বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বদ-মেজাজি,অহংকারী মেয়ে ছিলো নিঝুম।অবশ্য এগুলো থাকার কারনও আছে,বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে বলে কথা,,,
তার বাবা-মা তার কোন চাওয়া অপূর্ণ রাখে নি,,,
নিঝুমদের বাসা ছিলো বরিশাল ওর আব্বুর চাকরির সুবাধে থাকতো নেত্রকোনার কলমাকান্দা।
কলমাকান্দায় যখন নিঝুম ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তখন ওদের স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে চলেছে,,,
ঐ দিন নিঝুম তার প্রিয় নীল কালারের শাড়ী,নীল চুরি,নীল খোপা,মেচিং করে নীল গোলাপ চুলের খোপায় পরেছে,,,
দেখতে তাকে নীল পরীর মতোই লাগছে,যে কেউ দেখলেই ক্রাশ খাবে,,,
তাই হলো ১০শ্রেনির সিনিয়র ভাই ফাহিম তাকে ১ম দেখাতেই চোখ ফেরাতে পারছে না নিঝুম দিকে চেয়েই আছে,,,
তার মনের রানী হিসেবে কল্পনা করে ফেলেছে,,অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ফাহিমের নজরে ছিলো নিঝুম,,,,
ফাহিম যে নিঝুম কে ভালোবাসে সে অনেক ভাবে নিঝুৃম কে বুঝাতে চেয়েছে,,, কিন্তু নিঝুম ভালোবাসায় বিশ্বাসী না,কাউকে নিঝুম পাত্তা দেয় না,,তার পরেও ফাহিম নিঝুমের পিছনে আঠার মতো লেগেই আছে,,,,
একদিন ক্লাস শেষে ফাহিম নিঝুমের পিছন নিলো,,পিছন থেকে ফাহিম ডাক দিলো নীল পরী দাড়াও,,,
নিঝুমঃআমাকে বলছেন আংকেল???
ফাহিমঃআংকেল মানে???আমি দেখতে কি বুড়ো নাকি,,
নিঝুমঃঅবশ্য তেমন বুড়ো না তবে আপনাকে দেখতে আমার আংকেলের মতো লাগছে,,,,
ফাহিমঃওহহহ কোন সমস্যা নাই,,,তোমাকে একটা কথা বলার জন্য দাড় করিয়েছি,,,
নিঝুমঃবলেন,,
ফাহিমঃতোমার ঐ কাজল কালো চোখের মায়ায় পড়েছি,আমি তোমাকে ভালোবা,,,,
ঠাসসসসস
ভালোবাসি টা ফাহিম সম্পূর্ণ ও বলতে পারলো না,তার আগেই নিঝুম গালে একটা বসিয়ে দিলো,,
নিঝুম কোন ছেলেকে বিশ্বাস করে না,,,,
চড় মেরে নিঝুম দ্রুত চলে আসলো বাসায়,,,
ফাহিম দাড়িয়ে থাকলো আর ভাবতে থাকলো,,,চড় খেয়ে যেনো আরও নিঝুমের প্রতি তার ভালোবাসাটা বাড়তে থাকলো,,,
নিঝুম কে দেখার আশায় ফাহিম নিঝুমদের বাসার সামনে দাড়িয়ে থাকতো,,,
একদিন নিঝুমের বাবা দেখে ফাহিম কে বেদম পিটিয়ে ছিলো,,,,নিঝুম সেই ঘটনার পর থেকে ফাহিমের প্রতি কিছুটা দূর্বল হয়ে যায়,,,
নিঝুম ভাবে এই ছেলেটা আমার জন্য কত অত্যাচার সয়ে যাচ্ছে,,,, একদিন ফাহিম একটা ব্লেড নিয়ে নিঝুমের সামনে এসে দাড়ায় বলে তুমি কি আমাকে সত্যি ভালেবাসো না????
