বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্রিং ক্রিং,, ক্রিং ক্রিং,,, -- হ্যালো।।
--""""""""""""""
-- হ্যালো, কে বলছেন?
--"""""""""""'''
-- কথা বলছেন না কেন??
--""""""'''''
-- আশ্চর্য তো।। ফোন দিয়ে কথা বলেন
না
কেন?? বোবা নাকি?? যত্তোসব ফালতু
লোকের
কারবার।।
টুট টুট টুট.......
রাগে গজ গজ করতে করতে ফোন কেটে
দিল
মিথিলা।। ইদানিং কে জানি এরকম ঘন ঘন
অপরিচিত নাম্বার
থেকে ফোন করে মিথিলার কাছে।।
রিসিভ না করা
পর্যন্ত ফোন আসতেই থাকে।। আবার
রিসিভ
করলে কোন কথা বলেনা।। শুধু চুপচাপ
মিথিলার কথা
শোনে। মিথিলা ভাবে তার কোন বন্ধু
হয়ত মজা
করছে।। কিন্তু কে হতে পারে ভেবে
ভেবে
কুল পাচ্ছেনা। তার পরেও এইসব চিন্তা
মাথা থেকে
ঝেড়ে ফেলে পড়াতে মন দিল।। পরের
দিন
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কোচিং এ
ছুটলো।
পড়া শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে
লাগল।।
তখনও সেই নাম্বার থেকে ফোন আসলো।
এইবার রিসিভ না করে কেটে দিল।। একটু
পরে
সেই নাম্বার থেকে মেসেজ আসলো "
আজ
আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।" মেসেজ
দেখামাত্র
মিথিলা এদিক সেদিক তাকাতে লাগল।
কিন্তু কাউকে
দেখতে পেলনা। তাই আবার বন্ধুদের
সাথে মজা
করতে লাগলো। আড্ডা শেষ করে যে যার
বাসায়
চলে যেতে লাগলো। মিথিলাও একা
একা বাসায়
ফিরতে লাগলো। এমন সময় আবার সেই
নাম্বার
থেকে মেসেজ আসলো। " এতো
রোদের
তাপে খলি হাতে বের হয়েছেন কেন?
কাল
থেকে ছাতা নিয়ে বের হবেন।" মিথিলা
আবার অবাক
হয়ে গেল। কে এই মানুষ? যে সব সময়
তাকে
ফলো করছে। এসব ভাবতে ভাবতে বাসায়
চলে
গেল। রাতে খাওয়ার পর মিথিলা চুপ চাপ
ডায়েরী
নিয়ে এসব কথা লিখছে। এমন সময় আবার
মেসেজ।
" ঘুম আসছেনা? এতো রাতে
ডায়েরীতে কি
লেখছেন?" এইবার মিথিলা একেবারে
চমকে
উঠলো। তার সব খুটিনাটি কথা এই লোক
কিভাবে
জানে? সে মেসেজের উত্তরে
লিখলো,, --
কে আপনি?? আমার কখন কি করছি কিভাবে
জানেন??
-- আমি আপনার সব কথা জানি। আপনার
মনের কথাও
জানি।
-- কি কি জানেন শুনি।।
-- ঠিক এই মুহুর্তে আপনার মন আমাকে
দেখার খুব
ইচ্ছা হচ্ছে।। তাই না?
-- হ্যা। আপনি কিভাবে বুঝলেন? -- ঐ যে
বললাম
আমি আপনার সব কথা জানি। -- বুঝলাম।
আপনি তো
আমার সব কথা জানেন। কিন্তু আপনি কে?
তা তো
আমায় এখনও বললেন না। -- সময় মতো
আপনি সব
জেনে যাবেন। -- আমি অতো কিছু
বুঝিনা। এই
মুহুর্তে আপনি আমাকে আপনার সম্পর্কে সব
কথা
বলবেন। ব্যাস। -- ঠিক এই মুহুর্তে আপনার মন
কি
বলছে জানেন? আমাকে সামনে পেলে
খুব
মারধোর করতে। -- আশ্চর্য। আপনি আমার
সম্পর্কে এতো কথা কিভাবে জানেন?
আর আমার
মনের কথাও কিভাবে বুঝতে পারেন??
-- তা তো জানিনা। শুধু এইটুকু বলব আপনার
মনের সব
কথা আমি বুঝতে পারি।
-- আচ্ছা। আমি আপনার সাথে দেখা
করতে চাই। -- তা
সম্ভব না।
-- কেন কেন? যে আমার সম্পর্কে এতো
কথা
জানে। তাকে একটিবারের জন্য দেখতে
চাই। --
আমাদের দেখা হবে। ভিন্য কোনও সময়ে,
ভিন্য
কোনও পরিস্থিতিতে।। -- তার মানে?
-- মানে আমাদের অবশ্যই দেখা হবে।
তবে
নির্দিষ্ট সময় বলতে পারবোনা। -- একবার
প্লিজ।
অন্তত একবার দেখা করুন প্লিজ। -- অবশ্যই
আমাদের দেখা হবে।
-- কবে??
