বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল ডাইরি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Nirjhor Ahmed Nipu (০ পয়েন্ট)

X নীল ডাইরী পড়ন্ত বিকেলের ,লাল আভা টা এখনো আলো দিত শুরু করেনী।চারিদিক উন্মত্ত আনন্দের ছোয়া।কিন্তু রবির কেন যানি অবসন্ন লাগছে ।সার্ভিস জীবনের প্রায় তেত্রিতশ টা বছরের আজ যবনিকা পাত ঘটতে যাচ্ছে।সময়টা ভালই কাটতেছিল।কাল থেকে আর উইনিফর্ম পরে অফিসে আসতে হবেনা।পিছু টান ও নাই।তবে একটু ভাল লাগছে যে,সিলেটের মত পূন্য নগরে,হযরত শাহ জালালের মাজারের পাশে,ডিসি স্যারের সযোগিতায় থাকার একটা ব্যবস্থা হইছে। অনুষ্টাণ শেষে সোজা চলে যাবে,বনানী কবর স্থানে,নীলার কবর যেয়ারত করে,কমলা পুর থেকে ট্রেন ধরে, সোজা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।বিয়ে করেনি তাতে রবির কোন আফসোস নাই,নীলা তো তার বউ ছিল,তাকে সে বউ বলেই ডাকতে বেশি পছন্দ করত।সেদিনের সে ফোন আলাপ তার মনে পড়ছে বার বার ,হঠাৎ নীলা বলল,আজ হতে আমাকে বাবুর আম্মা বলে ডাকবে,রবির বাবুর আম্মা ডাকতে অসুবিধা ছিলা না,কিন্তু বলল আমি তোমাকে বউ বলেই ডাকব,তুমি তো আমার বউ ই,এটা শোনার পর নীলার যে হাসি,আজ ও রবির কানে বেজে ওঠে। রাত আট টা নাগাত অনুষ্টাণ শেষ হল,রবির বনানী পৌছাইতেই অনেক সময় লেগে গেল।ঢাকা তে আজকাল জ্যামের যে অবস্থা,ভবিষ্যতে এ নগরের কি হবে আল্লাই জানে? নীলার কবরের পাশে অনেক ক্ষণ থাকার ইছা ছিল,কিন্তু উপায় নেই,একটু আগেই বের হতে হবে,না হলে ট্রেন মিস হবে।সিলেট গামি শেষ ট্রেন রাত দশটা ত্রিশ মিনিট,গোধূলী এক্সপ্রেস,তা ছাড়া আজ আর কোন ট্রেন নাই। বাসাতেও বলে এসেছে,আজ আর ফিরবে না।বাসা কি সারা জীবন ব্যাচেলরই থেকেছে,তবে রহমান সাবেব ও তার স্ত্রী শায়লা তাকে আপন ভাইয়ের মতই ভাল জানত। অনেক টা বছর পার করেছে তাদের সাথে।তবে মৌমিতা কে তার খুব মনে পড়বে,শায়লার কাছ থেকে তার একটা ছবি ও নিয়েছে।আসার সময় কি কান্না কোল থেকে নামতেই চাইনা,ছোট্ট মেয়ে কেমনে বুজল ,ওর সাথে হয়ত আর দেখা হবেনা। রবি ঢাকায় আসবে মাঝে মাঝে নীলার কবর যেয়ারত করতে।তবে রহমান সাহেব,বাসা চেন্স করবেন কিনা কে জানে ,সরকারি চাকুরী বদলী ও হতে পারে।তবে শায়লা হাত ধরে বলে দিয়েছে,ঢাকা আসলে ছোট বোন কে না হোক,তোমার নীলাকে দেখে যেও,ররি মৌমিতাকে অবশ্য নীলা বলে ডাকত, নীলার চোখ দুটার সাথে অনেকটা মিল আছে মৌমিতার।নয়টা পনেরই বেবিয়ে পড়ল,বনানী থেকে মতঝিল অনেকটা দূর ,আবার টিকিট ও কাটা হয়নি,তবে,চিন্তা নাই,টিকিট মাষ্টার পরিচিত,তাকে ফোন দিয়ে বলা হয়েছে।সে একটা ব্যবস্থা অবশ্যি করে দিবে,নিরেট ভদ্রলোক,তাকে সে শ্রদ্ধাও করেন।সেবার তার ছেলের বউ মরার সময় তাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন,সেই থেকে ওনাকে বললেই হয়,আর কিছু লাগেনা।