নিঝুম বলে কোনদিন আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না,তখন সাথে সাথে ফাহিম ব্লেড দিয়ে তার হাতের অনেক অংশ কেটে ফেলে,এটা দেখে নিঝুম আর থাকতে পারে নি,,,,,
নিঝুম জড়িয়ে ধরে ফাহিমকে এবং ওড়না ছিড়ে বেধে দেয় ফাহিমের হাত,,
সেখান থেকে শুরু হয় নিঝুম-ফাহিমের নতুন পথচলা,,,,,
চলতে থাকে দুজনের দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা,স্কুলে থাকা কালে আড্ডা হতো আর বাড়িতে থাকলে সারাদিন কথা হতো ফোনে,এখন যেনো দুজন দুজন কে ছাড়া বাচতে পারে না,,,,,
ফাহিম স্কুল গন্ডি পারি দিয়ে ভর্তি হলো ঢাকার এক কলেজে,যে দিন ফাহিম ঢাকা চলে গেলো সে দিন দুজনে অনেক কান্না করেছিলো,এভাবে কেটে গেলো আরেক টি বছর,,,,,
দুজন যেনো কিছুতেই দুজন কে ছাড়া থাকতে পারতেছে না,ফাহিম ঢাকা থেকে ছুটিতে চলে আসলো কলমাকান্দা,ওদের মাঝে অনেক দিন পর সরাসরি কথা হচ্ছে,অনেক গল্প করছে দুজনে,,,,,
অনেক আলাপের মাঝে নিঝুম বলে চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি,,,
ফাহিমঃবিয়ে করবো তো,,
নিঝুমঃএখনি চলে কাজী অফিসে,,,,
ফাহিমঃমাথা খারাপ হয়ছে নাকি,,,
নিঝুমঃনা,, আমি সিরিয়াস,,আমি তোমাকে হারাতে পারবো না,তোমাকে হারানোর ভয় আমাকে সব সময় তাড়া করে,,,
ফাহিমঃতোমাকে বিয়ে করে খাওয়াবো কি,আমি পরিবারের বড় ছেলে আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না,,,,
নিঝুমঃএখন তো বিয়ে করতে মন চাইবেই না,এখন তো আকর্ষণ শেষ আমার উপর থেকে,,,,
ফাহিমঃকি বলো এসব,চলো এখনি বিয়ে করবো,ফাহিম অনেকটা জেদ করে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যায়,,ফাহিম তার কয়েক জন বন্ধুকে ফোন দেয় কাজী অফিসে আসতে,,,
ফাহিম আর নিঝুম হাজির কাজী অফিসে,ফাহিমের কাছে কিছু টাকা ছিলো এবং ওর বন্ধুদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে অপ্রস্তুত ভাবেই বিয়ে করে ফেলে নিঝুম-ফাহিম,,,
এই বিয়ের কথা ফাহিম এবং নিঝুমের পরিবার কেউ জানে না,,,,
ভালোই কাটতে থাকে নিঝুম-ফাহিমের দিনগুলি,ওদের ভালোবাসা যেনে বেড়েই চলছে,,,,
এর মাঝে নিঝুম এস,এস,সি পরীক্ষা দিয়ে ডিপ্লোমা করতে চলে আসে টাংগাইল টেক্সটাইলে,টাংগাইল আসা যাওয়ার সব সময় ফাহিম নিঝুম কে সঙ্গে করে নিয়ে আসতো এবং নিয়ে যেতো,,,,,
টেক্সটাইলে আসার পরে নিঝুম কে সুজন নামে এক ছেলে সব সময় ফলো করতো,সুজন নিঝুম কে অনেকটা ভালোবেসে ফেলেছে,কিন্তু বলার সাহস পায় না,,,সুজন এমনি তে অনেক সাহসী ছিলো কিন্তু নিঝুমের সামনে গেলেই চুপসে যেতো,,,,,
এদিকে ফাহিমের সাথে নিঝুমের তেমন আগের মতো যোগাযোগ হয় না,ফাহিম নিঝুম কে সন্দেহ করতে শুরু করেছে,ফাহিম মনে মনে ভাবে এখন হয়তো নিঝুম অন্য কারও প্রেমে পড়েছে,,,,,
তাই ফাহিম একদিন নিঝুম কে বলে তোমার পড়া-শুনার দরকার নেই তুমি বাসায় চলে যাও আমি আমার আব্বুকে দিয়ে তোমার আব্বুর কাছে আমাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা জানাবো,,,,
