বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সুহান প্রায় নগ্ন দেহে পাথরের উপর শুয়ে আছে। তার দেহ অনাবৃত, শুধু ছোট এক টুকরো নিও পলিমারের কাপর তার কোমর থেকে ঝুলছে। এই গ্রহে সুহান ছাড়া আর কোন মানুষ নেই। তার নগ্নতা ঢেকে রাখার কোন প্রয়োজন নেই। ট্রিনি বলেছে মানুষ হলে নগ্নতা ঢেকে রাখতে হয়। ট্রিনির কথা সে বিশ্বাস করে না, তার সাথে অবিরাম তর্ক করেিও সে ট্রিনির কথা শুনে। এই গ্রহে ট্রিনি ছাড়া তার কথা বলার আর কেউ নেই।
সুহান শুয়ে শুয়ে দূরে তাকিয়ে থাকে। বহুদূরে নীল পাহাড়ের সারি। ঐ পাহাড়গুলির কোন কোনটা আগ্নেয়গিরি। সময় সময় ভয়ংকর গর্জন করে অগ্নুৎপাত হয়। মাটি থর থর করে কাঁপে, আকাশ কালো হয়ে যায় বিষাক্ত ধোঁয়ায়, গলিত লাভা বের হয়ে আসে ক্রুদ্ধ নিশাচর প্রাণীদের মত। এখন পাহাড়গুলি স্থির হয়ে আছে। ট্রিনি বলছে, পৃথিবীর পাহাড় হলে ঐ পাহাড়ের চূড়ায় শুভ্র তুষার থাকত। এটা পৃথিবী নয়, তাই দূর পাহাড়ের চূড়ায় কোন শুভ্র তুষার নেই। এই গ্রহটি পৃথিবীর মত নয় কিন্তু এটাই সুহানের পৃথিবী, সুহানের গ্রহ। তার নিজের গ্রহ। যে গ্রহে ট্রিনি তাকে বুকে আগলে বড় করেছে। সুহান দীর্ঘ সময় দূর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থেকে এক সময় ক্লান্ত হয়ে চোখ বন্ধ করল। আজকাল হঠাৎ তার বুকের মাঝে বিচিত্র এক অনুভূতি হয়। সে এই অনুভূতির অর্থ জানে না। কাউকে সে এই অনুভূতির কথা বলতে পারবে না। ট্রিনি অনুভূতির অর্থ জানে না। ট্রিনি একটি রবোট। দ্বিতীয় প্রজাতির রবোট। তার কপোট্রেনে অসংখ্য তথ্য কিন্তু বুকে কোন অনুভূতি নেই।
সুহান চোখ খুলে তাকাল। তার পায়ের কাছে ট্রিনি দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ ধাতব দেহ। সবুজাভ ফটোসেলের চোখ। ভাবলেশীন যান্ত্রিক সুখ। কি হল ট্রিনি?
তুমি অনেকক্ষণ থেকে শুয়ে আছ সুহান।
হ্যাঁ ট্রিনি।
উঠ। প্রথম সূর্য ডুবে গেছে। একটু পরেই দ্বিতীয় সূর্য ডুবে যাবে।
যাক।
খুব অন্ধকার হবে আজ।
হোক।
সব নিশাচর প্রাণী বের হবে সুহান।
হোক। আমি কোন নিশাচর প্রাণীকে ভয় পাই না ট্রিনি।
এরকম বলে না সুহান। নিশাচর প্রাণীকে ভয় পেতে হয়। অর্থহীন দম্ভ ভালো নয়। কেন ভালো নয়?
দাম্ভিক মানুষকে কেউ পছন্দ করে না সুহান।
সুহান বিষণ্ণ গলায় মাথা নেড়ে বলল, এখানে আর কেউ নেই ট্রিনি। আমাকে পছন্দ করারও কেউ নেই। অপছন্দ করারও কেউ নেই।
কিন্তু কেউ যদি আসে?
সুহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, কেউ আসবে না।
কেউ আসবে না? আমরা তো এসেছিলাম। তোমার মা এসেছিল। তোমার মায়ের গর্ভে করে তুমি এসেছিলে। একটি মহাকাশযান ভরা মানুষ এসেছিল।
ইচ্ছে করে তো আসনি। আশ্রয় নিতে এসেছিলে। আবার কেউ আসবে আশ্রয় নিতে।
ছাই আসবে। যদি আসে আবার তাদের মহাকাশযান ধ্বসে পড়বে। আবার সবাই শেষ হয়ে যাবে।
তুমি তো শেষ হওনি।
আমার মায়ের পেট কেটে আমাকে তুমি যদি বের না করতে, আমিও শেষ হয়ে যেতাম।
ট্রিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, সুহান, ঐ কথা থাক।
কেন ট্রিনি।
আমি দেখেছি, এই আলোচনা তোমার ভালো লাগে না। আমার মাঝে মাঝে কিন্তু ভালো লাগে না ট্রিনি।
ছিঃ সুহান, এভাবে কথা বলে না। ছিঃ। একটা জীবন হচ্ছে একটা সংগ্রাম, একটা যুদ্ধ। যার যুদ্ধ যত কঠিন তার জীবন তত অর্থবহ। তোমার মত এইরকম যুদ্ধ করে আর কে বেঁচে আছে বল? কেউ নেই।
ছাই যুদ্ধ।
ছিঃ সুহান এরকম বলে না।
কি হয় বললে? এগুলি হচ্ছে মন খারাপ করার কথা। মন খারাপ করার কথা বলতে হয় না।
একজন মন খারাপ করার কথা বললে অন্যজনেরও মন খারাপ হয়ে যায়।
কিন্তু তুমি তো রবোট। তোমার তো মন খারাপ হয় না।
হ্যাঁ, আমার মন খারাপ হয় না।
তাহলে তুমি কেন বলছ? তুমি কেন মানুষের মত ব্যবহার করছ?
ট্রিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমি যদি তোমার সাথে মানুষের মত ব্যবহার না করি, তুমি কোনদিন জানবে না কেমন করে মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। তুমি সব ভুল কথা বলে মানুষের মনে দুঃখ দিয়ে দেবে। তোমার সাথে কথা বলে মানুষের মন খারাপ হয়ে যাবে।
আমার কোনদিন মানুষের সাথে দেখা হবে না।
সুহান একটা নিঃশ্বাস ফেলে অন্যমনস্কের মত বলল আমার কোনদিন মানুষের সাথে দেখা হবে না।
ছিঃ সুহান, এভাবে কথা বলে না ছিঃ। নিশ্চয়ই দেখা হবে।
সুহান ট্রিনির কথার উত্তর না দিয়ে দূরে তাকিয়ে থাকে। দ্বিতীয় সূর্যটি পাহাড়ের আড়ালে ঢেকে গেছে। একটু পরেই গ্রহটি গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যাবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now