সব দায়িত্ব যেন তার,এমন কি সাথে খাবারের বিশাল এক ব্যাগ জুলিয়ে দেন।এবার অবশ্য বলেছেন ওটা যেন না করেন। রাত দশটা চল্লিশে ট্রেন ছাড়ল,ভি আইপি কেবিনে টিকিট হয়েছে তার,রবির অবশ্য এতো আরাম পছন্দ না।।কত মানুষ যে ট্রেনের চাঁদে দাঁড়িয়ে ,বসে যায়।একটা রুমে দুই টা ডাবল কেবিন,রবি অবশ্য একাই,পাশের সিটে এক দম্পতি উঠেছে ,সম্ভবত মেয়েটা অন্তসত্বা।তবে বেশ পুশাকে মনে হয় না অনেকটা বিত্ত শালী।ট্রেন চলছে,মাঝে মাঝে ঝন ঝন শব্দ আসছে,প্রথমে অবশ্য খারাপ লাগছিল এখন অবশ্য ভাল লাগছে,পৃথীবির প্রতিটা জিনিসই একটা নিদিষ্ট ছন্দ মেনে চলে,রবির পেটের মধ্য মোচর দিয়ে উঠল,অনেক টা ক্ষণ পর বাথ রুম থেকে বের হল,এদিকে ক্ষিদায় যেন পেট জ্বলছে শায়লা রুটিমাংশ আর কিছু ফল মুল সাথে দিয়ে ছিল।রবি বের করল,এতক্ষনে অবশ্য,নিমাই ও তার বউ সরলার সাথে,বেশ ঘনিষ্ট হয়ে পড়েছে রবি।নিতাই ঢাকাই এক মেজরের গাড়ি চালায়,বউ নিয়ে তার বাসায়ই থাকত ,সরলার নয় মাস পড়ে পড়ে অবস্থা,তাই শ্বশুর বাড়ি রেখে আসতে যাচ্ছে , বউ অন্তস্বত্তা বলে মেজর সাহেবি কেবিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।রবি সরলাকে শুকনা ফল গুল খেতে দিল,নিতাই আর রবি রুটি আর মুরগির মাংশ ভাগা ভাগি করে খেল।সরলা বলল কাকা আমি জানি আমার মেয়ে হবে,ভাল একটা নাম রেখে দেন না,রবি নীলার কথা বলতে যাচ্ছিল,কিন্তু মুখ থেকে বের করল না,আবার যদি পছন্দ না হয়।তা হলে সে কষ্টপাবে,তোমারা রেখে দিয় একটা,সরলা বলে উঠল দেখেন কাকা,ফুট ফূটে জোস্ন্যা,আকাশ টা কত নীল,ট্রেনের জানালা দিয়ে নীল আকাশ টা দেখা যাচ্ছিল।কাকা ওর নাম নীলা রাখলে কেমন হয়,রবি কোন কথা বলল না,চোখ টা ঘুরিইয়ে নিল চোখের কোনে,পানি চলে এসেছে সরলা আর নিতাই যেন দেখতে না পাই।কিন্তু সরলার চোখ কে এড়াতে পারল না রবি।সরলা বলে উঠল ‌কাকির নাম বুজি নীলা ছিল?কাকি এখন কোথাই,আর আপনার ছেলে পুলে,তারাই বা কোথাই,নিতাই ধমক দিয়ে বলল ,তুমি থামবা,তা ছাড়া তোমার ঘুমানোর দকার ,তাছাড়া কাকার ও বিশ্রামের দরকার,বুজছ না অনেক দকল গেছে তার উপর দিয়ে ।সরলা তবুও চুপ করল না,বলল কাকি কোথাই থাকে আনতে যাছেন বুজি গ্রামে থেকে তাই না? রবি কোন কোথা বলল না।নিমাই বলল কাকা আপনাকে যত দেখছি তত অবাগ হচ্ছি,তা ছাড়া গুম ও আসছে না ,বলেন না ......। সরলা ও নিতাই একটু নড়ে চড়ে বসল,তখন আমার বয়স পচিশ ছাব্বিশ হবে,সবে মাত্র অনার্স শেষ করে,এস আই পদের জন্য এপ্লাই করলাম,কিছু দিন পর পরিক্ষার জন্য মাগুরা থেকে ঢাকা আসলাম, উঠলাম এক খালত ভাইয়ের বাসাই মিরপুর এ ।এর আগেও কয়েকবার বেড়াইতে আসছি।ভাবি বাড়িতেই ছিল,ভাই সেই সকালে অফিসে যেত,সারা দিন আমি একা অবশ্য প্রথম দিন বের হইনি বাসা থেকে,ভাই বলল সারা দিন পড়িস ভাল তো গ্রামে থাকার অভ্যাস মাঝে-মাঝে কম্পিউটার ছাড়িস বা নিচে থেকে একটু বেড়িয়ে আসিস ভাল লাগবে।