বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
০- ভাইজান একটি ফুল নেন, আপার খোপায় অনেক ভালো লাগবো।
-- কিন্তু তোর আপা যে নাই, কাকে পড়াবো?
০- তাইলে আপনার বোনকে পড়াবেন। আপনার বইন অনেক খুশি হইবো,
-- আমার যে বোইন ও নাই, কিভাবে দিবো?
০- তাইলে আপনি নিজে পড়েন, আপনারে রানীর মত লাগবো... হি হি
মেয়েটি খিল খিল করে হেসে উঠলো, মেয়েটি কোন ফুল বিক্রেতা নয়, তার সমাজের মানুষের নকল করতে ভালো লাগে, যাকে তার ভালো লাগে তার নকল করে নিজেও ভালো থাকে অন্যকেও ভালো রাখে।
শ্যাম বর্ণ তার গায়ের রঙ, চোখেতে একরাশ ভালোবাসা নিয়ে সর্বদা প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার জীবনের লক্ষ। তার এলোমেলো বাউরী চুলে যেন তার রুপ দ্বিগুন হয়ে যায়, কালো হলেও তাকে অপ্সরা রুপসীর থেকে কোন অংশ কমনেই, তার তেছড়ি নয়ন, বাতাসে উড়ে যাওয়া রেশমীকালো চুল, চঞ্চল প্রকৃতিতে হাসিয়ে মাতিয়ে রাখা তার স্বভাব যেন আল্লাহর নিখুঁত উপহার এই পৃথিবীর জন্য।
গল্প টা অবনীশ আর রুপসীর.......... আজ থেকে ৫ বছর আগে!
০- অবনীশ ঘুম থেকে উঠ, বেলা পেরিয়ে সন্ধ্যে হতে চলল, এখনো তুই ঘুমাচ্ছিস, আর কত ঘুমাবি এবার উঠ,
-- মা কাল রাতে ঘুমাতে পারিনি, এবার একটু ঘুমাতে দাও।
০- পড়ে ঘুমাইস দেখ কে এসেছে, তোর সাথে দেখা করতে
-- যেই আসুক আমি ঘুমাবো এখন।
০- আচ্ছা থাক তুই, কোন কিছু হলে আমাকে কিছু বলবি না।
কথাটা বলে অবনীশের মা চলে গেলো, কথাটা শুনেই অবনীশের বুকের ভিতর নাড়া দিয়ে উঠলো, কি হবে আর কে এসেছে ঘুর্নিঝড় তো আবার আসেনি? এসব ভাবতে ২ সেকেন্ড সময় চলে গেলো ৩ সেকেন্ড এ চোখ খোলার আগেই, ঘুর্নিঝরের পানি তার পুরো দেহকে ভিজিয়ে দিলো,
০- এইযে নবাবজাদা, পুরো পৃথিবী তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে, আমি আপনার জন্য নৌকা আনছি চলেন আপনাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেই, সবাই জলে ডুবে মরবে আর আপনি উড়ে উড়ে মরবেন।
কথাগুলো বলেই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো মেয়েটি, অবনীশ উঠে বসে রইলো, আর তার মাকে জোরে ডাক দিয়ে বলতে লাগলো,
০- মা ও মা, আগে কেন বলোনি, এই ঝরের রানী এসেছে,
অপর প্রান্ত থেকে অবনীশ কে বলতে লাগলো,
০- আগেই বলেছিলাম, কিছু হলে আমাকে বলবি না।
-- তাইবলে ৩ সেকেন্ড অপেক্ষা করতো পারলো না এমন মেয়ে আমি জন্মে দেখিনাই,
০- ঝড় কিন্তু আধা সেকেন্ডে হয়, তুই অনেক ভাগ্যবান যে ৩ সেকেন্ড পর ঝড় আসছে তোর উপর,।
