বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তারপর একদিন তিনিও হিজরত করলেন মদীনায়।
মদীনায় এসে আবুযার নবীকে (সা) আরও বেশি করে কাছে পেলেন। তাঁর সেবা, যত্ন আর সান্নিধ্যে কাটিয়ে দেন সময়গুলো।
তাবুকের যুদ্ধের জন্যে বেরিয়ে পড়লেন নবী (সা)। সাথে অন্যান্য সাহাবীও আছেন।
অনেকে এসেছেন। আবার আসেননি অনেকেই। আবুযারকেও দেখা যাচেনছ না। কেউ কেউ রাসূলকে (সা) বললেন, নিশ্চয়ই আবুযার পিছটান দিয়েছেন!
রাসূল (সা) কিছুই বললেন না। শুধু শুনলেন তাদের কথা। হঠাৎ একজন বললেন, ঐ যে- দূর থেকে কেউ যেন একাকী আসছেন।
নবী (সা) সেদিকে না তাকিয়েই বললেন, আবুযারই হবে।
সত্যিই তাই।
মাঝফথে দুর্বলউটের পিঠ থেকে মালপত্র নামিয়ে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি পায়ে হেঁটেই পৌঁছুলেন সেখানে।
ক্লান্ত আবুযারকে দেখে সবাই অবাক হলেন।
রাসুল (সা) বললেন, আল্লাহ আবুযারের ওপর রহম করুন। সে একাকী চলে, একাকী মরবে, কিয়ামতের দিন একাই উঠবে।
হলোও তাই।
নবীর (সা) কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলো।
রাসূলের (সা) ইন্তেকালের পর আবুযার চলে গেলেন মদীনা ছেড়ে। না নিজের গোত্রে, না কোনো লোকালয়ে।
তিনি চলে গেলেন মদীনা থেকে অনেক- অনেক দূরে, মরুভূমির আর এক প্রান্ত রাবজা নামক স্থানে।
তাঁর এই স্বেচ্ছা-নির্বাসনে সবাই অবাক হলেন।
কিন্তু পর্বতের মতো শক্ত রইলেন আবুযার।
এই তেপান্তর মরুভূমিতে পর্যাপ্ত খাবার নেই। নেই পানির সুব্যবস্থা। নেই আরাম আয়েশের কোনো উপাদান।
দুনিয়ার বিলাসত্যাগী সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। পরকালপ্রেমিক আবুযার সেখানে কঠিন জীবন যাপন করতে থাকলেন।
সাথে ছিলেন তার স্ত্র।
রোগে ভুগে কাহিল হয়ে পড়লেন আবু যার। তিনি তখন খুবই অসুস্থ।
পাশে বসে কাঁদছেন তাঁর স্ত্রী।
আবুযার বললেন- কাঁদছো কেন?
এই জনমানবহীন মরুভূমির মধ্যে আপনি পরকালের দিকে যাত্রা করছেন। এখানে কোনো কিছুই নেই। এমনকি আমাদের দু’জনের পরিধানের বস্ত্র ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো সম্বল নেই। আল্লাহ না করুন, আপনি মারা গেলে আপনার কাফনের কাপড় তো সংগ্রহ করতে পারবো না! বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে উঠলেন তাঁর স্ত্রী।
তিনি ধীর কণ্ঠে বললেন- কেঁদোনা!