আমি তেমন একটা কম্পিউটার চালাতে পারতাম না ভাই এ এক দিন শিখিয়ে দিল।আর প্রায় বিকেল করে ঘুরতে বের হতাম,তখন মিরপুর সাত নম্বর সেক্টরে ছোট একটা পার্ক ছিল অভ্যস হয়ে গেল বিকেল হলেই গুরতে বের হতাম, একটা চায়ের দোকানে বসতাম চা খেতাম,আবার চলে আসতাম।আমার পরীক্ষার আগের দিন ভাবলাম বের হব না কিন্তু ভাল লাগল না বেরিয়ে পড়লাম।দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম হঠাৎ একটা মেয়ের দিকে আমার চোখ পড়ল চোখ যেন আর ফেরাতে পারছি না কিন্তু ও আমাকে দেখেছ কিনা জানিনা।সরলা বলল ও মানে,ও মানে নীলা তখন ত ওর নাম আমি জানি না।পরের দিন পরীক্ষা তাই বাসাই এসে আবার বই খুলে বসলাম কিন্তু কেন জানি ভাল লাগছিল না। পড়া আর হল না ,শুয়ে পড়লাম।যাক মাশা আল্লাহ পরীক্ষা ভালই হল।সেদিন বিকেলে আবার আসলাম একটু আগেই নীলার দেখা কিছুতেই পেলাম না। এমনিতেই মনটা খারাপ কাল বাড়ি যাব চা দোকানে বসে মনে হয় দশ কাপ চা খেলাম,রাত দশ টা নাগাত মনে হয় ছিলাম দেখা হল না ।পরের দিন ভোরে উঠে বাড়ির পথে রওনা দিলাম।কেন জানি ভাল লাগতেছিল না।কদিন পর খলাতো ভাইয়ের মাধ্যমেই মাষ্টারস করার জন্য ঢাকার বাংলা কলেজে ভর্তি হলাম।এবার ভাইয়ের বাসার পাশেই ,একটা মেসেউঠলাম,ভাই কে আর বিরক্ত করলাম না।কদিন এভাবেই গেল ......। হঠাৎ একদিন আমার এক বন্ধুর ফেস বুক-এ নিলা কে দেখলাম,আমিও নীলাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালাম,কিন্তু ওর কোন সাড়া পেলাম না।সপ্তাহ ক্ষানিক পর ওকে একটা টেক্স করলাম,যে আপনাকে আমি ঐ পার্কে দেখেছিলাম , তাই.........। পরেও আমার ফেস বুকে বন্ধু হল,এগিয়ে চলল আমাদের বন্ধুত্ব,ও আমার সাথে অনেক কথাই শেয়ার করে, আমিও। আমি ও নীলা অনেক টা কাছা কাছি চলে আসি,আমাদের কথা বারতার মাধ্যমে,ও আমাকে বুজত আমিও,অনেক টা অমিয় মিল যেমনটা সবার বেলায় ঘটেনা।এদিকে আমার এস আই চাকরির পরীক্ষার রেজাল্ট হল ,আমি ঠিক লাম চাকরিতে টিকার খবরটা,মাকে জানানোর পর,নীলা কে জানালাম অনেক খুশি হল।সে দিন থেকে ও আমাকে এস আই বলে ডাকত,তার মুখে এস আই শুনতে আমার বেশ ভালঅই লাগত।আমার বাবা ছিল না ছোট বেলাই মারা যায়।তখন থেকে মাকে নিয়ে আমরা মামার বাড়িতে থাকতাম আমরা।মামা গ্রামের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন,কথা ছিল মামার একমাত্র মেয়ে মিথিলার সাথে আমার বিয়ে হবে।মিথিলা দেখতে খারাপ ছিল না।কিন্তু কেন জানি আমার ভাল লাগত না।মিথিলা আমাকে অনেক পছন্দ করত।মামা ও আমাকে বাবার অভাব কখনো বুঝতে দেন নী,অনেক আদর করতেন। নীলার বাবা ছোট খাট একটা সরকারি চাকরি করতেন।নীলার মা বেঁচে ছিলেন না ,সংসার এর পুরা দায়ীত্ব নীলার উপর ছিল।