এই কথা বলে অবনীশের মা হাসতে লাগলো, অবনীশের রাগে শরীরে আগুন জলছে, কিন্তু এই আগুন নিজের মাঝেই রেখে দেওয়া ভালো, কারন সে যদি কিছু বলে এখন, তার অবস্থা যে কি হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা, অবনীশ মেয়েটির সাথে কোন কথা না বলে, সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো, ব্যাপার টা রুপসীর একদম ভালো লাগলো না, যে সে তাকে কিছু বললোনা, অবনীশেরই বা কি করার আছে বললেও দোষ না বললেও দোষ, রুপসী রেগে গেলো আর বলতে লাগলো,
০- ইদুর, পিঁপড়ার জামাই, কলা গাছের বাদুর, জংগলের পোকা মাকড়ের শত্রু, তুই আমার সাথে রাগ দেখাস, আজ তোর যেকয়দিন লাগে, আমার কিন্তু ১ মিনিটই লাগবে, আজ তোকে আমি বাথরুম কেল্লা দেখাবো।
কথাগুলো শুনে অবনীশের মনের মাঝে ভয় লেগে গেলো আবার কি করবে তার সাথে, ঝটপট প্যান্ট পড়ে যেই না বের হতে যাবে, ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গেলো, তার বের হওয়ার রাস্তা অপরপ্রান্ত থেকে বন্ধ, এবার অবনীশ বলতে লাগলো,
০- আল্লাহ কোন পাপের শাস্তি তুমি আমাকে দিতেছো, এমন দাজ্জাল মেয়ে কেন আমাকে দিছো, না বাচতে দেয় না একটু শান্তি দেয়, আল্লাহ ওর মাথায় একটু জ্ঞান দাও তুমি, আমিন।
-- কি বললি তুই, আমি তোরে শান্তি দেইনা, আমার মাথায় জ্ঞান নাই, আমি তোরে জালাই, আজকের পর থেকে তোর সাথে সব সম্পর্ক শেষ, যা ভালো থাক।
০- যাক এতদিনে তুই আমাকে ছাড়তেছিস, সম্পর্ক যখন নাই, তখন, দরজা খুলে দে, আমি তোর যাবার দরজা খুলে দিবো।
-- কুত্তা, ***, ছাগলের লেজ, তোরে আমি খুন করে ফেলবো, আমি চলে যাইতেছি আর দরজা খুলমু না, ওখানে পড়ে থাক তুই।
এই কথা বলে রুপসী চলে গেলো অবনীশের ঘর থেকে, অবনীশ কে বাথরুমে আটকিয়ে। অবিনাশ চিৎকার করতে করতে ক্লান্ত, কিন্তু তার শব্দ যেন কেউ শুনেও শুনে না, অবিনাশ ও জানে তার বাথরুমের দরজা রুপসী ছাড়া কেউ খুলবে না, তাহলে তার ১২ টা বাজিয়ে ছাড়বে, তাই বাধ্য হয়ে রুপসীর রাগ ভাংগা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বাথরুমেই ২ ঘন্টা কেটে গেলো, ২ ঘন্টা পর.... রুপসী এসে দরজা খুলে দিলো, কিন্তু তার মুখে কোন শব্দ নেই অবনিশ বের হয়ে বলতে লাগলো,
০- কলিজা ঠান্ডা হইছে এখন।
-- হুম,
০- আর কিছু করার বাকি আছে
-- হুম,
০- কি?
রুপসী চুপ করেই রইলো, মাথা নিচু করে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইলো, তারপর অবনিশ এর কাছে গিয়ে কলার টেনে ধরলো, আর বলতে লাগলো,
০- তুই ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছিস কেন?
-- কোন মেয়ে,
০- ঐ যে তোর সাথে কলেজে পরে তামান্না নাকি ফামান্না জানি।
- কথা বললে কি হয়?