নিঝুম পরিবারের কথা অনেক ভাবে এবং ওর আব্বুকে অনেক ভয় পায় তাই ফাহিম কে বলে তুমি আমাকে ভুলে যাও,,,
ফাহিমঃকি বলো তুমি???আমাদের তো বিয়ে হয়েছে,,,,
নিঝুমঃআমি আমার পরিবার কে ছাড়তে পারবো না।তোমাকে বিয়ে করেই আমি সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছি,আর ওটা ছিলো আবেগের বিয়ে,,এই বিয়ের কোন মূল্য নেই,তুমি আমাকে ভুলে যাও আর আমাকে বিয়ে করার মতো যোগ্যতা তোমার নেই,তুমি আর কোন দিন আমাকে ফোন দিবে না,এই বলে নিঝুম ফোন কেটে দেয়,,,
এই কথা শুনার পর ফাহিম নিজের কান কেই বিশ্বাস করতে পারছে না,সে ভাবছে হয়তো নিঝুম আমার চেয়ে ভালো কাউকে পেয়েছে,,,অনেক সুখে রাখবে নিঝুম কে,,,,,
ফাহিম চিন্তায় দিন দিন অনেক শুকিয়ে যাচ্ছে,,,
এ দিকে নিঝুম ও কান্নায় ভেঙ্গে যাচ্ছে,,, এক দিকে ফাহিম এবং অন্যদিকে পরিবার কি করবে,,,,
অবশেষে ফাহিম কেই ভুলে গেলো,,,হয়তো এখানেই সমাপ্তি ঘটতে পারতো গল্পটির কিন্তু নিঝুমের ক্লাসমেট সুজন তো নিঝুম কে তার মনের রাণী ভেবে নিয়েছে,,আগেই বলেছি সুজন অনেক ভীতু প্রকৃতির একটা ছেলে,,,,
তাই সে নিঝুম কে কিছু বলতে পারে না,,,সুজন একদিন একটা চিঠি লিখে নিঝুমের ব্যাগে ডুকিয়ে দেয়,,,নিঝুমের মনটা এখনো শুকিয়ে আছে ফাহিমের জন্য,,,নিঝুম আর কোন প্রেমে জড়াতে চায় না কিন্তু সুজনের চিঠি টা ব্যাগে পেয়ে পুনরায় সুজনের প্রেমে পরে যায় নিঝুম,,,
আর সুজন যে ভাবে কেয়ার নিতে থাকে তা দেখে সুজনের প্রতি নিঝুম দূর্বল হয়ে যায়,,আবারও ২য় রিলেশনশিপে জড়িয়ে পরে নিঝুম,অতীতের সব দুঃখ কষ্টকে ভুলে যায় নিঝুম,,আনন্দে ভরে ওঠে সুজন-নিঝুমের সম্পর্ক,,,
একদিন নিঝুম কে সুজন পার্কে যেতে বলে দেখা করতে,তার নাকি কলেজের দেখায় মন ভরে না,,তাই নিঝুম দেখা করার জন্য আবার সেই নীল শাড়ী,নীল চুড়ি,নীল খোপা পড়ে এবং সাথে একটি নীল গোলাপ নিয়ে চলে যায় পার্কে অপেক্ষা করতে থাকে সুজনের জন্য,,,,,
আজকে নিঝুম কে সত্যি অপ্সরীর মতো লাগছে,যাকে দেখলে সুজন আবার প্রেমে পড়ে যাবে।
কিন্তু সুজন আসছে না,নিঝুমের খুব রাগ হচ্ছে,মনে মনে বলে আজকে আসলে মজা দেখাবো,,,,,
সুজন কে কল দেয় নিঝুম,কিন্তু রিসিভ করে অন্য এক লোক,নিঝুম কে হসপিটালে যেতে বলে,হসপিটালে গিয়ে যা দেখলো তার জন্য নিঝুম একদমই প্রস্তুত ছিলো না সুজন কে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে,,,,
যা দেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নিঝুম।নিঝুমের কিছু বলার শক্তিও নাই,,,সুজন কে চিরকালের জন্য দেখিয়ে নিঝুম কে বাসায় নিয়ে আসে নিঝুমের বাবা-মা।
৫বছর হয়ে গেলো নিঝুম এখনো বিয়ের পিড়িতে বসে নি,,,
হয়তো ফাহিমের অভিশাপে আজ নিঝুমের এই অবস্থা,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now