আমি নীলার কাছে সব শুনে ছিলাম।এদিকে আমার জয়েনিং এর সময় এল,নীলা কে বললাম তোমার ফোনটা নাম্বার দাও,কারণ আমাকে ট্রেনিং এর জন্য রাজশাহির সারদা পুলিশ একাডেমিতে যেতে হবে ও খানে গেলে তো ফেসবুক আর হয়ত চালাতে পারব না।এর মাঝে আমি বাড়ি গেলাম দুদিনের জন্য মার সাথে দেখা করতে।বাড়ি থেকে ফিরে এসে কিছুই ভাল লাগতেছিল না।রাতেই ওর সাথে ফেস বুক এ বসলাম আমি ওকে বললাম আমার কিন্তু শুক্স বার সকালেই চলে যেতে হবে আজ বুধ বার হাতে মাত্র একদিন,নীলা কিছু বলল না।অনেক ক্ষণ চুপ করে থাকল ,তার পর বলল ,শুক্সবার কয়টাই তোমার গাড়ি আমি তোমার সাথে স্টেশনে দেখা করব।আমি মহা খুশি হলাম এত দিন পর আজ ওর সাথে আমার দেখা হবে।আমি শুক্সবার সকালেই স্টেশনে পৌছে গেলাম।নীলার কোন দেখা পাচ্ছিনা,ওকে বলেছিলাম অমক কাউন্টারে আমি থাকব।আমাদের গাড়ি দশটা ত্রিশ মিনিটে ছাড়বে,পনে দশটা বাজে নীলার দেখা নাই, আমার মন আরও খারাপ হয়ে গেলে,অনেক আজে বাজে চিন্তা ভর করছে,রাস্তায় আসতে কোন সমস্যা হল কিনা।দশটা দশ বাজে আমি সিটে গিয়ে বসলাম ,হঠাৎ আমার এক কলিক আমাকে ডেকে বলল ,আপনাকে উনী ডাকছে,আমি মুর দিয়ে সিট থেকে উঠতে গিয়ে মাথায় আঘাত,পেলাম নীলা এসে হাত টা ধরল,সাবধানে উঠবানা,আমি থ মেরে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম,কতক্ষন ছিলাম জানিনা।ও আমাকে বলল মোবাইলটা বের কর,এত বেখেয়ালী হলে চলে,যেন আমার যনম যনমের পরিচিত। আমি মোবাইলটা ওর হাতে দিলাম ও নিজ হাতে নাম্বারটা পরি নামে সেভ করে দিল,কারণ আমি ওকে পরি বলে ডাকতাম।গাড়ি ছাড়ার সময় হয়ে গেলে,কিভাবে যে সময় পার হয়ে গেল আমি বুজতে পারলাম না। আমাদের জন্য গাড়ি দশ মিনিট লেটে ছাড়ল।পরি আমার জন্য নিজ হাতে পিঠা বানিয়ে এনেছিল,যেতে যেতে পরির সাথে অনেক কথা হল মোবাইলে,এত কথা আমি জীবনেও কার সাথে বলিনী।সন্ধ্যা নাগাত রাজশহি পৌছালাম।রাতে শুতে যাবার আগেও পরি আমাকে শুভ রাত্রি জানাল।শনিবার বিশ্রাম নিলাম রবি বার থেকে, ট্রেনিং শুরু।রবি বার থেকে আর তেমন কথা বলতে পারতাম না। শুধু রাতে শুবার সময় একটু কথা হত,তার উপর আবার এত কঠিন ট্রেনিং এর পর কথা বলতে ও যেন কষ্ট হত, তার পর ও বলতাম ।পরি বেশি কথা বলতে বারন করত,বলত তোমার ট্রেনিং শেষ হোক পরে কথা বল।এভাবে তিন মাস চলে গেলে।প্রতিদিন পরির সাথে কথা হত।তিন মাস দশ দিনের মাথাই হঠাৎ দুপুরে পরি আমাকে ফোন দিল,আমি লুকিয়ে ওর ফোন ধরলাম বলল ,আজ হতে ফোন বন্ধ থাকবে।তুমি টেনশন কর না ।আমি সময় করে তোমাকে ফোন দিব।কেন কি প্রোবলেম,কিছু ই বলল না।ফোন রেখে দিল আমার কোন উপায় ছিলনা পরিকে ফোন করার।পরি নিময় করে প্রায় এক মাস ছ্য় দিন আমাকে ফোন দিল।তারপর হঠাৎ সাত তারিখ জুলাই থেকে পরির কোন ফোন আসে না । আমার ভাল লাগে না। আবার চিন্তা করি আর মাত্র কদিন ট্রেনিং শেষ হলেই ,তো ঢাকা যাছি,এভাবে বেশ কিছু দিন কেটেও গেল ।