০- আবার যদি কথা বলিস তোর মুখ ভেংগে দিবো ঘুষি মেরে, চোখ উপড়ে ফেলবো অন্যকোন মেয়ের দিকে তাকালে।
কথাগুলো বলতে বলতেই রুপসীর চোখে পানি জমে গেলো, অবনীশ তার চোখের পানি মুছে দিতে গেলে, অবনিশ কে বুকে জরিয়ে হাউমাউ করে কেদে দিলো, আর বলতে লাগলো, তুই অনেক খারাপ, আমাকে শুধু কষ্ট দিস, আর অবনিশ কে কিছু বলতে দিলোনা, অবনিশের কপালে একটা চুমু দিয়ে চলে গেলো।
কিছুক্ষন পর আবার রুপসী ফিরে আসলো, সাথে একটি মেরুন রংয়ের পাঞ্জাবী নিয়ে, এসে বলতে লাগলো, এটা পড়ে ঝটপট তৈরি হয়ে নে,
০- কেন কোথায় যাবো
- জাহান্নাম এ।
০- তুই যা, আমার জাহান্নাম এ যাওয়ার ইচ্ছা নাই,
-- তোর ইচ্ছা তে আমার বয়েই গেছে, টেনে হেচড়ে নিয়ে যাবো।
০- আচ্ছা তুই আমাকে এত জালাস কেন?
-- আমি তোকে জালাই তাইনা, দেখিস যেদিন আমি জালাবো না সেদিন তুই আরো জলবি।
০- সেদিন যখন আসবে আমি অনেক হ্যাপি হবো, তোর মত ডায়ানের হাত থেকে মুক্তি পাবো।
- তাই ঠিক আছে আমি মরলেই যখন তোর শান্তি, কথা দিচ্ছি মরেই যাবো তোকে রেখে।
অবনিশ চুপ করে রইলো, খানিকবাদে রুপসী কে জরিয়ে ধরে বলতে লাগলো,
০- এমন কথা কোনদিন ভুলেও বলবি না।
দুজনের রোমান্টিক এর মাঝেই অবনিশ এর মা চলে আসলো, এসে একটা ছোট্ট কাশি দিয়ে দিলো, তারা দুজনেই চমকে উঠলো, রুপসীর মুখখানা লজ্জায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলো, মাথা নিচু করে বলতে লাগলো, দেখুন আন্টি আমার কোন দোষ নেই, আপনার ছেলে আমাকে জোর করে জড়িয়ে ধরছে, লাজ স্বরম সব পানিতে ভিজিয়ে খাইছে।
০- কিরে বদমাইশ মেয়েটাকে এত জালাস কেন?
-- আমার সাথেই এমন হয়, সব সময় গেড়াকলে আমাকে, পড়তে হয়, এখন আমার দোষ থাকুক আর না থাকুক।
অবনিশ এর মা হাসি দিয়ে বলতে লাগলো, এবার তোদের দুজনকে এক করেই দিবো
-- না না মা, এমন করোনা, এই ডায়ান রে নিয়া, সংসার করলে প্রতিদিন আমাকে বন্যার পানিতে চুবাইবে।
রুপসী একটু রাগ নিয়ে বললো, দেখো ফিউচার জামাই আপোষে রাজী হয়ে যাও তানা হলে কেইস করে বিয়া করবো, ভদ্র ছেলের মত জামাই সেজে আমাকে নিয়ে আসবে, তানা হলে তো জানোই...
কথাগুলো বলে রুপসী চলে গেলো, আর অবনিশ তার মা কে বলতে লাগলো,
০- দেখছো মা, দেখছো, কেমন বেহায়া মেয়ে লাজ স্বরমের বাটি তাকে আল্লাহ ধুয়েও দেয় নাই।
অবনিশ এর মা মুচকি হাসি দিয়ে বলতে লাগলো, আল্লাহ যেন তোদের দুজনকে দুজনের জন্যই বানিয়েছেন। এই কথা বলে অবনিশ এর মা চলে গেলেন, আর অবনিশ মুখে ভালোবাসার মুচকি হাসি নিয়ে বলতে লাগলো, পাগলী তোকে অনেক ভালোবাসি, হুট করে আবার রুপসী চলে আসলো, কলার ধরে এত জোরে টান দিলো, অবনিশ নিজেকে ধরে রাখতো পারলো, প্রায় পড়েই যাচ্ছিলো, বাচার চেষ্টা করেও বাচতে পারলোনা, অবনিশ রুপসী কে নিয়েই পড়ে গেলো, রুপসী পরম যত্নে অবনিশ এর ঠোট ছুয়ে দিলো, আর তাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
।
আজ শুক্রবারের দিন, অবনিশ বাসার সবার সাথে বসে আড্ডা দিতে ছিলো, বাবা মা, ছোট ভাই সবাই এক সাথেই ছিলো, এমন সময়, রুপসীর ফোন আসলে সে কয়েকবার কেটে দিলো, তার বাবা বিষয়টা লক্ষ্য করলো, আর অবনিশ কে জিজ্ঞেস করতো লাগলো, কে ফোন দিচ্ছে তোকে বার বার, ফোন রিসিব কর, আর লাউডস্পিকার দে, আমরা সবাই শুনবো, বাবার কথার অমান্য করতে পারলো না, অবনিশ ফোন রিসিব করে লাউডস্পিকার দিলো সাথে সাথেই কর্কশ শব্দে রুপসী বলে উঠলো,
০- ঐ ইন্দুরের বাদশা ফোন কাটতেছোস কেন?