কেন? স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন।
আবুযার বললেন, একটি সুসংবাদ আছে।
সুসংবাদ? স্ত্রীর চোখে আনন্দধারা ঝিলিক দিয়ে উঠলা।
হ্যাঁ। সুসংবাদ। আমি নবীকে (সা) বলতে শুনেছি, যে মুসলমানের দুই অথবা তিনটি সন্তান মারা গেছে, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্যে তাই যথেষ্ট।
তিনি আরও বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন একজন আছে যে মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করবে। এবং তার মৃত্যুর সময় অকস্মাৎ একদল মুসলমান সেখানে উপস্থিত হবে। আমি ছাড়া আর সকলে লোকালয়ে মার গেছে। অতএব আমার মৃত্যু হবে এই মরুভূমিত। আর তুমি দেখে নি, একদল মুসলমান অবশ্যই এখানে এসে যাবে।
আবুযার দৃঢ় কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন।
গায়েবি সাহায্যের প্রত্যাশায় আবু যারের স্ত্রী রাস্তার দিক তাকিয়ে থাকলেন।
কী আশ্চর্য! সত্যিই এলো গায়েবি মদদ।
একদল ইয়ামেনী মুসলমান কুফা থেকে আসছিল। তাদেরকে দেখে ইশারায় ডাকলেন আবুযারের স্ত্রী।
তারা এসেই জিজ্ঞেস করলেন ইনি কে?
আবুযার।
রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবী?
হ্যাঁ।
আবুযারের কথা জেনেই তারা সেখানে গেলেন।
তারা এগিয়ে গেলেন অসুস্থ আবুযারের শয্যার পাশে।
আবুযার তাদেরকে রাসূলের (সা) ভবিষ্যদ্বাণী শুনালেন তারপর বললেন,
যদি আমার অথবা আমার স্ত্রীর কাছে কাফনের পরিমাণ কাপড় পাওয়া যায় তাহলে তা দিয়েই আমার কাফনের ব্যবস্থা করবে। আর যে ব্যক্তি সরকারের ক্ষুদ্রতম পদেও অধিষ্ঠিত, আল্লাহর কসম! সে যেন আমার কাফন না পরায়।
আবুযার ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো।
জীবন যাপনে ছিল না তার বিলাসিতা। দুনিয়ার সুখের জন্যে এতটুকুও তিনি লালয়িত ছিলেননা।
অতি সাধারণভাবে তিনি জীবনযাপন করতেন। তার ঘরে কোনো আসবাবপত্রও ছিল না। ছিল না সংসার যাপনের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রীও।
একবার একজন তার ঘরে প্রবেশ করে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ঘরে তো কিছুই নই! আপনার আসবাবপত্র কোথায়?
আখেরাতে। সেখানে আমার কেটি বাড়ি আছে। আমার যাবতীয় আসবাবপত্র সেখানেই পাঠিয়ে দিয়েছি। আবুযার হেসে জবাব দিলেন।
আবুযার ছিলেন প্রকৃত অর্থেই আখেরাতপ্রত্যাশী। আর দুনিয়ার সম্পদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত নির্লোভী। মেহাহীন।
সিরিয়ার আমীর তার কাছে একবার তিনশ’ দীনার পাঠালে তিনি অত্যন্ত রেগে গেলেন। বললেন, শামের আমীর কি আমার থেকে অধিকতর কোনো নীচ ব্যক্তিকে পেলেন না!
দীনারগুলি গ্রহণ না করে তিনি পুনরায় ফেরত পাঠালেন।
হযরত আবুযার ছিলেন সরল, সাদাসিধে। দুনিয়া বিরাগী। নির্জনতাপ্রিয়। আবার তিনিই ছিলেন জ্ঞানের সমুদ্র। ছিলেন সত্যের জ্বলন্ত শিখা।
নবী (সা) তার সম্পর্কে একবার বলেছিলেন, আসমানের নিচে এবং জমিনের ওপরে আবুযার সর্বাধিক সত্যবাদী ব্যক্তি।
এই সত্যবাদী জ্ঞানের মহাসমুদ্র ঘুমিয়ে পড়লেন একদিন।
ঘুমিয়ে পড়লেন চিরতরে দুনিয়ার ভিখারী সম্বলহীন, নিঃসঙ্গ এক বেদুইন ঠা ঠা মরুভূমির উত্তপ্ত বালির ভেতর।
আবুযার!
সত্যের সিংহপুরুষ! তার মৃত্যু নেই।
তিনি মরেননি। সত্যের নক্ষত্রেরা মরেন না কখনো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now