হঠাৎ একদিন শোবার আগে একটা ফোন এল অচেনা নাম্বার থেকে আমি ধরলাম,অপাশে পরি, আমি অনেক কথা বললাম,পরি কোন কথা বলল না।অনেক ক্ষন পরে বলল বাবা খুব অসুস্থ বাবার জন্য দোয়া করো বলেই ফোন রেখে দিল। ওটা ছিল হাসপাতালের নাম্বার। আমি পরে যোগাযোগ করে আর পেলাম না।হাসপাতাল থেকে জানতে পারলাম ওরা চলে গেছে। আমি ঢাকায় আসতে চাইলাম কিন্তু ট্রেনিং এর মাঝে কোন ছুটি পেলাম না।আবার দশ দিন পর পরির ফোন পেলাম।বলল আর কত দিন লাগবে,তোমার ট্রেনিং শেষ হতে ঢাকায় আস অনেক কথা আছে, বলে ফোন কেটে দিল ।এর পর মাঝে মাঝে কথা হত।আমার ট্রেনিং শেষ হবার সাত দিন আগে ওর সাথে শেষ কথা হল।এর মাঝে আর কোন ফোন পেলাম না।পরি যেসব নাম্বার দিয়ে ফোন দিত ,সেসব নাম্বারে আমি অনেক বার ফোন দিছি কিন্তু পাইনি।আমার ট্রেনিং শেষ হল নভেম্বর এর তিন তারিখ ,চার তারিখ আমরা রাজার বাগ এলাম।এসেই আমি নীলাদের বাসায় গেলাম ,শুনলাম ওরা বাসা ছেড়ে দিছে থাকেনা ।নীলার বাবার অসূখ করার পর থেকে ওরা এ বাসাই আর থাকেনা।অনেক খোজা খুজি করলাম কোন সন্ধান পেলাম না।বিষন্ন মনে রাজার বাগ ফিরে এলাম।সাত দিন ছুটি ছিল ,রাতেই মাগুরা রওনা করলাম,সারা দিন মার কাছে থাকলাম ,রাতেই আবার ব্যাক করলাম ঢাকা,এসে উঠলাম সেই মেসে।প্রতি দিন সকালে বের হই পরি কে খোজার জন্য ,রাতে ফিরি ঠিকানা না থাকলে একটা মানুষ্ কে এই যান্ত্রিক শহরে খুজে পাওয়া যে বড় মুশকিলতা এ কদিন হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।এক মারফ জানতে পারলাম নীলার বাবা মারা গেছে শুনে অনেক কষ্ট পেলাম।কিন্তু স্বান্তনা দেবার জন্য নীলাকে পেলাম না।এগার তারিখ রাজার বাগ এ এলাম।আমার পোস্টিং হল মালিবাগ থানায়।জয়েন করলাম,কিছু ভাল লাগে না সময় পেলেই পরি কে খুজি ।দু মাস চলে গেল......। সে দিন ছিল,সাত আগস্ট বিকেলে মালিবাগে একটা হোটেলে অসামাজিক কাজের অভিযোগে রেট ফেললাম।আমি ভিতরে যাইনি।বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।দুইটা মেয়ে কে ধরা হল , সিপাই এসে বলল । আমি কোন কথা বললাম না।আমি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।মেয়ে দুটাকে গাড়িতে তুলা হল,তাদের পায়ের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলাম,পা দুটা থর থরে করে খাপছিল।আমি সিপাইকে বললাম,মুসলেকা নিয়ে মেয়ে দুট কে ছেড়ে দিতে।মেয়ে দুট কে ছাড়ার পর।দাড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম।হঠাৎ সিপাই বলল স্যার মেয়ে দুটার মাঝে একটা মেয়ে আপনাকে দূর থেকে দেখছিল।প্রথমে সিপায়ের কথা পাত্তা দেইনি,পরে যখন,ডাকতে পাঠালাম।ওরা চলে গেছে।