বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Nil Fhofok

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X আপনি এখানে কিভাবে ? - ভাগ্য ! আজ ভাগ্যই আমাকে এখানে এনেছে.! কোন একসময় আমারও অন্য সাধারন মেয়ের মতই একটা জীবন ছিলো, শারাদিন হৈ হুল্লো করেই দিন কাটতো আমার.! ছিলো বুক ভরা স্বপ্ন, আজ আর কোন স্বপ্ন নেই আমার। এখন সব কিছু অন্ধকারে ছেয়ে গেছে.! - এখানে আসলেন কিভাবে যদি একটু বলতেন.! - আপনিতো আজব মানুষ! এসেছেন একটা পাড়ার মেয়ের কাছে. আপনার কাজ না করে আপনি আমার জীবন কাহিনীর ইন্টারভিউ নিতে শুরু করলেন । - আরে সেটা পরে বলছি এলেন কিভাবে এই অন্ধকার জীবনে। - হা অন্ধকার জীবন বেশ ভালোই বলেছেন. একদিন আমার জীবনটা আলোই ছিলো আলোকিত আর আজ আমি একটা পাড়ার বেশ্যা ভাবতেই অবাক লাগে. কথাটা বলেই মেয়েটি কিঞ্চিত পরিমান হেসে বলল তাহলে শোনেন, তিন বছর আগে যখন আমার পরিবারে আমি বাবা আর ছোট্ট একটা ভাই ! আর মা সে'তো কত আগেই মারা গেছে যখন আমার বয়স মাত্র নয় ॥ - আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, আমি যে নাচতে পারতাম তা অনেকেই জানতো তাই বন্ধুরা নবীন বরনের অনুষ্ঠানে আমাকে নাচের জন্য নাম লিখালো । নবীন বরনের প্রধান অতিথি. বিশেষ আকর্ষন অনেকেই আছেন । আমি তখন জানতাম না টাকা থাকলেই কেউ এখানে অতিথি হিসেবে আসতে পারে ॥ - তারপর অনুষ্ঠানের দিন আসলো আমি মঞ্চে উঠে নাচ শেষ করার পর নিচে থেকে এক মহিলা আমাকে ডাকলেন. আমার নাচে সবাই আনন্দিত. সবার মাঝে এমন উত্সাহ দেখে আমারো খুব ভালো লাগছিলো ! তো অনুষ্ঠান শেষে আমি ম্যাডামের সাথে দেখা করলাম.. তিনি আমার প্রশংসা করে বললেন তুমিতো অনেক সুন্দর নাচতে পারো আর দেখতেও অনেক সুন্দর ! এই নেও আমার কার্ড কোন দরকার হলে আমাকে বলবে একদম লজ্জা পাবেনা !! আমি হাসি মুখেই বললাম আচ্ছা ম্যাম । - তারপর থেকে কলেজের প্রায় অনুষ্ঠানেই আমাকে নাচতে হত ! প্রতিদিনের কলেজ আর নাচের প্যক্টিস নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম ! একদিন দুপুরে হঠাত খবর পেলাম বাবা এক্সিডেন্ট করেছে । আমি পাগলের মত হাসপাতালে ছুটে গেলাম.! বাবার সাথে যারা কাজ করে তাদের মাধ্যে কিছু লোককে দেখতে পেলাম..! তাদের কাছে শুনলাম বলল আমাদের কোম্পানি বন্ধ করে দিয়েছে ! কবে খোলা হবে তা নিশ্চিত না । আমার বুঝতে বাকি রইলোনা বাবা এই চিন্তায় বিভোর ছিলো বাস্তবের কোন কিছুই তার মাথায় ছিলোনা তাই এরকম হয়েছে ॥ - আজকাল মধ্যবিত্ব পরিবারেও অনেক টাকা পয়সা জামানো থাকে আমাদেরতো তাও নেই । কিছু হলে হয়তো কোম্পানি খরচ নিতো এখন তাও বন্ধ । আসলে সবকিছু যেন আমার বিপরিতে চলতে লাগলো ! ওই দিনের টাকা গুলো বাবার সাথে যারা কাজ করতো তারাই দিয়েছিলো.. বাবার মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে ! দিন শেষে আস্তে আস্তে খরচ বাড়তে লাগলো.. আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না ! নিজেকে খুব বড় অসহায় মনেহচ্ছিলো...! ... বাসায় ফিরে মায়ের শেষ সম্বল তার গহনা বিক্রি করে হাজার দশের মত টাকা হল আমি টাকা গুলো হাসপাতালে জমা করলাম.! আমার আত্মীয়-স্বজন কারো কাছে যেতে বাদ রাখিনি. এক.