-- কি হইছে বল,
০- তুই এখনি আমাদের বাসায় এসে বদমাইশ ছেলেকে ঘুষি মেরে ওর নাক ফাটিয়ে দে,
-- কার নাক ফাটাবো, আর কেন?
০- ওমা তুই ফাটাবি না তো কে ফাটাবে তোর পাগলিকে বিয়ে করার জন্য আসছে, তুই যদি কিছু না বলিস, আমি তোর নাক ফাটিয়ে দিবো বলে দিলাম হু......
-- আমি পারবো না, তুই ফাটা বসে বসে,
অবনিশ এর কথা শুনে রুপসীর মাথায় আগুন চড়ে গেলো, আর বলতে লাগলো
০- তুই বাসায় থাক, আমি আসতেছি, আজ তোর যে কয়দিন লাগুক, আমার কিন্তু ১ ঘন্টাই লাগবে।
রুপসীর কথা শুনে, অবিনাশের আত্মার পানি শুকিয়ে গেলো, সব সময়তো ১ মিনিটের কথা বলে, আজকে ১ ঘন্টার কথা বলছে নিশ্চয় তার কপালে আজ অনেক খারাপ কিছু আছে, এসব ভাবতেই পাশ থেকে অবনিশ এর বাবা বলে উঠলো
০- মা তোমার আসতে হবে না, আমি আর অবনিশ আসতেছি ঐ বদমাইশ ছেলের নাক ভাংতে, কত বড় সাহস ছেলের, আমার বউমা কে বিয়ে করতে আসছে, তুমি বাসায় থাকো আমরা আধ ঘন্টার মধ্যে আসতেছি।
-- ধন্যবাদ আংকেল, আপনার ছেলেকে বুঝান, আমি ছাড়া ওর কোন গতি নাই, বেশি তেড়িবেড়ি করলে ওকে মেরে ভর্তা করে আচার বানিয়ে খাবো, তাকে বলে দিয়েন আজ শুধু আপনার জন্য ও বেচে গেলো তা না হলে.....
০- থাক মা রাগ করোনা, অবনিশ ছোট মানুষ এত কিছু বুঝেনা একটু বুঝিয়ে নিও।
-- ঠিক আছে আংকেল তাহলে রাখি, আর এই যে অবনিশ বাবু, আজ আমার সাথে আপনি শুধু দেখা করেন, মজা বুঝাবো...
অবনিশ ধীর সুরে বলতে লাগলো, সব কিছুতো সমাধান হয়ে গেছে আবার কেন?
০- সেটা দেখা করলেই বুঝবেন বায়।
কথাগুলো বলে, রুপসী ফোন রেখে দিলো অবিনাশ এর বাবা সহ পরিবারের সবাই রুপসীর বাড়িতে গেলো, তাদের বাড়িতে যাওয়া মাত্রই সবাই রুপসীর বাবা মা বলতে লাগলো, বেয়াই সাহেব এসেছেন তাহলে, আসুন, ভিতরে আসুন
অবনিশ অবাক হয়ে গেলো রুপসীর বাবা মায়ের কথা শুনে বেয়াই কবে হলো আর কথাবার্তা কবে কি হলো, কিছুই সে জানেনা।
সবাই বসে আছে, অবনিশ চিন্তায় মশগুল, কি হতে যাচ্ছে তার সাথে, এরই মধ্যে রুপসী আসছে, লাল একটা দোপাট্টা পড়ে, নিজেকে খুব অপুর্বভাবে সাজিয়েছে আজকে, নানা রংয়ের চুড়ি হাতে, পায়ে নুপুর, কোমরে বিছা, কপালে টিকলি, যেন এক অপ্সরা নেমে আসছে পৃথিবীতে, এমন ভাবে নিজেকে সাজিয়েছে আজ, অবনিশ চোখের পাতাও ফেলতে পারছে না, বার বার কবিতার সুরে তাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হচ্ছে
""প্রেয়সী এমন রুপ কোথায় লুকিয়েছিলে তুমি? আজিকের এই সাজে এমন বৈচিত্র্যময় লগনিতে যদি ভালোবাসার নামে মান কুলমান হারাই, তুমি কি আমার মান কুলমান হীন রাজ্যের সংগী হবে?""