রাত থেকে কেন জানি ভাল লাগতেছিল না। না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম । একটা খারাপ স্বপ্ন ও দেখলাম। ভাবলাম শরীর ক্লান্ত তাই হয়ত। সকালে থানাই এসেই জানতে পারলাম মগ বাজারে একটা মেয়ে আত্নহত্যা করেছে।তারিখ টা ছিল আগস্টের আট।আমি বরা বর এ লাশ টাশ দেখতে পারতাম না।তাই আর দেখা হয়নি।সন্ধ্যা নাগাত লাশের ব্যাপারে কেউ খোজ নিতে এল না। তাই লাশ টা ঢাকা মেডিকেল এর মর্গে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করলাম। সিপাই এসে বলল,স্যার লাশে কাছে একটা নীল রঙের ডায়রী পাওয়া গেছে।আমি ডায়রীটা আমার ব্যাগে রাখতে বললাম।রাতে বাসায় গিয়ে দেখব কোন কুলু পাওয়া যাই কিনা।এমনিতেও ভাল লাগতেছিল না।রাতে খেয়ে ডায়রী নিয়ে বসলাম।ডায়রীর পাতা উল্টাতেই চোখ দিয়ে পানি চলে এল।দ্রুত চলে গেলাম ঢাকা মেডিকেল এর মর্গে,নিজের চোখ যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না।আমার পরি আজ নিথর দেহে শুয়ে আছে। সরলা তার পর? আর কি সব শেষ ।ও এমন করল ক্যান? বাবা র অসুখে জমানো সব টাকা পয়সা শেষ হয়ে গেছিল।তার পর ও বাবাকে বাঁচাতে পারেনি।পরে এক মহিলা মেসে ওঠে নীলা।অনেক ধার দেনাও করতে হয়েছিল।আশা ছিল ,বাবা যদি বেঁচে থাকে ত আবার সব হবে।কিন্তু সেটা আর হলনা।বাধ্য হয়েই নীলা চাকরির চেস্টা করছিল।আমাকে এতটাই ভাল বাসত যে ,ওর এ অবস্থায় আমার ঘারে বসতে চাইনি। ওর রুম মেটের কথা মত,আমার পরি হোটেলে যায়।জানত না ওটা খারাপ যায়গা।সাত তারিখের অভিযানের আটক দুটা মেয়ের মধ্যে একটা আমার পরি ছিল।ওমাকে দেখেছে।কিন্তু আমি দেখিনি।আমাকে ফোন দেয়ার চিন্তা ও করেছে,কিন্তু দেইনি কারণ মনে করেছিল আমি পরিকে দেখেছি,ওকে আমি খারাপ ভাবছ।তাই আমার উপর অভিমান করেই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।এই সেই নীল ডাইরী টা যেখানে পরি সব লিখে ছিল। নিমায় তা এখন কই যাবেন, ঘর? কই আর যাব বাকি টা জীবন শাজালালের মাজারে কাটাব, ঘর সংসার আর করা হয়নি। মা মারা যাবার পর মামা অনেক জোর করেছিল বিয়ে করার জন্য আমি রাজি হয়নি।মায়ের নামে একটা এতিম খানা করেছি ,সব সম্পদ সেখানে দান করে দিছি। এত দিন চাকরি ছিল সেটাও ছুটি।শুনেছি কেউ আত্নহত্যা করলে বেহেস্ত যায়না,কিন্তু আমি তো আমার পরিরে নিয়ে বেহেস্ত যেতে চাই,তাই এই মাজারে আসা।উনারা আল্লাহর ওলি আল্লাহ ওনাদের কথা ফেলেন না।কান্না কাটি করি ওনাদের ওসিলায়,আল্লাহর রহমতে আমার পরির সব গুনা যেন মাফ হয়ে যায়।মসজিদ হতে ফজর নামাজের আযান ভেসে আসছে।ট্রেন কিছুক্ষণ থামল ,আবার চলা শুরু করল ............।অজানার উদ্দেশ্যে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীল ডাইরির ভালোবসা ৪(শেষ পর্ব)
→ নীল ডাইরির ভালোবাসা ৩
→ নীল ডাইরির ভালোবাসা
→ নীল ডাইরির ভালোবাসা
→ নীল ডাইরি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now