বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#হঠাৎ_তোমার_আগমন
#লেখিকা_এম_এ_চৌধুরী
পর্ব:০২
রাত ১১টা, এখন আমি আমার বাসর ঘরে বড় একটা গুমটা দিয়ে বসে আছি। খুব অসস্তি হচ্ছে বসে এভাবে বসে থাকতে…
একটু পরে দরজা লাগানোর শব্দ এল…
আমি গুমটার আড়াল থেকে দেখলাম আমার বরমশাই এসেছেন...
সঙ্গে সঙ্গেই আমার বুক কেপে উঠলো, আমি বিছানার চাদর খামচি দিয়ে ঢোক গিললাম। কয়েক মিনিট পরে-
জায়ান: "এই, তোকে কতক্ষণ ধরে ডাকছি, শুনছিস না?"
নূর: (অন্যমনস্ক হয়ে আমি ভয়ে ভয়ে বললাম) "আস "লে" ভাই "য়া", আমি "খে" য়াল করিনি।
জায়ান: “তোর মন কোথায় থাকে রে ডাফার??? আর হা, এইসব আটা-ময়দা ক্লিন করে আয়, এই নে। (থেকে নরমাল ড্রেস বের করে হাতে দিয়ে) “এটা পরে আয়… নামাজ পড়বো।
নূর: "আচ্ছা।" বলে ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়লাম।
নামাজ পড়া শেষ করে…
জায়ান: "এখানে ঘুমিয়ে যা।" (বিছানার এক পাশের জায়গা দেখিয়ে)
নূর: “আচ্ছা ভাইয়া।
জায়ান: “ডাফার, আমি এখনও তোর "ভাই" লাগি ভাইয়া কেন বলছিস?
এরপর তারা ঘুমিয়ে গেল।
সকাল ৯:৩০ টা।
দরজায় ঠুকা পড়তেই জায়ানের ঘুম ভেঙে গেল। মনে হলো যেন বুকের ওপর কিছু একটা আছে। সামনে তাকিয়ে দেখল, নূর তার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে…
বাইরের দিক থেকে বোন জেরিনের ডাক শোনা গেল।
জেরিন: “ভাইয়া, তোরা উঠছিস? সকাল সাড়ে ৯টা বাজে! বাহিরে সবাই নূরকে দেখতে এসেছে, তাড়াতাড়ি আয় তোরা!”
জায়ান: “তুই যা, আমরা আসছি।”
এই বলে জায়ান নূরকে বুকের ওপর থেকে আস্তে সরিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমের পানির শব্দে নূরের ঘুম ভেঙে গেল। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারল কোথায় আছে, তারপর সব মনে পড়ল।
হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে নূর দেখল—জায়ান সামনে দাঁড়িয়ে, শুধু তোয়ালে জড়িয়ে। নূর সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিল এবং অস্বস্তিতে কেঁপে উঠল।
জায়ান মুচকি হেসে নূরকে লক্ষ্য করল, তারপর মুখ গম্ভীর করে বলল—
জায়ান: “যা, তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয়। তোকে দেখতে কিছু মানুষ আসছে।”
কিছুক্ষণ পর জেরিন বেগুনি রঙের হালকা-পাতলা শাড়ি নূরের হাতে দিয়ে বলল—
জেরিন: (চোখ টিপে মিষ্টি হেসে) “নাও ভাবি, আম্মু এটা দিয়েছে। পরে নিচে আসিও।”
এ কথা বলে জেরিন চলে গেল।
নূর বিপাকে পড়ল, কারণ সে শাড়ি পরতে জানে না। বসে বসে শাড়িটা নেড়েচেড়ে দেখছিল।
ওদিকে জায়ান বিষয়টা বুঝল। সে ইউটিউবে শাড়ি পরার ভিডিও দেখে নিল, তারপর নূরকে ডেকে পাশে দাঁড়াতে বলল।
জায়ান: (মুখ গম্ভীর) “নূর, এদিকে আয়…”
নূর: (ভয়ে ভয়ে) “কেন—”
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই জায়ান ধমক দিয়ে বলল—
জায়ান: “তোকে যা বলছি, তা কর, আমার পাশে আয়।”
নূর সাবধানে এগিয়ে এলো। জায়ান ধীরে ধীরে নূরকে শাড়ি পরিয়ে দিল।
শাড়ি পরা শেষ হলে নূর বড় করে একটি নিশ্বাস ফেলল। এতক্ষণ সে অস্বস্তি ও লজ্জায় ছিল।
জায়ান শান্তভাবে পুরো ব্যাপারটা লক্ষ্য করছিল এবং হালকা হাসল।
কিছুক্ষণ পর সে জেরিনকে ডাকল—
জায়ান: (জোরে) “জেরিন!”
জেরিন: (নিচে থেকে জবাব দিলো) “কি হয়েছে ভাইয়া?”
জায়ান: “রুমে আয়। নূরকে একটু হালকা করে সাজিয়ে দে।”
জেরিন এসে নূরকে সাজিয়ে দিল এবং বের হয়ে গেল।
এরপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে জায়ান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল—
জায়ান: “আমি অফিসে যাচ্ছি।”
এই বলে সে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
---
#হঠাৎ_তোমার_আগমন
#লেখিকা_এম_এ_চৌধুরী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now