-- অপেক্ষা করুন। সেই সময় খুব শীঘ্রই
আসবে।
এখন অনেক রাত হয়ে গেছে। ঘুমান। পরে
কথা
হবে।
এই বলে অচেনা লোকটা মেসেজ করা
বন্ধ
করে দিল। এদিকে মিথিলা অস্থির হয়ে
গেল এই
ভেবে যে একটা মানুষ কিভাবে অন্য
একটা মানুষের
এতো কথা বুঝতে পারে।
যাই হোক সে রাতে এইসব ভাবতে
ভাবতে মিথিলা
ঘুমিয়ে যায়। পরদিন সকালে ফোনের
শব্দে মিথিলার
ঘুম ভেঙে যায়। ফোন হাতে নিয়ে
দেখে ওই
লোকের মেসেজ। " এতো ঘুমান কেন?
কোচিং এ যেতে হবেনা?"
সাথে সাথে মিথিলা সময় দেখে ৮:৫০
বেজে
গেছে। ইসস। আর ১০ মিনিট আছে
কোচিং শুরু
হওয়ার। তাই তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হয়ে
কোচিং এ
ভলে গেল। এভাবে কয়েকদিন খুব
হাসিখুশিতে দি
কাটলো মিথিলার। এর মধ্যে প্রতিদিন
মিথিলা ওই
লোকের সাথে ফোনে কথা বলতো।।
আসলে মেসেজে কথা হত। এই কয়দিনে
মিথিলা
ওই লোকের সম্পর্কে অনেক কথা জেনে
নেয়। লোকটির নাম আবির। অনার্স ২য় বর্ষ।
আর
মিথিলা ও একই সাথে একই
ডিপার্টমেন্টে একই
কলেজে পড়ে। আবির কথা বলতে
পারেনা। তবে
সবই শুনতে পারে। ছোট বেলায় একটা
এক্সিডেন্টে ওর ভোকালে সমস্যা হয়।
তার পর
থেকে সে আর কথা বলতে পারেনা। এসব
কথা
শুনে মিথিলার ওর প্রতি একটু বেশি মায়া
হতে শুরু
করে। রোজ আবিরের ফোনে ঘুম থেকে
ওঠা। সারাদিন ওর সাথে মেসেজে কথা
বলা। আবার
রাতেও ওর সাথে কথা বলেই ঘুমিয়ে পড়া
ইত্যাদি
ইত্যাদি। তবে এখনও মিথিলা আবিরকে
দেখেনি।
আসলে আবির কলেজে খুব কম আসতো। আর
ওর তেমন কোনও বন্ধুও ছিলনা। শুধু তার
একটা
কাছের বন্ধু ছিল। যার মাধ্যমে সে
মিথিলার খোঁজ
নেয়। তাকে মিথিলাও চিনতো।
মিথিলাদের বাসা
থেকে কয়েক বাড়ি পরেই তার বাড়ি। ওর
নাম রিমন।
একমাত্র রিমন ছাড়া কলেজের কেউ
আবিরকে
চিনতো না। মিথিলা অনেকবার আবিরের
খোজ
নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোথা
থেকে
যেন আবির তা বুঝতে পেরে ওকে বারণ
করে
দেয়। তাই মিথিলা হাল ছেড়ে আবির
কবে দেখা
করবে সেই আশায় বসে আছে। এভাবে
আরও
কয়েকদিন যাওয়ার পর মিথিলা ঠিক করলো
সে
আবিরকে তার ভালবাসার কথা বলে
দেবে।
কথামতো একদিন সে আবিরের সাথে
দেখা করার
জন্য অনেক জেদ করে। আবির না বলে
দেয়।
মিথিলা ওকে বলে যদি সে দেখা না
করে তাহলে
আর কখনও আবিরের সাথে কথা বলবেনা।
এর
পরেও কিছুক্ষণ ওদের মধ্যে একটু রাগারাগি
হয়।
তারপরে আবির রাজি হয়ে যায়।
নির্ধারিত দিনে মিথিলা
খুব সুন্দর করে সেজে গুজে কলেজ
ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে যায়।
আবির ও সময়মত চলে আসে। এই প্রথম
আবিরকে
দেখল মিথিলা। কি অদ্ভুত এক মায়া
জড়ানো চেহারার
ছেলে আবির। ওর চোখের দিকে
তাকালে মনে
হয় পৃথিবীর সব মায়া হয়ত ওর দুচোখে
একসাথে
মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন একটা
মায়াবী
ছেলে কথা বলতে পারেনা এই কথা
ভাবতেই খুব
খারাপ লাগে। ধিরে ধিরে এগিয়ে এসে
আবির মিথিলার
কাছে এসে ইশারায় হ্যালো বলল।
মিথিলাও হ্যালো
বলল। এর পরে তারা সব কথা মেসেজের
মাধ্যমেই করলো। এরই মাঝে হঠাত
মিথিলা আবিরের
হাত ধরে ভালবাসার কথা বলে ফেললো।
আবির
কিছুক্ষন ভাবার পর না করে দিলো।
মিথিলা কারন
জানতে চাইলে আবির কিছু না বলে ওখান
থেকে
চলে যায়। মিথিলা আবিরের এমন
ব্যবহারে খুব কষ্ট
পায়। সে ওখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে
বাসায় এসে
ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁদতে থাকে।
রাতে
আবির মেসেজ দেয় " এখনও কাঁদছো?
