্রিশ পরে মোরগ উন্মোচন হবে।সকাল ১১ টার পর একুশে বইমেলার মেইন ফটক উন্মোচন করে দেয়া হবে সবার জন্য।
বিকেল ৪ টায় ফোন খুললাম।
তুহিন ভাই ফোন করে শুরুতে অনেক গালিগালাজ করলেন।আমি চুপ থেকে জাস্ট শুনেই গেলাম।তারপর নরম গলায় কথা বলতে শুরু করলেন।তুই কি ভাবে ভাবলি যে এই বই চলবেনা! আমার উপর কি তোর বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নাই!আমার এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে কি আমি এতো টাকা বাজেট করতাম!এখন অবধি ১৫৬ কপি সেল হয়ে গেছে।অন্য প্রকাশনার কোনো বই ১০০ কপি সেল হয়নি।দ্বিতীয় দিন থেকে পাঠক রা আগ্রহী হবেন বই কেনার জন্য।তুই এখন মেলায় আশিস না।সপ্তাহ খানেক পর লেখক কে দেখতে চাইবে পাঠক মহল।যদি বইটা জনপ্রিয়তা পায়।তুই মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাক।সপ্তাহে ১৫০০ কপি বিক্রি হলেও লস নাই।আমার লক্ষমাত্রা মাস শেসে ৫০০০ কপি।৫০০০ কপি সেল হলে প্রকাশনার লাভ হবে হাজার পচিশেক টাকা।আমাদের ছোট প্রকাশনা চলবে তাতেই।
কিন্তু সব অনিশ্চয়তা দূর হয়ে গেলো এক সপ্তাহ শেষেই।
নামী নামী লেখক দের বইকে ছাপিয়ে চলতে থাকলো নীলাঞ্জনার বিজনেস।
প্রথম সপ্তাহের শেষেই বিক্রি হয়ে গেছে ৭৮০০ কপি।মাস শেষ হতেই গিয়ে দাড়ালো ৩১৫০০ কপি।
প্রকাশনার লাভ মাস শেষ হতেই গিয়ে দাড়ালো ২ লাখ টাকা।
এর পর রাতারাতি জনপ্রিয় লেখক হয়ে গেলাম।এক বছর কেটে গেছে।মাঝখানে আরো তিনটা বই বের হয়েছে।প্রতিটাই পাঠক মহলে সারা ফেলেছে।
এতো পাওয়ার মাঝেও নীলাঞ্জনা কে দেখার ইচ্ছেটা মরে যায়নি।
টুপুরের বিয়ে হয়ে গেছে মাস দুয়েক আগে।মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয় ওর সাথে।
আজ কেনো জানি ভাঙা গলায় কথা বলছে টুপুর।
টুপুর:- ও ভাইয়া আপনার নীলাঞ্জনার বেবী মারা যাওয়ার পর ও মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছে। ওর স্বামী ওকে গত মাসে তালাক দিয়েছে।ওর বাবা তো বছর দুয়েক আগে মারা গেছে আপনি জানেনি।
আর ভাইয়া আর একটা কথা যে আমি কিছুতেই বলতে পারছিনা।বুক টা ফেটে যাচ্ছে ভাইয়া।
আবির:- প্লীজ আপু বলো? কি হইছে ওর?
টুপুর অনেক কাঁদছে আর ভাঙা গলায় বলছে অবিরত।
টুপুর:- ওর জড়ায়ু ক্যানসার ধরা পড়েছে ভাইয়া।এদেশে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়।
অস্ট্রেলিয়াতে পাঠাতে বলেছে ডক্টর।আর চিকিৎসা খরচ নাকি ৭৫ লাখ টাকা লাগবে।সব মিলে নাকি ১ কোটি টাকা লাগবে।
তারপর ওপার থেকে টুপুর ফোনটা রেখে দিলো।এতো বেশি কেঁদেছিলো যে কথা বলতে পারছিলো না ঠিক মতো.
এতো টাকা কই পাবো আমি!
Bank এ যে মাত্র ২২ লাখ টাকা আছে আমার!