একজন তার করুন কিচ্চা শুনিয়ে বিদায় করেছে..! রিক্সাওলাকে ভাড়া দিতে গিয়ে সেই কার্ডটি চোখে পড়লো.. তারপর কার্ডের ঠিকানায় গেলাম, গিয়ে ম্যামকে পেলাম না শুনলাম পরে আসবে.. আমি বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম.. অবশেষে তিনি আসলেন আমাকে দেখেই তিনি অনেক খুশি হলেন । আমি অনেক আকুতি মিনতি করে বললাম ম্যাডাম আপনি আমার বাবাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন আমার বাবা এক্সিডেন্ড করে হাঁসপাতালে ॥ মেয়েটির কথা শুনে আমার বুকের মাঝে কেমন যেন চিনচিন করছে... এমনও ভাগ্য কারো হয় । আমি বললাম - তারপর ! - তারপর হাহাহা তিনি আমাকে একটা ক্লাবে নাচার জন্য অফার করলেন.! - কি করলেন ? - আমি প্রথম রাজি হইনি. পরে অন্য কোন রাস্তা না পেয়ে তার অফারে রাজি হই । যানেন প্রথম যেদিন এসেছিলাম.. আমাকে ছোট্ট একটা প্যান্ট আর পাতলা একটা শার্ট দিয়ে বললো ওখানে গিয়ে নাচতে ! আমি লজ্জায় নিজের দেহকে ঢাকার চেষ্টা করছিলাম. ম্যাডাম রুম থেকে এসে আমাকে বললেন দেখো এখানে নেচে তুমি মানুষকে আনন্দ না দিতে পারলে তোমাকে রেখে আমার লাভ কি ? হঠাত লাইট নিভে গেল ডিজে গানের গুম গুম আওয়াজ আর ভয়ে আমার শারা দেহ কাঁপছে ! ম্যাডাম এসে আমাকে নাচিয়ে দিয়ে একগ্লাস পানি দিলেন বোঝার আগেই আমি ডকডক করে খেয়ে নিলাম. কি বিশ্রী গন্ধ ॥ - তারপর ! - এটা খওয়ার পর আমি যেন মাতালের মত দুলছি যে যেদিকে ইচ্ছা আমাকে নাচাচ্ছে ! একসময় আমি নিস্তেচ হয়ে গেলাম. তারপর আর কিছু জানিনা ঘুম! থেকে উঠে দেখি আমার পাশে কোন এক অচেনা পুরুষ.. স্বাভাবিক হওয়ার পরে বুঝতে পারলাম লোকটি আমাকে জানোয়ারের মত ব্যবহার করেছে গায়ে নকের খত দাগে ভরে গেছে । - আমি বাথরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাড়ালাম নিজেকে খুব বেশি অচেনা মনেহতে লাগলো. মুখে পানি নিয়ে হাওমাও করে কাঁদতে লাগলাম । বাথরুম থেকে বেরিয়ে ওই ম্যাডামের কাছে গেলাম. আমি জিঙ্গাসা করলাম সে বলল, পাগলি মেয়ে বেশি বেশি টাকা কামাতে গেলে বেশি বেশি কাজ করতে হয়. আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম হাহাহা টাকার কাছে আমার স্বতীত্ব.ব্যক্তিত্ব.সম্মান কোন কিছুরই দাম নেই। যেন সবকিছুই মুল্যহীন! তারপর টাকা থাকলেও বাঁচতে পারিনি বাবাকে.! বলেই কাদতে লাগলো মেয়েটি। শুধু মেয়েটি না চোখে পানি এসে যাচ্ছে আমারও তবুও তাকে জিঙ্গেস করলাম আর আপনার ছোট ভাই ? - ও একটা এতিমখানায় ! - এখান থেকে বেরতে ইচ্ছা করেনা ? - হুহ আমাদের মত পাড়ার মেয়ের বাহিরের মানুষগুলো খুব ঘৃনা করে.. আবার হাস্যকর একটা ব্যপার কি জানেন প্রভাবশালী লোকগুলোই এখানে বেশি আসে.! একটু পরেইই ফজরের আজান দিলো আমি বললাম - তাহলে আমি আশি ভালো থাকবেন ! - হা ভালো থাকবো। আপনিও থাকবেন ! - এতক্ষন যার সাথে কথা বলছিলাম ও একটা পাড়ার মেয়ে যাকে আমরা বেশ্যা বলি.! বন্ধুর পাল্লায় পড়ে এই মেয়েটার সাথে পরিচয়! মেয়েটার নাম তিথি। কোন মানুষের জীবনের পেছনে যে এমন একটা গল্প লুকিয়ে আছে তা কেউ যানেনা.! আমরা শুধু তাদেরকে ধিক্কার করি আরে ধিক্কারতো করা উচিত তাদের যে আত্মিয়গুলো মেয়েটার পাশে এসে দাড়ায়নি. অথচ তারাই মেয়েটার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ॥ - প্রতিটা খারাপের পেছনে লুকিয়ে থাকে একটি না জানা গল্প.. আর সেটা হয়তো কেউ জানতে চাইনা ॥


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Nil Fhofok

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now