কান্নাকাটি
ছেড়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। এই
বিষয়ে
পরে কথা হবে। প্লিজ মন খারাপ করোনা।
" মিথিলা
এই মেসেজ দেখে আরও রেগে যায়।
এরপর
সে ফোন বন্ধ করে রাখে। এভাবে
কয়েকদিন
পর্যন্ত সে একা ঘরে বসে কাঁদতে থাকে।
মিথিলার
এক বান্ধবী তাকে কলেজে না আসতে
দেখে
তস্র বাসায় দেখতে আসে। তখন মিথিলার
অবস্থা
দেখে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে।
মিথিলা ওকে
সব কথা বলে। আর বলে আবির ওকে ধোঁকা
দিয়েছে। তখন তার বান্ধবী তাকে বলে,
-- তুই সেই আবিরের কথা বলছিস কি যে
৩দিন
আগে ব্লাড ক্যান্সারের অপারেশন করতে
গিয়ে
মারা গেছে?
-- কে মারা গেছে বললি?
-- আবির। আমাদের সাথেই পড়ত। বেচারা
কথা
বলতে পারতো না। আবার তার নাকি ব্লাড
ক্যান্সারও
ছিল। তাই সে কলেজে বেশি আসতো
না। খুব ভাল
ছাত্র ছিল। তার মারা যাওয়ার কথা শুনে
প্রফেসার রাও
অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন।
-- ছেলেটা কি রকম দেখতে জানিস তুই?
-- কলেজে ওর ছবি দিয়ে ব্যানার
লাগিয়ে রাখা ছিল।
একটা ছবি আমার কাছেও আছে। এই দ্যাখ।
ছবিটা দেখে মিথিলা আর সহ্য করতে
পারলো না।
সাথে সাথে আবিরের বন্ধু রিমনের
কাছে ছুটে
গেল। রিমন মিথিলাকে দেখেই বুঝতে
পারলো কি
হয়েছে। তাই মিথিলাকে বলল,
-- আবির তোমাকে ঠকায়নি। বরং আবির
তার ভাগ্যের
কাছে হেরে গেছে। সেদিন ও তোমার
জবাব
দেয়নি কারণ ও জানতো বেশিদিন ও আর
বাঁচবেনা।
তাই ওর সংক্ষিপ্ত জীবনে তোমাকে
জড়াতে
চায়নি। তবে ও তোমাকে অনেক
ভালবাসত। আর
তাই তোমাকে সবকিছু বলতে চেয়েছিল।
কিন্তু
তুমি ফোন বন্ধ রেখেছিলে। তাই ও কিছুই
বলে
যেতে পারেনি। ও তোমারর জন্যে ওর
লেখা
ডাায়েরী রেখে গেছে। এতে ওর সব
না বলা
কথা লেখা রয়েছে।
এই বলে ওকে একটা ডায়েরী দিল রিমন।
এসব
ককথা শুনে মিথিলা আআর ঠিক থাকতে
পারেনি।
ওখানেই অজ্ঞান হয়ে গেল। যখন চোখ
খুলল
নিজেকে হাসপাতালের বেডে
আবিষ্কার করলো।
সেখানে তার পরিবারের সবাইকে
দেখতে পেল।
আর আবিরকেও দেখতে পেল। সাদা
পাঞ্জাবী
পরে আছে। কি সুন্দর লাগছে ওকে। সব
সৌন্দর্য
যেন ওর চোখ দিয়ে ঠিকরে পড়ছে। আর
ইশারায়
বলছে "আমি তোমাকে খুব ভালবাসি
মিথিলা।" এই
সুন্দর দৃশ্য শুধু মিথিলা দেখতে পাচ্ছে।
কারন আবির
মারা গেলেও ওর মাঝে ঠিকই বেঁচে
আছে। আর
সবসময় ওর পাশেই আছে। এবার আর মিথিলা
ওকে
হারাতে দেবেনা কিছুতেই। সারাজীবন
ওকে তার
কল্পনাতেই বাঁচিয়ে রাখবে আর প্রাণ
ভরে
ভালবাসবে।
..
ভালবাসা একটি জীবনের মত। এখানে
সবসময় খুশি
থাকা যায়না। এই পথে চলা সহজ হয়না।
আমরা যখন
জীবনকে সবসময় বাচিয়ে রাখতে চাই
তাহলে
ভালবাসাকে কেন সবসময় বাচিয়ে
রাখবো না??
.
# Some_Love_Story_Never_Ends
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now