বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিঃস্বার্থ ভালবাসা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কুড়িল ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিলবোর্ড চোখে পড়লো। সম্ভবত নতুন লাগিয়েছে, আগে দেখিনি। কিসের বিজ্ঞাপন মনে নেই, তবে সেখানে যে লেখাটি ছিল তা মনে আছে। “মাঝরাতে বাড়ি ফিরলেও মা যখন গরম ভাত বেড়ে দেন, তাকে কি কখনও এ জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন?” নিজের জীবনের হিসাব নিলাম। মাঝরাতে বাড়ি ফেরা হয়েছে বহুবার, প্রতিবারই খাবার রেডি করে আম্মা অপেক্ষাও করেছেন, কিন্তু কখনও তাকে এর জন্য ধন্যবাদ দেয়নি। আসলে ঐ সময় খাওয়া-দাওয়া করে যদি আম্মাকে বলি, “মা! তোমাকে ধন্যবাদ”, তাহলে উলটো আম্মা ভয় পেয়ে যাবেন, তার ছেলে পাগল টাগল হয়ে গেল না তো? আম্মার সাথে আমার সম্পর্কটা এরকমই। এভাবে কথা বলা হয় না। অনেকের হয়তো হয়, তাঁরা হয়ত বলেও। তবে, বলুক বা না বলুক, একজন সন্তান মন থেকে মায়ের এই ভালবাসাকে ঠিকই অনুভব করে। অবশ্য, এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হল আমাদের মা রা কি এর প্রত্যাশী। সন্তানের জন্য যাই করেন, প্রতিদান পাওয়ার আশায় কি করেন। সারাজীবনের কষ্টের বিনিময়ে সারাজীবনই যে সন্তান তাকে কেবল লাঞ্ছনা অপমান অবজ্ঞাই উপহার দেয়, তার প্রতিও কি মায়ের আদর ভালবাসায় কোন কমতি হয়? মনে পড়ে গেল বছরখানেক আগের একটি ঘটনা... হাউয বিল্ডিং থেকে রিকশা নিয়ে বাসায় আসছিলাম। রিকশা থামানোর পর পঞ্চাশোর্ধ্ব বৃদ্ধ মানুষটিকে যখন ভাড়া দিতে যাব, আমার সাথে কিছু কথা বলতে চাইলেন। রাজি হওয়াতে তিনি যা জানালেন, তা সংক্ষেপে অনেকটি এরকম, তার ছেলে মাদকাসক্ত। মাতাল অবস্থায় বাসায় ফেরার সময় পথে এক্সিডেন্ট করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য কিছু সাহায্য চান। যে হাসপাতালের নাম বললেন, তা আমার বাসা থেকে কাছেই। সেই রিকশা নিয়েই গেলাম। ডিউটিরত ডাক্তারের সাথে কথা বললাম। তার ছেলেকে দেখলাম। সব শুনে যা বুঝলাম, তিনি সত্য কথাই বলেছেন। মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে অর্থ উপার্জনের কোন ইচ্ছা তার নেই। যাই হোক, আহত এই ছেলেকে দেখে যখন ওয়ার্ড থেকে বের হচ্ছি, হঠাৎ সে ছেলেটি চিৎকার করে গালাগালি শুরু করলো। তুই তুকারি করে তার বাবা ও পাশে বসা মাকে বলছে, জমি লিখে না দিলে কয়েকদিন পর নাকি তার লাশ দেখতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন কেন করছে জানতে চাইলে, বৃদ্ধ রিকশা চালক চোখ মুছতে মুছতে জানালেন, নেশার টাকা যোগাড়ের জন্য জমি বিক্রির চাপ দিচ্ছে। অথচ সে ছেলে এখনও জানে না, তার চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই সে জমি বিক্রি করা হয়ে গেছে এবং বিক্রিলব্ধ টাকার প্রায় পুরোটাই খরচও হয়ে গেছে। কষ্টে চোখে পানি চলে আসলো। কাঠ ফাটা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই বৃদ্ধ বয়েসে রিকশা চালাচ্ছেন, মানুষের কাছে হাত পাচ্ছেন, নিজের জন্য নয়। এক মাদকাসক্ত ছেলেকে সুস্থ করে তোলার জন্য। ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো, এই ছেলে যখন সুস্থ হবে আর জানতে পারবে, জমি তো ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে, তখন না জানি কি নির্যাতন চালায় তার এই বৃদ্ধ বাবা মার উপর। -------------- "নিঃস্বার্থ ভালবাসা" এর নামে কত মিথ্যা কিচ্ছা কাহিনী, সিনেমা, মুভি আমরা শুনি ও দেখি। অথচ নিঃস্বার্থ ভালবাসা ও সে ভালবাসার জন্য কষ্ট স্বীকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ আমাদের সামনেই মজুদ। আমাদের বাবা মা ............... [] Rizwanul Kabir []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিঃস্বার্থ ভালবাসা (A Pure Love)
→ "নিঃস্বার্থ ভালবাসা"
→ নিঃস্বার্থ ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now