অবশেষে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এক লেখক আসলেন।আমার কাছে নাকি ওনার লেখা গুলি মাইর খেয়ে যাচ্ছে বার বার।আগে নাকি খুব ভালো চলতো ওনার বই।উনি নাকি অনেক পুরনো রাইটার।আমাকে আরো বছর পাঁচেক পর বই প্রকাশ করতে বললেন।মানে তিনি তখন হয়তো আর লিখবেন না।এ জন্য আমাকে তিনি ৩০ লাখ টাকার অফার করলেন।
আমার কাছে লেখালেখীর চেয়ে নীলাঞ্জনার জীবনের দাম অনেক বেশি ছিলো।
আবির:- আমি সারাজীবনের জন্য লেখালেখী ছেড়ে দিবো যদি আপনি আমাকে তিন দিনের মধ্যে ৭৫ লাখ টাকা দিতে পারেন। উনি অংগীকার নামায় আমার সাক্ষর নিয়ে আমাকে ৭৫ লাখ টাকার চেক দিয়ে ওনার উকিল কে নিয়ে চলে গেলেন।
তারপর টুপুরের স্বামী আর টুপুর নীলাঞ্জনা কে নিয়ে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া গমন করলেন।আমি হেল্প করেছি এটা শুনলে নাকি নীলাঞ্জনা কিছুতেই রাজি হতোনা।এ জন্য আমি দুড়েই রয়ে গেলাম।
নীলাঞ্জনা ফিরে আসার পর ২ টি বছর কেটে গেছে।
ওর নাকি আবার বিয়ে হয়ে গেছে।অনেক সুখে- শান্তিতে বসবাস করছে।
যে লেখক আমাকে সহায়তা করেছিলেন তিনি তুহিন ভাইকে নিয়ে এসে আমার পায়ে পরে কাঁদতে শুরু করলেন।ও ভাইরে আমারে মাফ করিস ভাই!এমন গল্প তুহিন ভাইয়ের কাছ থেকে শোনার পর কলিজাটা ফেটে যাচ্ছেরে ভাই।ও ভাই তুই লেখা লেখী না করলে মরে যাবিরে ভাই!আমি উকিল নোটিশ তুইলা নিছিরে ভাই।তুই গল্প লিখবি না ভাই?
আবির:- আমার চোখ দিয়ে বৃস্টির মতো অশ্রু ঝড়ছে।লিখবো ভাই।এই হতভাগার গল্প ছাড়া যে আর কোনো কিছু নেই।
বছর খানেক পর সারা বাংলাদেশ আর কোলকাতা জুড়ে তোল্পার আমাকে নিয়ে।
এত্তো জনপ্রিয় হয়েও নিজেকে বদলাতে পারিনি।কাউকে আর ভালোবাসতে পারিনি,নীলাঞ্জনা।একটি বার কি তোমায় দেখতে পাবোনা নীলাঞ্জনা।
ঢাকা ভার্সিটির টি এস সি তে বিশাল কন্সার্ট এ আমাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমান্ত্রন জানানো হয়েছে।লাখ লাখ মানুষে ভরে গেছে কন্সার্ট এর স্থান।নীলাঞ্জনা তো ঢাকায় থাকে।ও যদি আসতো।অতি সাধারন হয়ে ওকে একটি বারের জন্য ছুয়ে দেখতাম।
আমি যখন গাড়ি থামিয়ে হেঁটে হেঁটে স্টেজের দিকে যাচ্ছিলাম। রাস্তার দু ধারে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার ভক্ত, আমার অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য, আমাকে একটি বার ছুয়ে দেখার জন্য।জনা৫০ কে অটোগ্রাফ দেয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সবাইকে সরিয়ে দিচ্ছেন।কারন পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যাচ্ছিলো।
দূরে সেই ভীড় এড়িয়ে আমার কাছে অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য আপ্রান চেস্টা করছে একটি মেয়ে।সে যে নীলাঞ্জনা।
আমার চোখ অশ্রুতে ভিঁজে যাচ্ছে নীলানঞ্জনা।এত্তো বছর পর তোমার মিষ্টি মুখখানা এভাবে দেখা হবে ভাবতেই পারিনি!
তারপর ভীড়ের মাঝে নিমেশেই হারিয়ে গেলো নীলাঞ্জনা
আমি স্টেজে উঠে পড়া মাত্র চারদিক করতালিতে ফেটে উঠলো।আমি যখন একটা গান গাইতে চাইলাম সেই তালি আর থামছেই না।চলছে তো চলছেই। আমি কথা বলতে শুরু করলে তারা নিশ্চুপ হয়ে শুনতে থাকলেন আমার কথা।আমি একজন লেখক কিন্তু আপনাদের কে একটা গান শোনাবো।
"''''''সেই বালিকাকে আমি বসে ভাবি আজো নিরালায়।
""'''পুকুর পাড়ের জোস্না রাতের স্মৃতি বারে বারে কাঁদায়,,, এই আমায়।।
""'"ছয় ছয়টি বছর কেটে গেছে অবহেলায়,
"""' শুধু বালিকার সুখের কামনায়,,,
"'''''আর একটি বার এক পলক দেখার অপেক্ষায়।
""''সে যে নীলাঞ্জন,,
"""ও,সে যে নীলাঞ্জনা,,,,
"""আমার অলস ক্ষনে, বাড়ে বাড়ে আসে,
"""উপেক্ষীত হয়ে শুধু তারি কথা ভাবে,,
""' এই মন,,,,,,,আর এই প্রান,,,,,
"""'চোখ ভিজে যায় প্রতি রাতে,,,
"'''শেষ হয়ে গেছে যে অশ্রুকনা,,,,,
"""'নীলাঞ্জনা নীলাঞ্জনা,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now