বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
**নীল পদ্ম**
নীল সবেমাত্র এইস.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে । রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছে । বাসা থেকে তেমন বের হয় না ও । কলেজ, পড়া, কম্পিউটার এই নিয়েই দিন কাটে ওর ।
আজকের বিকালটা অনেক মিষ্টি । বাসা থেকে বের হল নীল । ছাদে গিয়ে দাড়াঁলো । নিচে মাঠে কিছু ছেলে খেলাধুলা করছে । হঠাৎ পাশের বাসার ছাদে চোখ গেল ওর । একটা মেয়ে চুপচাপ কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে । ভালো করে মেয়েটার দিকে তাকালো নীল । মেয়েটার সিল্কি লম্বা চুলগুলো হালকা বাতাসে উড়ছে । এতই সুন্দর চেহারা যে মেয়েটা যদি নড়াচড়া না করে তাহলে মনে হবে ওটা একটা জ্যান্ত পুতুল ।
হঠাৎ মেয়েটার চোখে চোখ পড়লো নীলের । একটু বিব্রত বোধ করলো মেয়েটা । হেঁটে ছাদের অন্যপাশে চলে গেল । নীলও কি ভেবে ছাদ থেকে নেমে গেল । বাসায় গিয়ে ভাবলো,"ওর বেশকয়েকজন বন্ধু প্রেম করে । কিন্তু ও প্রেম তো দূরে থাক মেয়েদের দিকে তাকায়ও না । তবে ও মনে মনে ওর স্বপ্নকণ্যার ছবি আঁকে । আজকে দেখা মেয়েটা ওর আঁকা ড্রীমগার্লের মতোই দেখতে । কিন্তু মেয়েটার সম্পর্কে ও কিছুই জানে না । এমনকি নামও না ।
পরদিন সকালে কম্পিউটারে গেমস খেলছিল নীল । একটু পরই ওর সবচেয়ে প্রিয়বন্ধু অর্ক আসে । গতকাল বিকালে দেখা মেয়েটার কথা অর্ককে বলল নীল । অর্ক বলল,"ঠিক আছে, আজকে বিকালে মেয়েটাকে দেখাস ।"
বিকাল বেলায় নীল অর্ককে নিয়ে ছাদে গেল । মেয়েটা আজও ছাদে দাড়িঁয়ে আছে । বাতাসের ঝাপটায় চুলগুলো মেয়েটার মুখ ঢেকে দিচ্ছে বারবার । হাত দিয়ে চুলগুলো সরালো মেয়েটা । চেহারাটা একপলক দেখেই যেন পাগল হয়ে গেল নীল । মনে হয় যেন শুভ্র সাদা কোন এক পুষ্পে দুটি অসম্ভব সুন্দর গোলাপী পাপড়িঁ আঁকা । একটা মেয়ে এত সুন্দর হতে পারে ওর জানাই ছিল না । অর্ক মেয়েটাকে দেখে বলল," নীল, ও তো পদ্ম । আমার কাজিন ।"
নীল অবাক হয়ে বলল,"সত্যি !"
অর্ক বলল,"বিশ্বাস হয় না তোর ? আচ্ছা দেখ ।"
অর্ক ছাদের পাশে গিয়ে জোরে ডাক দিল,"এই পদ্ম ।"
মেয়েটা এদিকে তাকিঁয়ে বলল,,"আরে অর্ক ভাইয়া তুমি ঐ ছাদে কি কর ?
অর্ক বলল,"এটা আমার বন্ধুর বাসা । এই যে এটা আমার বন্ধু নীল । ও…………." কথা শেষ করার আগেই নীল অর্ককে টেনে ছাদ থেকে নিয়ে গেল ।
নিচে গিয়ে নীল বলল,"দোস্ত,তুই যা চাস তাই দিব তুই শুধু পদ্মকে গিয়ে বলবি আমি ওকে ভালোবাসি ।"
অর্ক বলল,"এ আর এমন কি কথা । কালই বলে দিব ।"
পরদিন অর্ক পদ্মকে সবকিছু বলল । পদ্ম উত্তরে কিছু বলল না ।
বিকালে নীল ছাদে গিয়ে পদ্মর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো । কিন্তু আজ পদ্ম আসলো না । মন খারাপ করে ও বাসায় চলে গেল ।
পরদিন বিকালে নীল আবার ছাদে গেল ; গিয়ে দেখলো পদ্ম ছাদে দাড়িঁয়ে আছে । নীলকে দেখেই পদ্ম ছাদ থেকে নেমে গেল । কষ্ট পেল নীল । কিন্তু পদ্ম আসলে যায় নি । ও আড়াল থেকে দেখছিল নীলকে । আসলেই দেখার মত ছেলে নীল । এই প্রথম ব্যাকুল মনে কারো জন্যে দোলা লাগলো পদ্মর ।
এরপর প্রতিদিন ছাদে দূর থেকে ওদের নিয়মিত দেখা হতে লাগলো । যদিও কেউ কারো সাথে কথা বলতো না । তবে দুজনেরই ভালোবাসাটা বেড়ে যাচ্ছিল দিন দিন ।
আজ বিকালে ঘুড়ি নিয়ে ছাদে উঠলো নীল । পদ্মকে দেখে মুচকি হেসে ঘুড়ি উড়ালো ও। হঠাৎ ঘুড়ি উড়ে উড়ে গিয়ে পড়লো পদ্মদের ছাদে । কি করবে নীল বুঝতে পারলো না । মাথা চুলকাতে চুলকাতে ও ছাদের পাশে গিয়ে দাড়াঁলো । পদ্ম ধীর পায়ে ঘুড়িটার কাছে গেল । হাতে তুলে নিল ঘুড়িটাকে । রঙিন কলম দিয়ে লিখলো -
"নীল পদ্ম"
ঘুড়িটাকে উড়িয়ে দিল পদ্ম । নীল বুঝতে পারলো । ঘুড়ি ফেলে দৌড়ে পদ্মদের ছাদে গেল । কিন্তু পদ্ম নেই । হয়তো ও আসার আগেই ছাদ থেকে নেমে গিয়েছে । মন খারাপ করে ছাদের একপাশে দাড়িঁয়ে রইলো । হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শে বিদ্যুৎ খেলে গেল নীলের শরীরে । ঘুরে তাকিয়ে দেখল ওর স্বপ্নকণ্যা ওর হাত ধরে মাথা নিচু করে দাড়িঁয়ে আছে । জীবনে প্রথম কোন মেয়ের স্পর্শ পাওয়ায় কেমন যেন শিহরণ অনুভব করলো নীল । মুখ তুলে তাকালো পদ্ম । তখন দমকা হাওয়া ওর সুন্দর কালো চুলগুলোকে এলোমেলো করে মুখ ঢেকে দিল । চুলগুলো সরাতে হাত বাড়ালো পদ্ম । বাধাঁ দিল নীল । বলল,"এই নীল সারাজীবন পদ্মের এলোমেলো চুলে ঢাকা মুখটা দেখে কাটাতে চায় ।
পদ্ম ওর চুলগুলো আর সরালো না ; শুধু নীলের হাতটা ধরে বলল,"এই পদ্ম সারাজীবন নীলের সাথে মিশে একাকার হয়ে থাকতে চায় ।"
অর্ক তখন নীলদের ছাদ থেকে আকাশে উড়ালো ভালোবাসার ঘুড়ি "নীল পদ্ম" ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now