এসব কথা ভাবতে আর অপলোক দৃষ্টিতে রুপসীর পানে অবনিশ তাকিয়ে রয়েছে, এমন কান্ড দেখে, রুপসীর মা দুষ্টুমিতে বলে উঠলো
০- জামাই সাহেব মেয়ে কি পছন্দ হয়েছে আপনার?
অবনিশ ও কম না সেও বলে উঠলো, পছন্দ না হলেও কি করার, বিয়ে তো তাকেই করতে হবে, অন্য মেয়ের দিকে চোখ দিলে যে এই ডায়ান সুন্দরী আমার চোখ উপড়ে ফেলবে।
কথাটা শুনে রুপসী তেলে বেগুনে জলে উঠলো, আর সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো, রুপসী খুব শান্তসুরে বলতে লাগলো,
০- আমার হবু বরের সাথে আমি একটু আলাদা কথা বলতে চাই,
অবনিশ এর বাবা, অবনিশ কে ইশারা দিলে সে উঠে রুপসীর সাথে ছাদে চলে যায়, ছাদে যেতেই বিদ্যুৎ প্রবাহি বিজলির মত পড়লো অবনিশের উপর,
কোমরে হাত দিয়ে ধমকাতে ধমকাতে জিজ্ঞেশ করলো, আমাকে ডায়ান বললি কেন?
০- আগে বল জামাইকে কেউ কি তুই করে বলে,
-- আচ্ছা আমার প্রানের জামাই, তুমি আমাকে ডায়ান কেন বললে?
০- ভালোবেসে,
-- আর একদিন যদি ডায়ান বলো, তাহলে রক্তচোষা ডায়ান হয়ে তোমার রক্ত চুষে খাবো।
০- রক্ত থাকলে তো খাবে, সব তো চুষে খেয়েই ফেলছো।
-- কি বললে তুমি, ঠিক আছে আমি যাচ্ছি আর আসবোনা,
এই কথা বলে রুপসী চলে যেতে লাগলো পিছন থেকে অবনিশ তাকে টেনে বুকে জড়িয়ে নিলো, আর বলতে লাগলো, এই পাগলি কই যাও, তোমাকে ছাড়া আমি কি করে থাকবো, রুপসী কোন কথা না বলে অবনিশের বুকে মাথা গুজে দিয়ে শুধু প্রেমসুখ গ্রহন করতে লাগলো।
এক মাস পর তাদের বিয়ে হলো, দুই পরিবার অনেক আনন্দ করে তাদের বিয়ে দিলো, তারা একে অপরের সাথে জীবন সুখ ভোগ করতে লাগলো, খুনসুটি ঝগরায়, আর ভালোবাসায় তাদের কেটে গেলো জীবনের ৫ টি বছর।
৫ বছর পর আজকের বর্তমানে.....
কিছুদিন আগেও সব ঠিক ছিলো, সব কিছু এলো মেলো করে দিলো একটি ঝড় তুফান, আজকের এই সুর্যের কিরন পৃথিবীর বুকে এমন ইতিহাস লিখে দিবে তা কখনো ভাবতেও পারেনি, জীবন বড্ড বেশী আজব।
মায়ের অনুমতি নিয়েই আজ পথযাত্রা অবনিশ এর
০- মা তোমার বউমা কে নিয়ে, কোথাও থেকে ঘুরে আসি,
-- ঠিক আছে ঘুড়ে আয়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now